03/07/2026
িভিউ ১২
#মেহেরুন_নেছা_হিতৈষী
বই : লগ্নজিতা
লেখক : মৌরি মরিয়ম Mouri Morium
প্রকাশনী : অধ্যয়ন
প্রকাশক : তাসনোভা আদিবা সেঁজুতি
প্রচ্ছদ : সামিউল ইসলাম চৌধুরী এবং মিডজার্নি
পৃষ্ঠা : ৯৩
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা
প্রথম মুদ্রন : ফেব্রুয়ারী ২০২৪
রিভিউ : মেহেরুন নেছা হিতৈষী
🌐 ফ্ল্যাপ :
কখনো আঁধারে হেরে যায়,
নবপরিণীতা।
অন্তিম লগ্নে জিতে যায় যে,
সেইতো লগ্নজিতা।
🌐 কাহিনি সংক্ষেপ :
লগ্নজিতা! ছোট করে লগ্ন! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করেছে। তার ইচ্ছা বিদেশে গিয়ে মাস্টার্স করবে৷ কিন্তু বাবার ভয় যদি বিদেশ গিয়ে মেয়ে ওখানকার কোনো ছেলে বিয়ে করে ফেলে। তাই বাবা চায় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তারপর বিদেশ পাঠাবে। এদিকে লগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রেমে ধোকা খাওয়ার পর আপাতত বিয়ে নিয়ে বেশ ভয় পায়। তবুও বাবার ইচ্ছায় প্রথমবারের মত পাত্রপক্ষের সামনে যায়। সেখানেই তার জীবনে প্রবেশ ঘটে ইফতেখার মাহমুদের।
দুজনে কথাবার্তা বলে দুদিক থেকেই সম্মতি পেয়ে বিয়ের আয়োজন আগাতে থাকে। আর তারই সাথে আগাতে থাকে দুজনের মধ্যেকার ভাব, ভালোবাসা এবং টান। দুজনেই চেষ্টা করতে থাকে বিয়ের আগে একে অপরকে আরেকটু ভালো করে চিনে নেওয়ার, জেনে নেওয়ার।
দুই পরিবারের তোরজোড় মিলিয়ে লগ্ন এবং ইফতির বিয়েটা দারুণ ভাবে সম্পন্ন হয়ে যায়৷ কিন্তু পরদিন ঘুম ভাংতেই লগ্নজিতা মুখোমুখি হয় তার জীবনের অদ্ভুত এবং ভয়ংকর এক সত্যির। যা কিনা লগ্নর সাজানো জীবনটাকে ভূমিকম্পের মত নাড়িয়ে দিয়ে যায়। ভেঙে যায় টুকরো টুকরো করে সাজানো সুন্দর রঙিন স্বপ্নগুলো।
আর ঠিক এই মুহূর্তে মাথায় প্রশ্ন আসে, এরপর কি হতে চলেছে? কেনোই বা লগ্নজিতার জীবনে নেমে এলো এমন এক ঝর? এর শেষই বা কোথায়?
🌐 পাঠ অনুভূতি :
আমি সাধারণত কোনো বই পড়ার আগে তার কোনো ধরনের রিভিউ পড়ি না। এমনকি নতুন বইগুলো যখন প্রকাশ হয়, এর পূর্বে লেখকরা প্রমোশনাল পোস্ট দেয় বইয়ের কিছু অংশ। আমি সেগুলোও পড়ি না। কেনো যেন মনে হয় পড়লেই যদি কাহিনি বুঝে যাই, কিংবা পড়ার সময় সেই আসল মজাটা বোধহয় পাবো না। লগ্নজিতা বইটড় ক্ষেত্রেও আমি তেমন কিছুই পড়িনি৷ ফলাফল আমার কোনো ধারণাই ছিলো না বইটা আসলে কি নিয়ে।
বইটা নিয়ে বসলাম দুদিন আগে, এক বসাতেই শেষ করলাম। বইটা যখন পড়ছি কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিলো। কি সহজ সাবলীল এবং সুন্দর একটা কাহিনি এগোচ্ছে। এরপরই গল্পের প্রথম টুইস্ট! বড়সড় একটা ধ্বাক্কা খেলাম। যেখান থেকে গল্প আবারও এগোচ্ছিলো বেশ সুন্দর গতিতে। কিছুদূর যেতেই লগ্নজিতার বিদেশ জীবনের কাহিনীগুলো যেন পড়ার গতি আরো বাড়িয়ে দিলো। কিন্তু লগ্নর জীবন যত গুছিয়ে আসছিলো, আমার কেমন যেন অস্থির লাগছিলো। বইয়ের পাতা গুনছিলাম, দেখছিলাম বারবার আর অল্প কিছু পাতা বাকি৷ গল্পের মোড় যেদিকে যাচ্ছে, যতটা সহজভাবে এগোচ্ছে, কিছুতেই হজম হচ্ছিলো না ব্যাপারটা।
আর ঠিক এরপরই এলো কাঙ্ক্ষিত সেই পদক্ষেপ এবং বইয়ের সমাপ্তি।
কেমন যেন শান্তি লাগছিলো৷ বারবার মনে হচ্ছিলো, ইয়েস! এমন একটা এন্ডিংই হয়ত মন চাচ্ছিলো। এমন একটা টুইস্টের জন্যই বোধহয় অপেক্ষা করে ছিলাম। মন ছটফট করছিলো।
🌐 চরিত্র বিশ্লেষণ :
লগ্নজিতা : লগ্নকে পড়ার পর আমার প্রাণোর কথা মনে পড়েছে। দুটো চরিত্রই আমাদের শেখায় হেরে গেলেই থেমে যেতে নেই৷ ভেঙেচুরে গেলেও নিজের গায়ে মলম লাগিয়ে নিজেকেই উঠে দাঁড়াতে হবে, জীবনের রেসে দৌড়াতে হবে, নিজেই নিজের অবলম্বন হতে হবে।
বাকি মূল চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করতে গেলেই মনে হচ্ছে স্পয়লার দিয়ে ফেলছি৷ তাই এই পর্ব বাদ থাকুক।
🌐 বিশেষ সংযোজন :
বইটার শুরুতেই মৌরি আপু লিখে দিয়েছিলো সত্য ঘটনা অবলম্বনে। বইয়ের কাহিনিতে ঢোকার পর অবাক হলাম। ছোট বেলায় আম্মুর থেকে এক আত্মীয়ের মেয়ের জীবনের ঠিক এমনই একটা ঘটনা শুনেছিলাম৷ আম্মু বইটা পড়ার সময়ও ঘটনাটার রিমাইন্ডার দিলো৷ আম্মুও অবাক হচ্ছে, এতবছর পর সেইরকম এক ঘটনা নিয়ে একজন বই লিখে ফেলেছে। আম্মু একটু করে পড়ছিলো আর বলছিলো, কে জানে মৌরিও হয়ত ওই কাহিনীই শুনেছিলো। ওদের বাড়িও দিনাজপুর পঞ্চগড়ের ওইদিকেই ছিলো। মেয়েটা সুন্দর ভাবে লিখেছে।
অদ্ভুত এবং চমৎকার একটা অনুভূতি আমার জন্য।। ব্যাপারটা রিভিউতে রাখতে ইচ্ছে করলো 💫
🌐 পারসোনাল রেটিং : ৮.৫/১০
ধন্যবাদ গিফটদাতাকে। বইটার জন্য আমি আম্মু দুজনেই নস্টালজিক হয়ে গেছি। এবং ধন্যবাদ মৌরি আপুকে। এরকম একটা ছোট গল্পের বই আনার জন্য।
~ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫