29/08/2026
সকাল বেলা ২০ বছরের এক রোগী এলো।
সাড়ে পাঁচ মাসের গর্ভবতী। প্রচণ্ড পেটব্যথা, সাথে অল্প অল্প রক্তপাত।
আল্ট্রাসাউন্ড করলাম। সাড়ে পাঁচ মাসের বাচ্চা তখনও জীবন্ত, নড়াচড়া করছে।
বারবার জিজ্ঞেস করলাম- এত ব্যথা কেন? কিছু খেয়েছেন? কোনো ওষুধ?
রোগী কিছুতেই কিছু বলছে না।
একসময় জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার হাসবেন্ড কোথায়?”
বলল, “কাল রাতে ঝগড়া হয়েছে। রাগ করে আসেনি।”
কথাটা শুনে আমার সন্দেহটা আরও বাড়লো। একটু কঠিন হয়েই বললাম, “আপনি যদি সত্যিটা না বলেন, ভুল চিকিৎসা হয়ে গেলে কিন্তু আপনাকেই বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে।”
শেষ পর্যন্ত রোগী স্বীকার করলো - স্বামীর সাথে রাগ করে পাঁচ মাসের গর্ভ নষ্ট করার জন্য ওষুধ খেয়েছে। তারপর থেকেই এই ব্যথা আর রক্তপাত।
কথাটা শুনে সত্যি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে ছিলাম।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে। রাগ, অভিমান, কষ্ট- সবই হতে পারে।
কিন্তু সেই রাগের শাস্তি একটা অনাগত শিশুকে কেন পেতে হবে?
অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল বাচ্চাটাকে বাঁচানোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেলা ৩টার দিকে ডেলিভারি হয়ে গেল।
বাচ্চাটা পৃথিবীতে এসেও কয়েকবার শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলো… তারপর থেমে গেল।
একটা সংসারের ঝামেলা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিলো একটা নিষ্পাপ প্রাণ।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো- এই পুরো ঘটনাটার সাক্ষী হয়ে থাকতে হলো দুইজন নার্স এবং একজন ডাক্তারকে। এরকম কত নিষ্ঠুর ঘটনার সাক্ষী হতে হয় আমাদের !
আমরা অনেক কিছুই বিশ্বাস করতে চাই না। মনে হয়, “নিজের সন্তানকে কেউ এমন করতে পারে?”
কিন্তু হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতরে ডাক্তাররা এমন অনেক বাস্তবতার সাক্ষী হন, যেগুলো বাইরে থেকে কল্পনাও করা যায় না।
রাগের এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত কখনো কখনো সারাজীবনের কান্না হয়ে যায়।
©ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা