11/10/2025
কালের সাক্ষী ‘গদখালী রেলস্টেশন’
গদখালী রেলওয়ে স্টেশন।
যশোরের প্রাচীন জনপদ গদখালীর ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়,
উনিশ শতকের গোড়ায় এটি বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
কিন্তু ১৮১০ সাল নাগাদ ম্যালেরিয়া জ্বরের প্রকোপে এই অঞ্চলের মানুষ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়।
বিপর্যয় কাটাতে না কাটাতেই ১৮৪০ সালে পুনরায় আক্রান্ত হয় গদখালীসহ এর আশপাশের অঞ্চল।
সে সময় প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে এই এলাকা।
‘গদখালী ফিবার’ নামে যা ইতিহাসে আজও স্থান করে আছে।
মনোজ বসু তাঁর ‘সে এক দুঃস্বপ্ন ছিল’ উপন্যাসে গদখালীর এই রূপ তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছেন,
‘খানপাঁচেক গ্রামের পরে সুবিখ্যাত গদখালী...মহামারিতে এক সময়ে ওই গ্রাম উজাড় হয়ে যায়,
মেয়েপুরুষ একজন-কেউ বেঁচে ছিল না।’
১৮৭১ সালে প্রকাশিত ‘রিপোর্ট অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব ইটস এন্টিকুইটিজ, ইটস হিস্টোরি অ্যান্ড ইটস কমার্স’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, গদখালী ছিল বাজার পরিবেষ্টিত একটি বৃহদায়তনের গ্রাম।
১৮৬৩ সালে কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম পাড় তথা বর্তমান গদখালী যশোরের অন্তর্ভুক্ত হয়।
গভীর বন ও ডাকাতদের অভয়াশ্রম হওয়ায় গদখালীতে একটি পুলিশ স্টেশন স্থাপিত হয়।
১৮৭৬-৭৮ সালে ব্রিটিশ ভারতে সংঘটিত হওয়া মহা দুর্ভিক্ষের পর,
ফেমিন কমিশনার এ অঞ্চলে ন্যূনতম পাঁচ হাজার মাইল রেলপথ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
সীমিত সরকারি ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে তিনি এই কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রয়াস পান।
বলা যায়, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ধারণাটির শুভসূচনা ঘটেছিল এই সময়ে। এগিয়ে আসে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।
এ অঞ্চলে রেলপথ সম্প্রসারণের দায়িত্ব পায় বেঙ্গল সেন্ট্রাল রেলওয়ে।
১৮৮২ থেকে ১৮৮৪ সালের মধ্যে দমদম জংশন থেকে দত্তপুকুর, দত্তপুকুর থেকে গোবরডাঙ্গা, রানাঘাট থেকে বনগাঁও এবং বনগাঁও থেকে খুলনা পর্যন্ত চার ধাপে সর্বমোট ১২৫ দশমিক ২৫ মাইল রেলপথ নির্মাণ করে কোম্পানিটি। এই পুরো পথটিই ব্রডগেজ লাইন (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি)। বেনাপোল থেকে যশোরও এই রুটের অন্তর্ভুক্ত।
১৯৩৮ সালের সরকারি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়,
বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত যেতে পথে পড়তে নাভারন,
গদখালী, ঝিকরগাছা ঘাট, ঝিকরগাছা ও ধোপাখোলা স্টেশন।
যশোর থেকে খুলনা হয়ে গোপালনগর পর্যন্ত ছিল এই রেলপথের সীমানা। শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ পেট্রাপোল হয়ে গদখালীর ওপর দিয়ে খুলনা যাওয়া রেলগাড়িটির নাম ছিল ‘বরিশাল এক্সপ্রেস’।