02/09/2025
🍲 শিরোনাম: “শেষ চুমুকের গল্প”
রাতের অন্ধকার ঘন, রাস্তার বাতি কেবল ফ্লিকার করছে। সোহেল তার ছোট্ট রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আছে, হাতের কাছে শুধু কিছু সিম্পল উপকরণ — ডাল, ভাত আর একটুখানি সবজি। তার মা নেই অনেকদিন, বাবা অনেক আগে চলে গেছেন। আজ সোহেল একা।
কিন্তু আজ তার জন্য বিশেষ দিন। কারণ ছোটবেলার সেই স্বপ্নটি পূরণ করতে চায় সে — নিজের হাতের রান্না দিয়ে কারো মুখে হাসি ফোটানো। দোকানের বাইরে ঠান্ডা হাওয়া বইছে, কিন্তু সোহেলের ভেতর একটা অদ্ভুত গরম।
সে ভেজে দিল ডালের সস, কেটে নিল সবজি, আর ভাপালো ভাত। হঠাৎ মনে হলো, মা যদি দেখতেন, তিনি নিশ্চয় গর্বিত হতেন। কিন্তু শুধু এই অনুভূতিটাই যথেষ্ট, সে বলল নিজেকে।
যখন ভাত টেবিলে সাজানো হলো, তার মোবাইলে একটা বার্তা এলো। “আমি আসব, আজ রাতে। তুমিই আমায় ডিনার করাবে, তাই না?” — এটি তার প্রাক্তন বান্ধবী আয়েশা। মনে হলো যেন পৃথিবীর সব সুখ একসাথে মিলেছে।
সোহেল খাবার পরিবেশন করল, আয়েশা খেতে শুরু করল। মুহূর্তের মধ্যে তার চোখে পানি। ডাল, ভাত, সবজির স্বাদ নয়, তার মধ্যে ছিল সোহেলের সমস্ত ভালোবাসা, তার কষ্টের গল্প।
খাবার শেষ হওয়ার পর আয়েশা ধীরে ধীরে বলল, “সোহেল, আমি জানতাম না তুমি এত সুন্দরভাবে অনুভূতিকে পাতে ঢেলে দিতে পারবে। কিন্তু আমি আর থাকতে পারব না… আমাকে চাকরি বিদেশে যেতে হবে।”
সোহেলর হাত কাঁপতে লাগল, চোখে পানি। সব স্বপ্ন, সব হাসি, সব খাবারের স্বাদ মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
তারপরও সে দাঁড়িয়ে থাকল, টেবিলে থাকা শেষ চুমুকের প্লেটটা তাকিয়ে, যা শুধু খাবারের স্বাদ নয়, জীবনের স্বাদও দিয়েছিল।
💔 শিখন: কখনো কখনো, রান্না শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়; এটি ভালোবাসা, স্মৃতি, এবং হারানোর ব্যথার গল্পও বয়ান করে।