12/12/2025
যা জানা গেল ওসমান হাদির চিকিৎসা নিয়ে - ১০ পয়েন্টে সার্মর্ম by Dr. Raiiq Ridwan
১। রিক্সায় থাকা কালে পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে বসা এক জনের গুলিবিদ্ধ হয়। গুলির ট্র্যাজেক্টরি (trajectory) এমন ছিল যে যদিও কানের পাশে লেগেছিল, এটা মাথায় ও আঘাত করেছিল যেহেতু উপরের দিকে নিসানা (কারন রিক্সা উঁচু মোটোর তুলনায়)
২৷ এটা ব্রেইনে আঘাত করেছে এটার মেইন লক্ষন ছিল যে খুব এক্সেস ব্লাড লস না হয়েও (ভিডিওতে যা দেখলাম) সে বেহুঁশ হয়ে যায়৷ গুলিতে মারাত্মক ব্যাথা হওয়ার কথা, এই ব্যাথায় ও রেস্পন্স নাই মানে তখনই তার GCS 3 হয়ে যাহ। অনেকে এটাকে ব্রেইন ডেথ বলে দিচ্ছিল কিন্তু এটা ঠিক না - একিউট ব্রেইন ইঞ্জুরিতে মাঝে মাঝে GCS 3 হয়, pupils dilated হতে পারে। এটা বরং একটা সাইন যে ব্রেইনে আঘাত হয়েছে এবং ভিতরে প্রেশার বেড়ে গিয়েছে- হয়ত বুলেটের কারনে অথবা ব্লিডিং এর কারনে।
৩। সিটি স্ক্যানের ছবি সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে সাইডের টেম্পোরাল লোব (যেটা কথা বলা, বুঝা, স্মৃতিশক্তি এগুলার কাজ করে) এই অংশে ইঞ্জুরি দেখায় যায়। অপরদিকে অনেক ফ্র্যাগমেন্ট দেখা যায় ব্রেইনস্টেমে (যেটা শরিরের নিশ্বাস নেয়া, হার্ট চালানো সহ গুরুত্বপুর্ন অনেক কাজ করে)। ফ্র্যাগমেন্ট গুলো দেখে প্রথমে মনে করেছিল অনেকে (আমিও) যে বুলেট হয়ত ব্রেইনস্টেমে। অপারেশানের পর বুঝা গেল এগুলা হাড্ডি গুরা হওয়া ও বুলেটের ফ্র্যাগমেন্ট হতে পারে কিন্তু বুলেট মাথায় নাই
৪। অপারেশানের মেইন কাজ এই সময় হলো যে ডিকমপ্রেস করে প্রেশার কমানো। এটা করতে তার মাথার সাইডের একটা হাড় তুলে নেয়া হয়েছে (hemocraniectomy) যাতে প্রেশার রিলিজ করার জায়গা থাকে। তাছাড়া ব্লিডিং ও কন্ট্রোলে এনেছে বলে উল্লেখ করেছে সার্জানরা। প্রেশার কমালে ব্রেইনস্টেম, টেম্পরাল লোব এগুলা রিকাভার করার জায়গা তৈরি হয়।
৫। ব্রেইনস্টেম যেহেতু নিশ্বাস কন্ট্রোল করে ও হার্ট কন্ট্রোল করে তাই একটা গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হলো দেখা যে সে নিজে নিজে নিশ্বাস নিতে পারছে কিনা। এনেস্থেটিস্ট (বা আমেরিকান ভাষায় এনেস্থিসিওলজিস্ট) এই ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছে যে তার নিজ থেকে নিশ্বাস নেয়ার এফোর্ট দেখেছে, তার মানে ভেন্টিলেটার ছাড়াও তার নিশ্বাস নেয়ার ক্যাপাবিলিটি আছে - এটা প্রাথমিকভাবে বলা যায়।
৬। কিন্তু এখানে আরো অনেক কিছুই মনে রাখতে হবে। ব্রেইনের এমন সিরিয়াস জায়গায় ইঞ্জুরি থেকে বেঁচে আসার চান্স কম। তার উপর কোন ডিস্যাবিলিটি ছাড়া ফিরে আসা একেবারেই বিরল। কিন্তু আমরা দোয়া অবশ্যই করতে পারি। সাধারনত প্রথমে এই damage control surgery করার পর ৪৮-৭২ ঘন্টা ইন্টেন্সিভ কেয়ারে রাখা হয়, মাঝে মাঝেই তার কনশাস লেভেল টেস্ট করা হয় এবং এক পর্যায়ে গিয়ে তার ব্রেইনস্টেম রিফ্লেক্স টেস্ট করে দেখে যে ব্রেইনস্টেম কাজ করছে কিনা। তার আগ পর্যন্ত কেউ ব্রেইন ডেথ বললে এটা ভুল হবে।
৭। ব্রেইন ছাড়াও এমন নোংরা বুলেট ও অপারেশান, আইসিইউ, হাসপাতাল সংক্রান্ত ইনফেকশান বওয়ার ঝুঁকিও থাকে - উন্নত দেশেই হয়, বাংলাদেশে তো বলাই বাহুল্য।
৮। দুপুরে দ্রুততম সময়ে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পালস চলে যায় (কার্ডিয়াক আরেস্ট যার মানে হার্ট কাজ করা বন্ধ করে দেয়)। এর পর তাকে সিপিআর ও দেয়া লেগেছে বলে শুনেছি। দ্রুততম সময়ে তাকে ইন্টিউবেট (শ্বাসনালিতে নল দিয়ে) করে ভেন্টিলেটারে দাওয়া হয়। একবার এমন কার্ডিয়াক এরেস্ট হলে ফিরিয়ে আনার চান্স আরো কমে যায়। অপারেশান কালিন ও দুইবার এরেস্ট হয়েছে বলেও শোনা যায়। তাছাড়া তার লাংসেও একটা ইঞ্জুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়ে যার কারনে তাকে চেস্ট টিউব দেয়া হয় - এটা ফুসফুসের বাইরে ব্লাড বা বাতাস আটকে থাকলে সেটা বের করার জন্যে দেয়া হয়। দেয়াতে ফুসফুস কল্যাপ্স করলে আবার ভরার সুযোগ পায়।
৯। কিন্তু তাও, দোয়া বলতে আমাদের শেষ এক অস্ত্র সব সময়ই থাকে। আগামি ৪৮-৭২ ঘন্টা খুবি ক্রুশাল। এই সময় অনেক কিছুই হতে পারে। ডাক্তাররাও এ নিয়ে নিশ্চই নিয়মিত আপডেট দিবে।
১০। বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গ অনেকে তুলেছেন। যদি দেখা যায় ৭২ ঘন্টার পর যে ব্রেইনস্টেম ফাংশান আছে, নিজে নিজে নিশ্বাস কন্ট্রোল করতে পারছে ও তার মিনিমাম কনশান লেভেল আছে, তাহলে স্ট্যাবল হলে বিদেশ নাওয়ার কথা চিন্তা করা যেতে পারে রিহ্যাবিলিটেশানের জন্যে। এই আনস্টেবল অবস্থায় মুভ করা অনেক রিস্কি।
পাবলিকল এভেইলেবল ইনফরমেশান এর উপর ভিত্তি করে লিখা হয়েছে সর্বসাধারনের কাছে মেডিকেলিয় ভাষা বুঝানোর জন্যে। ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।