07/06/2026
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা: পেশাজীবীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ফলে সারাদেশের সাধারণ টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শূন্য পদের তালিকা প্রেরণের প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রশাসনিক পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি। এতে পেশাজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—প্রক্রিয়াটি আদৌ কতদূর এগিয়েছে এবং কবে নাগাদ এর বাস্তবায়ন হবে।
অন্যদিকে, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে গঠিত বিভিন্ন সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকেই। বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবী সংগঠন ‘রণভেরী’ উপদেষ্টা পরিষদ এবং ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের কার্যক্রমকে নিষ্ক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পেশাজীবীদের একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ, আন্দোলন কিংবা প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জানান, “বছরের পর বছর ধরে আমরা ১০ম গ্রেডের যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছি। শূন্য পদের তথ্য চাওয়া ও প্রেরণের পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় আমরা হতাশ।”
ফার্মাসিস্টদের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে তারা এখনও বৈষম্যের শিকার।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল ধরে রাখা এবং পেশাজীবীদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। তারা এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য ও সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রিতা অব্যাহত থাকলে পেশাজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।