01/10/2025
এখানে এখোনো জীবন বহমান।
একজন এভারেজ কুয়েটিয়ানদের দিকে যদি লক্ষ্য করেন, খুব একটা বিশেষ কিছু আপনি দেখবেন না। নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব, ভাইবা, এক্সাম, প্রজেক্ট এগুলোকে যোগ করলে যে যোগফলটা হবে সেটাই। কুয়েট ক্যাম্পাসের দিকেও যদি লক্ষ্য করেন, কিছু ভবন, একটা খেলার মাঠ, দুটো ভাস্কর্য, কয়েকটা পুকুর। ব্যাস। মোটামুটি বিশেষত্ত্বহীন।
কিন্তু কিন্তু কিন্তু,
এই কাটখোট্টা, বিশেষত্ত্বহীন, জড় ক্যাম্পাস, ক্যাম্পাসে বসবাস করা জীবগুলোর চোখে স্বপ্ন আছে, প্রত্যাশা আছে।
তাইতো প্রায় প্রতি বৃহস্পতিবার দেখবেন মুক্তমঞ্চ ডানা মেলা চিলের মতো উড়ছে। ভৈরব পাড় কল্লোলিত হচ্ছে হাসিতে। ফুলবাড়ী থেকে সিএনজি ছুটছে আব্বাসের হোটেল কিংবা 4-Cheez এ। সেন্ট্রাল ফিল্ড থেকে ভেসে আসছে উদ্দাম উল্লাস। জুমুআর আজানের সাথে সাথে সেন্ট্রাল মসজিদ কানায় কানায় ভরে যাচ্ছে। অডিটরিয়াম সাক্ষ্য দিচ্ছে ন্যাশনাল- ইন্টারন্যাশন্যাল কম্পিটিশন এর। মেকা ওয়ার্কশপ তাকিয়ে আছে ফর্মূলা রেসিং ট্রাকের দিকে। ক্যাফেটেরিয়ায় টেবিল গুলো SWOT,KPI Analysis কিংবা Bitmasking, Backtracking করছে। মারকাজ মসজিদের সামনে থামছে চিরচেনা সাদা-মেরুন বাস। কোনো একটা হলে বিয়ে বাড়ির মতোই লাইটিং করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ফিল্ডের এক কোনায় কারা যেনো তাবুসদৃশ মরিচবাতি জ্বালিয়েছে। সামান্য উৎসবেই শাড়ি পড়ার উপলক্ষ খুঁজছে এক যুবতী। কিঞ্চিৎ সংশয় নিয়ে তার জন্য রোকেয়ার মোড়ে অপেক্ষা করছে একজন। পকেট গেট থেকে চায়ের মিষ্টি গন্ধ আসছে। ডাকাতিয়া বিলে ছোট্ট একটা ডিঙিতে সাঁতার না জানা চারজন জীবন উপভোগ করছে।
এরপরও কী বলবে কুয়েট রঙশুন্য? তবে যেনে রেখো, গল্পটা শেষ। আমরা নেই কোথাও কখেনো।