08/10/2019
আজ ০৪/১০/২০১৯ ইং, শুক্রবার। দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে রহমতে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসূল (সঃ) মাহফিলে শ্রেষ্ঠ সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব লাভকারী, আল্লাহর দেয়া পুরস্কার পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী) হুজুর কেবলাজান আশেকে রাসূল ও মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশ্যে যে বাণী মোবারক প্রদান করেন
=================================
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লিয়ালা রাসূলিহিল কারিম।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা, আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
রাস্তা দুটি, একটি হলো আল্লাহ্তে পৌঁছার রাস্তা, আরেকটি হলো বাহ্যিক শরিয়তের বিধি-বিধান পালন করার রাস্তা। অতীতে যত নবী-রাসূল এসেছিলেন, প্রত্যেকেই মোরাকাবা করে আল্লাহ্কে পেয়েছিলেন। আল্লাহ্কে পেতে মোরাকাবা করতে হয়। মোরাকাবা করে নিজের ভিতরে যে দোষ-ত্রুটি আছে, সেগুলো দূর করতে হয়। ভিতরের দোষ দূর না করলে ক্বালবের আলোটা জ্বলবে না। ক্বালবে যদি আল্লাহর নূর প্রজ্বলিত করতে পারেন, তখনই আপনি মুমেন, আপনি ঈমানদার। আল্লাহ্ আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তাঁকে পাওয়ার জন্য। আর আল্লাহ্কে পাওয়ার জন্য আল্লাহ্ই দয়া করে যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। তাঁরাই মানুষকে আল্লাহ্কে পাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছিলেন। এটা কোনো বিজ্ঞানের আবিষ্কার নয়। তবে প্রত্যেক নবী-রাসূলই বৈজ্ঞানিক ছিলেন, তাঁরা ছিলেন আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানী। যেমন- হযরত আদম (আঃ) তাঁর বিজ্ঞান দিয়েই চাষাবাদ শিক্ষা করেছিলেন। দুনিয়াতে এসে গমের চাষ করেছিলেন, এই গম এখনও আছে, কিন্তু কোথা থেকে এসেছে আমাদের জানা নেই। একটা লাল ষাঁড় আর একটা কালো ষাঁড় আল্লাহ্ তাঁকে দিয়েছিলেন। এই দুটি ষাঁড় গরু দিয়েই চাষাবাদ শুরু হয়, চাষাবাদের এই বিজ্ঞানটি হযরত আদম (আঃ) শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শুধুমাত্র ধর্ম শিক্ষাই দেননি। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ে এক ভাই অপর ভাইকে হত্যা করে। জানেন তো ঘটনা?
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
এর পর থেকেই ধর্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। হযরত রাসূল (সঃ) হলেন ‘রাহমাতাল্লিল আলামিন’। তাঁর পরিবার পরিজনকে ‘আহলে বাইত’ বলা হয়। কিন্তু আহলে বাইতের প্রত্যেকেই শহিদ হয়েছিলেন মুসলমানের হাতে। মুসলমানরাই তাদেরকে হত্যা করেছে। এ বিষয়গুলো আমি লিখছি, লেখা প্রায় শেষ হওয়ার পথে। ছাপার পর আপনাদের হাতে দিলে তখন বুঝতে পারবেন, গোড়ার ইসলামটা কীভাবে বিপথগামী হয়েছে। আজকে বিশ্বের মধ্যে কত মত? ইসলামের মধ্যে কত পথ? কিন্তু ইসলামটা তো এক, এত দল কেন? দল বানিয়েছি আমরা আমাদের স্বার্থের জন্য। নিজেদের স্বার্থ পরিপূর্ণ করার জন্য দলের সৃষ্টি করেছি। আর এই দলের শিকার হয়েছেন হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)। উষ্ট্রের যুদ্ধে দশ হাজার মুসলমান মারা গিয়েছে। এর ভিতরে ‘আশারা মুবাশশারা’ যে দশ জন সাহাবীকে বেহেশতের শুভ সংবাদ দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে হযরত তালহা (রাঃ) ও হযরত যুবায়ের (রাঃ) এই দুজন হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ)-এর সাথে যোগ দিয়ে হযরত আলী (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলেন। হযরত আলী (রাঃ) তাঁদেরকে ডাক দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা কী ভুলে গেছ যে, হযরত রাসূল (সঃ) বলেছিলেন, একটা সময় আসবে, তোমরা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? হযরত আলী (রাঃ)-এর একথা শুনে তখন তাদের আল্লাহ্র রাসুল (সাঃ)-এর কথা মনে পড়েছিল। বেহেশতের শুভ সংবাদধারী দশ জনের মধ্যে ঐ দুজন যখন যুদ্ধ থেকে ফেরত যাচ্ছিলেন, তখন যে দলে তারা যোগ দিয়েছিলেন, সেই দলের লোকেরাই তাদেরকে হত্যা করেছিল।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
ইসলামটার বড় করুণ অবস্থা! আমরা বলি, হযরত রাসূল (সঃ) পরবর্তী কোনো খলিফা নির্বাচন করে যাননি। এই কথাটি সত্য নয়। হযরত রাসূল (সঃ) বিদায় হজ্বের পরে মদীনায় যাত্রাকালে পথিমধ্যে ‘গাদিরে খুম’ নামক স্থানে যখন আসলেন, তখন আল্লাহ্র রাসূল (সঃ)-এর কাছে ওহী আসলো, হে মোহাম্মদ (সঃ)! ইতিপূর্বে ধর্মের জন্য আপনি যা করেছেন, সবাইকে ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেন যে, আপনার পরে কে খলিফা হবে। যদি বলে না যান, তাহলে যা করেছেন, সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ)-এর সাথে ঐ কাফেলায় প্রায় সোয়া লাখ সাহাবী ছিল, তাঁরা উটের পিঠে চলাচল করতেন। উটের জিন একত্র করে একটা উঁচু টিলা তৈরি করে সেটার উপরে উঠে হযরত রাসূল (সঃ) ভাষণ দিয়ে বললেন, আমার পরে যারা আলী (রাঃ)-এর অনুসরণ করবে, তারা মুক্তি পাবে। আমার পরে তোমাদের খলিফা হবে আলী (রাঃ)। তখন সবাই এক বাক্যে মেনে নিলেন। কিন্তু মদীনায় আসার পরে হযরত রাসূল (সঃ)-এর ওফাতের চার দিন আগে আল্লাহ্র রাসূল (সাঃ) বললেন, কিরতাস, কিরতাস। আমাকে কাগজ কলম দাও, আমি গাদিরে খুমে যা বলেছি, তা লিখে দিয়ে যাই। আর তা না হলে এটা নষ্ট করে ফেলবে। তখন বিশিষ্ট সাহাবীদের মধ্যেও মুয়াবিয়াপন্থী ছিল। মুয়াবিয়া তো তখন সাহাবী। মুয়াবিয়াপন্থীরা বলল, আমাদের কাছে তো কোরআন আছে, আর লেখা লাগবে না। সুতরাং এই কোরআন দেখেই আমরা চলতে পারব। আবার কেউ কেউ বলল, রোগের কারণে আল্লাহ্র রাসূল (সঃ)-এর মাথা বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে এখন ভুল বলতেছেন। ঐ সময়ই নবী পরিবার আর ঐ কথা যারা বলেছে তারা দুই দল তরবারি নিয়ে নবীর সামনেই গন্ডগোল করা শুরু করে দিয়েছেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সঃ) ধমক দিয়ে বললেন, তোমরা আমার ঘর থেকে বেরিয়ে যাও। আর লিখে দেওয়া হলো না। এইগুলো আপনারা শুনেছেন কোথাও? আমিতো একটার পর একটা খুঁজে এই তথ্যগুলো বের করছি।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
যাদেরকে আমরা জলিল কদর সাহাবী বলি, উহুদের যুদ্ধে ঐরকম বিশিষ্ট সাহাবী হযরত রাসূল (সঃ)-কে নিচে রেখে উহুদের পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে লুকিয়েছিল। সেসময় হযরত রাসূল (সঃ) পিছন থেকে ডাকছিলেন, তারা ফিরেও তাকায়নি। কিন্তু ঐ চক্রতো আমাদের ধর্মটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর ধর্মের নাম কী? ইব্রাহিমী ইসলাম, তদ্রুপ হযরত মূসা (আঃ)-এর ধর্মের নাম মুসায়ী ইসলাম আর হযরত রাসূল (সঃ)-এর ধর্মের নাম জিজ্ঞেস করলে সবাই বলে দ্বীন ইসলাম, তাহলে মোহাম্মদী ইসলাম গেল কোথায়? এখনও দেখেন সারা বিশ্বে ‘মোহামেডান ল’ অর্থাৎ মোহাম্মদী আইন আছে, কিন্তু ‘মোহাম্মদী ইসলাম’ গেল কোথায়? চক্রান্তকারীরা এটাকে দ্বীন ইসলাম বানিয়েছে। সুতরাং গবেষণা করলে দেখা যাবে যে, চক্রান্ত করে দ্বীন ইসলাম বানিয়ে মোহাম্মদী ইসলামকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মোহাম্মদী ইসলামের জন্ম হয়েছে হেরা গুহা থেকে। হযরত রাসূল (সঃ) হেরা গুহায় মোরাকাবা করে আল্লাহ্র সাথে যোগাযোগ করে এই ধর্মটা পেয়েছিলেন। এটাই মোহাম্মদী ইসলাম। কিন্তু হেরা গুহা থেকে যে ইসলাম এসেছে, সেই মোহাম্মদী ইসলামটা হারিয়ে গেছে। কারবালায় ইমাম হোসাইন (রাঃ)-সহ হযরত আলী (রাঃ)-এর ৮ পুত্র সন্তান এবং নবী পরিবারকে নির্মমভাবে শহীদ করার পরে শুধুমাত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ)-এর পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদীন (রহঃ) বেঁচে ছিলেন, তখন তিনি ছোট ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর এবং সাহাবীদের মাধ্যমেই দেশে বিদেশে মোহাম্মদী ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
যেখানে সত্য, সেখানেই মিথ্যা। সত্যের চরম শত্রু মিথ্যা। অনেকে সত্যের সাইনবোর্ড লাগিয়ে মিথ্যাটাকেই সত্য প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু আপনারা সতর্ক থাকবেন, মিথ্যা যেন সত্যে পরিণত না হয়। আমি গত শুক্রবারেও বলেছি, আপনারা ঠিক মত তরিকার কাজ করেন, নিয়মিত আমল করেন, আর কারও উপর নির্ভর করবেন না। কারও উপর নির্ভর করলে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আপনারা জানেন যে, আমি আমার স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি ধর্মের নামে ট্রাস্ট করে দিয়েছি। ঐ ট্রাস্টের পরিচালক, মালিক হলো আমার ছেলে-মেয়ে সাত জন, ওরা চার ভাই ও তিন বোন। এই সাত জনই ট্রাস্টের পরিচালক। এই ট্রাস্ট তাঁরাই চালাবে। এই ট্রাস্ট থেকে যাদেরকে সাহায্য করার, তরিকা প্রচার করার, ধর্ম প্রচার করার সকল ব্যবস্থা তাঁরাই করবে। যে কোনো প্রয়োজনে তাঁরাই আপনাদেরকে সাহায্য করবে। অন্য কারো কাছে গিয়ে ভুল পথে যাবেন না। অনেকে বুজুর্গগিরি দেখিয়ে, জজবা দেখিয়ে, গল্প করে কামেল সাজে, এই লোকগুলো প্রতারক। আমি আমার মোর্শেদের দরবারে ১২ বছর ছিলাম। সাথে থেকে দেখেছি মানুষের কত রূপ। মানুষ বিপদে পড়লে ছুটে আসে মোর্শেদের কাছে। এসে তখন তরিকা নেয়, ‘বাবা’ ‘বাবা’ বলে ডাকে, বিপদ চলে গেলে আর মোর্শেদকে চেনে না। আমি আমার ছেলে-মেয়েদেরকে বলেছি, দেখো মানুষের অসুখ হলে হসপিটালে যায়, অসুখ না থাকলে তো আর হসপিটালে যায় না, যাবে? ভাল মানুষ কি হসপিটালে গিয়ে ভর্তি হয়? তরিকাটা এই রকমই, মানুষ বিপদে পড়লে বিপদ থেকে বাঁচার জন্য চতুর্দিকে দৌড়াদৌড়ি করে। এর মধ্যে একটা হলো পীরের নিকট যাওয়া। তবে আমাদের তরিকার পার্থক্য এই যে, এখানে আসলে মানুষের যেমন দুনিয়ার বিপদ দূর হয়, তেমনি বিশ্বাসের সাথে সাধনা করলে তার মুক্তির ব্যবস্থা হয় এবং দুনিয়াতেই সে আল্লাহ্র রাসূল (সঃ)-কে দেখতে পায়, আল্লাহ্কে দেখতে পায়। এই সিস্টেমটা আর কোথাও কি আছে? আমার জানা নেই। হযরত রাসূল (সঃ)-কে যে দেখা যায়, মানুষ তা বিশ্বাসই করতে চায় না। আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম আছে দাড়ি নাই, টুপি নাই, এরা নাকি আবার আশেকে রাসূল, রাসূল (সা.)-কে দেখে। তারা বলে, আমাদের চুল দাড়ি পেকে গেছে সাধনা করতে করতে, আমরা একদিনও স্বপ্নে নবীজিকে দেখলাম না। সুতরাং নবীজিকে পাওয়ার সঠিক পথে যদি আপনি যান, তবেই না আপনি নবীজিকে দেখবেন। আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, আল্লাহ্কে দেখা যায় না! আল্লাহ্কে দেখলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। আমি বলেছিলাম- আল্লাহকে দেখলে যদি ঈমান চলে যায়, তাহলে কি শয়তানকে দেখলে ঈমানদার হবে? তাদের এই কথার সাথে আমি একমত না। এর পরে আমার আল্লাহ্ দয়া করে আমাকে দীদার দিয়েছেন। আমরা শুরু করলাম আল্লাহ্র পরিচয় লিখতে। আল্লাহ্র পরিচয় লিখতে গিয়ে কোরআনের দলিল দিয়ে ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ নামে ৮ খ- তাফসীর লিখেছি। অথচ সেই আল্লাহ্কে নাকি দুনিয়াতে দেখাই যায় না, আল্লাহ নাকি নিরাকার। দেখলে ঈমান যাবে, তাহলে মুসলমানদের ঈমানটা কোথায়? এই যে ইসলামে যত হুজুর, যত খারিজী সবই কিন্তু এসেছে মুয়াবিয়ার থেকে। মুয়াবিয়া তো সারা জীবন তার পিতা আবু সুফিয়ানের সাথে থেকে আল্লাহ্র রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ‘ফতেহ মক্কা’-এর পরে তারা আত্মসমর্পণ করে বলে ‘আছলাম না’। এভাবে তারা মুসলমান হয়েছিল। যারা আল্লাহ্কে বিশ্বাস করে ইসলাম গ্রহণ করেছে, আর যারা অস্ত্র ছেড়ে ‘আছলাম না’ বলেছে তারা উভয় কি একইরকম মুসলমান? সুতরাং, পরবর্তীতে তাদের টার্গেটই ছিল যে, নবীর বংশটাকে শেষ করে দিবে। ইতিহাসে লিখেছে যে, মুয়াবিয়া ও মুয়াবিয়ার পিতা সারা জীবন হযরত রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যতটুকু না ইসলামের ক্ষতি করেছে, তারা মুসলমান হয়ে ইসলামের এর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে। যারা ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন এই বিষয়ে ইতিহাসে বিস্তারিত লেখা আছে। আমরা মুয়াবিয়ার ধর্ম করছি, না হযরত রাসূল (সঃ)-এর ধর্ম করছি? মুখে বলি হযরত রাসূল (সঃ)-এর ধর্ম, আসলে তো এটা মুয়াবিয়ার ধর্ম। এখানে এত ফেতনা, এত দলাদলি, তবুও আমি চেষ্টা করছি, জানি না কতটুকু পারব। বিষয়টা বের করে আপনাদের সামনে কোরআন ও হাদিসের দলিল দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করব। যদি আল্লাহ্ সুযোগ দেন, তাহলে আমরা এটা করতে পারব। আল্লাহ্র পরিচয় ইতিপূর্বে এভাবে জগতে তুলে ধরা হয়নি। কিন্তু আল্লাহ্ দয়া করে সাহায্য করেছেন, আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। আল্লাহ্র পরিচয় আমি লিখেছি আল্লাহ্র ভাষায়। কোরআনে আল্লাহ্ কোন নবীর সম্বন্ধে কী বলেছেন, তা কোরআনের দলিল দিয়ে, হাদিসের দলিল দিয়ে আমরা লিখেছি।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
হাদিস লেখা শুরু হয়েছিল উমর বিন আব্দুল আজিজের খেলাফতকালে। তিনি দেখলেন যেভাবে জাল হাদিস লেখা শুরু হয়েছে ধর্মে আর হাদিস থাকবে না। তখন তিনি এই হাদিস লেখার প্রচলন শুরু করলেন। যখন দেখল হযরত রাসূল (সঃ)-এর মূল হাদিস লেখা হচ্ছে, তখন তারা তাকেও মেরে ফেলল, তারা কি মুসলমান? সুতরাং ইসলামের উপর প্রচ- ঝড়। হাদিস শরীফে এসেছে যদি মুফতি ফতোয়া দেয়, তুমি তোমার ক্বালবকে জিজ্ঞেস করো। আমরা যদি ক্বালবের জিকিরটা চালু রাখতে পারি, ক্বালবই বলে দিবে মুফতির ফতোয়া ঠিক, না আমাদের ক্বালবেরটা ঠিক। মনোযোগ দিয়ে ক্বালবটাকে ধরেন, ক্বালবের জিকিরটা ঠিক করেন। ক্বালবের মধ্যে আলোটা জ্বালান, ঐ আলোতেই আপনি চলতে পারবেন। সারা দুনিয়ার পীরের পিছনে ঘুরে কোনো লাভ নেই, যদি আপনার ক্বালবে আলো জ্বালাতে না পারেন। ক্বালবে আল্লাহর নূর জ্বালাতে পারলে তবেই আপনি মুমেন। মনোযোগ দিয়ে তরিকার কাজ করেন, আর বেশি বেশি দরবার শরীফে আসবেন। আসলে শিখতে পারবেন। মোরাকাবা করলে আপনার যদি কাশফ খুলে যায়, অন্য কারো কাছে বলবেন না। আমার এখানে কাশফ খোলা লোক আছে, অন্তর্চক্ষু খুললে আপনি অনেক কিছু দেখবেন। সমস্যা হচ্ছে, দেখলে তা আর ধরে রাখতে পারে না, আরেকজনের কাছে বলার জন্য অস্থির হয়ে যায়। বললে এটা বন্ধ হয়ে যায়। আপনার পকেটে যদি কোটি টাকা থাকে, মানুষকে তা দেখিয়ে রাখবেন? তাহলে তো পকেটমার টাকা নিয়ে যাবে। আল্লাহকে পাওয়া কোটি কোটি টাকার চেয়েও অনেক বেশি। সুতরাং, আল্লাহর সাথে যোগাযোগ আপনার আছে, এটা যদি জানিয়ে দেন তাহলে এটা শেষ হয়ে যাবে। আমার বিপক্ষে অনেক কথা আছে, অনেক অপপ্রচার আছে। কিন্তু কেউ কোনোটা প্রমাণ করতে পারেনি। আমি চেষ্টা করছি সবগুলোরই জবাব দিতে। এই কারণে এখন চিন্তা করছি যে, যতটুকু পারি কিছু লিখে দিয়ে যাই। কারণ রাসূল (সঃ) লিখে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু একটি মহলের কারণে তিনি লিখে যেতে পারেননি।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
ঈদে মিলাদুন্নবী আসছে, আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হন, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করার জন্য। আল্লাহ্ যদি দয়া করে আমাদেরকে সাহায্য করেন, আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করব। আমিই বাংলাদেশ সরকারের নিকট প্রস্তাব দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী চালু করেছি। ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন, তখন রাষ্ট্রপতিকে একদল জুতা নিক্ষেপ করেছিল, টেলিভিশনে এগুলো দেখিয়েছিল। এখন ঈদে মিলাদুন্নবী বললে আর কি জুতা নিক্ষেপ করা হয়? এখন তো শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয়। এগুলো না জানার কারনেই এত ফেতনা। যেহেতু আমি ধর্মের সংস্কারের কাজ করি, যেগুলো বলি, না জানা কথাই বলি, কোরবানীর ঈদে সাত নামে গরু কোরবানী দেওয়া হয়। আপনি যদি নাও বলেন, ঐখানে হুজুর গিয়ে বলবে কার কার নামে কোরবানী হবে, আপনারা লিখে দেন। লিখে দিলে সাত নামে হুজুরেরা কোরবানী দেয়, সত্য নয় কি? হযরত ইব্রাহীম (আঃ) পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে কোরবানী করেছিলেন আল্লাহর নামে, নাকি হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর নামে? ঐখান থেকেই কোরবানী এসেছে। আমাদের কোরবানীটাও বন্ধ করার চক্রান্তহয়েছিল। দেব নারায়ণ মহেশ্বর নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে মামলা করেছিল যে, কোরবানী মুসলমানদের নয়, এটা হলো খ্রিষ্টানদের। সে দাবি করে হযরত ইসহাক (আঃ)-কে কোরবানী করা হয়েছিল, হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে নয়। এ কারণে কেস করেছে, এটা বন্ধ করতে। এখন যার কাছে কেস করেছে, সেও মুসলমান, এই লোক কীভাবে এটা বন্ধ করবে? সেও তো কোরবানী করে। তখন তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন-সহ বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনে যোগাযোগ করেছে, এ রকম একটা কেস এসেছে, এটার বিধানটা কী আমাকে আপনারা জানান। হুজুরেরা বলেছেন যে, এটা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। এই কথায় কি কেসের রায় দেওয়া যায়? এরপরে বিষয়টি পত্রিকায় আসে, তখন একটি পত্রিকা নিয়ে আমাদের অফিসে এসে তারা আলোচনা করছিল। এমন সময় শুনলাম পত্রিকায় লিখেছে কোরবানী নাকি খ্রিষ্টানদের, এটা নিয়ে কেস হয়ে গেছে। আমি শুনে বললাম, ঠিক আছে, এর জবাবটা এখনি আমি লিখে দিচ্ছি। লেখার পর তা আদালতে পাঠানো হলে আদালত দেব নারায়ণ মহেশ্বর-কে ৬ মাসের জেল এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা কিেছল। তাহলে আপনি যদি ধর্ম না জানেন, ধর্মটা রক্ষা করবেন কীভাবে?
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
চক্রান্তের শেষ নেই, আর এত বেশি ষড়যন্ত্র, এত বেশি জাল হাদিস ঢুকে গেছে যে, বলে শেষ করা যাবে না। আমি আমার ৮ খ- তাফসীরে একটি জাল হাদিসও দেইনি, সহি হাদিস দিয়ে, পবিত্র কোরআনের বাণী দিয়ে লিখেছি। আমি জানলাম কীভাবে কোনটা সহি হাদিস? পবিত্র কোরআনের বাণীর সাথে যে হাদিসটা মিলে সেটাই সহি হাদিস, আর যেটা কোরআনের বাণীর সাথে মিলে না, সেটাই জাল হাদিস। তাফসীর লিখতে গিয়ে সেগুলো আমি খুঁজে বের করেছি এবং প্রমাণও করেছি। আমি বুঝতে পারিনি যে, এত বড় তাফসীর হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত ৮ খ- হয়ে গেল। তবে আল্লাহ্ যদি দয়া করে, আপনি যদি ৮ খ- তাফসীর পড়েন এবং আমল করেন, আপনি নিজেই বুঝবেন যে, এটি সত্য না মিথ্যা। আল্লাহ্র বাণী পড়লে কান্না আসে, মহব্বত আসে। এটা বার বার পড়বেন, যতবার পড়বেন, দেখবেন ততো ব্যাখ্যা বের হচ্ছে। যদিও আমি বাংলায় লিখেছি, কিন্তু এর গভীর ব্যাখ্যা এর ভিতরে আছে।
সম্মানিত আশেকে রাসূলেরা,
আপনারা কখনও দলাদলিতে যাবেন না। দলাদলিতে জড়িয়ে পড়লে কূল-কিনারা পাবেন না। আল্লাহ্র রাসূল (সঃ) বলে গেছেন, অন্যান্য নবীর উম্মতদের মধ্যে ৭২ দল, আমার উম্মতদের মধ্যে হবে ৭৩ দল। একদল বেহেশতি, ৭২ দল জাহান্নামী। সকল দলেই আলেম থাকবে। সুতরাং সতর্ক থাকবেন, আর মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করবেন।