Land Solutions & Consultancy

Land Solutions & Consultancy আসসালামুয়ালাইকুম। বন্ধুরা,
এই পেজের মাধ্যমে আপনি জমির মালিকানা, দখল, সম্পত্তির সুষম বন্টনসহ সম্পত্তির সকল সমস্যার সমাধান করার সঠিক পরামর্শ পাবেন।
ইনশাআল্লাহ।

11/05/2025
02/05/2025

সম্পত্তি বেদখল হলে কি করবেন?

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই কম বেশী জানি। আসুন জেনে নেই বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সংক্ষিপ্ত ই...
26/04/2025

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই কম বেশী জানি। আসুন জেনে নেই বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস অতি প্রাচীন। এই ইতিহাসকে বিভিন্ন আমলে ভাগ করা হয়। আদি যুগ, হিন্দু বা বৌদ্ধ শাসনামল, মুঘল, পাঠান ও সুলতানী আমল ইত্যাদি। মূলত শেরশাহের শাসনামলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আদিযুগে সর্ব প্রথম ভূমির ব্যবহার শুরু হয়। আদিবাসি তথা হাজং, মুরং, কুকি, খাসিয়া, সাঁওতাল ইত্যাদি সম্প্রদায় খাদ্য চাহিদা মিটানোর তাগিদে বনজঙ্গল পরিস্কার করে চাষাবাদ করত এবং সেখানে দল বেধেঁ বসবাস করত। বসবাসের এই স্থানকে ‘‘পাড়া ’’ বলা হতো এবং পাড়ার প্রধানকে সরদার বা মুন্ডা বলা হতো। মুন্ডারা দলীয় সদস্যদের মধ্যে জমি বন্টন করে দিতেন এবং উৎপাদিত ফসলের কিছু অংশ মুন্ডাকে উপহার দেয়া হতো। প্রথমদিকে হিন্দু শাসনামলে এদেশে পরিবার ভিত্তিক যৌথ সমাজ ব্যবস্থা ছিল। তখন যে ব্যক্তি বা পরিবার জঙ্গল পরিস্কার করে জমি চাষবাদ করত তারা ভূমি দখলকার মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতেন। চাষী উৎপাদিত ফসলের সিংহভাগ ভোগ করত। রাজ্যের যিনি প্রধান থাকতেন তিনি মোট ফসলের একটা অংশ কর হিসেবে পেতেন।

সম্রাট শেরশাহের শাসনামলে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় যারা জঙ্গল পরিস্কার করে চাষাবাদের উপযোগী ভূমি তৈরী করতেন। তাদেরকে প্রজা স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে পাট্টা বা কবুলিয়ত পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। পাট্টা হল কোন ব্যক্তির জমি ভোগদখলের অধিকার পত্র। পাট্টার শর্তগুলো প্রজা মেনে নিয়ে যে সম্মতি পত্র দিতেন তাই কবুলিয়ত। পাট্টা ও কবুলিয়তের ভিত্তিতে চাষীরা জমির মালিকানা ও দখল প্রমাণের সুযোগ পায়। এ আমলে জমি জরিপের জন্য কানুনগো নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৭৬৫ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দিল্লির সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উরিষ্যার দেওয়ানী লাভ করেন। ছিয়াত্তরের মনমতরের কারণে রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সর্ব প্রথম ১৭৬৯ সালে একজন ইংরেজ রেভিনিউ সুপার ভাইজার নিয়োগ করা হয়। এরপর ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ভূমি রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনার জন্য সুপারভাইজারের স্থলে রেভিনিউ কালেক্টর নিয়োগ দেন। তিনি এ সময় ০৫ (পাঁচ) বছর মেযাদী পাঁচসালা বন্দোবসত্ম চালূ করেন। এতে নীলামকারীর অনুকূলে জমির বন্দোবসেত্মর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে অনেকেই জমিদারী হারান। তবে এ ব্যবস্থা রাজস্ব আদায়ে সহায়ক না হওয়ায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৭৭৭ সালে একবছর মেয়াদী সর্বোচ্চ নীলামকারীর অনুকূলে জমি বন্দোবসত্ম দেওয়ার প্রথা চালু করেন। এরপর ১৭৯০ সাল দশসালা বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু এ প্রথাও রাজস্ব আদায়ে সফলতার মুখ দেখেনি।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবসত্ম প্রথাচালূ করে প্রজাদের মালিকানা স্বত্ত্ব কেড়ে নেন। জমিদারগণকে দেওয়া হয় জমির মালিকানা স্বত্ত্ব। প্রজা জমি চাষ করে, জমিদারগণ খাজনা নিয়ে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়। এতে সরকারের সাথে প্রজার সম্পর্ক নষ্ট হলেও জমিদারের সাথে সরকারের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এক্ষেত্রে জমিদারগণ মধ্যস্বত্ত্ব ভোগের সুযোগ পান।

এরপর অনেকদিন পার হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে দুটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন নামক যুগান্তকারী আইনটি পাশ হয়। এ আইনের বলে জমিদারগণ জমিদারী হারান এবং প্রজাগন জমির মালিকানা স্বত্ত্ব লাভ করেন।

১৯৫০ সনে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন পাশের মাধ্যমে জমিদারী প্রথার বিলুপ্তির পর ভূমি রাজস্ব আদায় ও ভূমি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার রাজস্ব বিভাগ (Revenue Department) সৃষ্টি করে। তৎকালীন রাজস্ব বিভাগকে সহায়তা করার জন্য প্রাদেশিক সরকারের অধীনে বোর্ড অব রেভিনিউ নামে একটি উচ্চ পর্যায়ের বোর্ড গঠন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভূমি সংক্রান্ত সকল কার্যাদি সম্পাদনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে কমিশনার, জেলা পর্যায়ে কালেক্টর (জেলা প্রশাসক), মহকুমা পর্যায়ে মহকুমা প্রশাসক, থানা পর্যায়ে সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তহসিলদারগণ ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সনে এ মন্ত্রণালয়ের নামকরণ করা হয় ভূমি প্রশাসন এবং ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়।

১৯৭৫ সনে এই মন্ত্রণালয়ের পুনঃনামকরণ করে রাখা হয় আইন ও সংস্কার মন্ত্রণালয় যার দুইটি বিভাগ ছিল যথাঃ

(ক) আইন এবং সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

(খ) ভূমি প্রশাসন এবং ভূমি সংস্কার বিভাগ।

১৯৭৬ সনে এই মন্ত্রণালয়ের পুনঃনামকরণ করা হয় ভূমি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। ১৯৭৮ সনে পুনরায় পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় ভূমি প্রশাসন এবং ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়। ১৯৮২ সনে এই মন্ত্রণালয়ের নাম নতুনভাবে রাখা হয়। ভূমি সংস্কার আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৯৮৪ সালে পুনরায় এই মন্ত্রণালয়কে নামকরণ করা হয় ভূমি প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ০১/০৩/১৯৮৭ তারিখে নামকরণ করা হয় ভূমি মন্ত্রণালয়-যা এখনো বলবৎ আছে।

কার্যাবলী:
১. সরকারের পক্ষে ভূমির অধিকার ও স্বত্ব সংরক্ষণ;
২. ভূমি রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায় এবং ভূমি প্রশাসন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান;
৩. খাস জমি, অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা;
৪. ভূমি জরিপ এবং ভূমির নক্সা ও রেকর্ড প্রণয়ন, সংরক্ষণ এবং প্রকাশ;
৫. অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সীমানা চিহ্নিতকরণ ও সীমানা পিলার মেরামত ও সংরক্ষণ;
৬. সায়রাত মহালের (জলমহাল, বালুমহাল, পাথরমহাল, চিংড়ীমহাল ইত্যাদি) ব্যবস্থাপনা;
৭. ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল সংক্রান্ত কাযক্রম;
৮. ভূমি সংস্কার ও ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন।

আরও জানতে ভিজিট করুন:
Www.land.gov.bd এই ওয়েব লিংকে।

Address

Chandragonj West Bazar
Lakshmipur
3708

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Land Solutions & Consultancy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share