08/03/2026
নিষিদ্ধ ছায়া
গ্রামের নাম ছিল না, শহরের প্রান্তে একটা পুরনো বাড়ি। সেখানে থাকতেন হরেন্দ্রনাথ—পঞ্চান্ন বছর বয়স, চাকরি থেকে অবসর নেওয়া, স্ত্রী মারা গেছেন আট বছর আগে। ছেলে অভিজিৎ বিদেশে চাকরি করে, বছরে একবার আসে। আর এসেছে তার বউ—রিয়া।
রিয়া এসেছিল বিয়ের পর প্রথমবার। সাতাশ বছর বয়স, শহুরে মেয়ে, চাকরি করে কলকাতায়। কিন্তু অভিজিৎ যখন বিদেশ চলে গেল, রিয়া থেকে গেল শ্বশুরবাড়িতে—কারণ তার নিজের বাড়িতে কেউ ছিল না।
প্রথমে সব স্বাভাবিক ছিল। হরেন্দ্রনাথ রান্না করতেন, রিয়া অফিস থেকে ফিরে এসে বাসন মাজত। কথা হতো সামান্য—আবহাওয়া, বাজারের দাম, টিভির খবর। কিন্তু রাত বাড়লে বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে যেত। দুজনের ঘর পাশাপাশি। দেয়াল পাতলা।
এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গেল। গরমে ঘুম আসছিল না। রিয়া বারান্দায় এসে দাঁড়াল। হরেন্দ্রনাথও এলেন। চাঁদের আলোয় তার মুখ দেখে রিয়া বলল,
“আপনি কখনো একা লাগে না?”
হরেন্দ্রনাথ হাসলেন। “একা তো সবাই। তবে অভ্যাস হয়ে যায়।”
“আমার হয় না।” রিয়ার গলা ভারী। “অভিজিৎ ফোন করে ঠিক সময়ে কথা বলে না। আমি শুধু অপেক্ষা করি।”
সেই রাত থেকে কথা বাড়তে লাগল। সকালে চা খেতে খেতে, রাতে টিভি দেখতে দেখতে। হরেন্দ্রনাথ বলতেন তার যৌবনের গল্প—কীভাবে স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা, কীভাবে ভালোবাসা গড়ে উঠেছিল। রিয়া শুনত মন দিয়ে। তার চোখে কখনো হাসি, কখনো জল।
একদিন বৃষ্টির রাত। বিদ্যুৎ নেই। রিয়া বলল, “আমার ভয় করছে।”
হরেন্দ্রনাথ মোমবাতি জ্বালালেন। দুজনে বসলেন খাটের কিনারে। রিয়া কাঁপছিল। হরেন্দ্রনাথ আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখলেন।
“আমি তো আছি।”
রিয়া মুখ তুলে তাকাল। চোখে চোখ পড়তেই দুজনেই চুপ। সময় থেমে গেল। তারপর রিয়া নিজেই এগিয়ে এল। ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। হরেন্দ্রনাথ প্রথমে থমকে গেলেন। তারপর জড়িয়ে ধরলেন।
সেই রাতে তারা কথা বলেনি। শুধু ছুঁয়েছিল। নিষিদ্ধ, কিন্তু গভীর। যেন দুজনেই অনেকদিনের তৃষ্ণা মেটাচ্ছিল।
সকাল হলে লজ্জা এল। অপরাধবোধ এল। কিন্তু চোখাচোখি হলেই আবার সেই টান। তারা লুকিয়ে রাখতে চাইল, কিন্তু লুকানো গেল না। বাড়ির দেয়াল, বাতাস, সব জেনে গেল।
এক বছর পর অভিজিৎ ফিরল। রিয়া গর্ভবতী। সবাই খুশি। হরেন্দ্রনাথ হাসলেন। কিন্তু তার চোখে একটা ছায়া। রিয়া তাকাল। দুজনের চোখে একই প্রশ্ন—এটা কার সন্তান?
কেউ কিছু বলল না। জীবন চলতে লাগল। গোপন একটা সম্পর্ক রয়ে গেল—কথাহীন, স্পর্শহীন, কিন্তু জ্বলন্ত।
আর বাড়ির পেছনের আমগাছটা প্রতি বছর ফল দিতে লাগল। যেন সাক্ষী। নিঃশব্দ সাক্ষী।
#বৌমা_শশুর
#পরকীয়া
#নিষিদ্ধ_ভালোবাসা
#গোপন_সম্পর্ক
#শ্বশুরবাড়ির_গল্প
#অবৈধ_প্রেম
#বাংলা_ইরোটিক
#পারিবারিক_নিষিদ্ধ
#রিয়া_ও_হরেন্দ্র
#গ্রাম্য_পরকীয়া
#অপরাধবোধ_ও_আকর্ষণ