25/12/2024
সুরা কাফিরূন
পবিত্র আল-কোরআন মাজিদ এর ১০৯ নম্বর সুরা হলো কাফিরুন। মক্কায় নাজিল হওয়া এই সুরাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এ সুরায় তাওহিদের শিক্ষা এবং মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় কাফিরদের লোভনীয় প্রস্তাব এবং তাদের ভ্রান্ত মতবাদ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সুরা কাফিরুন খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি সুন্নত নামাজে এটি পড়তেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষ করার পরের নামাজেও তিনি এটা পড়তেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের সুন্নত নামাজে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৩, আবু দাউদ, হাদিস : ১২৪৬)
ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের সুন্নত দুই রাকাতে এবং মাগরিবের সুন্নত দুই রাকাতে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস পাঠ করতেন।
সুরা কাফিরুন ছোট্ট একটি সুরা। মাত্র ছয়টি আয়াত। পড়তে এক মিনিট লাগে না। অথচ পাঠ করার সওয়াব অনেক বেশি। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইজা জুলজিলাত সুরা যে ব্যক্তি পাঠ করবে, অর্ধেক কোরআনের সমান তার সওয়াব হবে।
ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন যে ব্যক্তি পাঠ করবে, তার কোরআনের এক-চতুর্থাংশ পাঠের সমান সওয়াব হবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯৩)
শরিয়তসম্মত ‘রুকইয়া’ (নিরাপত্তা কবজ) করার বিধান আছে। আর রুকইয়ার জন্য নির্ধারিত আয়াতের অন্যতম হলো সুরা কাফিরুন।
রাতে ঘুমানোর আগে এই সুরা পাঠ করার কথা আছে। ফারওয়া বিন নওফল (রহ.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, একবার নবীজি (সা.) তাঁকে বলেন, তুমি শোয়ার সময় সুরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবে।
কেননা এই সুরা শিরক থেকে মুক্তি দানকারী। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৭১, মুস্তাদরাকে হাকেম : ২/৫৩৮)
লেখক : আলেম ও কবি।
শিরক মুক্ত হওয়ার এই সুরার সরল বাংলা অর্থ আয়াত নং ১-৬ পর্যন্ত। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
[1] বলুন, হে কাফেরকূল,
[2] আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
[3] এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
[4] এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
[5] তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
[6] তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।