16/10/2025
খান ইউনুসের তীব্র যুদ্ধের সময়ে, তিনি নিজ হাতে তাঁর যোদ্ধাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতেন। অবাক করার বিষয় হলো, খাবার তৈরি হয়ে গেলে তিনি নিজে কেবল এক টুকরো রুটির এক-চতুর্থাংশ নিতেন, আর বাকিটুকু তুলে রাখতেন সহযোদ্ধাদের জন্য।
একবার শত্রু পক্ষের ফেলে যাওয়া খাবার উদ্ধার হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, দৃঢ়ভাবে বলেন: "যে খাবার আমাদের জনগণ খেতে পারে না, সেই খাবার আমরাও খাব না।" অথচ তখন তিনি ছিলেন প্রচুর ক্ষুধার্ত।
খান ইউনুসের 'ব্লক জি' এলাকা থেকে তিনি ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি পিছু হটেন। একবার একটি ভবনের ভেতরে তিনি শত্রুদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন মানসিক ভাবে।অথচ পর্যাপ্ত অ'স্ত্র ছিল না লড়ার মত। কিন্তু অলৌকিকভাবে ঐ এলাকায় আক্রমণ না করে শত্রুরা সরে যায়। তিনি বলেন এটা অবশ্যই আল্লাহর মু'জিজা ছিল।
একবার তিনি যখন তাঁর শিশুদের কাছাকাছি একটি এলাকায় গাড়ি করে যাচ্ছিলেন, তখন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, 'ইশ ইব্রাহিম বা অন্য কোনো ছেলের মুখ যদি একবার দেখতে পেতাম, তাদের একবার জড়িয়ে ধরতে পারতাম।" (নিজের বাচ্চাদের কথা বলছিলেন)। তাঁর সঙ্গী তাকে দেখা করে আসতে বললেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তাঁর আগমন যেন সাধারণ মানুষের ওপর শত্রুর আক্রমণ ডেকে না আনে। জনগণের নিরাপত্তা ছিল তাঁর কাছে সন্তানের ভালোবাসার চেয়েও উর্ধ্বে।
তাঁর রাত কাটত অদ্ভুতভাবে। রাতের অর্ধেক থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ইবাদত করতেন, এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সবাই তাঁর কান্নার শব্দ শুনতে পেত। ফযরের নামাজ সেরে তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকতেন।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে রাফাহে থাকাকালীন তিনি তাঁর যোদ্ধাদের সঙ্গে ক্যানজাত ছোল দিয়ে ইফতার করতেন। একজন যোদ্ধা যখন খাবার সংগ্রহের জন্য যেতে চাইলেন, তিনি বাধা দেন এবং বলেন: "তুমি অস্ত্র আনতে গিয়ে শাহাদত বরণ করো, খাবার আনতে গিয়ে নয়।"
জীবনের শেষ মুহুর্তেও তিনি মুকাবিলা করে গেছেন একটুকরো লাঠি দিয়ে তাও বামহাতে। (ডান হাত গু'লি'তে ঝাঁঝরা হয়েছিল।) শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগ্রাম ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক হয়ে রইলেন—
ক্যালেন্ডারের হিসেব বলে আজ এই মহাবীরের প্রয়াণের এক বছর। কিন্তু বীরেদের তো মৃত্যু হয় না তিনি থেকে যাবেন আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় অমর হয়ে।
সি' ন' ও' য়া' র রাহিমাহুল্লাহ