09/07/2025
আমার ভাই মৃত্যুর মুখোমুখি। আমরা যদি চুপ থাকি, হয়তো তার জীবন শেষ হয়ে যাবে।
শেখ হাসিনার আদালত বহু নির্দোষ মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি।
কিন্তু এই একজনকে আমরা বাঁচাতে পারি।
আমার ভাই, মোজাম্মিল হোসাইন সাইমন, গত আট বছর ধরে বন্দী।
তাকে তিনটি মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যার একমাত্র ভিত্তি: গুম, নির্যাতন, এবং পরিবারকে হুমকি দেয়ার মাধ্যমে আদায় করা মিথ্যা স্বীকারোক্তি।
বিচারের নামে প্রহসন:
তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ৪৮ দিন গুম করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে আমার বাবাকে গুম করা হয়। বলা হয়—সিটিটিসি যেভাবে বলবে, সেভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি না দিলে, আমাদের বাবাকে ছাড়া হবে না।
বাবাকে মুক্ত করার জন্য বাধ্য হয়ে সে রাজি হয়। সিটিটিসি যা লিখে দিয়েছে, সেই ১৬১ ধারার কাগজ হুবহু কপি করে আওয়ামী লীগের অনুগত ম্যাজিস্ট্রেট অনুযায়ী ‘জবানবন্দী’ লিখে দেয়। সেই কাগজে আমার ভাইয়ের সই নেওয়া হয়। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি।
এই জাল জবানবন্দিই এখন তার ফাঁসির ভিত্তি। এই কথিত জবানবন্দিই তার বিরুদ্ধে একমাত্র প্রমাণ। অথচ সেটি চার্জশিট ও অন্যান্য আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
কেন এই যুলুম:
আমার ভাইকে জড়ানো হয়েছে অভিজিৎ, দীপন এবং জুলহাস মান্নান হত্যা মামলায়। এই চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোকে করে হাসিনা রিজিম দেশেবিদেশে তাদের শাসনের বৈধতা তৈরির জন্য ব্যবহার করেছিল।
আমার ভাইকে বন্দী অবস্থায় সিটিটিসির লোকেরা বলেছিল—
শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় জড়িত ব্যক্তিদের সবাইকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করা হয়েছে। যেহেতু প্রকৃত আসামিদের মেরে ফেলা হয়েছে, তাই সিটিটিসি-র উদ্দেশ্য ছিল কিছু মানুষকে বলির পাঠা বা স্কেপগোট বানানো। তাই সিটিটিসি দ্রুত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নিতে চেয়েছিল।
এই স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তারা যা করেছে, সেটা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছু নয়।
মামলার ফাঁকফোকর:
উপরের তিনটি মামলার মধ্যে হাসিনা সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায়। এই মামলায় আমার ভাইকে ফাঁসির সাজা দেয়া হয়েছে। অথচ—
মামলায় পুলিশের দেওয়া ১৬১ আর ম্যাজিস্ট্রেটের ১৬৪ হুবুহু এক, দাড়িকমাসহ। যা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীটি মূলত ১৬১টি কপি করে লেখা হয়েছে। আসামীর কথা শোনাই হয়নি।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে আমার ভাই নেই।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে আমার ভাইকে দেখেননি এবং প্রসিকিউশন তাকে মিথ্যা বলার জন্য চাপ দিয়েছিল।
সিটিটিসি যাদেরকে তার গ্রেফতারের সময়কার সাক্ষী বানিয়েছে, তারা আদালতে জেরার সময় তার ঠিকানাও ঠিক মতো বলতে পারেনি।
আওয়ামী আদালতের বিচারক সাক্ষীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করলেও, ডিফেন্সের জেরা ও জবাবগুলো লিখেননি। অথচ হাইকোর্টে আপিল চলে সেই নথির উপর ভিত্তি করে।
গুম কমিশন আমাদের জানিয়েছে আমার ভাইয়ের গুম হবার বিষয়টি প্রমাণিত। একজন ব্যক্তি যদি ৪৮ দিন গুম থাকার পর জবানবন্দী দেয় তাহলে সেটা অবশ্যই জোরপূর্বক-ই নেওয়া হবে। আর জবানবন্দী ছাড়া এসব কেসের আর কোন লিগ্যাল ভিত্তি নেই।
এটি বিচারের নামে চরম প্রহসন। আমার ভাই অমুককে এখনো বাঁচানোর সুযোগ আছে। প্লিজ আপনারা সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার হোন।
করণীয়:
আমার ভাই আওয়ামী জাহেলিয়াতের একজন ভিকটিম। দুঃখজনক বিষয় হল, হাসিনা আমলে এই যুলুম শুরু হলেও, আজও এই যুলুম চলমান। ৫-ই আগস্টের এক বছর হতে চললো, কিন্তু এখনো এই যুলুম থেকে তার মুক্তি মিললো না।
আজ চার বছর হয়ে গেছে রায় ঘোষণার। কিন্তু মামলার পেপারবুক এখনো প্রস্তুত হয়নি। এই গতিতে চললে ২০২৮ সালের আগে তার আপিল শুনানিতেই উঠবেই না।
আমরা আইন মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে এবং বিচার বিভাগকে আহ্বান জানাচ্ছি:
মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিন: দ্রুত পেপারবুক তৈরি নিশ্চিত করুন এবং সিনহা মামলা, আবরার হত্যা মামলার মতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই তিনটি মামলা দ্রুত শুনানির জন্য বেঞ্চে আনুন।
ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করুন: আমার ভাই, এবং আমাদের পরিবার জামিন বা মুক্তি নয়, দ্রুত একটি সুষ্ঠু বিচার চাইছে, যাতে তারা ন্যায়বিচার পান।
মযলুমের হকের জন্য এই লড়াইয়ে সাহায্য করুন! এই পোস্টটি শেয়ার করুন। এই যুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। আপনার এক ক্লিক, এক শেয়ার হয়তো আমার ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
~ আব্দুল্লাহ( মোজাম্মেল হোসেন সাইমনের ভাই)