15/11/2024
("ভুতের মুখে ভুতের গল্প")
অন্যদিনের মতো আজকেও রাত জেগে প্রাক্টিক্যাল লিখছিলাম। কয়দিন পরেই ফাইনাল এক্সাম তাই এখনো অনেক লেখা বাকি, সারাদিন কলেজ টিউশন করার পর এই রাতে একটু সময় পাই এসব লেখা লেখি করার।আজকে আবার হঠাৎ বড্ডু খিদে পাচ্ছে।কিন্তু এখন আবার উঠে গিয়ে খাবার আনতে ইচ্ছে করছে না।
কিন্তু এবার খাবার আনতে না গেলেই নয়, খিদের চটে পেটের ভেতরটা গুর গুর করছে।কান থেকে এআর ফোনটা খুলে মশারি থেকে বেরিয়ে রান্না ঘরের দিকে গেলাম,রান্নাঘরে গিয়ে দেখি একটা চিড়ে ভাজা রাখা আছে,ওটা একটা বাটিতে ঢেলে চানাচুর মিছিয়ে রুমে নিয়ে এলাম।
কিছুক্ষণ চিড়া খেয়ে আবার দেখায় মন দিলাম।এমন সময় পিছন থেকে কেউ যেন বলে উঠল "চিরে ভাজাগুলো দারুন হয়েছে?"
আমি লিখতে লিখতে থ্যাঙ্ক ইউ বলতে যাবো এমন সময় হঠাৎ করে বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে উঠলো।
আমার রুমে তো আমি ছাড়া কেউ নেই, তাহলে কথা বলবে কে?রুমের দরজা টার দিকে তাকাতেই দেখি ওটা ভেতর থেকে বন্ধ।আবার পেছন থেকে কথা এলো,'আরে তুমি রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করেই রুমে ঢুকেছো'।খুব ভয়ে ভয়ে পিছন ফিরে তাকালাম, দেখলাম আমার মশারির ভেতর একটা ছেলে বসে আছে।
কিন্তু ও কখন কিভাবে মশারির ভিতরে ঢুকলো?ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ করেই তো মা-বাবার শুতে যায় রোজ।তবে কি আজ কোন দরজা বা জানালা বন্ধ করতে ভুলে গেছে? মনের ভেতর হাজার প্রশ্ন ঘুরছে এমন সময় ছেলেটা চিড়ার বাটি থেকে একমুট চিরে ভাজা নিয়ে মুখে পুরে দিল। আর বলল,
"আরে আমার এই রুমের ভিতরে ঢুকতে কোন খোলা দরজা বা জানালা লাগে না "আমি এমনি আসতে পারি।এবার আমি অনেকখানি সাহস করে তাকে বললাম তুমি কিভাবে এলে রুমে?
আমার কথা শেষ হতেই সে হাওয়ার মত মশারি থেকে বের হয়ে গলো।আর বলল, এভাবে।
ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে আমি কিছুতেই কথা বলতে পারছি না।শুধু বিস্পারিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি তার দিকে, ছেলেটা আবার হাওয়ার মত মশারির ভিতরে ঢুকলো আর বলল,আরে ভয় পেলি নাকি? আমি তো ভাবলাম তুমি তো অনেক সাহসী,এখনই তো বসে বসে ভূতের গল্প শুনছিলে,এখন ভয় পাচ্ছো যে বড়।
অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, তাহলে তুমি ভূত?
না তো কি? এভাবে তোমার রুমে কে ঢুকবে শুনি।
তাও ঠিক- কিন্তু তুমি আমাদের রুমে এসেছ কেন?
সব বলব আগে তুমি জলটা খাও।
বলেই জলের বোতল তা আমার দিকে এগিয়ে দিল আর বলল,ভয় পেয়ো না আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না।
কেন জানিনা কথাটা শুনে মনে একটু জোর পেলাম।হাত থেকে বোতল টা নিয়ে জল খেলাম।এরপর ছেলেটাকে খুব ভালো করে দেখলাম। ছেলেটার চেহারার বর্ণনাটা একটু দিয়ে রাখি তাহলে যারা গল্পটি পড়ছেন তাদের গল্পটি অনুভব করতে সুবিধা হবে।ছেলেটার বয়স ২৪ থেকে ২৫ বছর হবে। গায়ে একটা ডিপ খয়রি শার্ট শার্ট এর পকেটে একটা চশমা ঝুলানো,হাতে ঘড়ি চুল গুলোর পরিপাটি, মুখ ভর্তি দাড়ি এক কথায় স্মার্ট ভুত ।
আমি অনেকক্ষণ ধরে ওর দিকে তাকিয়ে আছি দেখি খসখস করে একটু আওয়াজ করে বলে উঠলো তাকিয়ে আছো যে বড়।আর বলল, ভয় কার নাকি তোমার?
আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানালাম আমার প্র্যাকটিক্যাল খাতার দিকে তাকিয়ে বলল ছবি আকতে পারছ না বুঝি?আমি এঁকে দেবো.।সত্যি আমি অনেকবার চেষ্টা করেও ছবি থাকতে পারছিলাম না।আমি ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি পারবে আকতে"?
কথাটা শেষ হতেই আমার খাতার উপর একটা আঙ্গুল রেখে বলল,ভূতেরা সব পারে।এরপর সে আমার খাতার উপর একটা আঙ্গুল রেখে আঙ্গুলটি খাতার উপর থেকে নিজ পর্যন্ত নামিয়ে নিয়ে গেল ওমা দেখলাম খাতায় ছবিটা আঁকা হয়ে গেল।অমনি নিজে থেকেই আমার মুখটা হা হয়ে খুলে গেল।
"মুখটা বন্ধ কর তোমার মশারির ভিতর অনেক মশা ঢুকে আছে।এবার মশাগুলো তোমার মুখে ঢুকে যাবে।"কথাটা বলেই আবার বাটি থেকে দুটো চিড়ে নিয়ে মুখে পুরে দিল।
আমিও হাটা বন্ধ করে দিলাম। খাতাটা বন্ধ করে ওকে জিজ্ঞেস করলাম "ওই তোমার নাম কি? "
আমার নাম দীপ সেন।আর তোমার নাম মনিদিপা রায়।
হ্যাঁ -তুমি কি করে জানলে ও তুমি তো ভুত ভুলেই গেছিলাম।
আচ্ছা তুমি ঠাকুর কে ভয় পাও না
না কেন
আমিতো জানি ভূতেরা ঠাকুর কে ভয় পায়
ঠাকুরকে ভয় পায় যারা খারাপ তারা ঠাকুর কে ভয় পায় আর যারা ভালো তারা ঠাকুর কে ভয় পায় না, যেমন আমি।
ও আচ্ছা তো তুমি ভূত হলে কিভাবে মানে মারা গেলে কিভাবে
সে অনেক বড় গল্প
হ্যাঁ হোক না তাতে ক্ষতি কি? তুমি বলো।
কোন ক্ষতি নেই তোমার সাথে গল্প করবো বলেই তো এসেছি।
গল্প বলবে বলে আমার কাছে এসেছো কেন ?
তুমি ভূতেদের সাথে গল্প করো না গল্প করো না।
হ্যাঁ,, করি কিন্তু সবসময় না"। কারণ সন্ধ্যা হলে অনেক ভূত যায় তদের আপনজনদের সাথে দেখা করতে আবার অনেক ভূত যায় মানুষজনকে ভয় দেখাতে।
কিন্তু আমার ওগুলো ভালো লাগেনা তাই আমি এমনি নিজের মনে ঘুরে বেড়াই।
তুমি তোমার বাবা মার সাথে দেখা করতে যাওনি?
না, কারণ ওরা আমাকে দেখলে ভয় পাবে। এ কারণেই যাইনি।
ও আচ্ছা এখন বল তুমি ভূত হলে কিভাবে?
বললো তবে আমার একটা শর্ত আছে?
কি শর্ত?
"আমাকে চিরে ভাজা খাওয়াতে হবে। "
এটা আবার কোন শর্ত হলো নাকি।
তুমি গল্প বলা শুরু কর, যে তুমি কিভাবে ভূত হলে?
সে বলল এ কথা বলেই সে আবার হাওয়ার মতো মশারির
বাইরে বেরিয়ে গেল। আর বলল কাল শোনাবো আজ আর নয়।
আমি বললাম এখন বললে কি সমস্যা?
সে বলল, "এখন সকাল হয়ে যাচ্ছে দিনের আলো ফুঠতে শুরু করেছে এখন আমার ফিরতে হবে আবার কাল আসবো", কাল এসে তোমাকে গল্প শোনাবো।
কথাটা বলেই জানালা দিয়ে হওয়ার মত বেরিয়ে গেল ভূত।
(গল্পটির দ্বিতীয় পাঠ শুনতে আমার পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পাট নিয়ে আবার হাজির হব। আরো গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।)