27/08/2025
ঝিনাইদহের তত্বীপুরে বেড়াতে গিয়ে যেন প্রকৃতির সাথে প্রেমে পড়ে গেলাম। শীতকালীন সেই যাত্রা ছিল এক অপূর্ব অনুভূতি। ট্রেনে বসে যশোরের প্রান্তরের সৌন্দর্য চোখ ভরিয়ে দেখছিলাম—খোলা মাঠ, দিগন্ত ছোঁয়া তেপান্তর, সোনালি ফসলের ক্ষেত, সবুজ গাছপালা, মাঠে ঘুরে বেড়ানো গরুর পাল আর দৌড়ঝাঁপ করা ঘোড়া—সব মিলিয়ে যেন আঁকা ছবির মতো লাগছিল।
যে আত্মীয় বাড়িতে উঠলাম, সেখান থেকে তাকালেই চোখে পড়ত এক মরা নদী, যার বুক জুড়ে শীতের ফসলের চাষ। নদীর ওপারে বিস্তীর্ণ মাঠ—ভুট্টা, গম, শীতকালীন নানা সবজি আর সারি সারি খেজুরগাছ। নদীর উপর বাঁশের সেতু যেন গ্রামীণ জীবনের নিঃশব্দ সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তুলেছিল।
পাঁচটি দিন ছিলাম সেখানে। প্রতিটি সকাল শুরু হতো ভোরের কুয়াশা মাখা নদীর পাড়ে হেঁটে বেড়ানোর মধ্যে দিয়ে। সবুজ জমি, শিশিরভেজা ফসল আর গ্রামের শান্ত নীরবতা মন ভরে নিত। দুপুর হলে মরা নদীর হাঁটু-জলেই সঙ্গীদের সাথে খেলাধুলা আর গোসল—সে আনন্দ যেন শহরের কোলাহলে খুঁজে পাওয়া দায়।
রাত নামলে শুরু হতো অন্য রকম রোমাঞ্চ। ছোট্ট খেজুরগাছের পাশে পাটকাঠি হাতে নিয়ে গোপনে রস চুরি করার মজা ছিল অবর্ণনীয়। সামান্য আলো দেখলেই যেন বুক ধড়ফড় করে উঠত, আর বন্ধুরা একসাথে দৌড়ে লুকাত।
আহা, কত সহজ-সরল, কত নির্মল আনন্দ! প্রকৃতির এই টান আজও হৃদয় থেকে যায়নি। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি ঐখানে কয়েক বিঘা জমি কিনে একটি ছোট্ট বাড়ি বানাতে পারতাম—তাহলে হয়তো প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের সাথে প্রতিদিনই মিশে যেত আমার জীবন।
স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে দিনগুলো 🖤
Raj Mohammad Gazi
Raj's Canvas of Life