27/10/2025
#প্রেম_গপ্পো
শিরোনাম দেখে চমকে গেলেন? ভাবলেন চটকদার কোনো রসালো কষালো প্রেমের গল্প লিখতে বসেছি?
এখানেই থামুন তাহলে!
এই গল্প আপনার জন্য নয়,কারণ এটা কোনো গল্পই নয়।
আমার কিছু উপলব্ধি আর ধারণা থেকে লেখা কিছু কথা।
প্রেম এর শাব্দিক অর্থ কী? আর আভিধানিক অর্থ কী?
ভালোবাসা? ভালোলাগা? ভালো চাওয়া?
এটা বয়সের সাথে সাথে বদলায়।
খুব ছোটো বেলায় যারা প্রেম ভালোবাসা কিছু বোঝেও না,তাদেরও সমবয়সী কাউকে না কাউকে ভালো লেগে যায়,কার্টুন ক্যারাক্টারকে ভালো লেগে যায়,একশন হিরোকে ভালো লেগে যায়,ওদেরকে বিয়ে করতে ইচ্ছে করে।
এটা সম্পুর্ণ ভালো লাগা,অনেকে আবার এইটা ভেবে কাউকে পছন্দ করে ওর সাথে বিয়ে হলে খেলতে পারবো একসাথে খেলনা ভাগাভাগি করে।
টিনেজার দের প্রেম কেমন?
কোনো মেয়ে একটু বেশি গোছানো, পরিপাটি,কোনো ছেলে একটু বেশি স্টাইলিশ,কেউ একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারে,কেউ একটু এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিস এ এক্সপার্ট।
এগুলো দেখে একে অপরের প্রেমে পড়ে।
পড়াশোনায় ভালো হলে টপার হলে চেহারা, স্টাইল কিছুই দেখেনা,এমনিই ভালোলাগে সেই ছেলে বা মেয়েকে।
না হলে ওই পাংকু ছেলেমেয়েদেরই পছন্দ করে সবাই।
কিন্তু যে ছেলেটা কোনোরকম ময়লা একটা শার্ট গায়ে স্কুলে আসছে,ময়লা ছেড়া জুতো স্যান্ডেল।
যে মেয়েটা দেখতে পরিপাটি নয়,স্মার্ট ভাবে চলতে জানেনা।
তার দিকে কেউ তাকাবে না।
এই সময়ের প্রেমের গল্পের টপিক থাকে কে কতটা স্মার্ট, কে কত কি জানে,কে কোন ব্রান্ডের প্রোডাক্ট ইউজ করে।
কে কাকে কতটা ভুলিয়ে ভালিয়ে পটাতে পারে সেই চেষ্টা চলে।
ভালো একটা কলম,ভালো কিছু বই উপহার এর মাধ্যমেই প্রেম জমে ওঠে।
এই প্রেম আবার বড় হলে কলেজে উঠলে অন্যরুপ নেয়।
তখন কার বাইক আছে,কার ভালো ফোন আছে,কার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন।কার পলিটিক্যাল পাওয়ার কেমন।কেউ ডিস্টার্ব করলে বয়ফ্রেন্ড প্রোটেক্ট করতে পারবে নাকি,ফ্যামিলি কোন দল করে,রিলেশনে গেলে কে কত দামী গিফট দিতে পারবে। কলেজে উঠলে আবার এগুলো একটু বুঝতে শুরু করে।তারপর ও কেউ কেউ কিছু না ভেবে শুধু একটু ভালো লাগে বলেই একজন একজনের পিছনে পরে থাকে।বিয়ে হবে কি হবেনা এর কোনো দিক ঠিক নাই।কোনোকিছুর পরিনতি হিসাব করেনা।পরিনতি খারাপই হয় এগুলোর বেশিরভাগ।
গ্রাজুয়েশন টাইমে আবার প্রেমের ধরণ আলাদা।
এই সময় মানুষ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে। কার সাথে রিলেশন হলে কি পরিনতি হতে পারে এগুলো নিয়ে ভাবে।
যাকে তাকে ভালো লাগেনা।ভালো লাগে সাধারণ মধ্যে অসাধারণ কাউকে,যার মুখের কথায় শান্তি হয়,ক্লান্তি দূর হয়,চোখের পাতায় ভেসে ওঠে অজান্তেই যার মুখ।যাকে সবকিছু বলা যায়।যে ভালো বন্ধু হতে পারে।
স্ট্রাগল করে উঠে আসা ছেলেটাকেও ভালো লেগে যেতে পারে একটা স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ের। আবার একটা সাধারণ মেয়েকেও একটা উচ্চবিত্ত ছেলের পছন্দ হয়ে যেতে পারে।
এই বয়সে চেহারা,স্মার্টনেস টা খুব একটা গুরুত্ব পায়না।
মানুষ টাকে ভরসা করা যাবে কি যাবে না,এগুলো নিয়ে ভাবে। নিজের কথা গুলো বলার মতো মানুষ খোজে।মাথা গোজার ঠাই খোজে।একসাথে জীবনযুদ্ধ করার কথা ভাবে।
সংসার গোছানোর কথা ভাবে।
এখানে গুরুত্ব পায় শুধুমাত্র কমিটমেন্ট।
যদি কেউ ওয়াদা ভংগ করতেও চায়,সুন্দরভাবে সমাধান করে বিষয় টা।ভালোবাসার জোরের চেয়ে ভাগ্যকে বিশ্বাস করে বেশি।
ভাগ্য মেনে নেয়। ম্যাচুরিটি দেখায়।
তারপরের জীবন,একটা ক্যারিয়ারে সেটেল্ড হওয়ার পর, নিজের সমাজ সামাজিকতার সাথে যায়,এরকম একটা মানুষ পাইলেই হলো,এক ছাদের নিচে থাকার মতো পরিবারের সাথে এডজাস্ট হওয়া একটা মানুষ চাই,ব্যাস! বিয়ে শাদি করে সংসারী।
তারপর এর জীবন হলো ৪৫/৫০ বছর বয়সের পর থেকে শুরু হয়, মহিলা দের ও পুরুষ মানুষ হয়ে ওঠে দুচোখের বিষ,পুরুষদের ও মহিলা মানুষ হয়ে ওঠে দুচোখের বিষ। তবুও কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারেনা।
তাও মানুষ সংসার করে ওভাবেই।
প্রেমের এই সবগুলো ধাপ স্বাভাবিক, সুন্দর।
কিন্তু বর্তমান শিশু,টিনেজার,যুবক,তরুণ,যুবক,বৃদ্ধ সকলের মধ্যে প্রেমের যে ধরণ প্রকাশ পাচ্ছে,তা মোটেই স্বাভাবিক না।
একটা শিশুর প্রেম টিনেজারের মতো হতে পারেনা,একটা কিশোরের প্রেম তরুণের মতো হতে পারে না।
সবকিছুর একটা বয়স থাকে,সব বয়সের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। সবকিছুর জন্য একটা বয়স আছে।
প্যারেন্টিং এ সমস্যা , সোশ্যাল মিডিয়ায় খারাপ জিনিস গুলো বেশি ভাইরাল হওয়ার জন্য মানুষ আরও খারাপ কাজ বেশি করছে।
এতে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে শিশু কিশোর রা যা এক কঠিন অসুস্থ প্রজন্ম তৈরি করছে।
নিজের সন্তানের দিকে খেয়াল করুন,তার বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। ভয় দেখিয়ে শাসন করতে গেলে সন্তান হাতের বাইরে চলে যাবে। কি করছে না করছে গোপন করবে। সতর্ক হয়ে যাবে।ভালোবেসে বাচ্চার বন্ধু হোন।
বাচ্চা ধীরে ধীরে বড় হোক,একবারে বড় হওয়ার দরকার নেই।
#হিজিবিজি