Emotionsシ

Emotionsシ Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Emotionsシ, Digital creator, Pabna, Kashinatpur.

 #আবিরের_স্প্যারো   #পর্ব_২লেখনীতে_সালমা_চৌধুরীতানভীর কাশতে কাশতে বলল," তোমার ভাবনা এতদূর....! "" কেউ একজন আসুক৷ ছোট্ট ছ...
12/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো
#পর্ব_২

লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী

তানভীর কাশতে কাশতে বলল,
" তোমার ভাবনা এতদূর....! "

" কেউ একজন আসুক৷ ছোট্ট ছোট্ট পায়ে পুরো বাড়ি ছুটোছুটি করুক। আর আদুরে কণ্ঠে বলুক,
'মামা আমাতে তকলেত এনে দাও'
ভালো লাগবে না তোর? আমি তো খুব করে চাই।"

তানভীর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
" বিয়ের কোনো খোঁজখবর নেই। এখনই বাবা হওয়ার চিন্তায় আছো। আমার বোন আদোও তোমাকে বিয়ে করবে তো!"

আবির ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল। নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল,
" তোর বোন বিয়ে না করলে আমি তাঁকে বিয়ে করব।"

তানভীর কোনো কথা বলছে না। আবির অকস্মাৎ সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাল। চিন্তিত কণ্ঠে শুধাল,

" বাই এনি চান্স, তুই কি আমার নামে বদনাম করেছিস?"

"কি যা-তা বলছো! আমি বদনাম করতে যাব কেন? আমি যতদূর বনুকে বুঝি, ওর মাথায় এসব চিন্তাভাবনা একদম নেই। তাছাড়া তোমার সাথে ছোটোবেলা থেকে ওর দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। তাই বললাম, একটু রিস্ক হবে।"

আবির নিস্প্রভ কণ্ঠে বলল,
" যে ভালোবাসায় যত রিস্ক, সে ভালোবাসা তত বিশুদ্ধ। একটা সময় আসবে যখন তোর বোন আমার জন্য দিওয়ানা হয়ে যাবে। আমাকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠবে। ঠিক যেমনটা এখন আমার মধ্যে চলছে।"

তানভীরের ঠোঁটে প্রাণবন্ত হাসি ফুটল। বুকে আঁটকে থাকা উষ্ণ নিঃশ্বাস ছেড়ে কোমল গলায় বলল,

" আমার বোনকে সামলে নিও ভাইয়া। ও খুব অবুঝ। তুমি যেমন আমার ভাই, তেমনি মেঘও আমার একমাত্র বোন। তোমার সাথে আমার কেবল রক্তের সম্পর্ক। কিন্তু বনুর সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক। তুমি যেভাবে বলেছিলে, আমিও তোমায় দেওয়া কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। বনুর গায়ে একটা আঁচড়ও পড়তে দেইনি আমি। বড়ো ভাই, বন্ধু, গার্ডিয়ান সবদিক একা সামলিয়েছি। এত দায়িত্ব পালন করতে করতে আমি নিজেকে নিয়ে ভাবতেই ভুলে গেছিলাম। তোমার গচ্ছিত রেখে যাওয়া অমূল্য সম্পত্তি আজ তোমাকে ফেরত দিয়ে দিচ্ছি। প্রণয়ঘোরে আগলে রেখো তাঁকে, যাকে ঘিরে সুখের আবেশে কতশত স্বপ্ন দেখেছ ভোরে। আজ থেকে আমার মুক্তি। আমার বোন এখন থেকে তোমার। তাই তোমার ভালোবাসাকে সামলানোর গুরুদায়িত্বটাও তোমার।"

আবির মুচকি হাসল। অতঃপর মেকি স্বরে বলল,
" সে না হয় নিলাম৷ কিন্তু এখন তো চিন্তা হচ্ছে আমার।"

তানভীর শশব্যস্ত কণ্ঠে আওড়াল,
" কি চিন্তা? "

" তোর বোন যদি আমাকে দেখেই বলে,
I Hate You. তখন?"

তানভীর এবার শব্দ করে হাসল। হাসতে হাসতে বলল,

" বলতেই পারে। তোমার রূপের যে বাহার!
পাগলও তোমার চেয়ে সুদর্শন দেখতে।"

আবির বিষন্ন চেহারায় তানভীরের দিকে তাকাল। আবছা আলোয় উষ্কখুষ্ক চুলগুলো ঝলমল করছে। মৃদু হাওয়ায় উড়তে থাকা চুলের অগ্রভাগে দুচোখ ডেকে যাচ্ছে। আবির হাত দিয়ে চুল ঠিক করতে করতে মলিন কণ্ঠে বলল,

" তোর মতো কিউট দেখতে নয় বলে এমনভাবে খুঁটা দিলি! তোর জন্য মেয়েরা পাগল হতেই পারে। আমার ভাই এত লোভ নেই। আমি জীবনে একজনকেই বৌয়ের নজরে দেখেছি । বাকি সবাই আমার দৃষ্টিতে খালার সমতুল্য।"

তানভীর স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
" রাতে খেয়েছ কিছু?"

"না।"

" খাবে চলো।"

" কোথায়?"

"বাসায় যেহেতু যাবে না তাহলে বাইরেই খেতে হবে।"

" হ্যাঁ, চল। তাছাড়া তোকে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।"

" হাঁটতে হাঁটতে শুনছি। চলো।"

" আচ্ছা।"

কৃষ্ণচূড়ার ডালে কোকিলের কুহুতানে অপরূপ বসন্তের আভাস দিচ্ছে। নব্য পাতার ফাঁকে সূর্যের উদ্ভাসিত আলো, রাতের আঁধার ঘুচিয়েছে। মোহঘোরে আচ্ছন্ন এক জোড়া চোখের নিষ্পলক দৃষ্টি শোভমান সূর্যের পানে। শীতল হাওয়ায় শরীরের প্রতিটা লোমকূপ কম্পমান হচ্ছে। তবুও অদূরের দৃষ্টি সরছে না৷

"বনু..."

অকস্মাৎ ঘোর কাটল মেঘের। দিঘল চোখের পাপড়ি সহসা সংকীর্ণ হলো। ফর্সা আদলের টানাটানা চোখ দুটো ঘুরিয়ে আড়চোখে তাকাল মেয়েটা। ব্যালকনির দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তানভীর। গায়ের রঙ উজ্জ্বল। চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো। সী গ্রীন রঙের টিশার্টটা বেশ মানিয়েছে তাঁকে। সে আর কেউ নয়, মেঘের একমাত্র ভাই সাফিয়াদ্দীন খান তানভীর।

দু'জনের চোখাচোখি হতেই হাসল তানভীর। কি স্নিগ্ধ হাসি! যেন অমাবস্যার বুকে এক টুকরো চাঁদের আলো। তানভীরের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা দেখে মেঘও ক্ষীণ হাসল। মৃদুস্বরে আওড়াল,

"কিছু বলবে ভাইয়া?"

" জানিস, আজকের দিনটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। "

"কেন?"

তানভীর একটু ভাবল। তারপর বলল,
" কারণ, আজ পহেলা ফাল্গুন।"

মেঘ আলগোছে কপাল গুটাল। তানভীরের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠেছে। মেঘ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সেই হাসি পরখ করছে। তানভীর ছেলেটা খুব শান্ত স্বভাবের। প্রয়োজনের বাইরে কথা কম বলে। অযথা দুষ্টামি করা তার স্বভাবে নেই। বন্ধুমহলও খুব সংকীর্ণ। তবে যারা আছে তাদের জন্য সব করতে পারে। এক কথায় দায়িত্বশীল এবং অত্যন্ত ভদ্র একটা ছেলে।
বাবা-মা, একমাত্র ছোট বোন মাহদিবা খান মেঘকে ঘিরেই তাঁর জীবন।

মেঘ সিক্ত গলায় বলতে শুরু করল,

" পহেলা ফাল্গুন তো প্রতিবছরই আসে। বকুলতলায় মেলাও বসে। গাছে গাছে রঙবেরঙের ফুল ফুটে, কোকিলের গান শুনে ঘুমও ভাঙে। কই আমার জীবনে তো স্পেশাল কিছু হয় না!"

কথাগুলো বলে শেষ করে তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ল। হৃদয়ের অন্তস্তলে শূন্যতার সুর বাজছে।

তানভীর বোনের ম্লান চেহারার পানে চেয়ে আছে। ঠোঁটের কোণের হাসির রেখা অচিরেই ঘুচে গেছে। কি বলতে এসেছিল তা ভুলতে বসেছে। তানভীর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর চেষ্টা করল।

আচমকা মেঘ হাসতে শুরু করল। অকপট হাসির শব্দে চমকে ওঠল তানভীর। হাসির দরুন মেঘের ফর্সা আদল ঝলমল করছে। গালের পাশের কৃষ্ণবর্ণের বিউটি স্পটটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেঘ হাসতে হাসতে বলল,

" আমি মজা করছিলাম, ভাইয়া। তুমি দেখছি সিরিয়াস হয়ে গেলে।"

তানভীরের ঠোঁট দু'টো কিছুটা প্রশস্ত হলো। আস্তে করে বলল,
" আব্বু ঠিকই বলেন,
তুই সত্যিই একটা পাগলী।"

মেঘ ঠোঁট বেঁকিয়ে ভেংচি কেটে বলল,
" হ্যাঁ, আর তুমি আমার ভাই। মানে মেঘ পাগলীর ভাই।"

তানভীর সে কথায় আর কোনো উত্তর দিল না। পেছন থেকে হাত সামনে আনলো। হাতে বাসন্তী রঙের শাড়ি, ম্যাচিং চুড়ি, কানের দুল, এমনকি বেলীফুলের গাজরাও আছে। তানভীর নরম স্বরে বলল,

" এগুলো তোর।"

মেঘ চমকাল। এক রাশ মুগ্ধতা নিয়ে ভাইয়ের মুখের পানে চাইল। জীবনের এতগুলো বসন্ত কাটালো। শাড়ি, চুড়ি দেওয়া তো দূর মেঘকে বাসা থেকে বেরই হতে দেয়নি তানভীর। সবসময় কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে মেঘের বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দিত। অথচ আজ সেই তানভীর কি না শাড়ি দিচ্ছে!

মেঘ কৌতুহলী চোখে চেয়ে বিড়বিড় করল,
" তুমি আমার জন্য শাড়ি এনেছো, ভাইয়া?
এটা কিভাবে সম্ভব! "

তানভীর ওইরকমভাবেই জবাব দিল,
" আমি কেন আনতে যাব? আমার কি আর কোনো কাজ নেই! "

তানভীরের মুখে এমন উত্তর আশা করেনি মেঘ। থমথমে গলায় আওড়াল,

" এই শাড়ি পড়ে কি বাইরে ঘুরতে যেতে পারব নাকি বাসার ছাদে ছবি তুলে ফিরে আসতে হবে?"

তানভীর স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
" তোর বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরে আসিস।"

"কোন বান্ধবী? "

" বর্ষা নাকি ছাতা নামে একজন আছে না! তাঁকে নিয়ে যাস।"

মেঘ গম্ভীরমুখে বলে ওঠল,
"আমার বান্ধবীর নাম বন্যা। বর্ষা, ছাতা-মাথা না।"

তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি,
"ওই একই হলো৷"

মেঘ এবার কপট রাগী স্বরে বলতে শুরু করল,

" একই হলো কিভাবে? ছাতা মানে কি?
তুমি আমার বান্ধবীকে ছাতার সাথে তুলনা করলে! বন্যা যদি এই কথা জানতে পারে তাহলে তোমার সাথে কথায় বলবে না কখনো।"

"তোর বান্ধবী কথা না বললে আমার কি!
সে তোর বান্ধবী আমার না।"

"তাই বলে ছাতা বলবে!
এটা কোনো কথা হলো?"

তানভীর চেহারায় বিরক্তির ভাব নিয়ে বলল,
"উফফ। আচ্ছা বাবা, সরি। এবার হয়েছে?"

মেঘ তানভীরের হাত থেকে শাড়ি চুড়িগুলো নিতে নিতে হতাশ ভঙ্গিতে বলল,
" হয়েছে। কিন্তু বন্যা কি আমার সঙ্গে ঘুরতে যাবে?"

"কেন যাবে না?"

"প্রতিবছর আমাকে রিকুয়েষ্ট করে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কিন্তু আমি যাই না। তারজন্য ও রাগ করে ওর বোনের সাথে ঘুরতে বের হয়৷ এবছর অভিমানে আমাকে কলই দেয়নি৷ আমি কল দিয়েছিলাম। কিন্তু রিসিভও করেনি।"

তানভীর পকেট থেকে ফোন বের করে সময় দেখল। অদম্য কণ্ঠে বলল,
" তুই রেডি হয়ে নে। আমি দেখছি।"

মেঘ রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়াল। হাতে থাকা বাসন্তী রঙের শাড়িটা গায়ের উপর জড়িয়ে আয়নার দিকে তাকাল। সূর্যের কোমল আলোতে মেঘের ফর্সা চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, কাঁচা হলুদের ছোঁয়া লেগেছে গায়ে। এলোমেলো বাতাসে ঘন, কালো চুলগুলো নিজ গতিতে উড়ছে। শাড়ি পরার আগেই মনের ভেতরের অনুভূতিরা সমুদ্রের জলরাশির মতো উপচে পড়ছে। মেঘ আনমনে বলে ওঠল,

"এই বসন্ত সত্যিই স্পেশাল।"

ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে মেঘ রেডি হয়ে নিল। শাড়িটা অবশ্য মেঘের আম্মু, হালিমা বেগমই পড়িয়ে দিয়েছেন। চুল খোঁপা করে গাজরা দিয়েছে, দু'হাত ভর্তি চুড়ি। মুখে ভারী কোনো মেকআপ নেই। চোখে গাঢ় কাজল টানা, অধর যুগলে গোলাপি লিপস্টিক। এতটুকুতেই সাজ কমপ্লিট।

রেডি হয়ে ড্রয়িং রুমে আসতেই আব্বুর সঙ্গে দেখা। প্রথমবার মেয়েকে শাড়ি পড়তে দেখে বিস্ময় চোখে চেয়ে আছেন তিনি। দেখতে দেখতে মেয়ে যে কবে এত বড় হয়ে গেল বুঝতেও পারেন নি। এই তো সেদিন জন্মাল। ক'দিনেই কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল৷ সময় কত দ্রুত চলে যায়।

মেঘ আদুরে গলায় আওড়াল,
" আব্বু, আমাকে কেমন লাগছে?"

জবাবে মোজাম্মেল খান বললেন,
"মাশা-আল্লাহ। রাজকন্যার মতো লাগছে তোমাকে।
কোথাও যাবে?"

মেঘ মিষ্টি হেসে বলল,
" ভার্সিটিতে যাব।পোগ্রাম আছে।"

"তানভীর যাবে?"

" জানি না৷ আমাকে রেডি হতে বলে ভাইয়া কোথায় চলে গেল!"

হালিমা বেগম নিজের রুম থেকে বের হতে হতে বললেন,
" তানভীরকে দেখলাম তাড়াহুড়ো করে কোথায় গেল। খেয়েও গেল না কিছু।"

"দাঁড়াও কল দিচ্ছি ভাইয়াকে।"
মেঘ কল দিতে যাবে ওমনি তানভীরের নাম্বার থেকে কল এসেছে। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তানভীর জানতে চাইল,

" রেডি হয়েছিস? "

" হ্যাঁ। কোথায় তুমি?"

"নিচে আয়। আমি অপেক্ষা করছি।"

মেঘ আব্বু, আম্মুর থেকে বিদায় নিয়ে দ্রুত নিচে নামল। গেইটের সামনে যেতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। রাস্তার পাশে এক রিক্সায় বন্যা বসে আছে। পাশেই তানভীর দাঁড়ানো। বন্যার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। চোখে-মুখে রাগ আর বিতৃষ্ণা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মেঘ চাপা স্বরে আওড়াল,

" তুই এখানে!"

বন্যার নজর পড়ল মেঘের দিকে। মেঘের ললিত রূপ দেখে বন্যার রাগী চোখের দৃষ্টি কিঞ্চিৎ কোমল হলো। কিন্তু ঠোঁটে হাসি ফুটল না। তানভীর মেঘের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

" নে তোর বান্ধবীকে এনে দিলাম৷ এবার ঘুরতে যা। "

মেঘ কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করল,
" তুমি কি বন্যাকে বাসা থেকে উঠিয়ে এনেছো?"

তানভীর আড়চোখে বন্যার দিকে একবার তাকাল। পরপর মেঘের দিকে চেয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
" আমাকে দেখে কি তোর ভিলেন মনে হয়?"

চলবে....

 #আবিরের_স্প্যারো #পর্ব_০১লেখনীতে_সালমা_চৌধুরীনিস্তব্ধ নিশি। এক অদ্ভুত নীরবতায় চারপাশ ছড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে  বাতাসও যেন ক...
11/09/2025

#আবিরের_স্প্যারো
#পর্ব_০১
লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী

নিস্তব্ধ নিশি। এক অদ্ভুত নীরবতায় চারপাশ ছড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে বাতাসও যেন ক্লান্ত হয়ে থেমে গেছে। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে ডাক নিস্তব্ধতার মাঝে আরও গভীরতা এনে দিচ্ছে। চাঁদের স্নিগ্ধ আলো মাটিতে রূপালি পর্দা বিছিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে ঘাসের ফাঁক দিয়ে শিশিরের ফোঁটা গড়িয়ে মাটির বুকে নির্দ্বিধায় মিশে যাচ্ছে।

এই নিস্তব্ধতায় শহরের কোলাহলও দূরে সরে গেছে। গাছের ডালপালাও নিশ্চুপ, যেন তাঁরাও ঘুমিয়ে পড়েছে। কেবল কারো হৃদয়ের ভেতরকার অনুভূতিই সেই নিস্তব্ধতার সঙ্গী হয়ে ওঠেছে।

"অজানা স্বপ্নে বিভোর কেউ একজন স্মৃতির গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে।"

নিশ্চুপ রাতের আবেশ দুচোখে ভেসে ওঠছে। অদৃশ্য এক মায়ার সুর বাজছে হৃদয়ে। চাঁদের আলোর সাথে পাল্লা দিয়ে নীরবতায় হাঁটছে সে। ভাবনার আকাশ জুড়ে শুধু একটা নামই শুনা যাচ্ছে,

" মাহদিবা খান মেঘ।"

হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে যাঁর অবস্থান। যাঁর ভাবনায় অবেলায় হৃদয় আঙিনায় বিদ্যুৎ চমকায়। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলো সতেজ হয়ে ওঠে। বারংবার হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা অনুভব হয়। সেই মাহদিবা খান মেঘ, আবির নামক এক যুবকের বুকের বাঁ পাশটায় বাসা বাঁধা ছোট্ট একটা পাখি। সে তার নাম দিয়েছে,

" আবিরের স্প্যারো।"

স্প্যারোকে নিজের করে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল তাঁকে। দূরত্বের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। মনের ভেতর যে শূন্যতার পাহাড় গড়তে শুরু করেছে, সে পাহাড়ের একাকীত্বের অবসান হওয়া খুব দরকার। তাই একতরফা ভালোবাসার সমাপ্তি টেনে স্প্যারোর মন আঙিনায় নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে এসেছে আবির।

শুন-শান রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানের সামনে এসে থমকে দাঁড়াল। দোকানে দুই একজন লোক চা খাচ্ছেন। পাশে দুই-তিনটা ব্রেঞ্চ ফাঁকা পড়ে আছে। আবির একটা ব্রেঞ্চে বসল। মামাকে চা দিতে বলে পকেট থেকে ফোন বের করল। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠল এক হাস্যোজ্জ্বল ছবি। আবির ছবির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,

চলবে..

06/08/2025

প্রিন্সিপালের রোমান্টিক বউ || Part-1 || Romantic Love Story || Ft. Himu & sonalika || Love Story ||

 #আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে(০৪)শ্বা*স ঝেঁ*ড়ে, নিজের মাথায় গা*ট্টা মে*রে মেঘ বলে, 'ছিঃ মেঘ ছিঃ, কি সব ভাবছিস তুই, কেউ কি তার...
13/07/2025

#আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে
(০৪)

শ্বা*স ঝেঁ*ড়ে, নিজের মাথায় গা*ট্টা মে*রে মেঘ বলে, 'ছিঃ মেঘ ছিঃ, কি সব ভাবছিস তুই, কেউ কি তার চাচাতো ভাইয়ের উপর ক্রাশ খায়? ভালো, ভদ্র হলেও মানা যেতো, এমন গু*রুগ*ম্ভীর, ব*দমে*জা*জি আর হি*ট*লা*র স্বভাবের কেউ কি কারো ক্রা*শ হয়..!! যে ছেলে ১০ বছরের মেয়ের গা*য়ে হা*ত তু*লতে পারে সে আর যায় হোক আমার ক্রাশ হতে পারে না। এটা ভাবতেই মেঘের বু*ক ভে*সে আসে ক*ষ্টে।

নিজেকে স্বাভাবিক করতে মোবাইল হাতে নিয়ে কল করে মেঘের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বন্যাকে। প্রথম কল দিতেই রিসিভ হয় কল..

বন্যা- আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো বেবি?

মেঘ- ওয়ালাইকুম আসসালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, তুই কেমন আছিস?

বন্যা- হঠাৎ আমায় স্বরণ করার কোনো স্পেশাল কারণ আছে? তোর তো আবার ভাঙা ফোন ঠাসঠুস বন্ধ হয়ে যাবে।

মেঘ রা*গান্বিত স্ব*রে একপ্রকার হুং*কার দিয়ে বলে... "তুই আজ কোচিং এ আসিস নি কেন? কি যে একটা জিনিস মিস করছিস..."

বন্যা- কি মিস করেছি বলে ফেলো বান্ধবী

মেঘ- এখন বললে কি আর সেই ফিল টা পাবি নাকি আজব

বন্যা- আরে বেবি বলো তুমি। কাল শুক্রবার কোচিং বন্ধ, আবার দেখা হবে রবিবারে ততদিন সহ্য হবে না। বলে ফেল প্লিজ।

মেঘ- আমার হাতে এখন iPhone 13 pro max

মেঘের কথা বন্যা এক বিন্দুও বিশ্বাস করে নি, হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এখন বল

'একটু পর 14 pro max কিনতে যাচ্ছিস,যাকে তার ভাই একটা আধা ভা*ঙা ফোন দিয়েছে ব্যবহারের জন্য, দিনে ১০০ বার বন্ধ হয়ে যায়, তার হাতে নাকি iPhone. তুই কি ঘুম থেকে স্বপ্ন দেখে উঠলি নাকি?'

মেঘের উৎফুল্ল মে*জাজ আচমকাই বি*গড়ে গেলো, অভিমানী স্বরে বললো,
'কাল আবির ভাই আসছেন বিদেশ থেকে ওনিই নিয়ে আসছেন আমার জন্য।'

বন্যা- তাই বল, নাহয় তোর যে ভাই সে তোকে এই জীবনে ফোন কিনে দিতো না, তোর বাবা দিতে চাইলেও সে আ*ছাড় মে*রে ভে*ঙে ফেলতো। ওয়েট ওয়েট, এই আবির ভাইটা কে রে? যে তোকে ছোট বেলা মে*রেছিল, সে?

মেঘ মুখ কালো করে উত্তর দিলো,
'হ্যাঁ আমার চাচাতো ভাই।'

বন্যা- তা তোর প্রতি এত মায়া হলো কিভাবে ওনার?

মেঘ- জানিনা। শুন তোকে কি বলি

বন্যা- হ্যাঁ বল

মেঘ- আসলে আজকে বিকালে আবির ভাইয়াকে দেখে ছোটখাটো একটা শ*ক খেয়েছি৷

বন্যা- মানে?

মেঘ- কি সুদ*র্শন চেহারা,দাঁড়ানোর স্টাইল,লুক আর অগোছালো চুলদেখে আমার মনটায় এলোমেলো হয়ে গেছে, আমি মনে হয় ওনার উপর ক্রাশ খেয়েছি.

মুখ ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে একটু ধাতস্থ হয়ে গুরুগম্ভীর স্বরে বন্যা বললো,
'তোর মাথা ঠিক আছে মেঘ?তুই এতবছর যাবৎ বলছিস এই মানুষটা তোর শৈশব নষ্ট করে দিয়েছে, আজ কৈশোরে পা দিতেই এই মানুষটার উপর ক্রা-শ খেয়ে ফেলছিস? মানুষ রঙ বদলায়, কারণে অকারণে বদলায় কথাটা এতদিন শুনেছি কিন্তু আজ তোকে দেখে মনে হচ্ছে এই কথাটা ১০০% সত্যি। না হয় যাকে এত বছর শ*ত্রু ভেবে এসেছিস আজকে তার কথা অবলীলায় বলে যাচ্ছিস, বাহ মেঘ বাহ। '

মেঘের নিরবতা বুঝতে পেরে বন্যা আবার বলা শুরু করলো,
' এসব কোনো বিষয় না বেবি, হঠাৎ করে দেখেছিস তো তাই আহামরি সুদর্শন লেগেছে, বিষয়টা মাথা থেকে ঝে*ড়ে ফেল দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে, আমরা না দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিলাম, একজন বিপথে গেলে আরেকজন সামলাবো । ভুলে গেলি?'

স্পষ্ট বুঝা গেলো মেঘের বদলে যাওয়া অভিব্যক্তি। সহসা নিজেকে সামলে আচমকা প্রশ্ন করে বসলো,

'আমি কি দেখতে সুন্দর না? আমি কি কারো ক্রাশ হওয়ার যোগ্য না?'

মেঘের আকস্মিক প্রশ্নে বন্যা কিছুটা হতভম্ব হলো এরপর
কয়েকমিনিট শুধু হেসেই গেলো.,স্বাভাবিক স্বরে বললো.. 'অবশ্যই তুই সুন্দর, ক্রাশ খাওয়ার ও যোগ্য কিন্তু তুই ছেলেদের ক্রাশ হতে পারবি কি না সন্দেহ আছে৷ হতে পারিস রাস্তাঘাটের,গাছগাছালির, রঙচটা দেয়ালের, গরুছাগলের ও হতে পারিস।'

রা*গে ফুঁ*সতে ফুঁ*সতে কল কেটে দিয়েছে মেঘ আর ভাবছে,
'আজকাল সান্ত্বনা নিতে চাইলেও মানুষ মজা নেয়'

যদিও বন্যার হাসির কারণ টা খুবই স্বাভাবিক । মেঘকে বরাবর ই চোখে চোখে রেখেছে তানভির সহ বাড়ির সকলে, 6-10 পর্যন্ত পড়েছে গার্লস স্কুলে, তারপর গার্লস কলেজ। আহারে জীবন ধূ ধূ মরুভূমির মতো কোথাও কেউ নেই। স্কুল কলেজের সামনেই বাসার গাড়ি থাকতো,বাসা টু স্কুল,স্কুল টু বাসা। কোনো ছেলে না দেখলে ক্রা*শ কিভাবে খাবে! বো*ধশক্তি হওয়ার পর মেঘ মনে হয় ২-৩ টা বিয়ে খেয়েছে কাজিনদের।৷ যাকে বলে নামের বিয়ে খাওয়া। তানভিরের ভয়ে বিয়ে বাড়ির এক কোণে বসে থাকতো মেঘ৷ ভাইয়ের ক*ড়া শাসন ছিল ঘর থেকে বের হতে পারবি না, বরযাত্রী আসলে তো আরও না। ঘরের ভিতরেই তারজন্য খাবার পাঠানো হতো, তানভির নিজেই বোনকে খাওয়াতো ইচ্ছে মতো। তারপর বিয়ে শেষ হলে মা বোনকে নিয়ে চলে আসতো। গায়ে হলুদে নাচা,গান গাওয়া এমনকি মেহেদীও দিতে পারে নি কখনো।। এই কষ্টে এখন আর মেঘ কারো বিয়েতেই যায় না। এতে তানভির মনে হয় হাফ ছেড়ে বেঁচেছে।৷ মেঘের এই সাদাকালো জীবনের কথা শুনলে বন্যা কেনো পৃথিবীর সব মানুষ ই হাসবে। জীবনটা তার তেজপাতা হয়ে গেছে । মাঝে মাঝে ভাবে এই বাড়িতে জন্মানো টা কি খুব দরকার ছিল...!!!

কয়েকবার বন্যা কল ব্যাক করেছে, নিজের জীবনের হতাশার জন্য মেঘ আর কল রিসিভ ই করে নি, বান্ধবীকে রাগ দেখিয়ে কি হবে...! জীবন যেখানে যেমন তা মানতেই হবে।

মেঘের বেস্ট ফ্রেন্ড হওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে বন্যাকেও। মেঘের সাথে সাথে বন্যাকেও চোখে চোখে রাখে তানভির। কথায় আছে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে, সঙ্গ খারাপ হলে মেঘও খারাপ হবে তাই সব সময় বন্যার পিছনে লোক লাগিয়ে রাখে। শুধু বন্যাই না আরও ২ জন বান্ধবী আছে মেঘের, একজন পাখি আরেকজন মায়া। ওদেরকেও নজরে রাখে তানভির। বোনকে সব দিক থেকে প্র*টেক্ট করাই যেন তার প্রথম এবং প্রধান কাজ৷

পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

আবির বিকাল থেকে ঘুমাচ্ছে। সন্ধ্যা ৭ টায় ঘুম ভাঙে আদির ডাকে। নিচে আবিরের আব্বু আর মেঘের আব্বু বসে আছেন, আবিরের বাইক কেনার কথা শুনেই তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন অফিস থেকে৷ আবির ঘুম থেকে উঠে চোখেমুখে পানি দিয়ে টাওয়েল দিয়ে কোনোরকমে মুখ টা মুছে তৎক্ষনাৎ রুম থেকে বের হয় ৷ সে তার বাবাকে খুব ভালো করে চিনে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত না হলে বাড়িতে তা*ন্ডব শুরু করে দিবেন। আবিরের চোখে মুখে ঘুমের প্রভাব স্পষ্ট । ব্যস্তপায়ে হাঁটছে সে, আচমকা এলেমেলো পায়ে ছুটে রুম থেকে বের হয় মেঘ চুলগুলো অগোছালো। আকস্মিক ধা*ক্কা এড়াতে চটজলদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে অ*গ্নিদৃ*ষ্টিতে তাকায় আবির, তৎক্ষনাৎ মোটা ভ্রু*যূগল শিথিল হয়ে যায়,অ*মত্ত চেয়ে রইলো সে

একমুহূর্তের জন্য মস্তিষ্ক থমকে গেছে আবিরের, দৃষ্টি তার প্র*খর, আচ*মকা হাঁটা থামাতে শ্বাস ভা*রি হয় আবিরের, কালো জামা প*রিহিতা এক ললনার দিকে দৃষ্টি পরে, আ*পাদমস্তক দেখলো একবার, কালো জামাতে যাকে অ*প্সরার ন্যায় লাগছে, এলোমেলো চুলগুলো তার কোমড় ছাড়িয়েছে চুল দেখে মনে হয় জীবনানন্দ দাশের বনলতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা,

"চুল তার কবেকার অন্ধ*কার বিদিশার নিশা।"

দ্রুতগতি থামাতে গিয়ে মেঘের ছোট দেহ কম্পিত হয়,দৃষ্টি পরে ৬ ফুট লম্বা মানুষটার বু*কে, মেঘ মুখ তুলে তাকায় সেই মানুষটার চেহারার পানে, আবিরের চোখের দিকে বি*স্ময়াভিভূত নয়নে তাকিয়ে আছে মেঘ, পলক ও পরছে না একটিবার, আবিরের চোখে মুখে ছিটানো পানির ঝাপটায় এলোমেলো চুলগুলো থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরছে যা তার পরনের সাদা টিশার্ট অল্পস্বল্প ভিজিয়ে দিচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই আবিরের,

আবির কয়েক সেকেন্ড স্ত*ব্ধ থেকে হঠাৎ চোখ সরিয়ে পুনরায় রু*দ্রমূর্তি ধারণ করে স*বেগে হাঁ*টা দেয় সিঁড়ির দিকে, পিছন থেকে অষ্টাদশীর কোমল কন্ঠে ডাক শুনে থমকে দাঁড়ায় আবির তবে পিছনে তাকানোর প্রয়োজন মনে করে নি সে,

মেঘ ভ*য়ার্ত কন্ঠে বলে, 'Thank you Abir Vai'

আবির শুনলো কি না কে জানে, এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে যথারীতি ব্য*স্ত ভঙ্গিতে নিচে নেমে যায়।

মেঘ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে,থরথর করে কাঁপছে মেঘের হাত পা, মেঘের মনে হচ্ছে ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে সমগ্র পৃথিবী। কেনো জানি দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি পাচ্ছে না মেয়েটা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে তাড়াতাড়ি দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে। এতগুলো বছর পর আবিরের চোখে চোখ রাখলো মেঘ, ভেতর টা ভ*য়ে আঁ*তকে উঠছে বার বার, অন্তরা*ত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে মেঘের৷
পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

সোফায় বসে আছেন ২ ভাই,বাড়ির মহিলা রান্নাঘরে কাজে ব্যস্ত থাকলেও নজর তাদের এদিকে, কি হবে কে জানে

আলী আহমদ খান নিজের গা*ম্ভীর্যতা বজার রেখে একপ্রকার হুংকার দিয়ে প্রশ্ন করলেন,
"তুমি নাকি বাইক কিনেছো?"

এই কথায় হুঁশ ফিরে অষ্টাদশীর, কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ২ পা সামনে এগিয়ে বারান্দার সাইডে দাঁড়িয়ে নিচে তাকায় মেঘ, নিচে সোফায় বসা আব্বু আর বড় আব্বু, তাদের থেকে কিছুটা দূরে দুহাত ভাজ করে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আবির৷

জ্বী', ভাবলেশহীন ভাবে উত্তর দেয় আবির।

'কিন্তু কেন?' পুনরায় হুংকার দেন তার আব্বু।

'আমার বাইক কেনার ইচ্ছে ছিল তাই কিনেছি,'

'তুমি জানো না এই বাড়িতে বাইক কেনা বা চালানো নিষেধ?' এবার প্রশ্ন টা চাচ্চু মোজাম্মেল খান করেছেন।

'হ্যাঁ জানি, ২০/৩০ বছর আগে কি ঘটে গেছে তা নিয়ে আতঙ্কে থাকার কোনো মানে হয় না, যদি কপালে খারাপ কিছু লিখা থাকে তাহলে সেটা ৭ সমুদ্র পারি দিয়ে হলেও আসবেই। সেটা আমি ঘরে বসে থাকলেও হবে আর গাড়িতে চলাচল করলেও হবে৷ '

'তোমরা ২ ভাই কি নিজেদের মর্জি মতোই চলবে?' আলী আকবর খান রা*গান্বিত স্বরে প্রশ্ন করলেন।

'বাইক কিনা যদি নিজের ইচ্ছে মতো চলা হয় তাহলে আমি দুঃখিত আব্বু৷ এই ব্যাপারে আমি নিজের মনের কথায় শুনবো।'

'আমাদের নিজস্ব ৩ টা গাড়ি আছে, এত গাড়ি কেনো কিনলাম তোমাদের জন্যই তো' মোজাম্মেল খান কোমল স্বরে বললেন।

'গাড়িতে চলাচল আপনাদের ইচ্ছে তাই আপনারা গাড়ি কিনেছেন, আমার গাড়িতে চলাচল করতে ভালো লাগে না তাই আমি বাইক কিনেছি এটা নিয়ে এত কথা বাড়ানোর কি আছে চাচ্চু । তোমাদের বাইক সম্পর্কিত জে*রা শেষ হলে আমার তোমাদের কে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা আছে। ' আবির আব্বুর দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললো।

এতক্ষণ বাড়ির মহিলা রান্নাঘরে থাকলেও এবার আর থাকতে পারলেন না, এক ছুটে সবাই ড্রয়িংরুমে চলে এসেছেন । মেঘ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে। এই বাড়িতে এত বছরে কাউকে গলা উঁচু করে মুখের উপর কথা বলতে শুনেনি সে। তানভির ভাইয়া যত মেজাজ দেখিয়েছে সব মেঘের উপর, বড় আব্বু বা নিজের আব্বুর মুখের উপর কথা বলার সাহস হয় নি তার। আবির ভাই ২দিন হলো এসছে,আজই বাবার মুখের উপর নিজের ম*র্জি শুনাচ্ছে, এখন মেঘের মনে হচ্ছে ওনি হি*ট*লা*রের থেকেও বড়মাপের কিছু । মনোযোগ দিয়ে বাকি কথা শুনার চেষ্টা করছে মেঘ.

আবির: আব্বু,চাচ্চু আমি অনেকদিন যাবৎ চিন্তা ভাবনা করেছি নিজে একটা কোম্পানি শুরু করার। তোমরা অনুমতি দিলে কাজ শুরু করবো

মোজাম্মেল খান ও আলী আকবর খান দুজনের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পরেছে। এতবছর ছেলেকে বাহিরে রেখে পড়াশোনা করিয়েছেন, দেশে এসে নিজের ব্য*বসার হাল ধরবে, দেশে পা দিতেই নিজে কোম্পানি খোলার চিন্তা ভাবনা করছে ছেলে৷

মোজাম্মেল খান চিন্তিত কন্ঠে বললেন, আমরা তো ভেবেছিলাম তুমি পারিবারিক ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আবির কিছু বলার আগেই আলী আকবর খান বলে উঠলেন,
'ঠিক আছে, তুমি পড়াশোনা করে এসেছো, তোমার নিজস্ব মতামতের গুরুত্ব আমরা অবশ্যই দিবো,তোমার নতুন কোম্পানি নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই তবে আমার একটা শর্ত আছে, তুমি আমাদের কোম্পানির CEO হবে, আগামীকাল শুক্রবার অফিস ছুটি তাই তুমি শনিবারে অফিসে যাবে,তোমাকে অফিসিয়াললি CEO পদ দেওয়া হবে। তারপর তুমি আমাদের অফিস সামলে যদি নতুন কোম্পানি শুরু করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারো তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। Best of luck my boy.

আবির যেনো আগে থেকেই জানতো এরকম কিছু হবে তাই তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেলো না'

এতটুকু বলে সোফা থেকে উঠে রুমের দিকে হাঁটা শুরু করলেন আবিরের আব্বু, কয়েক কদম এগিয়ে আবার দাঁড়িয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে রু*দ্ধ কন্ঠে বললেন,

'আমরা কোম্পানি সামলানোর জন্য সারাজীবন থাকবো না তোমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে, তুমি না পারলে তোমার প্রাণপ্রিয় ভাই তানভিরকে বলো রা*জ*নী*তি ছেড়ে ব্যবসায় আসতে তারপর তুমি তোমার মতো নিজে কোম্পানি খুলতে থাকো।'

আবির চোয়াল শক্ত করে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,

'তানভির রা*জনী*তিই করবে ওর মাথায় ব্যবসা ঢুকানোর কোনো দরকার নেই, শনিবারেই অফিসে আসবো আমি। আমি একায় সবদিক সামলাতে পারবো। তোমরা দয়া করে তানভিরকে মুক্তি দাও, নিজের মতো করে রাজনীতি টা করতে দাও ওকে। তোমার শ*র্ত যেমন আমি মেনে নিয়েছি তোমাদেরকেও আমার একটা শর্ত মানতে হবে সেটা হলো, আমি আমার মন মতো কাজ করবো, আমার যখন যেখানে প্রয়োজন হবে নিজের কাজ গুছিয়ে আমি চলে যাব তখন আমাকে কোনো প্রকার বাঁ*ধা দিতে পারবে না কেউ। দরকার হলে ২ অফিসের কাজ শেষ করে আমি রাত ১২ টায় বা ২ টায় বাসায় ফিরবো এমনকি নাও ফিরতে পারি এতে তোমাদের যেনো মা*থা*ব্যথা না হয়।'

একদমে কথাগুলো বলে কোনোদিকে না তাকিয়ে দ্রুতপায়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আবির

আলী আহমদ খান কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে কোনো কথা না বলে রুমের দিকে হাঁটা দেন।

পিনপতন নীরবতা বাড়িতে৷ সোফায় বসে আছেন মোজাম্মেল খান, কাছেই তিন ঝা একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছে বারবার, তাদের আবিরের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাহিরের দুনিয়া সামলাতে গিয়ে নিজের প্রতি না যত্নহীন হয়ে পরে ছেলেটা এটায় তাদের চিন্তার বিষয়।

নিচে উপস্থিত মানুষগুলোর মধ্যে চিন্তার ছাপ দেখা গেলেও উপরে দাঁড়িয়ে একপ্রকার বিনোদন উপভোগ করছিল মেঘ৷ যেই বড় আব্বুর কথার উপর কারো কথা চলে না আজ ওনার সাথে টক্কর দেয়ার মানুষ এসেছে৷ বাবা ছেলে কি শ*র্তটায় না দিচ্ছে৷ যেমন বাবা তেমন ছেলে এসব ভেবেই হাসি পাচ্ছে মেঘের। হঠাৎ করেই হাসিটা গা*য়েব হয়ে মুখটা ভা*রি হয়ে গেলো মেয়েটার, আর ফিসফিসিয়ে বলতে শুরু করলো,
" নিজে তো হি*ট*লা*র সাথে আমার ভাইটাকে বড় গু*ন্ডা বানাতে কি সুন্দর উৎসাহ দিচ্ছে । এতবছর ভাইয়ের জ্বা*লায় জীবন তেজপাতা এখন আবার আরেকজনের আবির্ভাব হলো। কপালটায় খারাপ আমার। "

এখন নিচে যাওয়ার পরিস্থিতি নেই তাই বিড়বিড় করতে করতে রুমে ঢুকতে যাবে হঠাৎ চোখ পরে আবির ভাইয়ার রুমের দিকে এক রাশ হতাশা নিয়ে রুমে ঢুকে যায় মেঘ।

বাবা মা কে ছেড়ে আলাদা রুমে থাকলে খুব স্বাধীনতা পাবে ভেবে নিচতলা থেকে উপর তলায় চলে এসেছিল মেঘ, আবির ভাই বিদেশ যাওয়াতে কোনো চিন্তায় ছিল না। কিন্তু মেঘ আসার ১৫ দিনের মাথায় তানভির ও মেঘের পাশের রুমে চলে আসে জিনিসপত্র নিয়ে। সিঁড়ি দিয়ে সোজা উঠতেই তানভিরের রুম। বোনকে পাহারা দিতেই মূলত এই রুমে আসা। তানভির যতক্ষণ রুমে থাকে ততক্ষণ নিজের রুমের দরজা টা খুলে রাখে, মেঘ সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে উঠতে গেলেও ভাইয়ের কথা ভেবে আস্তেধীরে উঠানামা করে৷ বর্তমানে মেঘের অবস্থা না*জে*হাল কারণ তার একপাশে আবির ভাই এর রুম,আরেকপাশে তানভির ভাইয়ের৷ তানভির ভাইয়ের পরের রুমটা মীমের জন্য ঠিকঠাক করা হচ্ছে কিছুদিন পর থেকে মীমও উপরে থাকবে কিন্তু তাতে কি! ভাইয়ের ঘর ডিঙিয়ে মীমের রুম পর্যন্ত যেতে পারবে কি না স*ন্দেহ আছে৷
পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

রাত ১০ টার উপরে বাজে সবাই খাওয়াদাওয়া শেষ করে যার যার রুমে চলে গেছে। আবির এখনও বাড়ি ফিরে নি। মালিহা খান সোফায় বসে অপেক্ষা করছেন ছেলের জন্য । ১০-১৫ মিনিট পর বাড়িতে ঢুকলেন আবির আর তানভির, মাকে বসে থাকতে দেখে কিছুটা রা*গান্বিত হলো ছেলে।

'আম্মু তুমি আমার জন্য এভাবে রাত জেগে বসে থেকো না প্লিজ, আমি নিজের মতো করে খেয়ে নিবো।'

'তোর বউ আসলে আমি আর অপেক্ষা করবো না তোর জন্য,' সহসা উত্তর দিলেন মালিহা খান।

বড় আম্মুর কথা শুনে স্ব শব্দে হেসে উঠে তানভির । আবির ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় তানভিরের দিকে সঙ্গে সঙ্গে তানভির হাসি থামিয়ে ফেলে, নিঃশব্দে হাসছে সে।

তানভির বরাবর ই ভী*তু প্রকৃতির, বাহিরে যতই শ*ক্তপো*ক্ত থাকুক না কেন বাবা, চাচা আর ভাইয়ের সামনে সে যেনো ভে*জা বিড়াল। এতদিন যত কাজ ই থাকতো ছেলেটা ৮-৯ টার মধ্যে বাড়ি এসে সবার সাথে খেতে বসতো৷ কিন্তু আবির ফেরাতে টাইম সিডিউলে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে ছেলেটার।

চলবে......

#আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে
্বঃ_১
্বঃ_২

 #আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে(০৩) কোন এক আশঙ্কায় আবিরের মাথায় চিনচিন ব্য*থা অনুভব হয়, ভী*তিতে রু*দ্ধ হয় তার শ্বাস।  বারান্দায়...
03/07/2025

#আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে
(০৩)

কোন এক আশঙ্কায় আবিরের মাথায় চিনচিন ব্য*থা অনুভব হয়, ভী*তিতে রু*দ্ধ হয় তার শ্বাস। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনমনে কি যেনো ভেবে যাচ্ছে আবির। দূরে ঐ চাঁদটার দিকে তাকিয়ে আছে চ*ক্ষুযূ*গল এক মুহুর্তের জন্যও সরছে না, পল্লব ও পড়ছে না একটিবার, তার দুর্বো*ধ্য দৃষ্টি।

হঠাৎ কারো অস্তি*ত্ব বুঝতে পেরে সাবলীল ভঙ্গিতে নড়েচড়ে দাঁড়ায় দৃষ্টি সরিয়ে নেয় চাঁদ থেকে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নেয় মানুষটাকে তারপর, ধীরস্থির কন্ঠে জানতে চাই,

'কিছু হয়েছে?'

তানভির সরলমনে বলে,
'বড় আব্বু বুঝতে পেরে গেছে তুমি মা*রপি*ট করেছো, তাই তোমাকে সাব*ধান করতে বলেছে যেনো মা*রপি*ট আর রা*জনী*তিতে না জরাও।'

'আরকিছু?' অবহেলায় প্রশ্ন টা করলো আবির

'না, তেমন কিছু না ব্যবসার হাল ধরতে বললো৷ ' তানভির উত্তর দিলো।

আবির: আচ্ছা ঠিক আছে৷ আর কিছু বলবি?

তানভির: ভাইয়া, মাথা ঠা*ন্ডা করো তুমি। বাদ দাও প্লিজ৷ আমি তোমাকে শুধু জানিয়েছিলাম বিষয়টা। তুমি যে এভাবে দেশে চলে আসবে আর এইভাবে ঝামেলা হবে এটা আমি ভাবতে পারি নি৷ বু*ঝতে পারলে আমি আ*গেই ব্যা*পার টা স*লভ করে ফেলতাম৷

আবির: তুই আমায় বাদ দিতে বলছিস? বাহ।

তানভির: আমি ঐভাবে কিছু বলি নি ভাইয়া। যা হবার তো হয়েছে৷৷ তুমি যা করেছো এরপর আশা করি আর কিছু হবে না। তাই বলছিলাম ঐসব চি*ন্তা বাদ দিয়ে একটু রেস্ট নাও। অনেকটা জা*র্নি করে এসেছো।

আবির: আচ্ছা তুই এখন যা, এরপর থেকে আমার ব্যাপারে তোকে যেনো কেউ কিছু না বলে, এটা সবাইকে বলে দিস। এতবছর বাহিরে ছিলাম। এখন তো আমি বাড়িতে আছি, যার যা কথা সব যেনো আমায় বলে সরাসরি। আর আগামীকাল ১২ টার আগে কেউ যেনো ডাকতে না আসে আমায়।

তানভির: আচ্ছা৷ আসছি আমি৷

এতক্ষণে মেঘে ঢেকে গেছে চাঁদ। অসীম দূরত্বে তাকিয়ে কি যেনো ভাবছে ছেলেটা৷ তারপর রুমে ঢুকে দরজা আটকে ব্যাগ থেকে একটা সিগারেট বের করে, বারান্দায় বসে সি*গা*রেট জ্বা*লিয়ে ঠোঁ*টে ধরে...

দৃষ্টি পরে দূরে গাছের পাতার ফাঁকে ল্যামপোস্টের ক্ষুদ্র আলোর দিকে, তারনিচে ২-৩ টা কুকুর আপন মনে চিল্লাচিল্লি করছে।

সি*গারে*ট খাওয়াটা আবিরের নি*ত্যদিনের অভ্যাস না, যখন সে খুব রা*গান্বি*ত বা চি*ন্তিত থাকে, বা যখন নিজেকে ক*ন্ট্রোল করার সব শ*ক্তি হারিয়ে ফেলে তখন সিগারেটের ধোঁ*য়ার মধ্যে নিজের ক*ষ্ট, রা*গ,চি*ন্তা আর অ*ভিমান গুলোকে উড়িয়ে দেয়।

সি*গারে*টে কয়েকটা টান দিয়ে সি*গা*রেট টা ফেলে দেয়। তারপর টানটান হয়ে শুয়ে পরলো নিজের বিছানায়। মাথার নিচে দুহাত রেখে চোখ বুজলো।

পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

মেঘ খাবার খেয়ে রুমে এসে ২-৩ ঘন্টা টানা পড়াশোনা করলো।। HSC পরীক্ষা শেষ হলো এক মাস ও হয় নি কিন্তু পড়াশোনা যেনো ৩ গুণ বেড়ে গেছে। এডমিশন একটা মস্তবড় যুদ্ধ যার একমাত্র অস্ত্র হলো পড়াশোনা তার সাথে অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জরিয়ে আছে ভাগ্য। HSC র রেজাল্ট কবে দিবে ঠিক নেই, পাশ করবে কিনা তাও জানা নেই৷ কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি আগেভাগেই নিতে হচ্ছে। বয়সের তুলনায় মেয়েটা পড়াশোনায় একটু বেশিই এগিয়ে গেছে। ১৮ বছর বয়সে পা দিলো সবেমাত্র ২ মাস হয়েছে। তারমধ্যে HSC পরীক্ষা শেষ । কয়েকমাস পরে সে স্নাতক শিক্ষার্থী হতে চলেছে ভাবতেই কেমন যেনো নিজেকে বড় বড় মনে হয় মেঘের।

পড়াশোনা শেষ করে নিজের বিছানায় শুয়েছে হাতে তার নতুন মোবাইল। কিন্তু করবে কি সে, না আছে ফেসবুক আর না আছে অন্য কোনো একাউন্ট। ইউ*টিউবে ঢুকে কয়েকটা ভিডিও দেখে মোবাইল রেখে দেয়।

শুয়ে ভাবতে লাগে আবির ভাইয়াকে ধন্যবাদ জানানো দরকার কিন্তু সে তো ভ*য়ে দাঁড়াতেই পারবে না আবিরের সামনে.. পু*রোনো স্মৃতিগুলো ভাবতে থাকে...

মেঘ সবেমাত্র ৫ম শ্রেণিতে উঠেছিল । বয়সের গন্ডি ৯-১০ এর মাঝামাঝি । তখন মেঘের একটা বন্ধু হয়েছিল নাম জয়৷ ছেলেটা স্কুলে নতুন এসেই বন্ধত্ব করেছিল মেঘের সাথে। ছোটবেলা পিচ্চিদের বন্ধুত্ব যেমন ছিল, চকলেট শেয়ার করা,টিফিন শেয়ার করা,একসাথে খেলাধুলা করা। ১ টা সপ্তাহ ও হয়নি তাদের বন্ধুত্বের। ৭ দিনের মাথায় আবির স্কুলে গিয়ে মেঘকে আর জয়কে একসাথে খেলতে দেখে। স্কুলের সবার মাঝখানে মেঘের গালে কয়েকটা থা*প্প*ড় বসিয়ে দিয়েছিল আর রা*গা*ন্বিত স্বরে বলেছিল, "তোকে যদি আর কোনোদিন কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে বা খেলতে দেখি তাহলে তোর খবর আছে। "

তারপর বোনকে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে আসে, একটাবার বোনের দিকে তাকিয়েও দেখে নি। দুগালে আবিরের ৫ আঙুলের দাগ বসে গেছিলো।

সেইযে থা*প্পড় দিয়েছিল মেঘ এক সপ্তাহ জ্ব*রে পরে ছিল। মেঘ ছোট বেলা থেকেই খুব অ*ভিমা*নী ছিল। ছোট্ট মেয়েটা এই থা*প্পড়ের ভ*য়ে আর আ*তঙ্কে আর কখনো আবিরের দিকে চো*খ তুলে তাকায় নি, কথা বলা তো দূরের বিষয়, আবির বাসায় থাকাকালীন রুম থেকে বের ই হয় নি মেঘবালিকা । আবির ও কখনো খোঁজ নেয় নি মেয়েটার। ছোট্ট মেঘের মনে তখনই জন্ম নেয় আবির ভাই এর প্রতি অ*ভিমা*ন, সীমাহীন অভি*যোগ, কষ্ট আর বি*তৃষ্ণা। ২ বছর পর দেশ ছাড়ে আবির। এই সময়ের মাঝে মেঘ আবিরের সাথে এক টেবিলে খেতেও বসতো না। আবিরকে দেখলেই যেনো ছুটে পালাতো মেঘ৷ আবির বিদেশ চলে যাওয়ার পর মেঘ আবিরের ভয় থেকে নিজেকে সাবলীল করে আপন মনে রাজত্ব করতে থাকে খান বাড়িতে৷ আবিরের পাশের রুমটায় তার দখলে চলে আসে আবির থাকলে হয়তো কখনোই সে এই রুমে আসতো না।

বিদেশ যাওয়ার পর আবির সবার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছে কিন্তু কথা হয় নি মেঘের সাথে, ২-১ বার মেঘের কথা জিজ্ঞেস করেছিল ঠিকই কিন্তু মেঘ আত*ঙ্কে কথা বলতে চাই নি। এর পর থেকে আবিরও কখনো মেঘের কথা জিজ্ঞেস করে নি।।

এতবছর পর ভাই বাড়ি এসেছেন, এখনও দেখা হয় নি তারসাথে। এরিমধ্যে মা*রপি*ট করে ফেলেছেন৷ ছোটবেলায় অনুভূতি প্রকাশ না করতে পারলেও আজ আবিরের ক*র্মকা*ণ্ডের কথা শুনে মেঘের মনে একটা নাম ই ঘুরপাক খাচ্ছে সেটা হলো 'হি*ট*লা*র'। হি*ট*লা*রে*র সাথে আবিরের কতটা মিল বা বেমিল তা বিবেচনা করার বিন্দুপরিমাণ ইচ্ছে নেই তার ।। মাথায় একটা চিন্তায় ঘুরছে ধন্যবাদ জানানো উচিত কিন্তু সে কি আদোঃ কথা বলতে পারবে হি*ট*লা*রে*র সাথে..??

এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো সে

পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

ভোর বেলা থেকেই বাড়িতে রান্নার ধুম পরে যায়। তিনভাই সকাল সকাল খেয়ে অফিসে চলে যায়। মীম আর আদিও স্কুলে চলে যায়। মেঘ ঘুম থেকে উঠে ৮ টায়, রাত জাগার কারণে সকালে উঠতে পারে না সে। মাঝে মাঝে গোসল করে খেয়ে বের হয় মাঝে মাঝে এমনিতেই চলে যায়।। ১০-২টা পর্যন্ত বাহিরে কোচিং,তারপর টিউশন শেষ করে বাড়ি ফিরে, ফ্রেশ হয়ে খেয়ে একটু ঘুমাই। বিকালে একটু হৈ-হুল্লোড় করে তারপর পড়াশোনা করে। এই তার বর্তমান জীবন। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।। খেয়ে কোচিং এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরেছে, বাসার গাড়িই তাকে দিয়ে আসে আবার কল দিলে গিয়ে নিয়ে আসে।

ঠিকঠিক ১২ টায় ঘর থেকে বের হয় আবির ধীরগতিতে নিচে আসে , চি*ন্তিত মুখ দেখে মা মালিহা খান ভীতস্বরে ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন,
'কিছু হয়েছে তোর বাবা.?'

আবির মুখের ভা*রিভা*ব বজায় রেখে উত্তর দিলেন...
'কিছু হয় নি, খেতে দাও'

ছোটবেলার চঞ্চলতার ছি*টেফোঁ*টাও নেই ছেলেটার মধ্যে এটা ভেবেই বারবার হতাশ হচ্ছেন মালিহা খান। হঠাৎ চোখ পরে ছেলের হাতে ব্যা*ন্ডে*জের দিকে, হাতটাও ফুলে গেছে অনেকটা।৷

আবির খাবার খাচ্ছে আর তার মা শা*ন্তস্বরে ছেলেকে বুঝাচ্ছেন, এটা করো না, সেটা করো না, মনে হচ্ছে ৫ বছরের শিশু সে, আ*গুন- পানি চিনে না।। যদিও বাবা মায়ের কাছে সন্তানরা সারাজীবন শিশুই থাকে। খাওয়া শেষে মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায় আবির৷

পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90)

★★★★

মেঘ বাড়ি ফিরেছে ১ ঘন্টা হবে, শাওয়ার নিয়ে নিচে এসেছে খেতে। খাওয়া শেষ।

তানভির রুম থেকে ছুটে এসে জিজ্ঞেস করে,
'বড় আম্মু, ভাইয়া কোথায়?'

আঁতকে উঠেন মালিহা খান,
'ও তো ২-৩ ঘন্টা আগেই খেয়ে বের হয়েছে, কেন?'

'ইশ,মিস করে ফেললাম'

মালিহা খানঃ কি হয়েছে বাবা?

মেঘ নিরবে তাকিয়ে, ভাই আর বড় আম্মুর কথোপকথন শুনছে আর বুঝার চেষ্টা করছে ঘটনা টা কি৷

তানভির ভাইকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
'কোথায় আছো?'

আবির কি যেনো বললো শুনা যায় নি... তানভিরের চোখে মুখে উ*ত্তে*জনা স্প*ষ্ট।

বড় আম্মু,আম্মু, কাকিমনি বাহিরে চলো

কেউ প্রশ্ন করার আগেই তানভির ছোটে গেলো বাহিরে, তার পিছন পিছন মীম,আদি,মা কাকিরা সবাই দরজা পর্যন্ত গেলো,সবার পিছনে মেঘও গেলো সেখানে৷

এরিমধ্যে বাইকে বাড়ি ঢুকলো আবির, নীল রঙের চকচকে একটা সুন্দর বাইক,হেলমেট টাও নীল।
হেলমেট খুলতে খুলতে তাকায় বাড়ির মানুষের দিকে.... মেঘ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সেই কবে দেখেছিলো আবিরকে সেই আবিরের সাথে এই আবিরের চেহারার কোনো মিল নেই। হেলমেট খুলাতে চুল গুলো এলোমেলো হয়ে গেছে আবিরের, চোখে সানগ্লাস, নেভিব্লু রঙের শার্ট কালো প্যান্টের সাথে ইন করে পরেছে, হাতে কালো ফিতার একটা ঘড়ি, পায়ে শো জুতা। আপাদমস্তক দেখলো আবিরের, হৃ*দপি*ণ্ডের চা*রপ্রকো*ষ্ঠ ছটপট করতে লাগলো মেঘের। আবিরের দিকে বি*ভোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে৷

আবির বাড়ির সকলের উদ্দেশ্যে বললো,
'বাইক টা কিনেছি,কেমন হয়েছে?'

আবিরের কন্ঠ মেঘের মনের গহীনে ধাক্কা খায় এতে হুঁশ ফিরে তার। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না সে। একদৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা আটকে শুয়ে পরে মেঘ ।।

মীম আর আদি হৈ-হুল্লোড় করছে, আবির ভাইয়ার কাছে আবদার করছে ওদের বাইকে নিয়ে ঘুরার জন্য ।

মালিহা খান ছেলের পানে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, 'বাসায় ২-৩ টা গাড়ি থাকার পরও বাইক কেনো কিনলে?'

'আমার গাড়িতে চলাচল ভালো লাগে না',অবলীলায় উত্তর দিলো আবির।

পিচ্চিরা খুশি হলেও খুশি হতে পারেন নি মালিহা খান, হালিমা খান আর আকলিমা খান। কারণ এই বাড়িতে বাইক ব্যবহার নিষেধ করেছিলেন স্বয়ং আলী আহমদ খান নিজেই। তিনি কোনো এক বয়সে বাইকে এক্সি*ডেন্ট করেছিলেন সেই থেকে বাইক কিনা বা বাইকে চলাচল নি*ষিদ্ধ করেছেন। ইকবাল খানের খুব ইচ্ছে ছিল বাইক কেনার কিন্তু বড় ভাইয়ের নিষেধ অমান্য করার সাধ্য নেই তাই কিনতে পারেন নি। তানভির খুব করে চাইছিল বাইক কিনতে, রা*জনীতি*র সুবাদে অনেক জায়গায় চলাচল করতে হয় বাইক থাকলে সুবিধা হয়। বাবা মোজাম্মেল খানকে বলেও ছিল সে, কিন্তু বাবার এক কথা , তোর বড় আব্বু বাইক পছন্দ করে না তোর দরকার পড়লে তুই একটা গাড়ি সবসময় ব্যবহার করিস তারপরও বাইক কিনার নাম মুখে নিস না।

আবির বাড়ি ফিরেছে ২৪ ঘন্টা হবে হয়তো, এরমধ্যে ই বাইক কিনে ফেলছে, এর পরি*ণাম কি হবে তা ভেবেই ভয়ে আঁ*তকে যাচ্ছেন বাড়ির তিন বউ।।

পেইজঃ Salma Chowdhury - সালমা চৌধুরী (scsalma90

★★★★

অষ্টাদশীর হৃদয় কাঁ*পছে, কেমন জানি অস্থির লাগছে সবকিছু। পরিচ্ছন্ন নয়নে তাকিয়ে আছে রুমের জানালার দিকে, দৃষ্টি তার অসীম দূরত্বে। কি জানি কি ভাবলো কতক্ষণ হঠাৎ ঝলমলিয়ে উঠলো মেঘ সঙ্গে সঙ্গে চোয়াল শক্ত করে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলো,

' বাই এনি চান্স আমি কি হি*ট*লা*রটা*র উপর ক্রাশ খেয়েছি......???'

চলবে......

#আমৃত্যু_ভালো_বাসি_তোকে

্বঃ_১

্বঃ_২

Address

Pabna
Kashinatpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Emotionsシ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share