22/09/2025
বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: বাস্তবতা ও তুলনা
বর্তমানে বুয়েট শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। দেশের সাধারণ মানুষ জানতে চায়, তারা কেন আন্দোলন করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র দেখায়, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য গবেষণা, উদ্ভাবন বা দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়।
◾তারা গবেষণার জন্য বরাদ্দ বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে না।❌
◾তারা দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য আন্দোলনে নামেনি।❌
◾তারা বিদেশে মেধা পাচার বন্ধ করে দেশের কাজে মেধা ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্দোলন করছে না।❌
◾তারা বুয়েটকে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনার জন্য শিক্ষার মান, গবেষণা ও পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আন্দোলন করছে না।❌
◾তারা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে না।❌
◾তারা আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্যান্য খাতে দেশের অবদান বাড়ানোর জন্য আরও ফান্ড বা গবেষণার উপকরণের জন্য আন্দোলন করছে না।❌
◾তারা আন্ত: ক্যাডার বৈষম্য দূরীকরনে কোন আন্দোলন করতাছেনা। ❌
◾তারা প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের মত টাইমবার পদোন্নতি ও তাদের ন্যায় অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে কোন আন্দোলন করতাছে ❌
◾ তারা সরকারি ও বেসরকারি চাকুরীতে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা নিয়ে কোন আন্দোলন করতাছেনা
❌
◾তারা বেসরকারি চাকুরীর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বেতন কাঠামো নির্ধারনে কোন আন্দোলন করতাছেনা।
❌
📍তাদের আন্দোলনের মূল বিষয় হলো চাকরি এবং সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি।
🟢✅
আগেও তারা চাকরি করত, তারা চাইছে আরো নিচের পদের চাকরি।
📍উদ্ভাবন, গবেষণা বা দেশের জন্য নতুন কিছু আবিষ্কার—সেটি তাদের আন্দোলনের অংশ নয়।
তুলনামূলক অর্থনৈতিক বাস্তবতা:
প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ব্যয় এবং প্রতি শিক্ষার্থীর ৪ বছরের মোট ব্যয়-
পলিটেকনিক ৳ 40,855 ≈ ৳ 1,63,420
বুয়েট ৳ 3,14,477 ≈ ৳ 1,25,79,908 (সোর্স - প্রথম আলো, ইংলিশ)
যেখানে পলিটেকনিক শিক্ষার্থী সীমিত বাজেটে দেশ ও জনগণের জন্য যথেষ্ট কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারছে, সেখানে আমরা বুয়েটের মতো শিক্ষার্থীদের দেশ ও জনগণের উচ্চমূল্যের ব্যবহার কেন করবো..⁉️
যে কাজের জন্য পলিটেকনিক গুলো যথেষ্ট ; সেখানে বিলাসবহুল বুয়েট কেন.❓
যদি বুয়েট পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানে নেমে আসতে চায়, তাহলে বুয়েটের কি কাজ❓
আর বুয়েট শিক্ষার্থীদের যে কাজের প্রস্তত করা হয় তা যদি তারা না করে তাহলে বুয়েট সহ অন্যান্য প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রেখে দেশের কি লাভ ❓ জনগণের কি লাভ❓
বন্ধ করা হোক এই সব জনগণের টাকা অপচয়কারী এমন সব প্রতিষ্ঠান।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের কাজের মান এমন যে প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তারা কখনো তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। বরং, বুয়েট থেকে বের হওয়া পেশাজীবীরাগণ এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দক্ষতার প্রশংসা করে।
এখানে স্পষ্ট যে,
বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের লক্ষ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ—চাকরি ও পদোন্নতি—দেশের উন্নয়ন বা জনগণের কল্যাণ নয়। যেখানে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সেবা করতে সক্ষম, সেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুধুই স্বার্থপর এবং বাস্তব ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কহীন।
✍🏻 মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
- কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশন
- এডমিন, পলিটেকনিক নোটিশ বোর্ড।