Health NewsBd24

Health NewsBd24 " সুস্থ সমাজের জন্য সত্য সংবাদ"
স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং মেডিকেল সম্পর্কিত যে কোন খবর প্রচারের জন্য আমাদের ইনবক্সে মেসেজ করুন। অথবা তথ্য শেয়ার করুন।

Health NewsBd24
(সুস্থ সমাজের জন্য সত্য সংবাদ)
একটি স্বাস্থ্য সংবাদ ভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল।

05/05/2026

নিয়ন্ত্রণহীনতায় দেশের রোগ নির্ণয় খাত: বিপাকে ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টরা, নেই সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
​বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড বলা হয় রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনস্টিক সেক্টরকে। কিন্তু এই খাতের কারিগর যারা—সেই ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে আজও কোনো সুনির্দিষ্ট কাউন্সিল বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে পেশাগত নিবন্ধন ও জবাবদিহির অভাবে একদিকে যেমন টেকনোলজিস্টরা চরম হতাশায় ভুগছেন, অন্যদিকে ঝুঁকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।

​নেই সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ, বাড়ছে বেকারত্ব
​বর্তমানে দেশে কতজন ডিপ্লোমা বা গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) রয়েছেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান বা ডাটাবেজ নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকায় বিদেশের মতো এখানে পেশাগত লাইসেন্সিং বা নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অদক্ষ জনবল দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরিচালনার অভিযোগ উঠছে, যা ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে কয়েক হাজার গ্র্যাজুয়েট টেকনোলজিস্ট এখন কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা।

​প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন (NILMRC)
​ল্যাবরেটরি সেবার মানোন্নয়ন ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার' (NILMRC) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বড় প্রত্যাশা ছিল, প্রতিষ্ঠানটি দেশের ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের জন্য উচ্চতর ট্রেনিং এবং পেশাগত রেজিস্ট্রেশনের কেন্দ্রবিন্দু হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এটি সাধারণ ৮-১০টি প্রতিষ্ঠানের মতোই কেবল রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এখান থেকে টেকনোলজিস্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি বা মান নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

​পেশাজীবীদের হতাশা ও ক্ষোভ
​ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার। নেই কোনো ক্যারিয়ার প্ল্যানিং, নেই দশম গ্রেডসহ অন্যান্য পেশাগত সুযোগ-সুবিধার বাস্তবায়ন। তারা বলছেন, "একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলে আমাদের অধিকার ও মান রক্ষা সহজ হতো। বর্তমানে আমরা অভিভাবকহীন অবস্থায় আছি।"

​বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি শক্তিশালী কাউন্সিল বা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ছাড়া রোগ নির্ণয় খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব নয়। ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের পেশাগত মান বজায় রাখতে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং নিবন্ধনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায়, মানহীন ল্যাবরেটরি সেবার কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে।

​এ বিষয়ে, বাংলাদেশ সোস্যাইটি ফর মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি(BSMLT) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট (BMLTA) এর নেতৃবৃন্দগণ দ্রুত তিনটি দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন:
১. অবিলম্বে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য পৃথক 'রেগুলেটরি কাউন্সিল' গঠন।
২. দেশব্যাপী গ্র্যাজুয়েট ও ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি।
৩. ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিনকে কেবল ল্যাব হিসেবে নয়, বরং প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কার্যকর করা।

​দেশের স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন আনতে ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

04/05/2026

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে স্থবিরতা: মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ঐক্য পরিষদ নিষ্ক্রিয়!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অভিযোগ, এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ঐক্য পরিষদ বর্তমানে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, যার ফলে আন্দোলন ও দাবি আদায়ের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

জানা যায়, নির্বাচন এর পূর্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এই ঐক্য পরিষদ সারাদেশে কর্মবিরতির মতো কর্মসূচি, আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি না থাকায় সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

পেশাজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে। তারা মনে করেন, দাবি আদায়ে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ঐক্য পরিষদকে পূর্বের মতো সক্রিয় হয়ে সুসংগঠিত কর্মসূচি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ পেশাজীবীদের প্রত্যাশা, ঐক্য পরিষদ পুনরায় সক্রিয় হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে এবং তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

বঞ্চিত গ্রাজুয়েট ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টগণ, ল্যাবে নেই কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারঢাকা, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক):...
24/04/2026

বঞ্চিত গ্রাজুয়েট ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টগণ, ল্যাবে নেই কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক):
দেশে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যেই স্বাস্থ্যখাতের এক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত অংশ—মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের বঞ্চনার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস উপলক্ষে ঢাকার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এর সামনে বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এ বিষয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পেশাজীবীরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যোসাইটি ফর মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি-এর আহ্বায়ক মোঃ সোহেল রানা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এখনো চলমান রয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন রোগীর সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি রিপোর্টের উপর নির্ভর করতে হয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত টেকনোলজিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত স্বীকৃতি ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যখাতে তাদের অবদান আড়ালে থেকে যায় এবং এর কৃতিত্ব অনেক সময় অন্যরা ভোগ করেন।
সমাবেশে আরও বলা হয়, দেশে এখনো মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টদের জন্য কোনো স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠিত হয়নি। ফলে পেশাজীবীদের নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার বিষয়গুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, যা স্বাস্থ্যসেবার মানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম সীমাবদ্ধতা। দেশে এমএসসি পর্যায়ের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় গ্রাজুয়েট টেকনোলজিস্টরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। একইসাথে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাজুয়েটদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ না থাকায় তারা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এছাড়া, অধিকাংশ ল্যাবরেটরিতে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের পদ না থাকায় পরীক্ষার মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে যেখানে নিয়মিত কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অপরিহার্য, সেখানে এই পদটির অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, সঠিক রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে হলে ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
সমাবেশ থেকে দ্রুত মেডিকেল ল্যাবরেটরি কাউন্সিল গঠন, গ্রাজুয়েট টেকনোলজিস্টদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি, এমএসসি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, সকল ল্যাবে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার নিয়োগ এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি, তথ্য চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরনিজস্ব প্রতিবেদক...
13/04/2026

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি, তথ্য চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি জারি করা এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সংশ্লিষ্ট পদধারীদের বিস্তারিত তথ্য দ্রুত প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি/রেডিওলজি/রেডিওথেরাপি/ফিজিওথেরাপি/ডেন্টাল/স্যানিটারি ইত্যাদি) এবং ফার্মাসিস্ট পদসমূহকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে পদভিত্তিক তথ্য—যেমন অনুমোদিত পদ, পূরণকৃত পদ, শূন্য পদসহ সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে আগামী ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা হিসেবে [email protected] উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ দাবির বাস্তবায়ন হলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন, স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ দাবি তুলে ধরা হলেও তা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের পথে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

11/04/2026

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা: নেতৃবৃন্দের নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন!
​নিজস্ব প্রতিবেদক:
​দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন। তবে এই যৌক্তিক দাবি আদায়ে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে ‘১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’ এবং সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই দুই পেশার কর্মীরা রোগ নির্ণয়, ল্যাব টেস্ট এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সম্পৃক্ত। চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্যের শিকার। উল্লেখ্য যে, ১৯৯০-এর দশক থেকেই তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক আশ্বাস এবং ফাইল চালাচালি হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ‘১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে জোরালো কর্মসূচির অভাব এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নেতাদের দৃঢ় অবস্থানের অনুপস্থিতিতে সাধারণ টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা হতাশ। সাধারণ কর্মীদের দাবি, যেখানে অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে থাকার কথা, সেখানে নেতৃবৃন্দের এই নিষ্ক্রিয়তা আন্দোলনের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
​একইভাবে, সরকার দলীয় পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের ভূমিকাও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাদের। কিন্তু তাদের এই নিরবতা সাধারণ কর্মীদের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ জনবলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা অপরিহার্য। ন্যায্য বেতন কাঠামো ও পদমর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনবে।

বঞ্চনার এই দীর্ঘ ইতিহাস আর বাড়তে দেওয়া সমীচীন হবে না। সময় এসেছে নীরবতা ভেঙে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার। দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন, কার্যকর রোডম্যাপ ঘোষণা এবং বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পেশাজীবীরা। অন্যথায়, স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরে অসন্তোষ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

05/04/2026

নিয়োগের আগে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি—স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিতে পিএসসির অধীনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চান মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা

সংবাদ প্রতিবেদন
দেশের সরকারি স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা নতুন করে জোরালো দাবি তুলেছেন—নতুন নিয়োগের আগে অবশ্যই ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে।
পেশাজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য ডিপ্লোমাধারী পেশাজীবীদের তুলনায় বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, নার্স ও কৃষিবিদরা ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, সেখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনো ১১তম গ্রেডেই রয়ে গেছেন।

নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এ দাবি জোরদার করছেন। আন্দোলনকারীরা জানান, বহুবার মন্ত্রণালয়ে আবেদন, স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রশাসনিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

তাদের যুক্তি, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের আগে নতুন নিয়োগ দিলে বর্তমান বৈষম্য আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, যদি ১০ম গ্রেড নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)-এর অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা কমে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট বলেন, “আমরা চাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হলে স্বচ্ছতা থাকবে, কারো প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।”
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ নিয়ে কাজ করছে। তবে এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রশাসনিক বিষয় হওয়ায় কিছু সময় লাগছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পেশার বেতন কাঠামো ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হতে পারে।

এ অবস্থায় সাধারণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—“প্রথমে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন, তারপর নতুন নিয়োগ”—এই নীতিই এখন তাদের মূল দাবি

04/04/2026

১০ম গ্রেড বাস্তবায়নে স্থবিরতা: পেশাজীবী সংগঠন ও ক্ষমতাসীন নেতাদের উদাসীনতায় হতাশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের। তবে নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের পরও এ দাবি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং ক্ষমতাসীন ঘনিষ্ঠ পেশাজীবী নেতাদের উদাসীনতাই এই অচলাবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ।
স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া এ দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতিবাচক নির্দেশনা এলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়ে থমকে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনগুলোর কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠনগুলো বিভক্ত ও নেতৃত্বে মতবিরোধ প্রকট। ফলে দাবি আদায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ কিছু পেশাজীবী নেতা বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা না রাখায় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

একাধিক ভুক্তভোগী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জানান, “আমরা রোগ নির্ণয়ে সরাসরি কাজ করি, তবুও আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। ১০ম গ্রেড আমাদের ন্যায্য অধিকার, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কেউ আন্তরিক নয়।”

ফার্মাসিস্টদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম হলেও প্রশাসনিক অবহেলার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সমস্যা সমাধানে প্রথমেই দরকার শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ পেশাজীবী প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই দীর্ঘসূত্রিতা কাটানো সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হলে এ পেশার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, সরকারের উচ্চপর্যায় এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এ বৈষম্যের অবসান ঘটাবে।

02/04/2026

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন নিয়ে কেন এত তালবাহানা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
​দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘ দিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি চাকরিতে ১০ম গ্রেড (দ্বিতীয় শ্রেণি) মর্যাদার দাবি দীর্ঘ দুই দশকের হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর অদৃশ্য 'তালবাহানায়' থমকে আছে এর বাস্তবায়ন। অন্তর্বর্তী সরকারের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তার উদাসীনতায় এই সংকট কাটছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​বৈষম্যের মূল চিত্র:
​বর্তমানে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বা ফার্মাসিস্ট ১১তম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশ করেন। অথচ সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নার্সরা ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন এক দশক আগেই। এমনকি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাও দীর্ঘ দিন ধরে ১০ম গ্রেড ভোগ করছেন। স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ জনবল একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কেন নিচে পড়ে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

​কেন এই স্থবিরতা?
​সংশ্লিষ্টদের মতে, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা মূলত তিনটি:
​নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কথা বলা হলেও তা ফাইলবন্দি হয়ে আছে।
​আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে গ্রেড পরিবর্তনের ফাইলটি বারবার টেবিলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
​পেশাজীবী রাজনীতির বলি: অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠী চায় না টেকনোলজিস্টরা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা পাক, কারণ এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তাদের প্রশাসনিক প্রভাব বাড়বে।

​আন্দোলন ও চরম অসন্তোষ
​১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন এবং বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর নতুন করে এই দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারী নেতাদের ভাষ্যমতে:
​"আমরা ল্যাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি, রোগ নির্ণয় করি। অথচ আমাদের মূল্যায়ন করা হয় তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে। এই অপমান আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।"

​সেবার ওপর প্রভাব
​এই দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রভাব পড়ছে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর। দক্ষ জনবলের অভাব এবং বর্তমান কর্মীদের মধ্যে হতাশার কারণে সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি ও ফার্মাসি বিভাগগুলো ধুঁকছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় রোগীরা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হচ্ছেন।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে তারা অপরাগতা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এই মৌলিক দাবি উপেক্ষা করা হলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বৈষম্য দূর করে দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

01/04/2026

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ‘ডিপস্টেট’ এর হস্তক্ষেপে ৩১ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড
প্রকাশের তারিখ: ০১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি—১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন—দীর্ঘ ৩১ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কার্যকর হয়নি। ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দাবি আজও বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের (ডিপস্টেট) হস্তক্ষেপে আটকে রয়েছে।
একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য সমমানের পেশাজীবীরা ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এখনও ১১তম গ্রেডে অবস্থান করছেন, যা একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য।
বিগত তিন দশকে একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হলেও তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বারবার স্থবির হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কমিটি গঠন, সুপারিশ প্রদান এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি আজও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।
২০২৫ সালে বিষয়টি নতুন করে গতি পেলেও এবং ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুনরায় থেমে যায়। এতে পেশাজীবীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ল্যাবরেটরি ডায়াগনোসিস, ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও রোগীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের এই ন্যায্য দাবির দীর্ঘসূত্রিতা স্বাস্থ্যখাতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
“১০ম গ্রেড কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের ন্যায্য অধিকার। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে আমরা এই দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”

31/03/2026

আইএইচটি কোর্সে ভর্তি স্থগিত, শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)-এর বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন আইএইচটি, মহাখালী, ঢাকা।
অফিস আদেশে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং) কোর্সে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্ধারিত রোল নম্বরধারীরা ভর্তি ফি জমা দিলেও পরবর্তীতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ডিপ্লোমা কোর্স সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। ফলে চলমান ভর্তি কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পূর্বে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা কোর্সসমূহ বাতিল ঘোষণা করেছে। একইসাথে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আইএইচটি শিক্ষার্থীরা উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োগের দাবি তুলেছে।
এ অবস্থায় ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত চালু করে তাদের শিক্ষাজীবনের স্থবিরতা দূর করা হোক। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

31/03/2026

দুই দশকের সুপারিশ, সাম্প্রতিক আশ্বাস—তবুও বাস্তবায়ন হয়নি ১০ম গ্রেড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি দীর্ঘ দুই দশকেও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হলেও তা আজও কার্যকর হয়নি।
সম্প্রতি প্রাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অফিসিয়াল নথি অনুযায়ী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট পদসমূহকে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চাহিদার প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা সম্প্রতি দেশব্যাপী আন্দোলনে নামেন। কর্মবিরতি ও বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়।
সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত পেশাজীবীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরে যান। কিন্তু আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে পুনরায় হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
পেশাজীবীদের মতে, “একদিকে ২০০৪ সালের প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সরকারি আশ্বাস এবং মন্ত্রণালয়ের নথিতে প্রস্তাব থাকার পরও বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।” তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত না হলে সেবার মান ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিগত ২০ বছরের সুপারিশ, সাম্প্রতিক আন্দোলন, সরকারি আশ্বাস এবং প্রশাসনিক নথিপত্র—সবকিছু মিলিয়েও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়া এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের।

Address

সাতক্ষীরা
Khulna
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Health NewsBd24 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Health NewsBd24:

Share