09/12/2025
শীতের এক কোমল সকাল। চারপাশে হালকা কুয়াশার চাদর, যেন পৃথিবী একটু দেরি করে জেগে উঠতে চায়। মাঠের ধারে তালগাছের মাথায় সূর্যের প্রথম আলো লেগে চিকচিক করে ওঠে। দূরে কোথাও ভোরের পাখিরা ডেকে ওঠে—একটা টুপটাপ ছন্দ, ঘুম ভাঙার সুর।
ছোট্ট গ্রামের শেষ মাথায় থাকে অনি। আজ তার ঘুম ভেঙেছে একটু তাড়াতাড়ি। শীতের কুয়াশায় বাইরে কী যে রহস্য লুকিয়ে থাকে, তা দেখার জন্যই যেন তাকে টানে। সে নরম পায়ের চাপ ফেলে উঠোনে বের হয়ে দেখে—রাতে পোড়া আঁচের চুলা এখনও গরম। মা হয়তো একটু পরেই খেজুরের রস জ্বাল দেবেন, গুঁড়ো গুড় বানাবেন।
অনি হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় পাশের পুকুরঘাটে। কুয়াশার মধ্যে পানি যেন আয়না—অস্পষ্ট, তবু খুব শান্ত। হঠাৎ শীতের হাওয়া বয়ে গেলে তার গায়ে কাঁটা দেয়, কিন্তু সেই শিহরণটা ভালোই লাগে। সে হাত মুড়ি-চাপা দিয়ে নিঃশ্বাস ফেলে, আর দেখতে থাকে তার নিঃশ্বাসের ধোঁয়াটে সাদা মেঘ।
এদিকে গ্রামের পথ দিয়ে ভেসে আসে খেজুরের রস টানার হাঁড়ির মিষ্টি গন্ধ। এই গন্ধেই যেন শীতের সকালকে চেনা যায়—মিষ্টি, উষ্ণ, আর ঠিকঠাক একটা ঘরোয়া সুখে ভরা।
সূর্য উঠে যখন একটু উঁচুতে, অনি ঘরে ফেরে। মা তখন মাটির পাতিলে রস জ্বাল দিচ্ছেন। ধোঁয়া-ধোঁয়া রান্নাঘর, তার মধ্যেই মায়ের হাসিমাখা মুখ। অনি কাছে বসে সেই উষ্ণতায় হাত সেঁকে নেয়।
শীতের সকালটা এভাবেই একটু একটু করে ঘর আর মন গরম করে তোলে—কুয়াশার ঠান্ডা থেকে আগুনের উষ্ণতায়, নিঃশব্দ শান্তি থেকে ধোঁয়ায় মাখা জীবনের গানে।
এমন সকালগুলো, মনে থাকে সারাজীবন।