03/07/2026
ঢালিউডের সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও নৃত্যশিল্পী নূতন, যার প্রকৃত নাম ফারহানা আমিন রত্না। সত্তর ও আশির দশকে অসাধারণ অভিনয়, মনোমুগ্ধকর নৃত্য এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের একটি স্থায়ী আসন তৈরি করেন।
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্ম নেওয়া নূতন ছোটবেলা থেকেই একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে মুস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘নতুন প্রভাত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে। এই সিনেমার নাম থেকেই তাঁর পর্দার নাম রাখা হয় ‘নূতন’, যা পরবর্তীতে তাঁকে তারকাখ্যাতি এনে দেয়।
১৯৭২ সালে মুক্তি যু*দ্ধ ভিত্তিক কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এ একজন অসহায় গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর ‘বসুন্ধরা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘রাঙা ভাবী’ এবং **‘স্ত্রীর পাওনা’**সহ অসংখ্য সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন।
নূতনের অভিনয় জীবনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল তাঁর চরিত্রের বৈচিত্র্য। তিনি শুধু নায়িকা হিসেবেই নয়, প্রয়োজনে খলচরিত্রেও অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘রাঙা ভাবী’ চলচ্চিত্রে তাঁর নেতিবাচক চরিত্র দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্ত্রীর পাওনা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন। এছাড়া বাচসাস শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার এবং বাংলাসিনে অ্যাওয়ার্ড আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৮ সালে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক রুহুল আমিন বাবুলকে বিয়ে করেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো, ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম লাক্স সাবানের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার গৌরবও তাঁরই।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নূতন শুধু একজন জনপ্রিয় নায়িকাই নন, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একজন সফল অভিনেত্রী, দক্ষ নৃত্যশিল্পী এবং অনুপ্রেরণাদায়ী কিংবদন্তি হিসেবে আজও স্মরণীয়।
#নূতন #বাংলা_সিনেমা #ঢালিউড #বাংলাদেশ_চলচ্চিত্র