12/09/2026
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংক ঘাঘর শাখায় ঘটে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
একজন গ্রাহক কয়েক লাখ টাকা অগোছালোভাবে, বিভিন্ন নোট একসঙ্গে মিশিয়ে ক্যাশ ডেস্কে দেন। ১০০টি করে বান্ডিল তো দূরের কথা, ২০০-৩০০টি করেও নোট গুছানো ছিল না। এমনকি ভাউচারের পেছনেও কোনো denomination উল্লেখ ছিল না। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে নারী ক্যাশ কর্মকর্তা সেই অগোছালো টাকা নিজেই গুনে ১০০ নোটের বান্ডেল তৈরি করছিলেন। ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। এই পরিস্থিতিতে ভুলবশত কয়েকটি ৫০০ টাকার নোট তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকার সঙ্গে মিশে যায়।
এখানেই প্রশ্ন-এটি কি প্রমাণিত আত্মসাত, নাকি একটি
অনাকাঙ্ক্ষিত গণনাগত ভুল?
ব্যাংকের প্রতিটি লেনদেন CCTV-এর আওতায়। ক্যাশ, কাউন্টার, টাকা গোনা-সবই যাচাইযোগ্য। দিনের শেষে ক্যাশ রিকনসিলিয়েশনেও হিসাব মেলানোর সুযোগ রয়েছে। তাহলে CCTV, ভাউচার, ক্যাশ হিসাব ও পুরো লেনদেনের প্রক্রিয়া যাচাই না করে কেন বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যাতে একজন ব্যাংকার জনসমক্ষে অভিযুক্ত হয়ে যান?
আর গ্রাহক নিজেই যখন কয়েক লাখ টাকা অগোছালো অবস্থায় নিয়ে আসেন, denomination উল্লেখ করেন না এবং ভিড়ের মধ্যে সেই টাকা গুছিয়ে দেওয়ার অতিরিক্ত কাজটিও ব্যাংক কর্মকর্তাকেই করতে হয়-এই বাস্তবতাটিও কি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে?
এবার Ekattor TV-এর কাছে প্রশ্ন
Ekattor TV-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের একটি গণমাধ্যমের কাছে আমরা দায়িত্বশীল, অনুসন্ধানী ও ভারসাম্যপূর্ণ সাংবাদিকতা
প্রত্যাশা করি।
অভিযোগ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার অংশ। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়।
যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য কোথায়?
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কোথায়?
শাখা ব্যবস্থাপকের ব্যাখ্যা কোথায়?
CCTV কী বলছে?
ক্যাশ রিকনসিলিয়েশনের ফল কী?
ভাউচার ও denomination-এর বিষয়টি কী?
এসব যাচাই না করে অভিযোগকারীর বক্তব্যকে সামনে রেখে একজন নারী ব্যাংকারকে ক্যামেরার সামনে জিজ্ঞাসাবাদ-এটাই কি জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতার মান?
আমরা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নই। আমরা একপাক্ষিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে।
CCTV, ক্যাশ হিসাব ও ব্যাংকের প্রকৃত প্রক্রিয়া-এসব কি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে?
একজন ব্যাংকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁকে একা জনসমক্ষে দাঁড় করিয়ে দেওয়া নয়, সত্যটা পরিষ্কার করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
মোবাইল ক্যামেরা হাতে নিলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না।
অভিযোগকারীর বক্তব্য প্রচার করলেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না।
আর ভিউয়ের জন্য একজন মানুষের পেশাগত সম্মানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়।
অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা হোক। কিন্তু প্রমাণের আগে জনমতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
Ekattor TV-এর এই একপাক্ষিক ও পেশাগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে জানাই তীব্র প্রতিবাদ।
অভিযোগ নয়-প্রমাণ দেখান।
একপক্ষ নয়-দুই পক্ষের বক্তব্য নিন।
অনুমান নয়-CCTV ও নথি যাচাই করুন।
একজন ব্যাংকারকে গণমাধ্যমের ট্রায়ালে নয়-তথ্য, প্রমাণ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচার করুন।