03/06/2025
ওদের ক্লাস যেখানে হয় সেখানে দু-একবার ঘুরঘুর করতেই মিলিকে করিডরে দেখতে পাওয়া যায়। কী আশ্চর্য, মেয়েটা তার চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আজাদের বুক কাঁপতে থাকে।
’কেমন আছেন?’ আজাদ গলায় যথাসম্ভব জোর এনে বলে।
মিলি চোখ তুলে তাকায়। বাংলায় তার সঙ্গে কথা বলে কে রে? আরে, এ তো সেদিনের ছেলেটা। বাহ্। আজকে তো আরো চমৎকার পোশাক পরে এসেছে! মিলি মনে মনে তারিফ করে।
’ভালো। আপনি ভালো?’ মিলি বলে।
’আছি। আপনার আরো ক্লাস আছে?’
’না। ক্লাস শেষ। বাসায় চলে যাবো।’
’বাসাটা কোন দিকে যেন?’
’পিইসিএইচ। আমার খালার বাসা। ওদের সঙ্গে থাকি আমি।’
’আরে, ওদিকে তো আমিও যাবো! ওখানে আমার এক বোনের দেবর থাকেন।’
’চলেন তাহলে। আমি একটা বাস ধরব।’
’আমিও।’
বাসস্টপেজে দুজন গিয়ে দাঁড়ায়। আজ রোদটা ভীষণ চড়া। মিলি বলে, ‘আমি যদি ছাতা বের করি, আপনি মাইন্ড করবেন না তো?’
’না। মাইন্ড করব ক্যান! রোদ লেগে আপনার রং ময়লা হলে তো জাতীয় ক্ষতি।’
’মানে?’
’মানে বাঙালি মেয়ে তো এখানে বেশি নাই। আপনি আছেন। আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগলে আমরা সব বাঙালি ছেলেই সেটা নিয়ে গর্ব করতে পারি। আপনার রং যদি একটু রোদে পুড়ে যায়, তাহলে সেটা আমাদের ন্যাশনাল লস না!’
’আপনি তো বেশ সুন্দর করে কথা বলেন। মেয়ে-পটানো কথা। কার কাছ থেকে শিখেছেন?’
’মনে হয় জন্মগত প্রতিভা।’ আজাদ হাসতে হাসতে বলে বটে, তবে তার এই প্রতিভাটার জন্যে সে তার জন্মদাতা পিতাকে কৃতিত্ব দিতে প্রস্তুত আছে।
দুজনে এক বাসে ওঠে। গল্প করতে করতে যায়। এক স্টপেজে নামে তারা। মিলি বলে, ‘আপনি কোন দিকে যাবেন?’
আজাদ বলে, ‘এই তো এই রাস্তা। সামনের দুটো লেন পরেই বাসাটা।’ আজাদ তাড়াতাড়ি করে যা হোক একটা কিছু বলে।
মিলি বলে, ‘ আমি তো যাব উল্টো পথে। আসবেন আজকে আমাদের বাসায়?’
মনে মনে আজাদ বলে, ‘যাব, একশবার যাব;’ মুখে বলে, ‘না, আজ না। আরেক দিন। আসি।’
তারপর সামনে গিয়ে একটা বাড়ির আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে, চুপিসারে তাকিয়ে থাকে মিলির চলে যাওয়ার দিকে, তার মনে হয়, প্রতিটা পদক্ষেপে মেয়েটা সমস্তটা পথকে ধন্য করে দিয়ে চলে যাচ্ছে, তার মনে হয়,ওই পথের ধুলোগুলোও কতটা ধন্য হয়ে যাচ্ছে তার পদস্পর্শ পেয়ে। মিলি অদৃশ্য হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সে উল্টো পথে হেঁটে আবার ফিরে যায় বাসস্টপেজে। কিসের বোন, আর কিসের দেবর?
মা
আনিসুল হক