Sumu's fictional world

Sumu's fictional world কিছু আখ্যানে অপূর্ণতায় পরিপূর্ণ..!! ��

19/08/2026
06/07/2026

বলো তো কোন উপন্যাস?

#আমি_শুধু_চেয়েছি_তোমায় #সুরাইয়া_রাফা #এরীশ_ইউভান ゚viralシ ゚ #গল্পফ্যাক্ট #উপন্যাস_প্রেমী #উপন্যাস

ঘুমন্ত অবস্থায় হুট করে মুখের উপর পানি পড়ায় ধরফরিয়ে উঠে বসলো মেয়েটা। কিছু পানি নাকে মুখে ঢুকে কাশি উঠলো। শীতের সকাল তার উ...
30/06/2026

ঘুমন্ত অবস্থায় হুট করে মুখের উপর পানি পড়ায় ধরফরিয়ে উঠে বসলো মেয়েটা। কিছু পানি নাকে মুখে ঢুকে কাশি উঠলো। শীতের সকাল তার উপর আবার বরফ শীতল ঠান্ডা পানির স্পর্শে থরথর করে কেঁপে উঠলো পুরো কায়া। বেশ কসরত করে নিজেকে সামলে নিলো। কাশতে কাশতে চোখের কোণে জমা হলো পানি। শ্বাস নিলো জোড়ে জোড়ে। এই বুঝি দম টা বেড়িয়ে যাবে। ঠান্ডা পানি গায়ে পড়ায় দেহের কাঁপন বাড়লো বই কমলো না। গায়ের জড়ানো ভেজা শাড়ির আঁচল দিয়েই শীত নিবারনের ক্ষুদ্র চেষ্টা করলো। ভয়ে ভয়ে মাথা তুলে দেখলো সামনে তার শ্বাশুড়ি র'ক্তলাল চোখে তাকিয়ে আছে। শ্বাশুড়ির এমন চোখ দেখেই ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো রমণীর। সহসা মাথা নিচু করে ফেললো সে। বুঝলো আজ তার নিস্তার নেই।

সামনে দাঁড়ানো হোসনা বেগম হাতের মগটা বেশ শব্দ করে ফ্লোরে ফেললেন। সেই শব্দে চোখটা খিচে বন্ধ করে ফেললো ভীতু মেয়েটা। হোসনা বেগম ছেলের বউয়ের দিকে এগিয়ে এসে শক্ত হাতে তার চুলের মুঠি টেনে ধরলেন। রা'গে হিসহিসিয়ে বললেন

"জমিদারের বাচ্চা এখনও পড়ে পড়ে ঘুমালে বাড়ির কাজ গুলো করবে কে? ছেলে বিয়ে দিয়ে বউ এনেছি কি আরাম আয়েশ করে থাকার জন্য? তোকে ডাকতে আমাকে আসতে হলো কেনো বল?"

চুলে অতিরিক্ত টান পড়ায় মেয়েটার মুখের আদল খানি ব্যাথায় নীল বর্ণ ধারণ করলো। কান্না গুলো নিজের ভেতর গিলে নিয়ে নিচু স্বরে বললো

"রাতে জ্বর এসেছিলো আম্মু। একটু ও ঘুমাতে পারি নি। ভোরের দিকে চোখটা একটু লেগে এসেছিলো এইজন্যই উঠতে দেরি হয়ে গেছে।"

"মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাশ না। তাছাড়া জ্বর আসলে মানুষ ম'রে যায় না। শুধু কাজে ফাঁকি দেওয়ার ধান্দা তোর। কি ভেবেছিস এসব বলবি আর আমিও তোকে তুলো তুলো করে রাখবো?"

সহসা মেয়েটা দুপাশে মাথা নাড়ালো। বুজে আসা স্বরে বললো

"বিশ্বাস করুন আম্মু আমি কোনো মিথ্যা বলছিনা। রাতে অনেক জ্বর এসেছিলো। আমাকে বিশ্বাস না করলে আপনার ছেলেকে জিজ্ঞেস করুন।"

হোসনা বেগম ধমকে উঠলেন। চুলের মুঠি আরো শক্ত করে ধরে বললেন

"খবরদার নেকামো করবি না। ভাবিস না তোর এই চোখের জলে আমি গলে যাবো। আর কথায় কথায় আমার ছেলেকে টানিস কেনো? এমন শিক্ষা দেবো না নিজের নাম ও ভুলি যাবি বে*শ্যা কোথাকার।"

অপমানে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে ফেললো রমণী। সে সবকিছু সহ্য করতে পারলে ও এমন জ*ঘন্য গা*লি সহ্য করতে পারে না। অপমানে ম*রে যেতে ইচ্ছে করে। তবুও শ্বাশুড়ির মুখের উপর দুটো কথা বলার সাহস করে উঠতে পারলো না সে। পরে যদি এর থেকে বাজে কোনো ভাষায় গালি দেয় সেই ভয়ে।

"এমন সঙয়ের মতো বসে আছিস কেনো? রান্নাবান্না,ঘরের কাজ এগুলো কি তোর বাপের বাড়ির লোকেরা এসে করবে? ওঠ।"

মেয়েটাকে একপ্রকার ধাক্কা মে'রে সরে দাঁড়ালো হোসনা। শ্বাশুড়ির হাত থেকে মুক্তি পেয়ে চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো সে। পাশ ফিরে একবার স্বামী নামক মানুষটার দিকে তাকালো। যে ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিন্তে। এসব দিকে তার কোনো খেয়াল নেই। অবশ্য খেয়াল থাকবেই বা কেনো? তার কাছে তো বউ মানে রাতের বেলার সঙ্গী আর দিনের বেলার দাষী।

মেয়েটা আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। শ্বাশুড়ি তখনও দাঁড়িয়ে। মেয়েটাকে যেতে না দেখে পুনরায় ধমকে বললো

"এখনও যাচ্ছিস না কেনো?"

মেয়েটা ভয়ে ভয়ে বললো

"আম্মু শাড়িটাতো ভিজে গেছে। পাল্টে আসি। অনেক শীত করছে।"

"করুক শীত। অতো পাল্টা পাল্টির দরকার নেই। বাপের বাড়ি থেকে কয়টা কাপড় আনিস যে এতো বাহাদুরি তোর। সেই তো আমার ছেলের ঘাড়ে বসে কাঁঠাল ভেঙে খাস।"

শ্বাশুড়ির এতো অপমান, লাঞ্ছনা, খোঁচা মূলক কথা কোনোটারই কোনো উত্তর দিলো না মেয়েটা। নিজের ভেতর ক'ষ্ট গুলো চেপে চুপচাপ পা বাড়ালো রান্নাঘরের দিকে। তখনও ভেসে আসছে শ্বাশুড়ির খোঁচা মূলক বিষবাক্য।

"ভাব খানা দেখো মনে হয় কোনো নবাবের বেটি। সেই তো বাপের অমন কাঠের বাড়ি। ভিখিরির জাত। তার আবার অতো ফুটানি আসে কোথার থেকে? ওর তো সাত কপালের ভাগ্যে আমার সোনার টুকরো ছেলের মতো একটা বর জুটেছে। না হলে কোন বস্তিতে গিয়ে কপাল ঠুকতো ঠিক আছে।"

রান্না ঘরের কাজ করতে করতে শ্বাশুড়ির সব কথায় শুনতে পেলো মেয়েটা। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা পানি। পানি টুকু আঙুলের আগায় নিয়ে দেখলো কিছুক্ষণ। মুখে ফুটে উঠলো তাচ্ছিল্যের হাসি। বিরবির করে বললো

"মা দেখো আমি সুখে আছি। বড্ড সুখে আছি। তোমরা আমাকে এমন সুখের সন্ধান দিলে এর ভাড় বহন করার মতো সাধ্য যে এই অধমের নেই। এখন কি করি বলো তো?"

নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই খুঁজে পেলো না। মেয়েটা। ব্যর্থ হয়ে পানিটুকু টোকা দিয়ে ফেলে দিলো। নিজের সকল অবাধ্য অনুভূতিকে গলা চেপে দাফন করে মন দিলো তথাকথিত সংসার নামক জেলখানায়। যার ভার বহন করতে হয় প্রতিটা মেয়েকে। যেখানে নেই কোনো সম্মান। নেই কোনো ইচ্ছে, শখ,আহ্লাদ, আবদার,ভালো লাগা, খারাপ লাগা। আছে শুধু এক বোঝা দায়িত্ব,কর্তব্য আর দিনশেষে প্রাপ্তিস্বরূপ অপমান, লা'ঞ্ছনা আর বি'ষবাক্যের দিয়ে হৃদয়ের গভীর ক্ষ'তবিক্ষত করার মতো ধারালো অ'স্র।

কঙ্কনা রেমান। বাবা মায়ের মেজো সন্তান। জন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে হলেও তিন ভাই বোনের ভরণপোষণের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাদের প্রায়ই অভাব অনটনে পড়তে হয়। ফলস্বরূপ ইচ্ছে থাকলেও কোনো প্রকার আবদারের সুযোগ থাকে না। পরিবারের দিকে তাকিয়ে প্রায় সময়ই নিজের শখ গুলোকে নিজের ভেতরই গিলে নিতে হয়। প্রকাশ করার সাহস কিংবা সুযোগ কোনোটাই হয় না।

ছোটবেলা থেকেই কঙ্কনার স্বপ্ন বড় হয়ে একজন বড় মাপের লেখক হওয়ার। বাংলাদেশের মানুষ তাকে জানবে,তার লেখা গুলো পড়বে,সেখান থেকে সামান্য পরিমাণ হলেও জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের জীবন বদলাবে এটাই তার একমাত্র লক্ষ্য। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর যখন একটু বুঝদার হলো তখনই প্রায়শই স্কুলের লাইব্রেরীতে গিয়ে অসংখ্য বই পড়তো। মাঝে মাঝে সেগুলো বাড়িতেও নিয়ে আসতো। কিন্তু মায়ের ভয়ে পড়ার সাহস পেতো না। রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে পড়লে চুপিচুপি পড়তো আবার সকাল হলে সেগুলো নিয়ে লাইব্রেরীতে রেখে আসতো। এভাবেই তার দিন পার হচ্ছিল। নিজের একাডেমিক পড়াশোনা, চাঞ্চল্যে,দুষ্টুমি আর দিনশেষে কালজয়ী লেখকদের লেখা বই পড়ে সময় কাটতো। কঙ্কনার সবচেয়ে প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ। এই লেখক তার কাছে আইডল সমতুল্য। কঙ্কনা চেষ্টা করে তাকে অনুসরণ করতে। তার লেখা ধরণ রপ্ত করতে। তার লেখা প্রতিটা বই সে কয়েকবার করে পড়ে শেষ করে ফেলেছে। তবুও যেনো তৃষ্ণা মেটে না। সময় পেলে,মন খারাপ হলে,বিষন্ন বিকেলে,একাকী সময়ে যখন তখন হুট হাট করে তার লেখা বই গুলো পড়ে। প্রতিটা লাইন মন দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করে। কঙ্কনার এমন বই পড়ুয়া স্বভাব দেখে স্কুলের সবাই তাকে বই পোকা বলে ডাকতো। স্যারও মাঝে মাঝে মজা করে বলতো কঙ্কনাকে বইয়ের সাগরে ডুবিয়ে দিলেও বোধহয় সে ডুববে না। উল্টে খুশি হয়ে মনের আনন্দে নিজেকে বইয়ের মাঝে বিলিয়ে দিবে। কঙ্কনা সেসব কথা শুনে শুধু হাসতো। কঙ্কনার সবচেয়ে বড় গুন হলো সে কখনো কারোর সঙ্গে তর্কে জড়ায় না। চুপচাপ সরে আসে। তার মতে তর্ক করে বোকারা। কুকুর কা'মড় দিলে যদি মানুষও কুকুরকে পাল্টা কা'মড়ে দেয় সেই বোকামির মতোই বলদামি পৃথিবীতে আর একটাও নেই। কঙ্কনা সর্বোদা চেষ্টা করে নিজের কাজ,নিজের যোগ্যেতা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার। শুধু শুধু তর্ক করে মূর্খতার পরিচয় দেওয়া তার ধাচে নেই।

এভাবেই সময় সময়ের মতো যেতে লাগলো। কঙ্কনাও ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো। প্রাইমারির গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক এরপর মাধ্যমিক এভাবেই সময় পার হতে লাগলো। বন্ধুত্বের শূন্য খাতায় হুট করেই যুক্ত হলো একটা নাম লুনা। কঙ্কনার এক এবং একমাত্র সখী। লুনা মেয়েটা বড্ড মিশুকে চঞ্চল। মুখ দিয়ে যেনো তার খই ফুটে। মানুষকে খুব সহজেই আপণ করে নিতে পারে। সেভাবেই চুপচাপ, ইন্ট্রোভার্ট, শান্ত মেয়েটার মন জয় করেছিলো। বন্ধুত্বের মতো পবিত্র বন্ধন তৈরি করেছিলো।

সময়ের তালে কঙ্কনা ও বড় হয়ে উঠলো। হুট করে ইচ্ছে হলো লেখালেখির। বড় ভাইয়ের ফোন নিয়ে চুপিচুপি ফেসবুকেই শুরু করলো লেখালেখির যাত্রা। প্রথম প্রথম পরিচিতি না পেলেও ধীরে ধীরে তার লেখা মানুষে পড়তে লাগলো। পাঁচট লাইক থেকে দশটা এরপর পঁচিশটা এভাবে বাড়তে লাগলো। সময়ের তালে তার লেখালেখির জীবনও সুন্দর ভাবে চলতে লাগলো। আর তাকে পুরোপুরি সাপোর্ট করতো তার সখী লুনা।

কঙ্কনার এই সাধারণ জীবনের মাঝে হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো উদয় হলো বিয়ে নামক শব্দ। বড়লোক ছেলে পেয়ে বাবা মা আর দ্বিমত করলেন না। কঙ্কনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে বিয়ে দিয়ে দিলো আহানের সঙ্গে। সেই থেকেই কঙ্কনার জীবন থমকে গেলো। জেলখানার গন্ডিতে বন্দী হলো তার সকল ইচ্ছে। লেখালেখির যাত্রা সমাপ্তিও ঘটল তখন। নিজের ইচ্ছে, স্বপ্ন গুলোকে দাফন করে সমাজ এবং পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য দিনের পর দিন অবহেলা,অযত্ন আর অপমানে পড়ে রইলো স্বামী নাম অমানুষের বাড়িতে। সেই সংসারের বয়স এখন দুই এ এসে ঠেকেছে। এই দু'বছরে শ্বশুর বাড়ি কতো অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেছে কঙ্কনা। কখনো বাবা মায়ের কাছে বলে নি। একদিন না পেরে মাকে বলেছিলো। তার মা তাকে উল্টো দোষারোপ করে বলেছিলো মেয়ে মানুষের জীবনই এমন। একটু মানিয়ে চলবি না। এতো অধৈর্য্যে হলে চলবে। মন দিয়ে সংসার কর। সেদিনের পর কঙ্কনা আর টু শব্দটি করে নি। মুখ বুজে সব সহ্য করে পড়ে রইলো সংসারে।

রান্না করতে করতে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে গিয়ে কঙ্কনার মনে আবারও পুরনো ঘা জেগে উঠলো। নিজের স্বপ্নকে পূরণ করতে না পারার ব্যর্থতা তাকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। তবুও মেয়েটা কিছু বলে না। স্বামীর কাছে একদিন একটা স্মার্ট ফোনের আবদার করেছিলো। সেদিন আহান তাকে অমানুষের মতো মে'রে বলেছিলো তার কোনো যোগ্যতাই নেই স্মার্ট ফোন ব্যবহার করার। দ্বিতীয় বার যেনো তার মুখ থেকে এসব কথা বের না হয়। সেই থেকে কঙ্কনা আর নিজের ইচ্ছের কথা বলে না। চুপচাপ সয়ে নেয়।

"কি রে নবাবের বেটি রান্না কতোদূর? আজ কি কপালে খাবার কিছু জুটবে নাকি না খেয়েই থাকতে হবে।"

পেছন থেকে শ্বাশুড়ির কন্ঠ শুনে চমকে উঠলো কঙ্কনা। দ্রুত হাত চালিয়ে বললো

"হয়ে গেছে আম্মু। আপনারা টেবিলে গিয়ে বসুন আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।"

" সামান্য রান্না তাই করতে এতো দেরি। বাকি কাজ গুলো কখন শেষ করবি?"

"রান্না শেষ করেই বাকি কাজ গুলোও করে ফেলবো আম্মু।"

"সব কাজ যেনো ঠিকঠাক হয়। নাহলে কিন্তু সেদিনের মতো হাতে গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে কাজ কাকে বলে শিখিয়ে দিবো।"

সেদিনের কথা মনে হতেই কঙ্কনার আঁতকে উঠলো। নিজের হাত দুটো শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে কাঁপা স্বরে বললো

"কোনো ভুল হবে না আম্মু। আমি সাবধানে কাজ করবো।"

হোসনা বেগম ছেলের বউয়ের দিকে বিরক্তির চোখে তাকিয়ে নিজের মতো বকবক করতে করতে চলে গেলো। আর কঙ্কনা ব্যস্ত হয়ে পড়লো সংসার নামক জেল খানার দায়িত্ব সামলাতে।

চলবে?

#কঙ্কনার_স্বপ্নসিঁড়ি
#সূচনা_পর্ব
#উম্মে_হাবিবা

তোমাদের রেসপন্স পেলে লিখবো নাহলে হয়তো এখানেই স্টপ করবো😔❤️‍🩹

30/06/2026

চিনতে পারলে আপনি ইন্টুলিজেন্ট🐸🌚

゚viralシ ゚ #গল্পফ্যাক্ট #উপন্যাস_প্রেমী #উপন্যাস #শেষ_চৈত্রের_ঘ্রাণ

29/06/2026

🐸🫶

#উপন্যাস

29/06/2026

#হৃদয়ে_প্রেমের_ছোঁয়া
#উম্মে_হাবিবা
#পর্ব_২৯
(কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ)
*
*
*
ফজরের আযানের ধ্বনি শ্রবণেন্দ্রীয় হতেই সিমির ঘুম ভেঙে গেলো। পিটপিট করে চোখ মেলে চারপাশের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করলো। বাইরে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। পাখির হালকা কিচির মিচিরের শব্দ,ঝিঝি পোকার ডাক আর শীতল আবহাওয়ায় চারপাশ অন্যরকম মায়াজালে আবদ্ধ। সিমি পুরোপুরি চোখ মেলেলো। বাইরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। আল্লাহর উপর শুকরিয়া আদায় করে বিরবির করে বললো

"আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।"

অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত্যুসদৃশ (ঘুম) অবস্থার পর আবার জীবন দান করেছেন। আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।”

সিমি আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো। হাত নাড়ানোর সময় কাচের চুড়ির টুংটাং শব্দে সিমির ভ্রু কূচকে গেলো। শব্দের উৎস কোথা থেকে আসছে দেখার জন্য নিজের হাতের দিকে হতবাক,হতবুদ্ধি হয়ে বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। নিজের দু'হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো সেখানে কিছু কাচের চুড়ির অবস্থান। মূহুর্তেই যেনো বোকা বনে গেলো সে। মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুটিয়ে দেখলো চুড়িগুলো। কাচের উপর খাদ খাদ ডিজাইন। তার উপর আবার ঝিকমিক করছে কিছু একটা। সাজগোছ বিষয়ে ধারণা না থাকার ফলে সিমি সেই ঝিকঝিক বস্তুু চিন্তে পারলো না। তবে সেগুলোর সৌন্দর্য সিমিকে মুগ্ধ করলো। সিমির মনে হলো তার শ্যাম বর্ণ হাতে এই সাদা কাঁচের চুড়ি গুলো সৌন্দর্যের অনন্য সোভা ছড়িয়েছে ।

সিমি তরিঘরি করে সোজা হয়ে বসলো। নিজের দুহাত উল্টে পাল্টে দেখে কন্ঠে বিষ্ময় নিয়ে বললো

"হায় আল্লাহ এই..এই চুড়ি গুলো কোথা থেকে এলো? কে দিলো?"

সিমি ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠলো। আবার নিজের ঘুমের উপর ও রা'গ হলো। সে কেমন গভীর ঘুমে ডুবে ছিলো যার জন্য অন্য একজন তার হাতে চুড়ি পরিয়ে দিলো আর সে কিছুই টের পেলো না। সিমি হাজার চিন্তা করেও কোনো উত্তর পেলো না। দুহাত কোলের উপর রেখে থম মেরে বসে রইলো।ডুবে গেলো হাজারো চিন্তায়। সিমি ঘাড় বাকিয়ে বিছানার দিকে তাকালো। যেখানে সায়ন চুপচাপ ঘুমিয়ে আছে। একদম শান্ত,নিষ্পাপ বাচ্চার মতো। সিমি মনযোগ দিয়ে সায়নের ঘুমন্ত মুখখানা দেখলো। পুরো আদল জুড়েই কেমন স্নিগ্ধতা। উজ্জ্বল সাদা ওই রূপের কাছে সিমির এই শ্যাম বর্ণ বড্ড ফিকে।

সিমি আবারও নিজের হাতের দিকে তাকাতে নিলে নজরে পড়লো সোফার সামনের কাঁচের টেবিলের উপর রাখা গোলাপ ফুল আর চকলেট দিয়ে বানানোর বুকে টার দিকে। কৌতুহল বশত সিমি হাত বাড়িয়ে বুকেটা হাতি নিলো। উল্টে পাল্টে দেখার সময় টুপ করে একটা কাগজের টুকরো তার কোলের উপর এসে পড়লো। সিমি ফুলগুলো পাশে রেখে কাগজটা হাতে তুলে নিলো। ভাজ খুলে দেখলো তাতে গুটিগুটি অক্ষরে লেখা একটা লাইন। সিমি অস্ফুট স্বরে আওড়ালো

"মিসেস স্নিগ্ধময়ী চারুলতা,এই অধমের পক্ষ থেকে সামান্য উপহার আপনার জন্য।"

সিমির যেনো আজ অবাক হওয়ার দিন। ঘুম থেকে উঠেই একের পর এক চমক পেয়ে সে রীতিমতো বাকহারা। এই চিরকুট, এই ফুল,চকলেট,চুড়ি এগুলো কোথা থেকে এলো? আর স্নিগ্ধময়ী চারুলতা সেই বা কে? চিন্তায় সিমির মাথা ঘুরে উঠলো। এ কোন মসিবতে পড়লো সে?

সিমির চিন্তায় মাথাব্যাথা শুরু হয়ে গেলো। প্রশ্নগুলো মাথায় জট পাকিয়ে রইলো। বেশ অনেকটা সময় মাথা নিচু করে বসে রইলো। সিমি একবার ভাবলো সায়নকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু পরক্ষনেই কি মনে করে থেমে গেলো। নামাজের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে মাথায় আসতেই দৌড়ে গেলো ওয়াশরুমে। আগে নামাজ পড়ে নেওয়া যাক তারপর না হয় এই নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে বসবে।

সিমি ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে এলো। মাথায় ওড়না পেচিয়ে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজে দাঁড়ানোর সময় পুনরায় চুড়িগুলো নজরে এলো। হাত দুটো চোখের সামনে এনে দেখলো কিছুসময়। চুড়ি গুলো খুলতে গিয়েও খুললো না। কেনো জানি তার মন স্বায় দিলো না। ফলস্বরূপ চুড়ি গুলো হাতে নিয়েই সিমি নামাজে দাড়িয়ে পড়লো। পৃথিবীর চিন্তা মাথা থেকে দূরে সরিয়ে মন দিলো রবের প্রতি।

নামাজ শেষে সিমি জায়নামাজে বসে রইলো। হাতে তার তাজবিহ। হাঁটুতে মুখ গুজে চোখ বন্ধ করে যিকির করছে সে। সময় নিয়ে যিকির শেষ করে মন দিলো কোরআন তেলাওয়াতে। সিমির সুরেলা মিষ্টি কন্ঠের তেলাওয়াতে পুরো ঘর জুড়ে অন্যরকম পবিত্রতা বিরাজ করলো। সিমির মাথা এক মূহুর্তের জন্য দুনিয়াবি সকল দুঃশ্চিতা দূর হয়ে গেলো। অশান্ত মন মুহূর্তেই স্বচ্ছ জলের মতো শান্ত হয়ে গেলো। শরীরে এক অন্যরকম শান্তি,ভালোলাগা কাজ করলো। এটাই তো আমাদের রবের শক্তি। বান্দা যখন দুনিয়ার মায়া ভুলে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে রবের প্রতি সর্মপণ করে তখন আল্লাহ নিজে সেই বান্দার চিন্তা গুলো দূর করার দায়িত্ব নেন। তার বান্দার জীবন থেকে সমস্ত সমস্যা সমাধান করে তাকে তার ধারণার চেয়েও বেশি সুখ দিয়ে সুখী করেন।

সময়টা তখন সকাল সাতটা। সকালের আলো ফুটেছে। সিমি কোরআন তেলাওয়াত করে চুপচাপ জায়নামাজেই বসে আছে। অপেক্ষা করছে সায়নের ঘুম ভাঙার জন্য। চুড়ির বিষয় গুলো বাদ দিয়ে তার মাথায় উদয় হয়েছে এখন অন্য চিন্তা। লোকটা রাতে কখন এলো? খেয়ে এসেছিলো কিছু? আর এলোই যখন তাকে ডাকলো না কেনো?

"আর কতক্ষণ জায়নামাজে বসে থাকবেন ম্যাডাম? এবার তো উঠুন। আপনার ধ্যান জ্ঞান দেখে মনে হচ্ছে ইতেকাফে বসবেন।"

হুট করে সায়নের কন্ঠ শুনে চমকে উঠলো সিমি। ভাবনার জগৎ থেকে ছিটকে বেরিয়ে এলো। তড়িৎ গতিতে পেছনে তাকিয়ে দেখলো সায়ন বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসে আছে। তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে তার সূক্ষ্ণ হাসি। সায়নকে দেখেই সিমির মুখে হাসি ফুটলো। তরিঘরি করে উঠে জায়নামাজ গুছিয়ে রেখে আসলো। দৌড়ে সায়নের পাশে এসে বসলো। হড়বড় করে বললো

"হুব্বী জানেন কি হয়েছে।"

সিমির মুখে হুব্বী নাম শুনে বোকা বোনে গেলো সায়ন। ভ্রু কূচকে মেয়েটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো

"হুব্বী মানে কি?"

"হুব্বী মানে হলো..!"

সিমি বলতে গিয়েও থেমে গেলো। এর প্রকৃত অর্থ কোনো ভাবেই নিজের মুখ থেকে বের করতে পারলো না। মূহুর্তেই অস্বস্তি, লজ্জারা তাকে চেপে ধরলো। সায়ন মন দিয়ে মেয়েটার এই পরিবর্তন দেখলো। কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করলো

"কি হলো বলছেন না কেনো?"

সিমি দ্রুত কথা কাটিয়ে বললো

"ও কিছু না। ভুল করে বলে ফেলেছি। আপনাকে বরং সায়ন বাবু বলে ডাকবো।"

সিমির মুখে সায়ন বাবু নাম শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো সায়ন। বাবু তাও সে। তাকে কি বাবুর মতো লাগে? সায়ন একবার নিজের দিকে তাকালো। যাচাই করতে চাইলো তাকে কি এখনোও বাবুর মতো লাগে? মন মতো উত্তর না পেয়ে বিরক্ত কন্ঠে সিমিকে বললো

"হোয়াট দ্যা ফাও কথা মিসেস তুলতলি। বাবু আবার কেমন ডাক? আমাকে কি আপনার ছোট বাচ্চা মনে হয়? তাই মনে হলে আসুন কোলে নিন। পারলে একটা ফিডার ও বানিয়ে নিয়ে আসুন। কোলে নিয়ে পুরো বাড়ি ঘুরবেন আর আমি ওয়া ওয়া করে কাঁদলে মুখে না ফিডারের নিপিল ঠুসে দিয়ে চুপ করাবেন।"

সায়ন কথা শুনে ভরকে গেলো সিমি। আমতা আমতা করে সরল গলায় বললো

"আমিতো মানে এমনিই বলেছিলাম আরকি। আপনি কি রে'গে গেলেন?"

"না না রাগবো কেনো? আপনি আমাকে এতো কিউট নামে সম্মোধন করলেন। আমার এক মূহূর্তে বাবু বানিয়ে দিলেন। আমার তো ইচ্ছে করছে খুশিতে ধেইধেই করে নাচতে।"

"আমি দুঃখিত সায়ন বাবু। এরপর আর এমন ভুল হবে..!"

"আবার বাবু।"

সহসা জিভ কাটলো সিমি। মেকি হেসে বললো

"মজা..মজা করছিলাম তো। আপনি সিরিয়াসলি নিচ্ছেন কেনো?"

সায়ন তীক্ষ্ণ চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলো। সিমি মাথা নিচু করে হাসফাস করতে লাগলো। আজকাল তার যে কি হচ্ছে সে নিজেই বুঝতে পারছে না। সায়ন সামনে আসলেই সে সবকিছুর তালগোল পাকিয়ে ফেলে। ভুলভাল কথা বলে ফেলে। পড়ে নিজেই অস্তিত্বতে আর সামনে দাঁড়াতেই পারে না।

সায়ন মেয়েটার অস্বস্তি দেখে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। কথা কাটিয়ে বললো

"কি যেনো বলবেন?"

সহসা মাথা তুললো সিমি। পুনরায় বললো

"হ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন।"

সায়ন নড়েচড়ে বসলো। আগ্রগ নিয়ে বললো

"ওমা তাই নাকি। বলুন দেখি কি হয়েছে।"

"আজ সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার হাতে কতোগুলো সাদা চুড়ি। চুড়ি গুলো দেখে আমি তো রীতিমতো অবাক। কে দিলো কে পড়ালো কিচ্ছু জানি না। আবার টেবিলের উপর কতো গরু গোলাপ আর চকলেট ও ছিলো। সাথে একটা চিরকুট। কিন্তু চিঠিতে কোনো নাম লেখা নেই। এখন আমি কিভাবে বুঝবো বলুন তো এসব কে দিলো?"

সিমির কথা শুনে সায়নের মধ্যে কোনো হেলদোল দেখা গেলো না। সিমির আড়ালে ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসলো। অত্যন্ত সাবলীল গলায় বললো

"ওহ।"

সিমির মন খারাপ নিয়ে বললো

"হ্যা। এখন কি করি বলুন তো। কার না কার জিনিস আমার কাছে এলো কি করে এই চিন্তায় আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।"

"অন্যকারোর হবে কেনো? আপনি না বললেন চিঠি ছিলো। ওটাতে নিশ্চয়ই আপনার নাম লেখা আছে।"

"নাম লেখা থাকলে তো হতোই। কিন্তু সেসব কিছু তো নেই।"

"নাম লেখা নেই?"

"আছে তবে আমার নাম নয় অন্যকারোর নাম হবে হয়তো।"

"ও আচ্ছা। কি নাম লেখা ছিলো একটু বলুন তো।"

"মিসেস স্নিগ্ধময়ী চারুলতা। আপনিই বলুন এ নাম কি আমার? অন্যর জিনিস আমার কাছে কোথা থেকে এটাই তো বড় রহস্যের ব্যাপার।"

সিমি একটু থেমে কি যেনো ভাবলো। পুনরায় বললো

"আচ্ছা রাতে কোনো চোর টোর আসে নি তো?"

"চোর এসে কি করবে?"

"হতে পারে চোর চুরি করতে এসে এগুলো ভুল করে রেখে চলে গেছে। ইয়া আল্লাহ এখন কি হবে? চোরকে খুঁজে পাবোই বা কোথায় আর এগুলো ফেরত দিবো কিভাবে?"

সিমি আর্তনাদ করে উঠলো। সায়নের ইচ্ছে হলো পঁচা পানিতে ডুব দিতে। না হলে আকাশ থেকে দড়ি পড়ুক সে উঠে যাক। এ কোনো বোকা মেয়ে। চোর কেনো তার ঘরে আসবে? তাছাড়া সায়নকে কি চোর মনে হয়? নিজের প্রশ্নে নাক মুখ কুচকে ফেললো সায়ন। সিমির দিকে তাকিয়ে খোঁচা মেরে বললো

"হ্যা সেই তো। চোরের তো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই অন্যের বউকে এসে গিফট দিয়ে যাবে। আর যদি গিফট রেখে যায় ও তাহলে চুড়িও কি সেই পড়িয়েছে? আমাদের বাড়িতে চোর কেনো একটা মাছিও ঢুকতে পারে না। সেখানে আস্ত একটা মানুষ আসবে এমন তারকাঁটা প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে কোথার থেকে?"

সায়নের প্রশ্নে সিমির মুখটা চুপসে গেলো। মন খারাপ নিয়ে বললো

"তাহলে কে দিয়েছে?"

সায়নের দিকে কৌতুহলী চোখে তাকালে সায়ন ফট করে বললো

" মিসেস তুলতুলি বিশ্বাস করুন এই কাজ আমি করি নি। আমি খুবই ভদ্র ছেলে। কারোর ঘুমের সুযোগ নিয়ে কিছু করি না। যা করার সামনাসামনি করি। আমি শিওর এই কাজ জ্বীনে করেছে। ওরাই তো রাতের বেলা এসে চোরে মতো অকাজ কুকাজ করে আমার মতো ভদ্র মাসুম বাচ্চার উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। আমি কিন্তু নির্দুষ।"

সিমি বোকা বোনে সায়নের দিকে তাকিয়ে রইলো। সে তো কিছুই বলে নি তাহলে উনি কেনো এতো কথা বললো। তাছাড়া জ্বীনে এসব করতে যাবে? ওদের কি আর কোনো কাজ নেই। সিমি আনমনে প্রশ্ন করলো

"আমি তো আপনাকে দোষ দেয় নি। তাহলে এসব বললেন কেনো?"

সায়নের গর্বিত মুখখানা মূহুর্তেই ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো। গলা খাকারি দিয়ে ইতিউতি করে বললো

"যদি আমার উপর দোষ দেন তাই আগে থেকেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করলাম।"

"ওহ।"

"এখন এসব টপিল বাদ দেন। বেশি চিন্তা করলে চুল পেকে যায়। আপনি কি চান এই বয়সে আপনার চুল পেকে যাক আর মানুষ আপনাকে বুড়ি বলুক।"

সিমি নিজের মাথায় হাত দিয়ে বললো

"মানুষ দেখবে কিভাবে? আমি তো পর্দা করি।"

সায়ন ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। এই মেয়েকে বোঝানো তার কর্ম নয়। বিরবির করে বললো

"এই জন্য বলে মেয়ে জাতি বোঝে বেশি করে ভুল। বোকা চারুলতা..! "

"কিছু বললেন।"

"নাহ। দেখি সরুন তো ফ্রেশ হতে হবে।"

সায়ন ব্যস্ততা দেখিয়ে নেমে পড়লো। সিমি ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললো

"তাহলে এগুলো কি করবো? ফেলে দিবো।"

"ফেলে দিবেন কেনো?"

"অন্যের জিনিস নিজের কাছে রাখা তো ঠিক না। আবার জানিও না এগুলো কার।"

"যার হয় হোক। আপনার কাছে যেহেতু উড়ে উড়ে এসেছে তার মানে এগুলো আপনারই। নিজের কাছে রেখে দিন। হতে পারে আপনার আপন কেউই এগুলো আপনাকে দিয়েছে।"

সায়ন ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। সিমি বিরবির করে বললো

"আমার আপনজন। কিন্তু কে?"

বোকা মেয়েটা কোন উত্তর খুঁজে পেলো না। বিছানায় ধপ করে বসে পড়লো। চুড়ি আর ফুল গুলো দিকে তাকে ঠোঁট উল্টে বিরস কন্ঠে বললো

"আল্লাহ এ কোনো মসিবতে ফেললে আমায় বলো তো?"

***
সকালের নাস্তা শেষে সবাই এসে বসেছে ড্রয়িং রুমের সোফায়। আয়মান চৌধুরী সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। মিথিলা চৌধুরী আর সিমি বসেছে পাশাপাশি। আর অন্যপাশে বসেছে মৌমি আর সায়ন দুজনে অবশ্য চুপচাপ বসে নেই। একজন আরেকজনকে খুঁচিয়ে যাচ্ছে। মৌমি সোফা থেকে একটা কুশন নিয়ে সায়নকে মে'রে বললো

"পাগলের ছাও। তুই আর তোর মাথামোটা লজিক নিয়ে দূরে গিয়ে মর। কতো বড় সাহস আমাকে গবেট বলিস বলিস।"

সায়ন মুখে হাত দিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো

"আম্মু দেখো মৌ তোমাকে পাগল বলেছে। বেয়াদব মেয়ের দিন দিন কেমন অধঃপতন হচ্ছে দেখেছো। পড়াশোনা শিখে ঘটে একটুও বুদ্ধি সুদ্ধি হয়। গবেট একটা।"

"তুই আবার আমাকে গবেট বললি?"

"গবেটকে গবেট বলবো না তো কি বলবো আইন্সটাইন।"

মৌমি চেতে উঠলো। মায়ের কাছে নালিশ দিয়ে বললো

"আম্মু তোমার ছেলেকে কিছু বলছো না কেনো?"

মিথিলা চৌধুরী ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেললো। দুপাশে মাথা নাড়িয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো

"তোমরা দুই পাগল ওখানে পুকুর কেটে ফেললোও আমি কিছু বলছি না। আমাকে বিরক্ত করবে না।"

মৌমি সায়ন দু'জনের দিকে তাকিয়ে একসাথে বললো

"আম্মু।"

"আপাতত কানে শুনি না।"

মৌমি হতাশার শ্বাস ফেলে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো। সঙ্গে স্বায় দিলো সায়ন নিজেও। বোনের দিকে তাকিয়ে বললো

"ঝগড়া করে মজা পেলাম না রে শাঁকচুন্নি। আম্মু তো কিছুই বললো না। এটা কিছু হইলো?"

"আসলেই। ভাবলাম আম্মু রে'গে গিয়ে আমাদের একটু বকা দিবে তা না উল্টে বলে কিনা কানে শুনি না। বেকার এতোক্ষণ চুলোচুলি করলাম।"

সহসা মৌমির চুল ধরে টান দিলো সায়ন। মৌমি চিৎকার করে ভাইকে বললো

"এই তুই আমার চুলে টান দিলি কেনো?"

"তুই তো বললি আমরা চুলোচুলি করছিলাম। কিন্তু আমরা তো চুলোচুলি করি নি ঝগড়া করছিলাম। এই জন্য চুল টেনে তোর কথা সত্যি করে দিলাম। নয়তো মানুষে বলবে আমার বোন মিথ্যুক।"

মৌমি রাগী চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। চুলোচুলির কথা বলেছে দেখে তার চুল টান দিবে? মৌমি নিজেও সায়নের চুল দু'হাতে খামচে ধরলো। বোনের হাত থেকে নিজের চুল ছাড়াতে ছাড়াতে বলে

"শাঁকচুন্নির ছাও ছাড় আমাকে। আমার জেল দেওয়া চুল ছাড় বলছি।"

"এখন কেনো ছাড়বো? নিজের চুল চুল আর অন্যের চুল কি দড়ি। তুই আমার চুল টানলি কেন? এখন দেখ কেমন লাগে।"

সায়ন নিজেও বোনের চুল টেনে দিলো। দুজনের এমন চুলোচুলি দেখে মিথিলা চৌধুরী বিরক্ত হলেন। ধমকে বললেন

"কি করছো তোমরা? শান্ত হয়ে বসো।"

মায়ের থেকে ধমক খেতে দেরি দুজনের শান্ত হয়ে বসতে দেরি হলো না। সায়ন নিজের দুল ব্যাকব্রাশ করতে করতে বললো

"আম্মু বললো দেখে ছেড়ে দিলাম। নয়তো বুঝিয়ে দিতাম সায়ন কি জিনিস।"

"আমি বোধহয় ছেড়ে দিতাম। একদম টাক করে ফেলতাম তোকে। তখন দেখতাম তোর এতো ভাবসাব কই যায়।"

দু ভাই বোন ভেংচি কেটে দু'পাশে মুখ ফিরিয়ে তাকালো। কিছুক্ষণ পর সায়ন পকেট থেকে কিটক্যাট চকলেট বের করে বোনের সামনে ধরে বললো

"এই নে পেত্নী।"

মৌমি ভাইয়ের হাতে চকলেট দেখে মুচকি হাসলো। হাতে নিয়ে বললো

"একটাই এনেছিস?"

সায়ন পুনরায় পকেট থেকে চকলেট বের করে সামনে ধরলো। একটা একটা করে পাঁচটা চকলেট বের করে বোনের হাতে দিলো। সায়ন চকলেট পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। ভাইকে জড়িয়ে ধরে বললো

"ধন্যবাদ ভাইয়ু।"

সায়ন বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো

"চুল টানার সময় মনে থাকে না আমি তোর বড় ভাই। যেই চকলেট দিলাম অমনি ভাইয়া বলে ডাকলি। ছোঁচা একটা।"

মৌমি কিছু বললো না। ভাইয়ের বুকে মাথা রেখেই মুচকি মুচকি হাসলো। চকলেটের প্যাকেট ছিড়ে একটু নিজে খেলো আরেকটু ভেঙে দিলো ভাইয়ের মুখে।

সামনের সোফায় বসে দু'ভাইবোনের এমন মিষ্টি মূহুর্ত সিমি দেখলো। মিথিলা চৌধুরী তার হাতে হাত রেখে বললো

"ওরা দুটো এমনই। এই ঝগড়া করবে আবার এই মিলেমিশে ঘোল হয়ে যাবে। ওদের ঝগড়া কখনো সিরিয়াস ভাবে নিবে না।"

সিমি শ্বাশুড়ির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। আজ যদি তারও একটা ছোট ভাইবোন থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই তারাও সিমির সঙ্গে এমন খুনসুটি করতো? সিমির চোখের কোণে পানি জমলো। সবার আড়ালে সেই পানি মুছে নিজেকে সামলে নিলো সে।

আয়মান চৌধুরী এলেন বেশ সময় নিয়ে। সোফায় এসে বসতেই সায়ন খোচা মে'রে বললো

"আমাদের আসতে বলে নিজে এতোক্ষণ ঘরে কি করছিলে? মেয়ে মানুষ ও তো তোমার মতো এতো দেরি করে না।"

আয়মান চৌধুরী আজ আর ছেলের খোঁচানিতে কান দিলো না। মুচকি হেসে মাথা নিচু করে রইলো। সায়ন বাবার থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে অবাক হলো। মনযোগ দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো ঘটনা কি।

আয়মান চৌধুরী সময় নিয়ে বললো

"ভাবছি সবাই মিলে একটু ঘুরতে যাবো।"

মিথিলা চৌধুরী বললো

"দুদিন আগেই তো ঘুড়ে এলাম। আবার কোথায় যাবে?"

"বাপের ভিটায়।"

সায়ন ফট করে বললো

"দাদু বাড়ি যাবে?"

আয়মান চৌধুরী সোফায় মাথা এলিয়ে দিলেন। শান্ত স্বরে বললেন

"হ্যা। জুঁইফুলের স্বর্ণ মহলে যাবো।"

"কবে যাবে?"

"কালকেই।"

"হঠাৎ দাদু বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে কেনো?"

"এমনিই ইচ্ছে হলো। অনেক দিন তো যাওয়া হয় না তাই মনটা কেমন করছে।"

সায়ন আজ আর কোনো প্রশ্ন করলো না। চুপচাপ শুধু তাকিয়ে রইলো বাবার মলিন মুখের দিকে। তার বাবা তো কখনো মন খারাপ করে থাকে না। সায়ন অন্তন দেখে নি। তাহলে আজ হঠাৎ কি হলো যার জন্য তার বাবা এতো চুপচাপ।

চলবে

সরি🥲

Address

Khulna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumu's fictional world posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share