01/05/2026
৮,৪৬১.৫ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি সত্ত্বেও ইসলামী ব্যাংকের ১৩৬ কোটি টাকা মুনাফা
২০২৫ সালের ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের জন্য ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ১৩৬ কোটি টাকা কনসোলিডেটেড মুনাফা (সমন্বিত নিট মুনাফা) ঘোষণা করেছে। তবে শ্রেণিবদ্ধ বিনিয়োগের বিপরীতে ৮,৪৬১.৫ কোটি টাকার বিশাল প্রভিশন ঘাটতি ব্যাংকের এই আয়কে ম্লান করে দিয়েছে, যা ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিটের নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
মূল তথ্যাবলি:
মুনাফার চিত্র: ২০২৩ সালে ব্যাংকের মুনাফা ছিল ৬৩৫ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে কমে ১০৮ কোটি টাকায় নামে। ২০২৫ সালে এটি সামান্য বেড়ে ১৩৬ কোটি টাকা হয়েছে।
শেয়ার প্রতি আয় (EPS): ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ০.৮৫ টাকা।
লভ্যাংশ: টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ব্যাংকটি কোনো লভ্যাংশ (Dividend) ঘোষণা করেনি। লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটিকে প্রথমবারের মতো 'Z' ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সংকটের নেপথ্যে:
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া একটি বিশেষ সুবিধার কারণে ব্যাংকটি এই বিশাল প্রভিশন ঘাটতি ২০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পূরণের সুযোগ পেয়েছে। এই সুবিধার ফলেই ব্যাংকটি কাগজে-কলমে মুনাফা দেখাতে পেরেছে।
২. তারল্য সংকট: ২০২৫ সালে নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ৫,১০৭ কোটি টাকা কমেছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত কমেছে ৯,৬৬২ কোটি টাকা, যা তীব্র তারল্য চাপের ইঙ্গিত দেয়।
৩. এস আলম গ্রুপ ইস্যু: ব্যাংকিং খাতের সূত্রমতে, এস আলম গ্রুপ এবং তাদের সহযোগীরা ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক (প্রায় ৭৩,০০০ কোটি টাকার বেশি) ঋণ হিসেবে নিয়েছে, যা ব্যাংকটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
শেয়ার বাজারের প্রতিক্রিয়া:
আর্থিক প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকাশের পর শেয়ার বাজারে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ৩৩.৩০ টাকায় নেমে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
রেকর্ড ডেট: ২১ মে।
বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM): ২৫ জুন।