03/10/2026
জমি বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা, নির্মাণাধীন ভবনের ফিলার ভাঙচুর
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, নির্মাণাধীন ভবনের ফিলার ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রহমত উল্লাহ বাবলু, তার মা নুরের নাহার ও বোন আপনান সুলতানা পৃথি, আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত রহমত উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর বামনী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাইচা গ্রামের সাহাদ উল্যাহ পন্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নুরের নাহার বাদী হয়ে রায়পুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতঘর নির্মাণের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী রায়ের পর নুরের নাহারের পক্ষ ওই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং নির্মাণাধীন ভবনের দুটি ফিলার ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে রহমত উল্লাহ বাবলুকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নুরের নাহার ও তার মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তারা আহত হন। রহমত উল্লাহর মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত এবং ডান চোখে জখম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রহমত উল্লাহর বোনের গলার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া এবং তার সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন খবর পেয়ে অফিসার নূর ইসলামসহ পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রহমত উল্লাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। আকবর বেপারী বাড়ির মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে হুমায়ূন দাবি করেন, রাতে জমি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হুমায়ূনের দাবি, ওই হামলায় তার গাল ও হাতে আঘাত লাগে। পরে তাকেও রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
রায়পুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।