25/08/2026
এই এডমিশন টেস্টের সময়টা আসলে খুব অদ্ভুত এক সময়!
চারপাশে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
কেউ চান্স পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না।
অথচ না পাওয়াদের অনেকেই হয়তো সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে।
কি, শুনে মনে হচ্ছেনা "পরিশ্রম করলে আবার চান্স কেনো পাবে না?"
কিন্তু এমনটা আসলেই হয়, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। এটাই বাস্তব!
এডমিশন টেস্টে শুধু পরিশ্রম করলেই সবকিছু পাওয়া যায় না। এখানে মেধার পাশাপাশি ভাগ্যও কখনো কখনো বড় একটা ভূমিকা রাখে। একটা প্রশ্ন, একটা ভুল, একটা মুহূর্তের নার্ভাসনেস, সামান্য এদিক-ওদিক- সবকিছু বদলে দিতে পারে পুরো ফলাফল।
এই যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিজের সাথেই লড়াই করে যাচ্ছে- হতাশার সাথে, ভয়-এর সাথে, নিজের সন্দেহের সাথে, “আমি কি পারবো?” এই একটা প্রশ্নের সাথে।
কিন্তু কয়জনই বা তাদের সেই লড়াইটা দেখে?
উল্টো অনেকে অপেক্ষা করে থাকে কথা শোনানোর জন্য-
“আর একটু পড়লেই হতো।”
“ও তো পারলো, তুই কেন পারলি না?”
“আরেকটু সিরিয়াস হলে হয়তো হয়ে যেত।”
কিন্তু কেউ একবারও ভাবে না,
হয়তো সে তার সর্বোচ্চটাই দিয়েছে!
আমাদের সমাজটা এমনই আসলে।
এখানে চেষ্টা দেখার চেয়ে ফলাফল দেখতেই সবাই বেশি অভ্যস্ত।
কেউ জানতে চায় না, তুমি কত রাত ঘুমাওনি।
কতবার ক্লান্ত হয়ে বই বন্ধ করে আবার খুলে বসেছো।
কতবার ভেঙে পড়েও নিজেকে সামলে নিয়েছো।
কতবার নিজের ভয়, অনিশ্চয়তা আর আত্মসন্দেহের সাথে যুদ্ধ করেছো।
চান্স পেলে তুমি “মেধাবী”,
আর চান্স না পেলে তুমি যেন “অযোগ্য”।
অথচ এই দু’য়ের মাঝখানে যে অসংখ্য রাতের ঘুমহীনতা, কান্না, ত্যাগ, ভয় আর সীমাহীন পরিশ্রম-
সেটা খুব কম মানুষই দেখতে পায়।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই সময়টায় একজন শিক্ষার্থী শুধু একটা পরীক্ষার সাথেই লড়াই করে না।
সে নীরবে লড়াই করে পরিবারের প্রত্যাশার সাথে, সমাজের চাপের সাথে, অন্যদের সাফল্যের সাথে... এমনকি নিজের ভেতরের অসহায়তার সাথেও!
তাই এবার কারও চান্স না হলে তাকে ছোট করার আগে, একটু থামুন।
হয়তো সে পারেনি।
হয়তো তার স্বপ্নটা এবার পূরণ হয়নি।
কিন্তু তার চেষ্টা যেন আপনার একটা কথায় ছোট হয়ে না যায়।
কারণ সব ব্যর্থতার পেছনে অযোগ্যতা থাকে না।
কিছু ব্যর্থতার পেছনে একজন মানুষের সর্বোচ্চ চেষ্টাও থাকে- শুধু ফলাফলটা হয়তো তার পক্ষে আসেনা।
কারও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে একটু ভাবুন-
সৃষ্টিকর্তা হয়তো তার জন্য অন্য কোনো পথ, অন্য কোনো স্বপ্ন, অন্য কোনো সুন্দর গল্প লিখে রেখেছেন!