18/10/2025
চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প*র্ন নেটওয়ার্ক
২৮ বছর বয়সী এক নারী—যার নাম ইংরেজিতে ‘বি’ দিয়ে শুরু এবং ‘ই’ দিয়ে শেষ (এই প্রতিবেদনে তাকে বি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)—নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “বাংলাদেশের এক নম্বর মডেল” হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে বাস্তবে, তিনি আন্তর্জাতিক এ-ডাল্ট কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় আছেন। বিশ্বের অন্যতম বড় একটি প=-র্ণ ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত তিনি বিশ্বব্যাপী পারফর্মারদের মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছেন।
তার প্রথম ভিডিওটি আপলোড করা হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। চলতি অক্টোবর পর্যন্ত তিনি শতাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা শত শত মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।
এই কনটেন্টগুলোতে তিনি মুখ উন্মুক্ত রাখেন এবং তার সঙ্গী—যার নাম ইংরেজিতে ‘এ’ দিয়ে শুরু এবং ‘এম’ দিয়ে শেষ—তার সাথেও একত্রে অংশ নেন।
তাদের ভিডিওগুলো একাধিক আন্তর্জাতিক সাইটে প্রকাশিত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা সেগুলো প্রচার করছেন।
দ্য ডিসেন্ট-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে অন্তত ৫০টি পোস্ট পাওয়া গেছে যেখানে বি এবং এ-এর কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এসব পেইজ তাদের নিয়ন্ত্রণে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের প-র্নো[[ গ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণ একটি ফৌজদারি অপরাধ।
তদন্তে দেখা গেছে, এই যুগল চট্টগ্রামে বসে অনলাইনে ভিডিও তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
তাদের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি নিম্নবিত্ত হলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শিত জীবনযাপন তুলনামূলকভাবে বিলাসবহুল।
তদন্তে আরও জানা যায়, তারা চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অবস্থান করেছেন।
এক পর্যায়ে এ সাংবাদিকদের বলেন, “আমার পরিবার জানে আমরা অনলাইন ভিডিও তৈরি করি।”
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি অনুসারে, ২৫ আগস্ট এ মাদক-সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন এবং পরবর্তীতে মুক্তি পান।
বি ও এ-এর যৌথ টেলিগ্রাম চ্যানেল খোলা হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে, যেখানে প্রায় ২,০০০ সদস্য রয়েছে। সেখানে নিয়মিত কনটেন্ট প্রচার করা হয় এবং নতুন সদস্য যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
দ্য ডিসেন্ট-এর হাতে থাকা তথ্যে দেখা যায়, তারা এসব চ্যানেলে নিজেদের আয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন এবং অন্যদের একই ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করেছেন।
তাদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে নতুনদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা সংগঠিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো এই কার্যক্রম সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
বাংলাদেশ পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বি ও এ-এর বিষয়ে বা এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে অবগত নই।”
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কর্মকর্তাদের সাথেও যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন: দ্য ডিসেন্ট. লিংক কমেন্টে।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।