07/09/2026
বিষয়টা আসলে খুবই এলার্মিং।
গতকাল লিফটে উঠলাম। লিফটে থাকা প্রায় সবাই যার যার ফোন নিয়ে ব্যস্ত। আমি নিজেও মোবাইল হাতে নিয়ে ছিলাম।
লিফটে তো এম্নিতেই কোনো শব্দ করা যায় না। জোরে শ্বাস নিলেও ওকয়ার্ড লাগে। এমন সময় আমাদের মাঝে এক ভাই হঠাৎ কথা বলে উঠছেন।
“দেখেন, এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো আমাদের জীবন থেকে কত মূল্যবান সময় নিয়ে নিচ্ছে!”
কথাটা শুনে সবাই একটু লজ্জাই পেল বোধহয়। সবাই যার যার মোবাইলের পাওয়ার বাটন চেপে স্ক্রিন অফ করে দেয়, সাথে আমিও।
এরপর ঐ ভাই বলতেছে, “আমরা এখন উপরে উঠছি। এই কয়েক সেকেন্ডে আমাদের কী করার কথা ছিল? উপরে ওঠার দোয়া পড়ার কথা ছিল, আল্লাহকে স্মরণ করার কথা ছিল। অথচ আমরা কী করছি? each and everyone ফোন চাপছি!”
“আমরা তো একটা যন্ত্রের ভেতরে আছি। এই লিফট যেকোনো সময় নষ্ট হতে পারে, যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে। অথচ সেই মুহূর্তেও আমরা ইস্তেগফার না করে মোবাইল চালিয়েই যাচ্ছি!”
কথাগুলো শুনে গোড়ার মত যে এরিয়ে যাব, সেটাও করতে পারলাম না। সত্যিই তো…
এই ছোট্ট একটা যন্ত্র আমাদের জীবনের কতটা সময় চুপচাপ কেড়ে নিচ্ছে, আমরা হয়তো হিসাবই রাখি না।
লিফটে কয়েক সেকেন্ড।
রাস্তায় কয়েক মিনিট।
খাওয়ার সময় কয়েক মিনিট।
ঘুমানোর আগে আধা ঘণ্টা।
ঘুম থেকে উঠেই আবার ৩০ মিনিট।
এভাবে কয়েক সেকেন্ড, কয়েক মিনিট করে আমাদের জীবনের কত মূল্যবান সময় যে স্ক্রিনের পেছনে চলে যাচ্ছে, আমরা বুঝতেই পারছি না।
মানুষের নাকি জান্নাতে যাওয়ার পর কোনো কিছুর কমতি থাকবে না। কিন্তু তবুও তারা একটা বিষয় নিয়ে আফসোস করবে, দুনিয়ার এই অল্প সময়টাতে তারা কেন ঐসব মুহুর্তে আল্লাহর জিকির না করে আজেবাজে জাগায় সময় অপচয় করে নষ্ট করছে!
ভাবা যায় জান্নাতে গিয়ে এই আফসোস? মানে কতই না বড় আফসোস হবে এটা।
প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে কিন্তু আমরা তাও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলাম না।
আল্লাহ আমাদের সময়ের মূল্য বোঝার এবং সময়কে সঠিক কাজে ব্যবহার করার তাওফিক দিন। আমিন।
#ফিট_উম্মাহ