তাসনীম সুলতানা - Tasnim Sultana Tas'u

তাসনীম সুলতানা - Tasnim Sultana Tas'u Please like my page and stay connected with my page. Thanks

ডির্ভোসের আট মাস পার হলো কুহুর। কফির মগটা নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে নিকোষ কালো আকাশের পানে তাকিয়ে ডুব দেয় অতীতে। মেট্রিক পাস কর...
26/10/2025

ডির্ভোসের আট মাস পার হলো কুহুর। কফির মগটা নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে নিকোষ কালো আকাশের পানে তাকিয়ে ডুব দেয় অতীতে। মেট্রিক পাস করার সাথে সাথেই তাকে বিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। কেউ এতে রাজি ছিল না, কিন্তু তার দাদীর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে একপ্রকার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে সবাইকে রাজি করানো হয়। বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ না যেতেই তার উপর শুরু হয় সব ধরনের অত্যাচার-শারীরিক, মানসিক, সবকিছু। এমনকি বাড়ির কারও সাথে যোগাযোগ করতেও দেওয়া হয় না তাকে।
একদিন দুপুরে, যখন তার জা এবং শাশুড়ি বাড়িতে ছিল না, সেই সুযোগে কুহু গোপনে তার শাশুড়ির ফোন নিয়ে বাবাকে একটা টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে দেয়। সেই বার্তা পেয়ে তার পরিবারের সবাই মিলে পুলিশ নিয়ে ছুটে আসে এবং কুহুকে রেসকিউ করে নিয়ে যায়। থানায় ওদের পরিবারের নামে একটা কেস দায়ের করা হয়।
থানায় কেস দায়েরের পর পুলিশ যখন তদন্ত শুরু করে, তখন তারা একটা চাঞ্চল্যকর সত্য উন্মোচন করে। জানা যায়, কুহুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নারী পাচারের একটা বড় গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত। তারা প্রতি মাসে মাসে ছদ্মবেশ পাল্টিয়ে নতুন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়ে যায়, যাতে ধরা না পড়ে। আরও ভয়াবহ যে, কুহুকেও তারা পাচার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে ছিল তাদের পরবর্তী শিকার।

পুলিশ এই গ্যাংটাকে ধরার জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করে, কিন্তু প্রথমে কোনো সন্ধান পায় না। অবশেষে, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে তারা গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরে ফেলে। আদালতে সব প্রমাণ সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করা হয়, এবং অপরাধীদের যথাযথ সাজা দেওয়া হয়।
এরপর কুহুর ডিভোর্স হয়ে যায়, কিন্তু তার এক্স হাসবেন্ড তাকে শাসায়, "আমি ফিরে আসব, কুহু, আমি ফিরে আসব। আর সেই দিন তোর জীবনকে ধ্বংসের স্তূপ করে দেব। তুই তৈরি থাকিস।"

কুহু সেইদিন ভয় পায়নি তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করে তবেই সে বাড়ি ফিরে। তার কিছুদিন পর তার দাদী মারা যান। ব্যাস! এর পর থেকে তাদের সংসারে কেমন শোকের ছায়া নেমে আসে। কেউ আর প্রাণখোলে হাসে না।
সবার মাঝেই অদ্ভুত এক নীরবতা আর দূরত্ব বিরাজ করচ্ছে। কুহুও কেমন সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেয়।

হঠাৎ কাঁধে কারও হাত পড়তে চমকে উঠে কুহু। পিছন পানে ফিরে দেখে তার মা। সে একটু হেসে থতমত গলায় বলল, "কিছু বলবে কি?"

"হুম!"

"বলো শুনচ্ছি।"

"তোর বড়ো চাচা চাইছিলো, তুই আমাদের সাথে এয়ারপোর্টে যা।"

"সরি! আম্মু আমি পারবো না যেতে।"

"কিন্তু কেনো?"

" তুমি তো জানোই এইসব ভিড়-বাট্টা ভালো আমার ভালো লাগে না,তাই। তুমি বরং বড়ো চাচ্চুকে কিছু একটা বলে ম্যানেজ করে নিয়ো।"

"আজ এতোদিন পর রাজ বাড়ি ফিরবে, আর তুই যাবি না,বিষয়টা কেমন দেখায় না।"

"মা, ভাইয়া দেশে ফিরে বাসায়-ই তো আসবেন,তখন না হয় দেখবো,এখন ইচ্ছে করচ্ছে না। প্লিজ!"

"ঠিক আছে যা তুই ভালো বুঝিস, আমি আর কি বলব বল? তোর যা ইচ্ছে, সাবধানে থাকিস।"- কথাটা বলে তিনি দীর্ঘ শ্বাঃস ফেলে বের হয়ে গেলেন কুহু রুম থেকে।

কুহু ফোঁস করে শ্বাঃস নিলো তার মার যাওয়ার পানে তাকিয়ে। মেঘরাজকে সে দেখেছিলো অনেক আগে,এখন তার চেহারাটাও মনে নেই। আর তার দেখার আগ্রহটা ও জন্মাইনি। সে তাকে যমের মতো ভয় পায়। একবার সে মেঘরাজের হাতে বেশ শক্তপোক্ত চড় খেয়েছিলো, এর পর থেকে তার থেকে সে তার সম্মুখে ও যায়নি। মেঘরাজ বেশ রাগী আর গম্ভীর স্বভাবের। ওর বিয়ের সময় ওকে বেশ কয়েকবার আসার জন্য বলা হয়েছিলো কিন্তু তার ছুটি মিলেনি তাই আসেনি। দাদির মৃ'ত্যুর সময় ও আসতে পারেনি। এর নাম হয়তো প্রবাসজীবন।

কুহুর বাবারা দুই ভাই এক বোন। কুহুর ফুফুর বিয়েটা নারায়ণগঞ্জ শহরে হয়েছে। কুহুর বড় চাচার তিন সন্তান-দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

বড় ছেলে মেঘ রাজ চৌধুরী, বহু বছর বিদেশে থাকার পর আজ দেশে ফিরছেন। ছোট ছেলে সাগর চৌধুরী, মেধাবী ও উদ্যমী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। সে একটি খ্যাতনামা আইটি কোম্পানিতে কর্মরত এবং প্রযুক্তির জগতে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এক বিশেষ পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

আর একমাত্র মেয়ে নদী চৌধুরী, সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ একজন সাংবাদিক। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কাজ করা নদী তার নির্ভীক প্রতিবেদন ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থানের জন্য সাংবাদিক মহলে বিশেষভাবে পরিচিত।

কুহু তার বাবার ঘরের একমাত্র মেয়ে তার আর কোনো ভাইবোন নেই।
এখন সে কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

যদিও কুহুর বাবা ও চাচারা সমাজের নামকরা ব্যবসায়ী, তবু কুহু নিজে খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করে। বিলাসিতা বা আড়ম্বরের ভিড়ে থেকেও সে সরল, বিনয়ী ও মাটির কাছাকাছি এক মেয়ে। কুহু আস্তে করে বেলকনি থেকে রুমে এসে কফির মগটা টেবিলের উপর রেখে পড়ার টেবিলে বসল।

________________________________

কুহুর মা মিসেস সামিনা চৌধুরী হালকা তাড়াহুড়ার ভঙ্গিতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন, “ভাইজান, চলুন দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমরা যাই।”

ঠিক তখনই কুহুর বড় চাচা আশরাফ চৌধুরী অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, “সেকি! আমার কুহু মা যাবে না? এতদিন পর মেঘ রাজ ফিরছে, আর ও থাকবে না?!”

সামিনা চৌধুরী একটু বিব্রত হাসি দিয়ে জবাব দিলেন, “ভাইজান, বেয়াদবি মাফ করবেন। ওর নাকি মাথা ব্যথা করছে, তাই যেতে চায় না। বলেছে, আমরা যেন যাই।”

আশরাফ চৌধুরী কিছুক্ষণ চুপ থেকে মৃদু হেসে বললেন, “আচ্ছা, চলো তাহলে রওনা দিই। ওকে বিশ্রাম নিতে দাও।”

তারপর আর দেরি না করে সবাই গাড়িতে উঠলেন।
চৌধুরী বাড়ির সামনে লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়িগুলোর সারি একে একে গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেলো এয়ারপোর্টের উদ্দ্যেশে।

নিজের রুমের জানালা দিয়ে ভেসে আসা গাড়ির শব্দে কুহু বুঝতে পারল সবাই এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বাড়িটা মুহূর্তেই কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগতে শুরু করল। নিঃশব্দ নিস্তব্ধতার মধ্যে একটা লম্বা তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে সে বইটা বন্ধ করে রাখল। পড়ার টেবিল থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসে ল্যাপটপটা হাতে নিল, তারপর বেডের নরম কুশনে হেলান দিয়ে বসল।

ল্যাপটপ অন করে একটা পছন্দের মুভি চালু করল সে। স্ক্রিনে রঙিন আলো ঝলমল করতে শুরু করতেই মুখে হালকা হাসি ফুটল কুহুর। এরপর নিচে নেমে গেল রান্নাঘরে। ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা জুসের বোতল বের করল, তারপর গ্যাসে তেল বসিয়ে চিপস ভেজে নিল নিজের মতো করে। ছোট্ট একটা ট্রে’তে চিপস আর জুস সাজিয়ে নিয়ে আবার নিজের রুমে ফিরে এল।

বেডে বসে কুহু ল্যাপটপটা সামনে রাখল। এক হাতে চিপস তুলে মুখে দিচ্ছে, আরেক হাতে জুসের গ্লাস তুলে নিচ্ছে।

_______________________________________

এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে দাঁড়িয় আছে চৌধুরী পরিবারের সবাই। অপেক্ষা করচ্ছে মেঘরাজ চৌধুরীর জন্য।

অবশেষে, কাচের দরজাটা খুলে গেল। ভেতর থেকে সোনালি রঙের ট্রলি টেনে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো এক লম্বা, সুঠামদেহী যুবক। চোখে কালো সানগ্লাস, গায়ে ধূসর ব্লেজার, ভিতরে সাদা শার্ট হালকা খোলা গলার বোতাম থেকে যেন একরকম রাফ্‌ চার্ম ছড়িয়ে পড়ছে। ছয় ফুট উচ্চতা, তীক্ষ্ণ চোয়াল, ঘন দাড়ির রেখা, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি এক কথায় একদম হট আর ক্লাসি লুক। এমন চেহারা দেখলে প্রথমেই যে শব্দটা মাথায় আসে তা হলো—“পারফেক্ট ম্যান!”

লাগেজ হাতে সবার সামনে এগিয়ে এসে, সালাম দিলো সে। অতঃপর সে তার বাবাকে সবার আগে জড়িয়ে ধরল।

"আলহামদুলিল্লাহ, বাবা কেমন আছেন?"

আশরাফ চৌধুরীর চোখে জল টলমল করে উঠল, কণ্ঠ ভারী হয়ে বললেন,“ভালো আছি বাবা অনেকদিন পর তোকে সামনে দেখছি।”

এরপর জড়িয়ে ধরল তার ছোট চাচা ও তার ভাই সাগরকে। নদী এগিয়ে এল চোখে পানি, মুখে হাসি। ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সে।

সবশেষে এগিয়ে এলেন সামিনা চৌধুরী—যিনি মেঘ রাজ ও বাকি ভাইবোনদের কোলেপিঠে মানুষ করেছেন। নিজের সন্তান না হয়েও মাতৃত্বের সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন এই ঘরের সন্তানদের জন্য।

মেঘ রাজ মৃদু হাসি দিয়ে ওনার সামনে দাঁড়াল, তারপর হঠাৎ করেই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরল।
“আম্মুনি আপনি কেমন আছেন ?”

সামিনা চৌধুরী চোখ মুছে হেসে উত্তর দিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?”

“আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি।”

লাগেজগুলো ট্রলি থেকে নামিয়ে একে একে গাড়িতে তুলল সে। পরিবারের সবাই উঠল নিজ নিজ আসনে।
মেঘ রাজ পেছনের সিটে বসল, একবার জানালার বাইরে তাকাল রাতের বাতাস মুখে লাগছে, আকাশে আধোচাঁদ, শহরের আলো ঝিকমিক করছে দূরে।

অনেকদিন পর দেশে ফেরা, অনেকদিন পর নিজের মানুষগুলোর স্পর্শ।
গাড়ি যখন ধীরে ধীরে এয়ারপোর্ট ছাড়ছে, তখন মেঘ রাজের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল।

#খুলে_দেও_এই_হৃদয়ের_প্রণয়ের_দ্বার
#নূরজাহান
#সূচনা_পর্ব

(রেসপন্স পেলে কন্টিনিউ করবো, না হলে এইখানেই বন্ধ করবো)

26/10/2025

" দুই বছর পর নিজের স্বামী কে দেখে চমকে গেলো প্রহর। বিয়ের প্রথম রাতেই তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গিছিলি। আর আজ দুই বছর পর ফিরে এসেছে নতুন বউ সাথে নিয়ে। প্রহর হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তার স্বামী জিদানের পানে। জিদান নির্লিপ্ত। প্রহরের প্রতি তার কোনো দুর্বলতা নেই। নেই কোনো ভালোবাসা, না আছে কোনো অনুভূতি। "

প্রহর তাকিয়ে আছে জিদানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে। লাল টুকটুকে শাড়ি পরিহিত নারী৷ দেখে মনে হচ্ছে সদ্য বিয়ে করা দম্পত্তি। প্রহর লক্ষ্য করল জিদানের পরনে খয়েরী রঙের শেরওয়ানি পড়া। প্রহরের বুঝতে দেড়ি হয় না। এরা সত্যি সত্যি নব দম্পত্তি। সদ্য বিয়ে করে বাড়ি ফিরছে। প্রহরের পুরো দুনিয়া উলোট পালোট হয়ে গেলো। এত গুলো দিন পর স্বামী কে দেখে খুশি হওয়ার বদলি কষ্ট টা বেশি হচ্ছে প্রহরে'র।

দরজায় প্রহর কে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিদানের সদ্য বিয়ে করা বউ শিলা জিদান কে বলল,

"- মেয়ে টা কে বেবি? এভাবে দরজা আঁটকে দাঁড়িয়ে আছে কেন? তোমার মা কে ডাকো। বরণ ঢালা আনতে বলো৷ বাড়ি তে নতুন বউ এসেছে। বরণ করে ঘরে তুলতে বলো জিদান।

জিদান হেঁসে বলল,

"- একটু অপেক্ষা করো জান। আমি মা কে ডাক দিচ্ছি৷ মা এসে আমাদের বরণ করে ঘরে তুলে নিবে।

জিদানের মুখে জান ডাক শুনে প্রহরে'র বুকের ভিতর টা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। জিদান মুখে জান ডাক টা প্রহরে'র বুকে গিয়ে বিঁধল। জিদান প্রহর কে বলল,

"- এভাবে তালগাছের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে মা কে ডাক দাও। বলো বাড়িতে নতুন বউ এসেছে। বলবে জিদানের বউ এসেছে। বরণ ঢালা এনে বরণ করে ঘরে তুলতে।

প্রহর আর সহ্য করতে পারছে না। স্বামীর মুখে ই তাকে এসব শুনতে হচ্ছে। প্রথম স্ত্রী কেই কি না বলছে নতুন বউ এসেছে বরণ ঢালা এনে বরণ করতে। এসব শুনার আগে তার মরণ হলো না কেন আল্লাহ!

কলিংবেল এর শব্দ পেয়ে জিদানের মা মানে প্রহরে'র শাশুড়ী মর্জিনা বেগম প্রহর কে দরজা খুলতে পাঠায়। এতক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও যখন আসছে দেখে তিনি নিজে আসেন দরজার কাছে। আর এসে জিদান কে দেখে তিনি খুব খুশি হয়ে যান। কিন্তু তার খুশি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কারণ যখন তিনি দেখলেন ছেলের পাশে লাল শাড়ি পরিহিত এক সুন্দরী রমণী দাঁড়িয়ে আছে। তখনই তার মুখে আঁধার ঘনিয়ে আসে। কিন্তু নিজের মন কে বুঝান তার ছেলে এমন করতে পারে না। তাই তো তিনি বললেন,

"- জিদান বাবা তুই এসেছিস? আমি খুব খুশি হয়েছি বাবা। কিন্তু তোর পাশে এই মেয়ে টা কে বাবা? আগে তো কোনো দিন দেখি নাই। চিনিও না। মেয়ে টা কে জিদান?

জিদান হাসি মুখে বলল,

"- আমার বউ মা। আমি বিয়ে করেছি।

জিদানের কথা'য় তিনি পিছিয়ে গেলেন। অস্ফুট স্বরে বললেন,

"- ক- কি ব-লছিস তুই? বিয়ে করেছিস মানে? বউ থাকতে আবার বিয়ে করেছিস? তোর মাথা ঠিক আছে জিদান?

জিদান চোখ মুখ কালো করে বলে,

"- আমার মাথা ঠিক আছে মা। আমি সজ্ঞানে শিলা কে বিয়ে করেছি।

মর্জিনা বেগম প্রহরে র দিকে তাকালেন। প্রহরে'র চোখ মুখ দেখে তিনি বুঝতে পারলেন মেয়ে টার উপর দিয়ে কি যাচ্ছে। যেখানে বিয়ের প্রথম রাতেই স্বামী চলে যায়। আর তারপর দুই বছর পর ফিরে আসে আরেক টা বউ নিয়ে। প্রহর পুরো নিশ্চুপ হয়ে গেছে। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। জিদান তার মা কে বলল,

"- মা আমাদের বরণ করবে না? বরণ করে তোমার নতুন বউমা কে তোমার ঘরে তুলবে না?

মর্জিনা বেগম হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন। তিনি বললেন,

"- কিসের বরণ? কোনো বরণ হবে না। তুই কার পারমিশন নিয়ে অন্য একটা অচেনা অজানা মেয়ে কে বিয়ে করেছিস হ্যা? আমি কাউকে বরণ করবো না। এখান থেকে তুই চলে যা। আমি এই বিয়ে মানি না। আমি শুধু ওকেই আমার বউমা হিসেবে মানি৷ অন্য কাউকে না। প্রহর কে দেখিয়ে বললেন মর্জিনা বেগম। শিলা এতক্ষণে বুঝল এই মেয়ে টাই জিদানের প্রথম স্ত্রী।

এতক্ষণ ধরে মা ছেলের কথা শুনছিল শিলা। কিন্তু আর শোনার টাইম নাই তার কাছে৷ মা ছেলের অহেতুক বকবকানি তে তার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। তাই সে বলল,

"- শুনুন শাশুড়ী মা। আপনি মানেন বা না মানেন। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। বিয়ে টা যেহেতু আপনার ছেলে কে করেছি সেহেতু তো আপনাকে আমায় মেনে নিতেই হবে।

শিলার কথায় মর্জিনা বেগম আশ্চর্য হয়ে যান। প্রথম দিন এসেই তার মুখের উপর কথা বলছে। এত বড়ো সাহস মেয়ে টার।

ততক্ষণে বাসায় চলে আসে বাড়ির বাকি সদস্য রা। জিদানের বাবা আর চাচা। জিদানের চাচি এই মুহুর্তে বাসায় নেই। জিদানের বাবা শামসুল আলম জিদান কে দেখে অবাক হলেন। তিনি জানতেন না জিদান আজ বাসায় ফিরবে। কিন্তু জিদানের পাশে থাকা মেয়ে কে দেখে তিনি বললেন,

"- জিদান মেয়ে টা কে? দেখে মনে হচ্ছে সদ্য বিয়ে করে এসেছে? কার বউ?

জিদান কিছু বলল না চুপ করে থাকলো। শামসুল আলম ভিতরে ঢুকে স্ত্রী কে বললেন,

"- কি হয়েছে? তোমার চোখ মুখ এমন দেখাচ্ছে কেন? আর প্রহর মা তুমি ঠিক আছো তো? তোমাকে দেখেও তো মনে হচ্ছে তুমি ঠিক নেই?

মর্জিনা বেগম চিৎকার করে বললেন,

"- তোমার গুনধর ছেলে দুই বছর পর বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তুমি দেখে কিছু বুঝতে পারছো না? আবার জিজ্ঞেস করছো কার বউ? ওটা অন্য কারোর বউ না তোমার ছেলের বউ!

শামসুল আলম এবার ভালো করে লক্ষ্য করলেন। জিদানের পাশে লাল শাড়ি পরিহিত এক নারী। তাকে দেখলে যে কেউই বলবে নতুন বউ। কিন্তু তিনি এতক্ষণ এটা বুঝতে পারেননি। তিনি জিদান কে বললেন,

"- ছিহ্ জিদান,ছিহ্! এমন একটা ঘৃণ্য কাজ করতে তোর বিবেকে বাঁধল না। তুই না আমার ছেলে৷ এখন আমার মনে হচ্ছে তুই আমার ছেলে নস৷ আমার ছেলে হলে এমন কাজ করতে পারতো না।

জিদান চোখ মুখ শক্ত করে বলে,

"- বাবা, আমার যেটা ভালো মনে হয়েছে আমি সেটাই করেছি। এখন আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। আমার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারি।

"- তাই বলে তুই প্রহর কে অস্বীকার করতে পারিস না জিদান। প্রহর তোর বিয়ে করা বউ। তিন কবুল বলে তুই ওকে বিয়ে করেছিস। এখন তুই এসব বললে তো চলবে না।

জিদান প্রহরের দিকে তাকিয়ে বলল,

"- এই বিয়ে আমার কাছে কোনো মানে হয় না বাবা। এই বিয়ে আমি মানি না।সেখানে প্রহর কে নিজের স্ত্রী বলার প্রশ্নই আসে না।

"- জিদান.....
শামসুল আলম হাত উঠিয়ে জিদান কে মারতে যান কিন্তু চড় মারার আগেই তার হাত ধরে ফেলে জিদানের নতুন বউ শিলা। শামসুল আলম হতবাক! মর্জিনা বেগম মুখ চেপে ধরেন। প্রহর বিস্মিত! কি হচ্ছে এসব? শামসুল আলম হতবাক হয়ে বললেন,

"- এই মেয়ে তোমার সাহস তো কম নয় তুমি আমার হাত ধরেছো? তোমার সাহস দেখে আমি অবাক না হয়ে পারছি না।

জিদান দ্রুত শিলার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

"- তুমি আমার বাবার হাত ধরলে কেন? আমার বাবা আমাকে মারতো আমি বুঝে নিতাম। তোমাকে আমাদের মধ্যে আসতে বলেছে কে?

"- জিদান উনি তোমাকে....

"- চুপ করো৷ কোনো কথা বলবে না।

শিলা চুপ করে যায় কিন্তু রাগে ফোসফাস করছে। প্রহরের দিকে আগুন চোখে তাকিয়ে আছে। প্রহর নির্বাক দৃষ্টিতে সব টা দেখছে।

শামসুল আলম রেগে বললেন,

"- এই বাড়িতে তোর কোনো জায়গা নেই। বেড়িয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। আর কখনো এই বাড়ির ত্রিসীমানায় তোকে যেন না দেখি। তোকে কোনো দিন আমি মেনে নেবো না। বেড়িয়ে যাহ।

শিলা জিদানের দিকে রাগি চোখে তাকালো। জিদান শিলা কে শান্ত হতে বলল। কিন্তু শিলা শান্ত হতে পারছে না। সবাই কে অবাক করে দিয়ে প্রহর বলল..........

চলবে~

#নির্জনপ্রহর(০১)
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

আসসালামু আলাইকুম। সম্পূর্ণ নতুন প্লটের গল্প নিয়ে হাজির হলাম কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই।

নানু আমাদের বাসায় আসছে, কিছুদিন থাকবে। প্রায় দশবছরের মতো হতে চললো মাথার তার মা*র ছি%*ড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ইদানিং কিছুই ...
26/10/2025

নানু আমাদের বাসায় আসছে, কিছুদিন থাকবে। প্রায় দশবছরের মতো হতে চললো মাথার তার মা*র ছি%*ড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ইদানিং কিছুই চিনে না। আমার আম্মুরে কয় "আফা" আব্বুরে কয় "ভাই"।"

সন্ধ্যায় ভাগ্নিরে বুকে নিয়ে শুয়ে আছি, হঠাৎ নানু আমার রুমে এসে কয়,
আপনি কি এই বাড়িতে নতুন ভাড়া আইছেন?
কইলাম, হুম। হেতি কয়, ওও। এউগ্গা কেডা?
উত্তরে কইলাম, আমার মেয়ে।
স্বামী কি করে?
নাই। আরেক বেডি নিয়ে ভাইগা গেছে।
শুনে বড্ড দুঃখ পাইলো। আমিও স্বামীর নামে আরও বেশকিছু অভিযোগ করলাম। নানু হাত আসমানে তুলে আল্লাহর কাছে বিচার চাইলো। সাথে আমিও সায় দিলাম। দুজন মিলে ঘন্টাখানেক অভিশাপ দিলাম।

জানিনা কে আমার স্বামী, তবুও দুজন মিলে ব%*কলাম। একটু কানলাম। এখন বুকটা হালকা লাগছে।

নীরার মা অনেক অসুস্থ কিন্তু সে মায়ের কাছে যেতে পারছে না, নীরার বর আসিফ ওকে ওর মায়ের কাছে যেতে দিবে না আর এ ও বলেছে ‘যদ...
26/10/2025

নীরার মা অনেক অসুস্থ কিন্তু সে মায়ের কাছে যেতে পারছে না, নীরার বর আসিফ ওকে ওর মায়ের কাছে যেতে দিবে না আর এ ও বলেছে ‘যদি তুমি আমার অনুমতি ছাড়া তোমার মায়ের কাছে যাও তাহলে আর ফিরে এ বাসায় আসতে পারবে না’ যার কারণে নীরা মায়ের কাছে যেতে ও পারছে না কিন্তু নীরা এটাই বুঝতে পারছে না যে আসিফ এমন করছে কেন? যে আসিফ নীরার কথায় উঠে বসে সে আসিফ নীরার মায়ের অসুস্থতার সময় এমন করছে কেন?

নীরার মন একটুও ভালো না, সারাক্ষণ মায়ের কাছে মন পরে থাকে, দুশ্চিন্তায় ঠিকরকম কোনো কাজে মন বসছে না। সারাক্ষণ শুধু একই চিন্তা মা কেমনে কি করে, ভিডিও কলে মা কে দেখে ঠিকই কিন্তু তার তো ভালো লাগে না। ছেলেটাকে ও ঠিকমতো খাবার দাবার দিচ্ছে না নীরা কারণ ঐ একটাই মায়ের চিন্তা কিন্তু আসিফ কোনো মতেই এখন ঐ বাসায় যেতে দিবে না নীরাকে তাই আর কিছু বলতে ও পারছে না।

নীরা সারাদিন ধরে আসিফ এর এমন ব্যবহার এর কারণ খুঁজে কিন্তু কারণ পায় না, ঐ দিকে নীরার বোন ফোন করে বলে যে সে ও মায়ের কাছে আসতে পারবে না এই কথাটা শোনার পর থেকেই নীরার মন আরও খারাপ হয়। ইরা(নীরার ছোট বোন) ও মায়ের কাছে আসবে না আবার সে ও যেতে পারবে না তাহলে মা কে দেখবে কে এই ভেবে আসিফের উপরে উঠা সকল রাগ সে ছেলে আরিফের উপর তোলে। সেই দিন আরিফ কে সারাদিনে কিছু খেতে দেয় নি আবার অনেক মারছে ও ছেলেটাকে। মারের দাগ গাল দুটো তে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।

ঐ দিকে নীরার মা জ্বর, ঠান্ডায় কাতর হয়ে উঠেছে এক মুঠো ভাত রান্না করে দেয়ার ও কেউ নেই। বার বার ভিডিও কলে মেয়ে কে বলছেন কিন্তু নীরা যদি আসিফ এর অনুমতি ছাড়া মায়ের কাছে যায় তাহলে আসিফ তাকে বাসা থেকে বের করে দিবে তখন নীরা কোথায় যাবে আর মা, বাবার ওতো নিজের বাসা নেই উনারাই তো থাকেন নীরার মামার বাসায়, মামা যখন ছোট ছিল তখন নীরার মা যেভাবে বলত সেভাবেই চলত সে। বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বড় বোনের কথামতোই চলত কিন্তু বিয়ে করার পর আস্তে আস্তে মামা বুঝতে পারে নীরার মা এতদিন ধরে তাদের সকল সম্পত্তি আর ভাড়ার টাকা নিজের মুঠে রেখে তাকে ইচ্ছে মতো ঘুরিয়েছে আর নিজের সকল চাহিদা পূরণ করেছে কিন্তু এখন মামি আসার কারণে সবকিছু বুঝতে পেরে তারা নিজে থেকেই সব আলাদা করে নিছে শুধু থাকার জন্য নীরার মা, বাবাকে একটা ঘর দিয়েছে। বড় বোন হয়ে ছোট ভাইকে এভাবে ঠকিয়েছে বলে মামা এখন আর নীরার মায়ের সাথে কথা পর্যন্ত বলে না। আর এই কারণেই এখন নীরার মা, বাবাকে দেখার কেউ নেই আর ঐ বাসায়ও তাদের স্থাবর কিছু নেই এজন্য নীরা যেতে ও পারছে না।

নীরার দাদু বাসায় অনেক লোক আছে নীরার দুই ফুফু, চাচা,চাচি, দাদি সবাই একসাথে থাকে কিন্তু সেখানেও নীরার মা যেতে পারবেনা কারণ, যখন নীরার মা কে বিয়ে করানো হয় তখন থেকেই নীরার মা সে বাসায় ঝগড়া সৃষ্টি করে, প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিত আর ঝগড়ার মূল কারণ হলো টাকা পয়সা। নীরার মায়ের ধারণা ছিল এই সংসারে সমস্ত খরচ নীরার বাবা বহন করে আর সেটাই সহ্য করতে না পেরে ছোট ছোট ইস্যু নিয়ে ঝামেলা তৈরি করে দিতে, আর প্রতিদিন এত ঝামেলা দেখে নীরার দাদু সিদ্ধান্ত নেয় যে তাদের সংসার আলাদা করে দিবে।

যেদিন সব কথাবার্তা হবে তার আগের দিনই নীরার মা তার বাবাকে বুঝায় ‘এই বাসায় যতটুকু অংশ পাবে ঐ টা বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলো আমরা মায়ের বাসায় চলে যাই, ঐ খানে কেউ নেই শুধু আমার দুই ভাই মা, আব্বু তো আমি যা বলব তাই করবে এইখানের টাকাটা ও পেয়ে যাব আর আব্বু, মা কে পটিয়ে ওখানকার সব সম্পত্তি ও নিজের দখলে নিয়ে নিব, কালকে যখন বিচার বসবে তুমি বলবে আমাদের ভাগের অংশটুকু আমরা বিক্রি করে দিব’

নীরার বাবা ছিল সহজ সরল তাই স্ত্রীর কথানুযায়ী কাজই করলেন। নিজের সব কিছু ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়ে সারাজীবন এর জন্য মা,ভাই, বোন সব ফেলে হয়ে উঠেন শ্বশুরবাড়ির ঘরজামাই আর নীরার মায়ের বিনা বেতনের
কাজের লোক।
তারপর ওভাবেই চলতে লাগলো এর মাঝেই নীরার ও ইরার জন্ম হয়। আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে যায় ওরা বড় হয় দাদু,ফুফু ও চাচুকে ছাড়া। এরমধ্যেই ছয় মাসের মধ্যে নীরার নানা ও নানি দুজনেই মারা যান আর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের সকল সম্পত্তি এখন নীরার মায়ের হাতে। তিনি সবকিছু গুছিয়ে নিজের করে নিয়েছেন এখন এই সংসারে উনি যা বলেন তাই হয়।
একদিন হঠাৎ করেই নীরার বড় মামা কোত্থেকে যেন বিয়ে করে বৌ সহ বাড়িতে এসেছেন, ভাইয়ের এমন কর্মকাণ্ডে অপ্রস্তুত নীরার মা তখন কিছু বলেনি ভাই ও বৌ কে ঘরে তুলে নিয়েছে।
প্রথম দিকে সব ঠিকঠাক চললেও আস্তে আস্তে শুরু হয় এক বিরাট ঝামেলা। ভাইয়ের বৌ নীরার মায়ের কথানুযায়ী চলে কিন্তু ঝামেলা তখন হলো যখন মামা মামির একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হলো। নীরার মা এখন ভাতিজার সাথে হিংসে করেন কারণ, মামার ছেলে হয়েছে কাজেই তাদের সম্পত্তি তারা এখন যদি বুঝে নিতে চায় এর জন্য।
দিন যেতে লাগলো আর ভাতিজা ও বড় হতে লাগলো একদিন ভাইয়ের বৌ যখন
নীরার মায়ের সামনে দিয়ে যেতে লাগলো তখন নীরার মা ইচ্ছে করেই মাটিতে আছড়ে পড়ে যান আর দোষ দেন ভাইয়ের বৌ এর, আচমকা এমন ঘটনায় বৌ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়, তারপর বাঁধলো এক বিশাল ঝামেলা।
ছোট ভাই রাগান্বিত অবস্থায় বড় ভাবীর উপর হাত উঠাতে যায় কারণ হলো তার মায়ের সমতুল্য বোন কে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে, এমন অবস্থায় বিশাল ঝগড়া, মারামারি হয় বাসায়, আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিয়ে নীরার মা এখন নির্দোষ। এক পর্যায়ে ছোট ভাই বড় ভাই ভাবী কে মেরে বলল ‘তোর বৌ আমার মায়ের মতো বোন কে মারছে আর তুই দেখতেছিস কিছু বললি না’
বড় ভাই বলতে লাগলো ‘ও কিছু করেনি আপা কিভাবে যেন পরে গেছে’ কিন্তু ছোট ভাই শুনতে রাজি নয়। শেষমেষ বড় ভাই বৌ আর ছেলেকে নিয়ে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয় আর নীরার মায়ের উদ্দেশ্য সফল হয়।
এর কিছুদিন পর নীরার বিয়ে দিয়ে দেন, তারপর ইরার ও বিয়ে দিয়ে দেন, সৌভাগ্যক্রমে দুই বোনের ভালো পরিবারে বিয়ে হয়। আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে যায় ছোট ভাইকে ও বিয়ে করান নীরার মা, আর তারপর থেকেই ছোট ভাই বুঝতে পারে যে সে বড় ভাইকে বাসা থেকে বের করে কত বড় ভুল করেছে আর সেই ভুল শুধরাতেই সে নীরার মা কে সম্পূর্ণ আলাদা করে সব সম্পত্তি গুছিয়ে বড় ভাইয়ের ভাগের অংশটুকু ভাতিজার নামে রেখে নিজের অংশটুকু গুছিয়ে নিয়েছে আর নীরার মা কে তার ভাগের একটি ঘর দিয়েছে থাকতে, আর এখন নীরার মা যখন অসুস্থ তখন কেউই তাকে কোনো রকমের সাহায্য করে না, তাই একমাত্র ভরসা মেয়ে দুটির উপর কিন্তু দূর ভাগ্যে কারণে দুই মেয়ের এক মেয়ে ও আসছে না মাকে সাহায্য করার জন্য।

বর্তমান,
দিন শেষে রাতে বাসায় ফিরেছে আসিফ আর ফিরেই ছেলের গালে দাগ দেখে বুঝতে পারে নীরা আরিফ কে মেরেছে। আরিফ কে ডেকে জিজ্ঞেস করল ‘কিছু খেয়েছ?’
আরিফ মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিল ‘না’
‘নীরা সারাদিন গিয়ে রাত হয়েছে আর তুমি ওকে খাবার দাও নি কেন’ বলল আসিফ।

উত্তরে নীরা বলল ‘আমার মা কিছু খায়নি সারাদিন আর আমি এখানে রান্না করে তোমাদের খাওয়াব!’

আসিফ আর কিছু না বলে ছেলেকে নিয়ে বাহির চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর দুইজনে খাবারের প্যাকেট হাতে করে বাসায় ফিরে, তারপর আসিফ খাবার গুলো বের করে আরিফকে খাওয়ায় আর নিজেও খায় নীরা কে ও বলে খাওয়ার জন্য, কিন্তু নীরা কিছুতেই খাবে না তার একই কথা ‘মায়ের কাছে যাই’
কিন্তু আসিফ কোনো মতেই নীরা কে যেতে দিবে না।

গভীর রাত চারিদিকে অন্ধকার, কেউ জেগে নেই ঠিক তখনই আসিফ চোখ খুলে নীরাকে দেখে, রাগ আর জেদের কারণে সারাদিন না খেয়ে কি অবস্থা করেছে নিজের। আসিফের ও নীরার মায়ের জন্য মায়া হয় ভীষণ মায়া কিন্তু যতক্ষন নীরা আর ওর মা নিজের ভুল বুঝতে না পারে ততক্ষণ আসিফ নীরাকে ঐ বাসায় যেতে দিবে না, এই ভেবে চোখ বন্ধ করে নিজের মায়ের সাথে ঘটা ঘটনা গুলো মনে করতে লাগলো…

অতীত....
আসিফরা এক ভাই এক বোন, বড় বোন আরিবা আর আসিফ দুই ভাই বোন আর বাবা,মা মিলে সুখের সংসার তাদের। খুব সুন্দর জীবন ছিল তাদের, ভাই বোনের মধ্যে এত ভালোবাসা সচরাচর দেখা যায় না কিন্তু এ ভালোবাসায় লাগে শকুনের নজর।
আরিবার যখন বিয়ে হয় তখন আসিফের বয়স মাত্র পনেরো বছর। বিয়ের পর প্রথম দিকে আরিবার ছোট ভাইয়ের কথা অনেক মনে পরে তারপর আস্তে আস্তে আবার নিজেকে শক্ত করে ফেলে। আরিবা শশুর বাড়িতে বসে ভালো কোনো খাবার খেতে পারতো না, খেতে গেলেই আসিফ এর কথা মনে পরে। আসিফের ও একই অবস্থা বড় বোনের কথা মনে পড়ে একদম ভালো লাগে না, আর এভাবেই দিন কাটতে লাগলো তারপর আস্তে আস্তে আরিবার দুই সন্তানের জন্ম হয়, তাদের সুখের সংসার। বাসায় ভালো কিছু রান্না হলে আরিবা যেমন শশুর বাড়ির সবাই কে নিয়ে ভাগাভাগি করে খায় তেমনি ওখান থেকে কিছু অংশ আসিফ কে ও পাঠিয়ে দেয়।

আসিফ এখন মোটামুটি বড় হয়েছে আর কাজকর্ম ও করতে শুরু করেছে এরমধ্যে মা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাই আসিফ কে বিয়ে করানো হয় ভালো একটি পাত্রী দেখে, সুখের সংসারে এসেই নীরা সবকিছু নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে। মা,বাবা ও সব ছেড়ে দিয়েছেন ছেলের বউ এর হাতে কিন্তু আস্তে আস্তে নীরার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে।
নীরা, আরিবার এ বাসায় আসা পছন্দ করে না, সেটা আসিফ, আরিবা, বাবা, মা সবাই বুঝতে পারে। আসিফ নীরাকে কিছু বলতে চাইলে আরিবা বাধা দেয় কারণ, সে এখন এই বাড়ির মেহমান তার কারণে ঝগড়া বাঁধিয়ে কোনো দরকার নেই দেখা যাবে দিন শেষে নীরার সাথেই বাবা,মা কে থাকতে হবে।

মায়ের অবস্থা আরো খারাপ হতে লাগলো,
হঠাৎ একদিন মা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন আর মায়ের এমন অবস্থা দেখে নীরা বলে ‘আমার অনেক মাথা ব্যাথা করছে আমি কয়েক দিন মায়ের বাসায় থাকব, এখানে থেকে আমি উনার সেবা করতে পারব না’ বলেই কারো অনুমতি না নিয়ে সে তার মায়ের বাসায় চলে যায় আর আসিফের মা ক্লান্ত, অসুস্থ অবস্থায় এসে পরেছে আরিবার বাসায়।

প্রায় বারো দিন অসুস্থ ছিলেন আসিফের মা আর এই বারো দিনে মায়ের সেবা,বাবা, ভাইয়ের খাবার, নিজের সংসার সব কিছু সামলে নিছে আরিবা। বলে রাখা ভালো এই বারো দিনে নীরা একটি বারের জন্য ও আসিফ আর তার বাবা মায়ের কোনো রকমের খোঁজ খবর নেয় নি, আসিফ যখন নীরাকে বাসায় আসার কথা বলে তখন নীরার মা জানায় ‘আমার মেয়ে বিয়ে দিছি সুখের সংসার করতে,অন্য কারো মায়ের সেবা করতে না’

এই কথা শুনে আসিফ অনেক রাগ হয় আর নীরা কে ডিভোর্স দিবে বলে জানায়, কিন্তু মা ও বোন তাকে বুঝিয়ে বলে যে বিয়ে মানুষ একবারই করে, আর থাক ও যেভাবে থাকতে চায় সেভাবেই থাক।

এভাবেই দেখতে দেখতে এক বছর কেটে যায় আর নীরার কোল জুড়ে এল আরিফ। আরিফ কে পেয়ে আসিফ এর পুরো পরিবার যেন নীরার এতদিনের করা অন্যায় গুলো ভুলেই গেছে আর নীরাকে আরো স্নেহ দেয়া শুরু করল। আরিফকে এক পলক দেখার জন্য আরিবা ছেলে মেয়ে কে নিয়ে ছুটে আসত মায়ের বাসায় আর সবাই ভাবছে যে হয়তো নীরা এখন আর আগের মতো নেই। একটি ছেলে সন্তান হয়েছে এখন সে সংসারের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠবে।
কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে নীরা আবার ও সেই আগের মতই ব্যবহার করা শুরু করে। যখনই বাসায় আরিবা অথবা অন্য কোনো মেহমান আসত তখন নীরা এমন ব্যবহার করত যেন মেহমান নিজের বাসা থেকে খাবার না খেয়ে তাদের বাসায় খাইতে আসছে। আর যে আরিবা এক পলক আরিফ কে দেখার জন্য ছটফট করে ছুটে আসত সেই আরিবার আসার কথা শুনে নীরা কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে মায়ের কাছে চলে যেত। এভাবেই চলতে লাগলো দিন।

মা, বাবা কিছু বলতে চাইলে আরিবা উনাদের থামিয়ে দিত আর আসিফ কিছু বলতে চাইলে বলত 'দেখ ভাই, আমি হলাম এই বাসার মেহমান থাকলেও চলবে আর না থাকলেও চলবে কিন্তু তোর একটা সন্তান হইছে আর এখন যদি তুই কোনো রকমের ঝামেলা করিস তাহলে তোর ছেলেটার কষ্ট হবে আর তাছাড়া মা তো যতটা পারে নীরার কাজ কর্ম করেই দেয়, আমি মা কে বলেছি যে মা তুমি যতটুকু পারো করে দাও, দিনশেষে তোমরা তো নীরার সাথেই থাকবে তুই ভাই নীরা যেভাবে খুশি থাকে সেভাবেই থাক, আমার কারণে খামখা ঝামেলা করিস না।'

ছয়মাস পর একদিন হঠাৎ করে আসিফের মা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েন আর বরাবরের মতো সেদিন ও নীরা মায়ের বাসায় ছিল।
কোনোমতে ফোনটা হাতে নিয়ে মা আরিবা কে কল করে, আরিবা বাসা থেকে রওয়ানা দেয়ার সময় বাবা আর আসিফ কে কল দেয়। বাসায় এসে মায়ের এত খারাপ অবস্থা দেখে সে প্রস্তুতি নেয় হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আর পাশাপাশি নীরাকে কল দেয় উদ্দেশ্য ছিল নীরা এই বাসায় আসলে সে নীরা কে বাসায় রেখে মা কে নিয়ে হাসপাতালে যাবে কিন্তু নীরা আরিবা কে সরাসরি না করে দেয় যে সে আসতে পারবে না, আর সেই দিন মায়ের অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায় মা কে হাসপাতালে নিলে ভর্তি রাখা হয়, তিন দিন পর মা কে রিলিজ দেয়া হয়।
বাসায় আসার আগে আসিফ আবার ও নীরাকে কল করে বলে ‘মা তো অসুস্থ একা একা কিছু করতে পারবে না তুমি বাসায় আসো,’
নীরা কিছু বলার আগেই তার মায়ের উত্তর ‘এই নীরা তুই যাবি না আরেকজনের মা এর সেবা করতে যাইতে হবে না, এখানেই থাক’
তারপর আসিফ অনেক রেগে যায় আর নীরার সাথে কোনো রকমের সম্পর্ক রাখবে না জানায় কিন্তু বাবা, মা আর বড় বোন মিলে বুঝায় ছেলেটার জন্য হলে ও চুপ থাকতে, আর আসিফ সেইদিন থেকেই এমন একটা পরিস্থিতির অপেক্ষায় ছিলো, যখন নীরার মা এমন পরিস্থিতিতে পরবে তখন আসিফ তাদের কে নিজের মায়ের সাথে করা অন্যায় গুলো মনে করিয়ে দিবে।

আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে যায় মা,বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই কিন্তু কথাগুলো আসিফের মনে আছে, একমাত্র মায়ের মতো বড় বোনের সাথে এখন সম্পর্ক নেই একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাউকে ফোন পর্যন্ত দেয় না।

আসিফ মাঝে মাঝে ফোন করলেও আরিবা তেমন কথা বলে না কারণ নীরা বলে রাখছে আরিবা নাকি আসিফ কে খারাপ বুদ্ধি দেয় তাই আরিবা এখন তাদের থেকে দূরে থাকতে চায়, তাছাড়া বাবা,মা বেঁচে নেই তাই আর ঐ বাসায় যাওয়ার ও ইচ্ছে হয় না আরিবার।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোখে ঘুম এসে যায় আসিফের।

বর্তমান....
কাকা ডাকা ভোরে কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভাঙলো আসিফের, নীরা ওয়াশ রুমে তাই আসিফ গিয়ে দরজা খুলে ‘আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন? আর এত সকালে?’

‘এই তো ভালো, নীরার মা অনেক অসুস্থ, বার বার ওকে দেখতে চাইছে, বাবা একটি বার হলে ও ওকে যেতে দাও’!

‘হ্যা, যাবে আমি কি কিছু বলছি?'

‘তুমি সেই কথা এত বছর ধরে মনে রেখেছো আর সেই কারণেই ওকে যেতে দিচ্ছ না’?

‘কই না তো!' বলল আসিফ।

‘আচ্ছা আমি এখনই নীরা কে বলছি তোমার কাছে মাফ চাইতে’

‘না আংকেল মাফ চাওয়ার কোনো দরকার নেই, আর আমি মাফ করার কে?'

নীরার মায়ের অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ার কারণে আসিফ আর কঠোর হতে পারলো না আর সে ও নীরার সাথে ওর মা কে দেখতে যায়।
আসিফ কে দেখার সাথে সাথে নীরার মা অনেক কষ্ট করে উঠে বসে আর আসিফের হাত ধরে বলে ‘বাবা, এই জীবনে শুধু ভুলই করে আসছি আর আমার করা ভুলের শাস্তি এখন আমি ভোগ করছি, তোমার মা, বোনের সাথে আমি যে অন্যায় করেছি তা তো ফেরত আসবে না কিন্তু তুমি যদি আমায় মাফ করো তাহলে হয়তো মনে শান্তি পাব। আর আমি শুধু তোমাদের সাথে না নীরার দাদু, ফুপুদের সাথে আর আমার আপন ভাইদের সাথে ও একই অন্যায় করেছি এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আর সবার কাছ থেকেই ক্ষমা নিব, তুমি চাইলে তোমার বোনের কাছে ও ক্ষমা চাইব আমি'

কথাগুলো বলতে যেয়ে মহিলার চোখে অনুশোচনার পানি আর সেটা দেখেই আসিফ সবকিছু ভুলে বলল ‘আপনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নীরা এই বাসায়ই থাকবে। আমার মা,বাবা তো আর এখন পৃথিবীতে নেই কিন্তু আপনার সাথে তো আর অন্যায় হতে দিতে পারি না, আর আমার বোন এতটাও ছোট মনের নয় যে আপনার মাফ চাওয়ার জন্য সে বসে আছে, আমার মা আর বোনের দেয়া শিক্ষায় আমি বড় হয়েছি আর এইটুকু জানি যে আমার আপা কোনোদিন চাইবে না যে আপনি বড় হয়ে আমার আর ওর কাছে মাফ চাইবেন তাই এগুলো আর মনে ধরে রাখবেন না,আমি শুধু আপনার অনুশোচনার অপেক্ষায় ছিলাম আর সেটা আজকে আপনার চোখে আমি দেখতে পেয়েছি’।
বলেই আসিফ সেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলো আর মনে মনে বলল, 'আমার মা আর আপা থাকলেও আমাকে এরকমটি করতে বলত'।

---------------সমাপ্ত-----------------

#অনুশোচনা
#অনুগল্প
#শামিমা_সুলতানা

আমি ভার্জিন না। ৮ বছর বয়সে আমার চাচা আমাকে ধ*র্ষ*ন করেছিলো। ভাগ্য ক্রমে সেদিন মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। বলতে লজ্...
25/10/2025

আমি ভার্জিন না। ৮ বছর বয়সে আমার চাচা আমাকে ধ*র্ষ*ন করেছিলো। ভাগ্য ক্রমে সেদিন মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। বলতে লজ্জা লাগছে তবুও আমায় বলতে হবে। আমাকে বিয়ে করলে আপনি ঠকে যাবেন মিস্টার সিহাব। কথা টুকু বলেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাহরিন হিয়া। তার ঠিক সামনে বসে থাকা পুরুষের যেন কিছুতেই বিশ্বাস হলো না এ কথা, উনার চোখ কপালে উঠার উপক্রম। তিনি কিছুটা সংকোচ নিয়ে বললেন,

-'আপনি কি সত্যি বলছেন হিয়া।

উত্তরে হিয়া হাসলো। সিহাবের চোখে চোখ রেখেই জবাব দিলো, সত্যিটা কঠিন হলেও আপনাকে মেনে নিতে হবে। আপনার আর কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।

-'আপনার এমন অদ্ভুত কথার পর আমি আর কোনো কথায় খুঁজে পাচ্ছি না। আজ তাহলে আসি, ভালো থাকবেন।

-'জ্বী।আসুন।

বেড়িয়ে গেলো সিহাব। কিছুক্ষণ আগেই সমন্ধ এসেছে হিয়ার। যদিও তার এখনো বিয়ের বয়স হয়নি, অসম্ভব রূপবতী হওয়ার কারনে প্রচুর বিয়ের সমন্ধ আসে। আজও ঠিক একই কান্ড ঘটেছে, ছেলে ডাক্তার। বাড়ির সকলে রাজিই ছিলো এ ব্যাপারে তবে ছেলে যখন হিয়ার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাইলো তখন সে আর সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে পারলো না। সিহাব বাইরে এসে তার মায়ের কানে কানে কি সব বলতেই তিনি উঠে জানিয়েছেন তিনি ছেলেকে এখানে বিয়ে দেবেন না। কারোই কিছু বলার ছিলো না। তারা বেড়িয়ে গেলো। পিছনে ফেলে এক কলঙ্কিত নারীকে। পাত্র পক্ষ চলে যেতেই ভিষন চটে যায় শাহিন।
ঠাশ।
পুরো ঘর কাঁপিয়ে চড় বসিয়ে দিলেন হিয়ার গালে। এরপর শুরু করলেন গালিগালাজ।

-'এবারের বিয়েটাও ভেঙে দিলি। সারাজীবন তোকে বসিয়ে বসিয়ে কে খাওয়াবে, তুই এই মূহুর্তে বেড়িয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। তোর মায়ের মতো দেহ ব্যবসা করে খা, বের হ তুই।

হিয়া টু শব্দটি পর্যন্ত করলো না। এসবে সে অভ্যস্ত। সে আগের জায়গায় স্থির, শাহিনের জেদ কমেনি তাতেও। এবার সে চুলের মুঠি ধরলো হিয়ার, দেয়ালে মাথা ঠুকে দিলো। দেয়ালের সঙ্গে লেগে কপালের দিকটা কেটে গেছে রক্ত বের হচ্ছে। এতো সবের মাঝে হিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাটা নিষেধ তো দূরের কথা নড়লো না অবধি। হাহ্! যেখানে শাহিন তার নিজের বাবা হয়ে এসব করে সেখানে এই নারী তো তার কেউই না।

-'তোর মায়ের জায়গা হয়েছে পতিতালয় এ তোর জায়গাও সেখানেই হবে।

এবার আর সহ্য করতে পারলো না হিয়া চোখ দু'টো বন্ধ করে নিলো ,আর কতো সহ্য করবে সে। সেই ঘটনার পর বিকেল গরিয়ে রাত হলো হিয়া সামান্য পানি টুকুও মুখে দিলো না। এতো সহজে ভেঙে পরার মেয়ে হিয়া নয়। তবুও আজ কিছুতেই নিজেকে শক্ত রাখতে পারলো না। ইচ্ছে করলো সিলিংয়ের সাথে ঝুলে যেতে। একমুহূর্ত ভাবলো, কি যায় আসবে হিয়ার মতো একটা কলঙ্কিত নারী পৃথিবী থেকে চলে গেলে। মনে পরলো সেদিনের কথা যেদিন সে তার চাচা লালসার হাত বাড়িয়েছিলো। এইটুকুনি মেয়ে হয়েও চাচার পায়ে পড়েছিলো।
হিয়া নিজের শরীর থেকে ওড়না খুলে ফ্যানে বাঁধলো এরপর চোখদুটো বন্ধ করলো। ওমনি দরজায় কারো আসার শব্দ হলো, ঠিক যেমনটা হয়েছিলো কয়েক বছর আগে। সেদিনও তার চাচা এভাবেই রুমে এসোছিল, হিয়ার রুমে তো এই সময় কারোরই আসার কথা না তবে কি সেই পশুই এলো? হিয়া এবার বিছানার নিজ থেকে৷ লুকিয়ে রাখা তলোয়ার তুলে নিলো। এরপর এগিয়ে চললো দরজার দিকে। বেশ শব্দ করেই দরজা খুলে দিলো সে.....

চলবে....

#কলঙ্ক
#পর্ব১
#নির্জনা_নিশি

"ক*চি কু*মারী মেয়ে দেখলেই বউকে মনে পড়ে না তাই না? আজই আমি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি। থাকেন আপনি আপনার ক*চি কু*মারী কাস্টম...
25/10/2025

"ক*চি কু*মারী মেয়ে দেখলেই বউকে মনে পড়ে না তাই না? আজই আমি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি। থাকেন আপনি আপনার ক*চি কু*মারী কাস্টমার নিয়ে। লাগবে না আমাকে বুঝতে পারছি।"

শামিম এক কান দিয়ে শোনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিলো। শব্দবিহীন কলটা চট করে কে*টে কাস্টমার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। শামিম কল কে*টে দেওয়ায় মনটা আমার এক মুহূর্তে খা*রাপ হয়ে গেলো। শামিমের কাছে তার ব্যবসা বাণিজ্যের মূল্য বেশি। নিজের স্ত্রীর অনুভূতির কোনো পরোয়া নেই শামিমের কাছে। মনে মনে পণ করে নিলাম থাকবো না এই সংসারে। তৎক্ষণাৎ ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।

রাত একটা ছুঁই ছুঁই ক্লান্ত মুখশ্রী ঘার্মাক্ত শরীর নিয়ে ঘরের দরজার পাশে থাকা বেল সুইচ চাপলো শামিম। পরক্ষণে ভাবল তার পরম সোহাগী স্ত্রী সোহা তো, তার শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়ার কথা বলে ছিলো। উদাসীন হয়ে পকেট হাতড়ে চাবি খুঁজতে লাগল। কট করে দরজা খোলার শব্দে সামনে তাকায়। আমাকে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে গেলো শামিম এর। শামিমকে দেখেও অদেখা করার ভান ধরলাম। সে ভেতরে এসে এসির নিচে বসতেই, চটজলদি খাবার পরিবেশন করতে লেগে পড়লাম। বউকে ঘরের মধ্যে দেখে শামিমের মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেলো। যাক মেয়েটা তবে তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। ভেবেই উৎফুল্ল মনে গোসল করতে গেলো সে। শামিমকে গোসলের জন্য ওয়াশরুমে ঢুকতে দেখে, আমিও ফোন বের করে বাবাকে কল দিলাম। বাবা কল রিসিভ করতেই বাবাকে কোনো কথা বলতে দিলাম না। উল্টো মন ভারাক্রান্ত করে নিজেই বলে ফেললাম।

"বাবা কাল দুপুরে আমাকে নিতে আসবে। আমি কোনো কিছু শোনতে চাই না।"

ব্যস কল রেখে দিলাম। ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে টেবিলে প্লেট সাজিয়ে নিলাম। শামিম আসলে খাওয়া শুরু করব। খাওয়ার পর্ব শেষ করে বাসন কোসন টুং টাং করে ধুয়ে রুমে এলাম। শামিম উদাম শ*রীরে লুঙ্গি পরে ফোন দেখছে। আমার কি? আমি তো আজ এই মানুষটার সাথে কোনো ভাবেই শয়নরত হবো না। অন্য মেয়ের হাতের স্পর্শ নিয়ে আমার হাত ছুঁতে চাইলেই চেতে উঠব একেবারে। মনে ফোঁস ফোঁস করে ফ্রেশ হয়ে শামিম এর থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রেখে শোয়ে পড়লাম। শামিম এতক্ষণ সোহার কার্যাদি লক্ষ করছিল। যেই না মাঝে দূরত্ব রেখে শুইতে দেখল মাথাটা গরম হয়ে গেলো তার। এই মেয়েকে কত বার বোঝাবে সে? স্বামী স্ত্রীর মাঝে যতই মান অভিমান হোক না! মাঝের দূরত্ব মোটেও কাম্য নয়। এতে শয়তানের কুনজর স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের উপর পড়ে যায়। সেই কুনজর হতে সম্পর্ক বাঁচাতে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

"কেউ যদি এই মুহূর্তে মাঝের দূরত্ব মিটিয়ে না নেয়। তবে আমি সোহাগ দিতে বাধ্য হবো। সে কি জানে না? আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী যখন তার স্ত্রীকে (স*হ*বা*স অথবা ঘুমের উদ্দেশে) বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী তার ডাক প্রত্যাখ্যান করে। এমতাবস্থায় স্বামী অসন্তোষ অবস্থায় রাত্রি যাপন করে, তখন এ স্ত্রী এভাবে রাত্রি যাপন করে যে, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার ওপর অভিশাপ করতে থাকে রাত্রি শেষে ভোর অবধি। (বুখারী ও মুসলিম)"

শামিমের কথায় ঢোক গিললাম। তবুও নিজের জেদের কাছে নিরব রইলাম। সবসময় কি তার মর্জি মত চলতে হবে বলে কথা আছে? যাবো না খারাপ লোকটার কাছে। হু চোখ বুজে নিলাম। হঠাৎ শাড়ির আঁচল ভেদ করে কোমরে পুরুষেলী হাতের স্পর্শে আচমকা শ*রীরটা কেঁপে উঠলো। শামিমের মুখ গলায় আবদ্ধ। ঢোক গিলে কাঁপা গলায় কথা বলতে নিলেই বোধহয় শব্দ হলো না। ওহ! হবে কেমনে? মানুষটা ছলচাতুরি করে ওষ্ঠজোড়া বন্ধ করে দিয়েছে।
সকালে গোসল সেরে সোফায় শ্বশুরকে বসারত দেখেই শামিম গিয়ে সালাম দিলো। সোহার বাবা শামিমকে আর্দশ পুরুষ বলে খুব পছন্দ করেন। কিন্তু মেয়েটা কেনো যে হঠাৎ হঠাৎ বাচ্চামী করে উঠে বোঝেন না তিনি।
"আব্বা আপনি একা আসলেন যে? আম্মাকেও নিয়ে আসতেন। সোহার ভালো লাগতো।"

সোহার বাবা আমতা আমতা করতে লাগলেন। তখনি ভেতরের রুমে থেকে বেরিয়ে এলাম আমি। সোহার হাতে ব্যাগ দেখে শামিমের বুঝতে বাকি রইল না কেনো তার শ্বশুর একলা এসেছেন? সেও কম কিসে সাদরে আমাকে বাবার সাথে গাড়িতে উঠিয়ে দিলো। শামিমের ডোন্ট কেয়ার ভাবটা আমার হৃদয়কে খুব পুড়াচ্ছে। শামিম কি বোঝে না? তাকে ছাড়া আমার থাকতে কষ্ট হয়। তাহলে কেনো সে সযত্নে বিদায় করছে? তবে কি সে দিনকার চুড়ি পরিহিত মেয়ে-কে মনে ধরেছে তার? ভাবতেই গাড়ির ভেতর জো*রে জো*রে কাঁদতে লাগলাম। বাবা ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেলেন প্রশ্ন করতে ,শান্ত্বনা দিতে।
বাবার বাড়ি এসেও মনটা ভার হয়ে আছে। ক্ষণে ক্ষণে নাক টানছি। মা তো বিরক্ত হয়ে বাবার রুমে ঘাপটি মেরে বসে আছেন। থাকুক কারো প্রয়োজন নেই আমার। আমি একলাই নিজেকে সামলাবো। কিন্তু কেমনে? বারংবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছি। এই বুঝি শামিম কল করে বলবেন,

"এই বউ ফিরে আসো না। তুমি ছাড়া যে আমার বুকটা শূন্য শূন্য লাগছে।"

কিন্তু অপেক্ষার প্রহর কাটে না যেনো। রাত নয়টা সবেই এশারের নামাজ পড়ে বসলাম। হঠাৎ দরজায় বেল বাজার শব্দে আনমনে হেঁটে গেলাম। দরজা খুলতেই চমকে উঠলাম। একি এরা এখানে কি করছেন? শামিমের দোকানের সহযোগী তিন ভাই হাতে শপিং ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে শপিং করতে করতে তাদের নাজেহাল অবস্থা। তৎক্ষণাৎ সবাইকে ভেতরে এনে শরবত বানিয়ে খেতে দিলাম। মা আমার নিজেও অবাক। তিনিও কথাবার্তা বিহীন নাস্তা রেডি করে আনলেন। সোহার বাবা সোফার এক কোণে বসে মুচকি হাসছেন। সোহার মা সোহার বাবার মুখে হাসি দেখেই বুঝে ফেললেন ব্যাপারটা। তিনিও জামাই আদরের জন্য ভোজন সুস্বাদু করতে রান্নাঘরে ছুটলেন। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি শুধু আমি। তাদের কে জিজ্ঞেস করলাম।

"এগুলো কি ভাইয়া আপনারা এতো টাকা খরচ কেনো করলেন বলেন তো? এসবের কোনো প্রয়োজন ছিলো না।"

"ভাবী এগুলো আমাদের টাকা নয় বরং স্যারের টাকা। স্যার নিজেও একগাদা শপিং ব্যাগ নিয়ে আসছেন।"

তাদের কথায় দরজার বাহিরে তাকালাম। ওমা! সত্যি কি আমি যা দেখছি তা বাস্তব? শামিমের হাসিমাখা চেহারা দেখে বুক ধড়ফড় করছে আমার। শামিম সোহাকে দেখে বাঁকা হাসল। ঢোক গিললাম তার ডেভিলের মত হাসি দেখে। সে এসেই বাবা মায়ের সাথে কুশলাদি বিনিময় করল। আমি এককোণে দাঁড়িয়ে হাত কচলাচ্ছি। কি রিয়েকশন দেবো নিজেই বুঝছি না! খেয়াল করলাম শামিম এগিয়ে আসছে। দেখেই চোখ বড় হয়ে গেলো। মানুষটা কি এখন তার শ্বশুরবাড়িতে নির্লজ্জ এর পরিচয় তোলে ধরবে? হঠাৎ হাতে শক্ত কিছুর স্পর্শে শামিমের হাতের দিকে তাকালাম। নিজের হাতে একজোড়া সুন্দর সোনার বালা দেখে মুখে অবাকতা ছড়িয়ে পড়ল। একজোড়া সোনার বালার দাম চার-পাচঁ হাজার পড়বেই। কিন্তু এই বালা জোড়া সেদিন কার মেয়েটার হাতের বালার থেকেও আকর্ষণীয় আর সুন্দর বটে। শামিম আমার বালা পরিহিত হাত ধরে রুমে টেনে আনল। দরজা বন্ধ করে আলতো হাতে কোমর জড়িয়ে ধরল। আমি তবুও মন ভার করে অন্যদিক তাকিয়ে আছি। শামিম আমার গালে চুম্বন এঁকে বলে,

"বউ তুমি ছাড়া আমি কতটা একলা সেটা কি জানো না? জুয়েলারি দোকানের মালিক আমি। অবশ্য খেয়াল রাখতে হয় সহযোগি ছেলেরা চু*রি করছে কিনা বা মহিলারা এসে চুড়ি, নেকলেস দেখার বাহানায় চু*রি করছে কিনা। সেদিক খেয়াল রেখেই চারপাশের লোকজন কেও নজরে রাখতে নয়। আর তুমি ভাবছো সেই মেয়েকে চুড়ি পড়িয়েছি বলে আমি তাকে পছন্দ করে নিয়েছি। এত ভুলভাল ভাবো দেখেই তো তোমাকে মাথামোটা ডাকি। আব্বার কাছে থেকে সব তথ্য পেয়েছি। এবার যাও ফ্রেশ হয়ে আসো একসাথে খেতে বসব। কাল সকালে তোমাকে আমাদের সংসারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।"

শামিমের প্রতি রাগটা কেমনে যে গলে গেলো বুঝতেই পারলাম না। লাজুক হেসেই ফ্রেশ হতে যাওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ শামিম হাত চেপে ধরে। তার দিকে মুখ ফিরতেই বলে,

"মনে রেখো বউ আমার সামনে হাজারো নারী ঘূর্ণায়মান। তবুও আমি আমার দুচোখের সততায় বলছি, তুমি বিহীন সব নারীই আমার কাছে নিষেধ বিষধর নাগিনী বুঝলে? আর তুমি আমার সোহাগীনি অভিমানি বউ।"

পরের দিন চলে এলাম নিজের সংসারে। ইশ! একদিনে মনে হচ্ছে ঘরটা আমার শূন্যতায় অগুছালো হয়ে পড়েছে। মনের ভাবনায় খিলখিলিয়ে হেসে কাজে লেগে পড়লাম। শামিমও আমার কপালে চু*মু দিয়ে বলে,

"নাও গুছিয়ে নাও তোমার সংসার। আবারো ফিরিয়ে আনো ঘরের উজ্জ্বলতা।"

(সমাপ্ত)

#শূন্যঘরের_আলো_তুমি
#লেখিকা_তামান্না (আল রাইয়ান)
#অনুগল্প

Address

Khulna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তাসনীম সুলতানা - Tasnim Sultana Tas'u posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share