20/05/2026
❤️খান - এ-সবুর উপমহাদেশের কিংবদন্তি । তাকে নিয়ে আজাদ বার্তা সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. মাফতুন আহমেদের লিখিত ৪০০ পাতার প্রামাণ্য দলিল 👉"ইতিহাসের ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব খান- এ - সবুর " বইটি প্রকাশের আগে পরীক্ষামূলক আজ ২০ মে থেকে প্রচার করা হচ্ছে।
👉স্পর্শকাতর পরীক্ষামূলক কিছু কিছু কলাম প্রচার করা হবে। তার সম্পর্কে প্রকাশিত কলামে কোন ভুল ত্রুটি থাকলে বা কোন গুরুত্বপূর্ণ অজানা তথ্য জানা থাকলে আমাদেরকে অবহিত করবেন। আমরা খুশি হব। বইটি আরও সমৃদ্ধ হবে, আশা করি।
🌼অ্যাডমিন
👉সবুর খান জেলে, মুজিব কাঁদছে দু’নয়নে 👈
🛑অ্যাড . এম. মাফতুন আহমেদ
🌼সবুর সাহেব প্রকৃত অর্থে শুধু একজন রাজনীতিক ছিলেন না। জানতেন প্রচুর লেখাপড়া। রুটিন মাফিক করতেন ব্যাপক পড়াশুনা। তাঁর হাতে গড়া স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী স্নেহের শেখ মুজিবর রহমান। তাঁকে উদ্দেশ্য করে তিনি জেলখানা থেকে ১০ লাইনের হৃদয়স্পষী একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠির ভেতরে এমন হৃদয়গ্রাহী ভাষা ছিল যে,অঝোরে কেঁদে উঠেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তখন তার মলিন মুখ। উপস্থিত সবার সামনে তিনি বলছেন ‘সবুর ভাই’ চিঠি লিখেছেন। তিনি খান-এ-সবুরকে এতই শ্রদ্ধা করতেন যে,‘সবুর ভাই’ বলে সব সময় সম্বধন করতেন।
👉জীবন্ত সাক্ষী তোফায়েল আহমেদ। একজন প্রখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা। বারবার মন্ত্রীত্ব করেছেন। ’৭১-এ তাঁর মুক্তি সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। আজ মহুরুম। যার জীবনের যাত্রা শুরু রাজনীতির রঙ্গালয়ের মধ্য দিয়ে। সম্ভবত ১৯৯৬ সালের কথা। এ টি এন বাংলা স্যাটেলাইট টেলিভিশন। শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। তিনি ছিলেন মুখ্য আলোচক। আমি এই বইয়ের (লেখক) নিজে কানে শুনেছি।
লক্ষ লক্ষ শ্রোতা অনুষ্ঠানটি শুনেছেন। কারো মনে আছে। কারো মনে নেই। নেতা মুজিবের উদারতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে যেয়ে এক পর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ বলে ফেলেছিলেন,-“১৯৭৩ সালে খান-এ-সবুর জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন। সবুর সাহেব বাথরূম পড়ে আঘাত প্রাপ্ত হন। কারাগারে তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে একটি চিঠি লিখলেন। এডড্রেস করলেন।-“প্রিয় মুজিব,তুমি বাংলার প্রধানমন্ত্রী। বাংলার মানুষ তোমাকে সম্মান দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য! তোমার কারাগারে জীবন আমার আজ দূর্বিপাকে। আমি গুরুত্বতর অসুস্থ”।
সবুর সাহেবের চিঠি পেয়ে সাগরের মত হৃদয়বান এই মানুষটি’র চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে। হয়তবা মহানুভব নেতা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সবুর সাহেবের সাথে হাতেগড়া একজন মুসলিম লীগের ছাত্রনেতা হিসেবে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন। পাকিস্তান সৃষ্টির লক্ষে মুসলিম লীগের সেই আন্দোলন সংগ্রামের কথা তিনি ভুলতে পারেননি। শেখ মুজিব ডাকতেন ‘সবুর’ ভাই বলে। তিনি ভুলতে পারেননি ‘সবুর ভাইয়ের’অকৃত্রিম ভালবাসার কথা। জীবন সংগ্রামে ঋনের কথা।
তাই কাল বিলম্ব না করে সেদিনের বঙ্গবন্ধুর ২৯ বছর বয়সী রাজনৈতিক সচীব তোফায়েল আহমেদকে ইন্টারকমে ডাকলেন। বললেন,মি.তোফায়েল,সবুর ভাই কারগার থেকে চিঠি লিখেছেন। what is your recreation. তোফায়েল সাহেব তার প্রতিক্রিয়ায় সেদিন বলেছিলেন,‘মুজিব ভাই’আমার আবার recreation ? যেখানে আপনার চোখ থেকে অঝোরে অশ্রæ ঝরছে। সেখানে আমার কী বলার আছে? বঙ্গবন্ধু বললেন,সবুর ভাইকে অবিলম্বে জামিন দিয়ে খুলনায় পাঠানোর ব্যবস্থা কর”।
👉নাট্যকার,আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাঁর বইতে তোফায়েল আহমেদের এ সম্পর্কে বিশদ সাক্ষাতকার তুলে ধরেছেন। সবুর সাহেব সম্পর্কে শেখ মুজিব তোফায়েল আহমেদ কি বলেছেন? হুবহু পাঠকের দরবারে তুলে ধরা হলো।
“তো.আ.: তার যারা (মুজিব) সিনিয়র ছিলেন তাদেরকে সম্মান করতেন। এই যে ধরেন একটা ছোট্ট ঘটনা বলি,সবুর খান জেলে।
আ. নূ.: মুসলিম লীগ এবং আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধী।
তো. আ.: কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং
আ. নূ.: সেতো এক সময় যারা পার্লামেন্টারি রাজনীতি করেছেন
তো. আ. বঙ্গবন্ধুর সিনিয়র। বয়সে বড়-সবুর ভাই ডাকতেন। তো সবুর ভাই চিঠি লিখছে বঙ্গবন্ধুর কাছে’। স্নেহের মুজিব, আমার অনেক অনেক স্নেহ এবং ভালোবাসা নিও। আজ তুমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভাবতে কত ভালো লাগে। যে বাংলার স্বপ্ন তুমি দেখেছিলে মুজিব সে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসে যখন ভাবি যে বাংলার প্রধানমন্ত্রী আমারই প্রিয় শেখ মুজিব,সেই বাংলার বৃদ্ধ সবুর খান আজও কেন কারগারে? আমি তার উত্তর খুঁজে পাই না মুজিব'। ব্যাস্।
ইন্টারকমে আমাকে ফোন করলো,আসো। আসলাম। বললেন,চিঠিটা পড়। পড়লাম। আমাকে বলেন যে, ডযধঃ রং ুড়ঁৎ ৎবধপঃরড়হ? আমি বললাম, আমারতো মনে হয় এখনি ছেড়ে দেবেন। বলেন, ণবং, ও যধাব ফবপরফবফ ও ৎবষবধংব যরস. তখন মশিউর রহমান সাহেব আমাদের অ্যাডভাইজার। তাকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবো। তারে ডাকলো। উনি বললেন স্যার ইচ্ছে করলে তো তারে ছাড়া যাবে না। এতো আইন কানুনের ব্যাপার আছে বলেন, ঋড়ৎমড়ঃ ধনড়ঁঃ. ইড়ঃঃড়স ষরহব যব রিষষ ৎবধপয যরং যড়ঁংব ঃড় হরমযঃ. সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করলো।
আমাকে বললেন তুমি গিয়ে জেলখানা থেকে নিয়ে এসে বাসায় পৌঁছে দাও। আমি বললাম যে,আমি এটা পারবো না। বঙ্গবন্ধুর কাছে আমি কাকুতি মিনতি করি আরকি। হেসে দিলেন। বললেন ঠিক আছে তোর গাড়ি দিয়ে অন্য একজনকে পাঠিয়ে দে। তখন আমার মাজদা গাড়ি ছিল পলিটিক্যাল সেক্রেটারির। একটা পুরানো মাজদা গাড়ি। ওই গাড়িতে করে আমার যে এপিএসকে মেরে ফেললো বললাম ১৫ই আগস্টের পরে আমার বিরুদ্ধে কথা না বলার কারনে। তাকে পাঠিয়ে সবুর খানকে এনে সবুর খানের যে বাড়ি ধানমন্ডি ২৫ নম্বরে সেই বাড়িতে সবুর খানকে পৌছে দেয়া হয়েছে।
সূত্রঃ বেলা অবেলা সারা বেলা,আসাদুজ্জামান নূর,পৃঃ-৫৭২,৫৭৩,সময় প্রকাশন
৩৮/বাংলা বাজার,ঢাকা।
অন্য এক লেখক ভিন্ন কথা কথা লিখেছেন তার বইতে।-“পাকিস্তান থেকে ফিরেই বঙ্গবন্ধু খান-এ-সবুরকে নিজের গাড়ী চালিয়ে জেল থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন বলে যে গল্পটা শুনছিলাম সেটার নিষ্পত্তি হলো এ খবরে”।
সূত্রঃ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ:বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ (দ্বিতীয় সংস্করণ),এম.আই. হোসেন, ইস্টার্ন পাবলিকেশন্স-২৮৩
👉তোফায়েল আহমেদ সবুর সাহেবকে বাসায় পেঁছে দিতে অস্বীকার করলেও বঙ্গবন্ধু অকৃত্রিম ভালবাসার টানে সেটা করতে ভুল করেননি। একেই বলে একজন বড়মাপের হৃদয়বান রাজনীতিক। এটা কোন মিথ নয়। প্রকৃত রাজনীতিকের অনুপম এক আদর্শ।
👉মারা গেছে শহীদ,বেঁচে যারা আছে জেলে কেন👈
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী একটি জাতীয় দৈনিকের উপ-সম্পাদকীয় কলামে লিখেছেন-“সেই সবুর খান স্বাধীনতার পর কারাগারে। দেখা হলো, অনেক কথা হলো। সঙ্গে বললেন,'বুড়া বয়সে এ ভাবে জেলে পচে মরব?' তাকে বললাম, আপনি বঙ্গবন্ধুকে একটা চিঠি লিখেন। ‘ভাই, চিঠি লিখব,কাগজ কলম পাব কই?' আইজি সাবকে বললাম, উনার যেন কোনো অসুবিধা না হয়। এক্ষুনি কাগজ-কলম পাঠিয়ে দেন। উনার চিঠি একটা হোম মিনিস্ট্রিতে আর একটা কপি আমার কাছে পাঠাবেন। ১১টার দিকে জেলে গিয়েছিলাম। ৫টা-সাড়ে ৫টার দিকে সবুর খানের চিঠি এসে গেল। দুই দিন পর গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর কাছে। তখন গণভবন মিরপুর রোডে নয়। সুগন্ধায় গণভবন। বঙ্গবন্ধুকে কবি তালিম হোসেনের কথা বলতেই বললেন, ঠিকই তো যারা মারা গেছে সব তারা শহীদ আর যারা বেঁচে আছে তারা কোলাবরেটর,তারা জেলে এ কেমন কথা? জেলে সবুর খানের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।
উনি '৬৯ সাল থেকে আমাকে মাসোহারা দিতেন। মনে হয় মোট ৪-৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। তিনি এই চিঠি দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বললেন,-‘তার চিঠি অনেক আগেই আমার কাছে এসে গেছে। দু-চার দিনের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেব’। ৫০-৬০ শব্দের সেই চিঠি ছিল মারাত্মক,'ভাই মজিবর, তুমি বাংলাদেশ বানাতে চাইছো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হইছো। বুড়া বয়সে আমরা কি জেলে পচে মরবো’? এটুকুই। দুই দিন পরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর তুলনা তিনিই,অন্য কেউ না”। সূত্রঃ (বাংলাদেশ প্রতিদিন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,উপ-সম্পাদকীয় কলাম“মুজিবের চেলার সাহস তো মন্দ নয়”! ৬ জুন ২০২৩)
কী অনুপম আদর্শ? এসব কী জাতি গঠনে শিক্ষানীয় নয়? বাথরূম থেকে সবুর সাহেব পড়ে যাওয়ার খবর প্রথম শেখ মুজিবের কাছে দিয়েছিলেন তার বাল্যবন্ধু শাহ আজিজুর রহমান। তুখোড় পার্লামেন্টিয়ান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীও বটে। তিনি বলেছিলেন শেখ মুজিবকে উদ্দেশ্য করে-“মুজিবুর শুনছিস। সবুর ভাই বাথরূম থেকে পড়ে গেছে”। শাহ আজিজের কথা শুনে হতভম্ব,বিহবল নব্য স্বাধীন বাংলার প্রদানমন্ত্রী।
কারগার থেকে বিনা শর্তে মুক্তি দিয়েছিলেন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান। সবুর সাহেবের কাছে আজীবন ঋনের বোঝা পরিশোধ করতে যেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দূতিয়ালী করেছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ দু’জন ব্যক্তিকে আপনারা কী বললেন বড় রাজাকার! আসলে ভালবাসা এবং মহত্বের কাছে সিংহাসন পর্যন্ত হার মেনে যায়।
হৃদয় ছিল সিংহের মতো
আমরা বাঙালিরা এসব বুঝি না। কোন মানুষ যখন উচ্চাসনে অবস্থান করে তাঁর হৃদয় হয় সিংহের মতো। তখন সে নেতিবাচক দিক পরিহার করে ইতিবাচক দিকগুলে গ্রহণ করে। এ কারনে সে হয়ে উঠে মহৎ,একজন জাতীয় বীর। এখানে আমাদের ব্যর্থতা। পুরানো কাসুন্দী নিয়ে আমাদের টানাটানি। আজও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ,জাতীয়তা নিয়ে বিতর্ক,সংবিধান নিয়ে তুমুল তর্ক। এসবের হয়নি কোন অবসান। তাহলে জাতির পুনর্গঠনে হবে কী ভাবে? এসবের পরিণতি কী? জাতি হিসেবে আমরা গোটা বিশ্ব থেকে বহুদূরে পিছিয়ে আছি।
এখানে একটু হলেও উল্লেখ করার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ মুজিব বাংলাদেশের জাতীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান। মুসলিম লীগ,যুক্তফ্রন্ট, আওয়ামী মুসলিম লীগ,আওয়ামী লীগ সকল রাজনৈতিক সংগঠনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তার বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতা সহকর্মী রাজনৈতিক কারনে পাকিস্তানের অখÐতার প্রতি অবিচল থাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করে কলাবরেটর আদেশে বন্দী হন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারনে তিনি খান-এ-সবুর, শাহ আজিজ,ফজলুল কাদের চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সংবাদ নিতেন। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী লিখেন-“এক রাজনীতিবিদ আরেক রাজনীতিবিদকে সব সময় খতম করতে চায়। অনেক মিথ্যা অভিযোগে বিরোধী রাজনীতিকদের জেলে পাঠিয়ে কি হেনস্থাই না করা হয়। অথচ স্বাধীনতার পর খান-এ-সবুর যখন বঙ্গবন্ধুকে চিঠি দিয়েছিলেন 'ভাই মজিবুর, তুমি দেশ স্বাধীন করেছ, আজ তুমি প্রধানমন্ত্রী। আমরা না হয় ভুলই করেছি। তাই বুড়ো বয়সে জেলে থাকবো?' চিঠি পাওয়ার তিন-চার দিনের মধ্যে খান-এ-সবুরকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছিলেন।
শাহ আজিজুর রহমান, তিনি যখন জেলে ওবায়দুর রহমান ও আমাকে (বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী) দিয়ে শাহ আজিজের বাড়ির ভাড়া পাঠাতেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী যখন জেলে ছিলেন তখন তার বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে কোনো দিন কোনো বাধা হয়নি। আলাউদ্দিন,মতিন,হক,তোয়াহা সাহেবরা যখন পালিয়ে থাকতেন তাদেরও গোপনে টাকা পাঠাতেন”। তোয়াহা সাহেব স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ীতে আতœগোপন করে থাকতেন।
সূত্রঃ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ: বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ-পৃঃ২৭১,একজন প্রবীণ নেতার মহাপ্রয়াণ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ: ২৫ মার্চ ২০১১
👉মুজিব এড্রেস করতেন ‘সবুর ভাই’👈
আবার সবুর খানও মৃত্যুর আগে ১৯৭৯ সালে তিন সিটে এমপি হয়েছিল। তার হাতে গড়া শাহ আজিজুর রহমান তখন প্রধান মন্ত্রী। কিন্তু পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কোনদিন কথা বলেননি। শেখ মুজিব এড্রেস করতেন ‘সবুর ভাই’ বলে। মানুষ এমনি বড় হয় না, মানুষ বড় হয় মনের জন্য। এতবড় মন ছিল তাঁর। একদিকে যেমন নরম ছিলেন। অপর দিকে ভালোবাসা,দয়া। ওই যে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ডযধঃ রং ুড়ঁৎ ফরংয়ঁধষরভরপধঃরড়হ? ও ষড়াব সু ঢ়বড়ঢ়ষব ঃড়ড় সঁপয. আসলেই তাই। ডেভিড ফ্রস্ট এই ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন। তিন জন প্রাইম মিনস্টারের। ইন্দিরা গান্ধী,জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং বঙ্গবন্ধু। তো বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকারে এই কথাটি জিজ্ঞেস করেছিল যে, চৎরসব সরহরংঃবৎ যিধঃ রং ুড়ঁৎ য়ঁধষরভরপধঃরড়হ? ও ষড়াব সু ঢ়বড়ঢ়ষব. ডযধঃ রং ফরংয়ঁধষরভরপধঃরড়হ? ও ষড়াব সু ঢ়বড়ঢ়ষব ঃড়ড় সঁপয.
একেই বলে রাজনীতি? একই বলে সহমর্মিতা?একই বলে রাজনৈতিক শিষ্টাচার? সবুর সাহেব মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বা পূর্বে অনেককে সহযোগিতা করেছেন। এসব আজকের সমাজ ব্যবস্থার এই অন্তিম প্রেক্ষাপটে কে বিশ্বাস করবে? অনেকে বলবেন এসব আজগুবি কথা। বিশ্বাস করার কথা নয়।
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে ৯০ দশকের একটি স্মৃতিময় কথা। এরশাদ তখন রাষ্ট্রপতি। অ্যাড.মোমিন উদ্দিন আহমদ। তখন শিক্ষা মন্ত্রী। আজ তিনি মরহুম। লেখকের সাথে ছিল পারিবারিক সম্পর্ক। মরহুম বাবার বন্ধু। একদিন জিঞ্জেস করলাম। চাচা শহীদ হাদিস পার্কে মন্ত্রী থাকাকালীন জনসভা করাকালীন ডিম নিক্ষেপ করেছিল কেন? চুপ করে রইলেন। বললেন দেখ আজ আমি মন্ত্রী। খুলনা শহরতলী বয়রা গ্রামের নি¤œ মধ্যবিত্ত এক পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া করার মতো অর্থ কড়ি বাবার ছিল না। সবুর সাহেব যাবতীয় লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন। প্রসঙ্গত এ জনসভায় প্রচÐ শ্রদ্ধার উন্মদনায় আমি বলে ফেরেছিলাম এই কথাটুকু। তাই সম্ভবত আ’লীগ অফিস থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে।
সত্য কথা বলতে কি রাজনীতির অঙ্গন আজ কপটতায় ছেয়ে গেছে। কোথাও নেই কোন সরলতা। নষ্টামী,ধূর্তামি,শঠতা,দু’মুখো নীতি আমাদের জিম্মি করে ফেলেছে। সততার বড় অভাব। বলা যায় এক প্রকার নেই বললে চলে।
সেদিন রাজনীতির অঙ্গনে আদর্শ ছিল। নেতার নেতৃত্ব ছিল। এখন নেতার হাতে নেতৃত্ব নেই। জনগণের হাতে ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা পেশী আর অর্থের কাছে। রাজনীতি তখন ছিল একটি কৌশল মাত্র। এই কৌশল আর আদর্শকে অবলম্বন করে দল টিকে থাকত। সেদিনের রাজনীতিকদের বুদ্ধি,মেধা, প্রজ্ঞা ও কৌশল ছিল। আদর্শ ছিল। এসব ছিল বলে তারা জনগণকে খেদমত করতে পেরেছেন। বিশ্ব সভায় আসন করেছেন।