04/06/2026
পিলখানা হত্যাকা-ন্ডের অন্যতম সাক্ষী, "মেজর জাহিদকে" জ-ঙ্গি নাটক সাজিয়ে! পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে, ২৯ রাউন্ড গু-লি চালিয়ে বুক ঝাঁঝরা করে দিয়ে হত্যা-কান্ড, পৃথিবীর যে-কোনো থ্রিলার মুভিকেও হার মানাবে!
মেজর "জাহিদুল ইসলাম", বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম একজন ডিসিপ্লিন, চৌকস,আর মেধাবী সেনা অফিসার হিসেবে তার পরিচিতি ছিল! ২০০০ সালে ৪৩-তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান তিনি।
সেনাবাহিনীতে মেধার স্বাক্ষর রেখে, "ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ" লং কোর্সে তৃতীয় হয়ে অর্জন করে অর্জন করেন, গোল্ড মেডেলও! এমন সেনা অফিসারের দেশপ্রেম, আর দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর অবিচল থাকাই, ছিল তার মূল অপরাধ।
২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার রূপনগরে, নিজের ভাড়া বাসায় নিচেই!তাকে জ---ঙ্গি সাজিয়ে ব--ন্দুক যু-দ্ধের নাটক সাজিয়ে খুব কাছ থেকে ২৯ রা--উন্ড গু-লি চালিয়ে খুবই নির্ম--মভাবে হ--ত্যা করা হয়!
দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জাতির কাছে জ-ঙ্গি হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পর! ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেরিয়ে, আসে এক নির্মম সত্য। আন্তর্জাতিক অপ------রাধ ট্রাইব্যুনালের একটি অভিযোগ ঘটনার পেছনের কাহিনী বের করে জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল!
এটি ছিল পিলখানা হত্যাকান্ডে--র অন্যতম সাক্ষীকে চিরতরে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার নীল নকশা! অথচ এই সেনা অফিসার কঙ্গোতে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন!পাকিস্তানে মিড ক্যারিয়ার কোর্স, আরও কানাডায় উচ্চতর প্রশিক্ষন শেষ, করে হয়ে উঠেন দক্ষ এক অফিসার।
সৎ নিয়মানুবর্তিতা আর কর্ম দক্ষতার কারনে সহকর্মী দের কাছে ছিলেন, আদর্শিক এক সেনা অফিসার! সেনাবাহিনীতে মেধাহীন অযোগ্য আর রাজনৈতিক চাটুকারদের বিরোধী ছিলেন তিনি।
২০০৯ সালে তাকে পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করেননি! ওই সময় পিলখানায় পোস্টিং রত ছিলেন,তারই ব্যাচমেট বন্ধু ক্যাপ্টেন শহীদ মাজহারুল হায়দার! ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই নৃ-শংস হত্যাকান্ডে-র সময়, মেজর জাহিদ কে করেন ক্যাপ্টেন মাজহারুল।
মাজহারুল বলেন বন্ধু আমাদের সব অফিসারদের মে-রে ফেলছে! কারা মেরেছে মেজর জাহিদ জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহারুল বলেন কিছু হিন্দুভাষী ব্যাক্তি যাদের তিনি কখনো পিলখানায় দেখেন নি!
খুব উদ্বিগ্ন হয়ে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে থাকা মেজর জাহিদ তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানান ক্ষোভ প্রকাশ করেন! কিন্তু তাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ তিনি দেখেন নি, পিলখানা নৃশংস-তার পর মনে করা হতো মেজর জাহিদের কাছে অনেক অকাট্য প্রমান ও ছিল!
কিভাবে প্রতিবেশী দেশের গো-য়েন্দা সংস্থা আর ভেতরের বিশ্বাসঘাত-করা মিলে, এই ষড়-যন্ত্র সফল করেছিল! পিলখানা ঘটনার পরও মেজর জাহিদ অনেক বেশি সোচ্চার ছিলেন প্রতিবাদী ছিলেন।
তিনি জানতেন অনেক গোপন আর স্পর্শকাতর সত্য! সত্যের পথে অবিচল থাকা এই সেনা অফিসারকে কোনোভাবে কেনা, আর দমানো সম্ভব না হওয়ায়! তাকে ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে বাধ্য করা হয়।
অবসরের পরেও তিনি নিরাপদ ছিলেন না তার কাছে থাকা তথ্য তৎকালীন সরকারের ভীত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল! সেজন্যই সাজানো হয় এক ভয়ংকর জ-ঙ্গি নাটক! আর সেটা মঞ্চায়িত করা হয় ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
সিটিটিসি ইউনিট ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০ টার পর এক নির্ম-ম ইতিহাস সৃষ্টি করে! এই অভিযান চালাতে তারা তৈরি রেখেছিল জ-ঙ্গি নামের নিখুঁত মিথ্যা নাটক।
মেজর জাহিদের বাসা থেকে তাকে ঢেকে নিয়ে ভয়ানক নির্যা-তন করে, তার হাত দু'টো পেছন থেকে বেঁধে হাতগুলো কে পিটি-য়ে কাঁ-ধ থেকে আলাদা করা হয়! তার মুখমণ্ডল বি-কৃত করে বাসার নিচে নামিয়ে খুব কাছ থেকে ২৯ রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করা হয় তার বুক।
কতোটা নির্ম-ম হ-ত্যা আহ! অথচ রূপনগর থানার এজাহারে উল্লেখ করা হয় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নাকি মেজর জাহিদ চা-কু আর পি-স্তল নিয়ে চড়াও হয়েছিল! আত্মরক্ষার্থে তারা নাকি ২৯ রাউন্ড গু-লি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে মেজর জাহিদের বুক।
অথচ এই জ-ঙ্গি নাটকের উদ্দেশ্য ছিল পিলখানা হত্যাকা-ন্ডের স্পর্শকাতর তথ্য যেন কোনদিন আলোর মুখ না দেখে। সেদিন পুলিশ এতোটাই হিং-স্র ছিল যে, মেজর জাহিদের চোখ দুটোও কো-টর থেকে বের করে ফেলে!
ফরেনসিক রিপোর্ট আর প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল সম্পুর্ন একটি নাটক। মেজর জাহিদ হ-ত্যার পর সবচেয়ে নির্ম-ম ব্যাপার হচ্ছে, আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেলের ম--র্গে মেজর জাহিদের লা----শ পড়ে থাকলেও, তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
এরপর পরিবার লাশ-টাও খুঁজে পায়-নি! আহ। মেজর জাহিদ হত্যা-র সত্য যেনো বের হয়ে না আসে তা-ই, পরিবারের উপরও চালানো হয় রোলার কোস্টার! মেজর জাহিদকে হত্যার রাতেই তার স্ত্রী আর দুই শিশু সন্তানকে, চোখ বেঁধে নিয়ে যা-ওয়া হয় মেজর জাহিদ কে হত্যার পূর্বেই।
প্রায় ৪ মাস সাত দিন দুনিয়ায় আ-লো দেখতে না দিয়ে ডিবির কথিত আয়নাঘরে বন্দী রাখা হয় স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা আর ১ বছরের ছোট মেয়েকে! ৫ বছরের বড় মেয়েকে নানা নানুর কাছে দেবার কথা বলে, ৭ দিন পর নেওয়া হলেও ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তৈরি করা হয় আরেক জ--ঙ্গি নাটক!
মেজর জাহিদ হ-ত্যার ৯ দিন পর বড় মেয়েকে ঢাকার আজিমপুরে কথিত জ-ঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৩ শিশু উদ্ধারের নামে তাকে উদ্ধার দেখানো হয়। সেদিন ৩ শিশু আটকের মধ্যে ছিল মেজর জাহিদের ৫ বছরের নিষ্পাপ বড় মেয়ে, ৫ বছরের শিশু জুনাইরা বিনতে জাহিদও!
আর ২০১৬ সালে ২৪ ডিসেম্বর ৪ মাসের অধিক সময় নির্যাতনের পর আরেক জ-ঙ্গি নাটক সাজিয়ে, মেজর জাহিদের স্ত্রী আর ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে যা-ওয়া হয়! এরপর স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলার ভাগ্যে জুটে একের অধিক জ-ঙ্গি মামলা!
প্রেরন করা হয় জেলে! সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে মেজর জাহিদ কে হত্যা-র এক বছরের মধ্যে ছেলের মৃ----ত্যু সইতে না পেরে! হতশার চরম লেভেল পার কর, মেজর জাহিদের বাবা-মা দুই-জনই স্টোক করে মৃত্যু বরন করেন!
দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর কারাবরণের পর মেজর জাহিদের স্ত্রীর জামিন মিললেও! কোন এক অজানা শঙ্কায় তার জামিন বাতিল করে দুই বছর পর আবার হাজতে পেরন করা হয়!
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ৩১ আগস্ট তার আবার জামিন হয়! কিন্তু মুক্তি মেলেনি অভিশপ্ত জ-ঙ্গি মামলা থেকে এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। একটা পরিবার কে ঠিক নিজের ক্ষমতা টিকেয়ে রাখার স্বার্থে এতো নির্মমভাবে ধ্বংস করে দেওয়ায় চেয়ে নৃশং-স আর কি হতে পারে!