Bibekbangla

Bibekbangla শিকড়ের সন্ধানে। বিবেক বাংলা। একটি অন?

আমাদের কথা
বিবেকবাংলা একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল কিন্তু এটিকে আমরা এমনটি দেখছি না। বিবেক দিয়ে সাজানো সব লেখনির অভিপ্রায় এখানে। যেখানে বিবেকের ঘাটতি সেখানেই আমরা উপস্থিত আর বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ আর প্রত্যেক মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিবেককে জাগানোর। সমাজের সকল শ্রেনীর সকল পেশার সকল গোত্রের মানুষের কাছে আমরা বিবেক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি, ছিলাম আর থাকবো। হোক বিবেকের জয়, ফিরে আসুক মনুষ্য বিবেক-এটাই আমাদের পথচলা।
সম্পাদক, বিবেকবাংলা

দলীয় পুলিশ থেকে মুক্তির চেষ্টা চলছে : রংপুরে আইজিপি১৫ বছরে পুলিশ একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিলদূর্জয় রায়বাংলাদেশ পুলিশ...
10/01/2026

দলীয় পুলিশ থেকে মুক্তির চেষ্টা চলছে : রংপুরে আইজিপি
১৫ বছরে পুলিশ একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল

দূর্জয় রায়
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বীকার করেছেন যে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল, যার ফলে বাহিনীর ভেতরে নানামুখী বিচ্যুতি সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের মাধ্যমে অনেক সময় গণবিরোধী কাজ সংঘটিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, “গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। আমাদের মধ্যে নানা ধরনের বিচ্যুতি ছিল। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট মাসে যেসব দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী প্রাণ দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। এসব ঘটনার পর পুলিশের ওপর যে দায়ভার এসেছে, তা অত্যন্ত ভারী।”
আইজিপি আরও বলেন, পুলিশের ভেতরে থাকা লোভী ও দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, সদস্যদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং পেশাদারিত্বে ফেরানো—গত এক বছর ধরে সেই চেষ্টাই চলছে। “আমরা বলবো না শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই,”—যোগ করেন তিনি।

শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়—এমন বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন আইজিপি বাহারুল আলম। তিনি বলেন, “বিশ্বের কোথাও শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমাদের দেশে গত ১০–১৫–২০ বছরের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, প্রতি বছর সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে।”
তবে পুলিশের লক্ষ্য স্পষ্ট—“আমাদের চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। এটা আমাদের লক্ষ্য। আমরা পারফেকশনের দিকে এগোচ্ছি, যদিও বাস্তবতায় ব্যর্থতা ও দুর্বলতা থাকেই।”

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, “এই মৃত্যু জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দায় আমাদের ওপর এসেছে।”
তিনি জানান, খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “নির্বাচনের উপযোগী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তবে বাংলাদেশ পুলিশ একা নয়।”
তিনি জানান, নির্বাচনের দিন প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য, পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও নেভি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে।

ডেভিল হান্ট অপারেশন নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, “১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা আছে, রাজনৈতিক নেতারা বলছেন—আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, পুলিশ চেষ্টা করছে অবজেক্টিভলি কাজ করতে। যাদের নির্বাচন বা আইনশৃঙ্খলার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কেবল তাদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
“বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক মামলায় শত শত নাম যুক্ত করা হয়েছে, যাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমরা তাদের রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছি,”—বলেন তিনি।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সমাজের সমর্থন। পুলিশের মনোবল শক্ত রাখতে হবে।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোনো অপরাধী গ্রেপ্তার হলে যদি থানা ঘেরাও করা হয়, তাহলে কি আমি আইনশৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারবো?”
আইজিপি আরও বলেন, “আপনারা যদি অন্যায় দেখি আমাকে ধরবেন। কিন্তু ন্যায় কাজটা করতে দিলে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা, নিরাপদ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের অথরিটি প্রয়োজন।”
এর আগে আইজিপি বাহারুল আলম রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।

বিজিবি–বিএসএফের কড়া নজরদারিনো-ম্যান্স ল্যান্ডে মাজার জিয়ারত করতে পারলেন না বাংলাদেশি ভক্তরাদূর্জয় রায়কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী...
10/01/2026

বিজিবি–বিএসএফের কড়া নজরদারি
নো-ম্যান্স ল্যান্ডে মাজার জিয়ারত করতে পারলেন না বাংলাদেশি ভক্তরা

দূর্জয় রায়
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কড়া টহল ও নজরদারির কারণে নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশে অবস্থিত দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতে পারেননি বাংলাদেশি ভক্তরা। ফলে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই জিয়ারত থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম হতাশায় বাড়ি ফিরেছেন তারা।

প্রতিবছরের মতো শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মাজার জিয়ারত ও মাজার প্রাঙ্গণে মেলা বসে। ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় এ বছর বাংলাদেশি ভক্তদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত নারী-পুরুষ মাজার জিয়ারতে অংশ নেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্রখানা নাখারজান সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজারটি অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের মেইন পিলার নম্বর ৯৪১-এর সাব-পিলার ১এস থেকে ৫এস-এর মধ্যবর্তী জিরোলাইনের পাশে অবস্থিত।
তারা জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে আরব থেকে আগত দরবেশ কছিমুদ্দিন ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আস্তানা গড়েন। একপর্যায়ে এখানেই তার মৃত্যু হলে নির্জন ওই এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই সীমান্তের দুই পাড়ের ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি তার মৃত্যুবার্ষিকীতে মাজার জিয়ারত করে আসছেন।
মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি এ দিনটি দুই দেশের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মিলনমেলায় পরিণত হতো। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এ আয়োজন পরিচালনা করত।

নাখারজান সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৭৫) বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই ১০ জানুয়ারি দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজার জিয়ারত করতাম। কিন্তু এবার বিএসএফ কড়া পাহারা বসানোয় বিজিবি আমাদের যেতে দেয়নি। শৈশবকাল থেকেই আমি মাজার জিয়ারতে যেতাম। এবার মানতও ছিল, কিন্তু তা পূরণ হলো না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফিরে আসতে হয়েছে।’

একই গ্রামের আব্দুল জব্বার (৭০) বলেন, ‘যখন কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, তখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মাজারের আয়োজন হতো। বেড়া নির্মাণের পর মাজার পরিচালনার কর্তৃত্ব ভারতীয়দের হাতে চলে যায়। এত বছর আমরা জিয়ারত করেছি, কিন্তু এবার অনুমতি মেলেনি। মানত দিতে না পারায় খুব কষ্ট লাগছে। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল।’
ফুলবাড়ী থেকে আগত ভক্ত মনিরুজ্জামান সরকার (৬৫) জানান, বাংলাদেশে এই মাজারের ভক্তের সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি ভারতের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতাম, মতবিনিময় ও খাবার-উপহার আদান-প্রদান হতো। এবার সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।’

দরবেশ কছিমুদ্দিন মাজার জিয়ারত কমিটির সভাপতি ও ভারতের বাসিন্দা আব্দুল জলিল মুঠোফোনে বলেন, ‘বিএসএফের বাধার কারণে এবার বাংলাদেশি ভক্তরা মাজার প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে পারেননি। সকাল থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জিয়ারত শেষ করার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশি ভক্তরা না আসায় আমাদেরও খুব খারাপ লেগেছে। তাদের ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণ ফাঁকা ফাঁকা মনে হয়েছে।’

এ বিষয়ে সীমান্তে টহলরত লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন গংগারহাট বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দরবেশ কছিমুদ্দিনের মাজারটি ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশিদের সেখানে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএসএফ আগে থেকেই বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেছিল। সে কারণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়।’

কুড়িগ্রামে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যাদূর্জয় রায়কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে চোর সন্দেহে এক অজ্ঞাতনামা যুব...
10/01/2026

কুড়িগ্রামে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

দূর্জয় রায়
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে চোর সন্দেহে এক অজ্ঞাতনামা যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে ওই ইউনিয়নের ফারাজি পাড়া গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নহিজত যুবকের বয়স ২৫-২৬ বছর হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফারাজি পাড়া এলাকায় চুরি করতে আসেন বলে সন্দেহ করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধরে ফেলেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত যুবকের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ওই যুবক কারো বাড়িতে চুরি করতে গিয়েছিলো কিনা সেটাও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করছে।

অপহৃত কলেজছাত্রী এখনও উদ্ধার হয়নি, গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরাদূর্জয় রায় গেল বছর ২৮ অক্টোবর লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায...
10/01/2026

অপহৃত কলেজছাত্রী এখনও উদ্ধার হয়নি, গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্তরা

দূর্জয় রায়
গেল বছর ২৮ অক্টোবর লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তিস্তাপাড়ের ১৭ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থীকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি। অভিযুক্ত মোঃ রব্বানী (২৬) ও তার ছোট ভাই মোঃ আপেলকে (২৪) গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অপহৃতার পরিবার বারবার পুলিশের কাছে আশ্বাস পাচ্ছেন, “আমরা চেষ্টা করছি, খুব দ্রুত আপনার মেয়ে উদ্ধার হবে এবং আসামী গ্রেপ্তার হবে।” তবে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

অভিযুক্তরা লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের রতিপুর গ্রামের রোস্তম আলীর সন্তান।

পুলিশ জানায়, রব্বানী আগে ওই কলেজ শিক্ষার্থীকে টিউশন পড়াতেন। তিনি শিক্ষার্থীকে একাধিকবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর রব্বানী, তার ছোট ভাই আপেল এবং আরও তিন-চারজনের সহযোগিতায় মেয়েটিকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন।

মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন, “আমি কমপক্ষে ২০ বার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু প্রতিবার শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। কোনো বাস্তব ফলাফল পাইনি। আমার মেয়ে কোথায় আছে, বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেটা জানা নেই। পুলিশের কাছে কোনো সঠিক তথ্য পাচ্ছি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “অপহরণকারী রব্বানীর ছোট ভাই আপেল প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ জানলেও তাকে গ্রেপ্তার করছে না। শুধু আপেলকে গ্রেপ্তার করলেই রব্বানীর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব এবং আমার মেয়েকে উদ্ধার করা যাবে। পুলিশ এ বিষয়ে মারাত্মকভাবে অবহেলা করছে।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমরান আলী বলেন, “আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। র্যা বকেও মামলার বিস্তারিত জানিয়েছি। অভিযুক্ত অপজহরণকারী খুবই ধূর্ত হওয়ায় নিজের নামে কোন ব্যবহার করছেন না। অপহৃতাও ফোন ব্যবহার করছেন না। তবে অভিযুক্ত আপেলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করলে রব্বানীর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, “আমরা অপহৃতাকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সচেষ্ট। মামলায় সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সমাধান হবে।”

সেতু নির্মাণ হলেও বিএনপি নেতার বাধায় বন্ধ সংযোগ সড়কের কাজচলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের মানুষদূর্জয় রায়কুড়িগ্রামের র...
10/01/2026

সেতু নির্মাণ হলেও বিএনপি নেতার বাধায় বন্ধ সংযোগ সড়কের কাজ
চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের মানুষ

দূর্জয় রায়
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বহুদিনের প্রত্যাশিত একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাধায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ঘটনাটি রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণ শেষে সংযোগ সড়ক তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাইডওয়ালের খুঁটি স্থাপন করেছিল। কিন্তু পরে স্থানীয় বিএনপি নেতার চাপের মুখে ঠিকাদার সেই খুঁটি তুলে ফেলতে বাধ্য হন। অভিযোগ রয়েছে, যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মন্ডল সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার প্রভাব বেশি হওয়ায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করতে সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মন্ডল (৬৫) বলেন, “সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এত টাকার সেতু যদি ব্যবহারই করতে না পারি, তাহলে লাভ কী?”

ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক শফিকুল ইসলাম (৪৫) জানান, তিনি কর্তিমারী বাজার থেকে বাওয়াইরগ্রাম পর্যন্ত গাড়ি চালান। এতে জনপ্রতি ভাড়া পান ১০ টাকা। “সংযোগ সড়ক থাকলে চুলিয়ারচর পর্যন্ত যাওয়া যেত। তখন ভাড়াও দ্বিগুণ হতো। সড়ক না হওয়ায় সেতু চালু হচ্ছে না, আয় কমে গেছে, যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে,” বলেন তিনি।

স্কুলশিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম জানায়, সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সিঁড়ি বেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। “সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালু করা দরকার,” বলে সে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সড়কে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় জামালপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেলানদহ এমসিই এমবিই জেভী। এর স্বত্বাধিকারী সামসুদ্দিন হায়দার। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮০ টাকা। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় নির্মাণ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে।

ঠিকাদার সামসুদ্দিন হায়দার জানান, সেতু নির্মাণকালে যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মন্ডলসহ কয়েকজন জমির মালিকানা দাবি করে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। “সেতু নির্মাণের স্বার্থে শাহাজাহান মন্ডলকে ৪ লাখ টাকা ও ছককু আলীকে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া সড়কসংলগ্ন একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একটি আধা-পাকা ঘর নির্মাণ করে দিতে হয়েছে। নির্মাণকালে ১০–১৫ লাখ টাকার মালামালও চুরি হয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে আমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গেলেও আবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। বিএনপি নেতা পুনরায় জমির ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। একদিকে এলজিইডি দ্রুত কাজ শেষ করতে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বাধা—আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”

এ বিষয়ে যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মন্ডল বলেন, “সংযোগ সড়কের জায়গাটি আমাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। প্রায় এক বিঘা জমি সড়কের আওতায় পড়েছে। তাই ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাইছি। ক্ষতিপূরণ পেলে আমার কোনো আপত্তি নেই।” ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ক্ষতিপূরণ পেলে কি আমি কাজ বন্ধ করে দিতাম?”

রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মনছুরুল হক জানান, উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। “চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষকনকনে ঠান্ডায় ফসলের মাঠে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না কৃষক-শ্রমিকরাদ...
10/01/2026

অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ
কনকনে ঠান্ডায় ফসলের মাঠে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না কৃষক-শ্রমিকরা

দূর্জয় রায়
গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাঞ্চলে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে গ্রামের মানুষ খড় ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন। শীতের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। দারিদ্র্য, পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাব এবং প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় এসব এলাকার মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা ফসলের মাঠে কাজ করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন। দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমজীবীরাও জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে শীতের তীব্রতা বেশি থাকছে। এর সঙ্গে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গঙ্গাদাসপুর গ্রামের কৃষক রতিন চন্দ্র দাস (৬৫) জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এলাকায় কনকনে ঠান্ডা বিরাজ করছে। শীত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে যাবে। খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করে আর কতদিন টিকে থাকা যায়?”
তিনি আরও বলেন, “ফসলের জমিতে একেবারেই কাজ করতে পারছি না। এক ঘণ্টাও টিকে থাকা যাচ্ছে না। ঠান্ডার কারণে কৃষিকাজ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের ভ্যানচালক আক্কেল আলী (৫৫) জানান, সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে বাইরে বের হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আগের তুলনায় আমার আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঠান্ডার কারণে বেশিক্ষণ ভ্যান চালাতে পারি না।”
পূর্বের বছরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আগেও শীত ছিল, কিন্তু এত দীর্ঘ ছিল না। রোদ থাকলে শীতের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা যায়। কিন্তু এবার রোদ নেই, শুধু শীত।”

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের আমিনা বেওয়া (৬২) জানান, ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে রাত ও সকাল অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “ক্ষুধা আর এই কনকনে ঠান্ডা একসঙ্গে সহ্য করা যায় না। প্রয়োজন মতো গরম কাপড় নেই। তাই সকাল ও রাতে বাড়িতে খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করছি।”

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর চর জোরগাছ এলাকার দিনমজুর মেসের আলী (৫৫) বলেন, শীত তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ঠান্ডার কারণে সকালে ঘর থেকে বের হতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় আমরা ঘরেই খড় জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি।”

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিসবাড়ি গ্রামের কৃষিশ্রমিক সবিতা রাণী (৩৩) জানান, ঠান্ডা উপেক্ষা করেই তাঁকে ফসলের মাঠে কাজ করতে হয়, তবে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, “কনকনে ঠান্ডা ভীষণ কষ্ট দেয়। কাজ করতে বাইরে যেতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু দারিদ্র্য আমাকে বাধ্য করে।” তিনি জানান, অনেক সময় মাঠেই খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে হয়।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদী তীরবর্তী শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষক আবেদ আলী (৫০) জানান, শৈত্যপ্রবাহে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মাঠে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না বলে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। এক ঘণ্টা থাকলেই খড় জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে হয়।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শীত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি, গাইবান্ধায় ১১ ডিগ্রি এবং ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় পুরো অঞ্চল ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল এবং সূর্যের দেখা মেলেনি।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ ও আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জানুয়ারি মাসজুড়ে এমন আবহাওয়া থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “মাঝেমধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ খুব একটা থাকবে না।”
তিনি আরও জানান, হিমালয় পর্বতের নিকটবর্তী হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হয়।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনাএকাধিক পতাকা বৈঠকে পরিস্থিতি শান্ত, নির্মাণকাজ সাময়িক ...
09/01/2026

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা
একাধিক পতাকা বৈঠকে পরিস্থিতি শান্ত, নির্মাণকাজ সাময়িক স্থগিত

দূর্জয় রায়
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তে জিরো লাইনের সন্নিকটে ভারতীয় অংশে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করাকে কেন্দ্র করে আবারও বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নির্মাণকাজ শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একাধিক দফা বিজিবি–বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিকেলের পর আবারও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দা, কুড়াল, কোদাল, কাস্তে ও কাঠের লাঠি হাতে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান নেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবারও দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর শুক্রবার সকালেও একই ইস্যুতে সীমান্ত এলাকায় লোকজন জড়ো হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে জিরো লাইনের কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুরের দিকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১৩ জানুয়ারি সড়ক নির্মাণ ইস্যুতে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, পতাকা বৈঠকে বিজিবির তীব্র প্রতিবাদের মুখে আপাতত সড়ক নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে বিএসএফ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট–দিনহাটা পাকা সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কটি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খলিশাকোটাল এলাকায় বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি, সীমান্ত পিলার নম্বর ৯৩৪ থেকে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ গজ দূরত্বে।
বিজিবির দাবি, এই সড়ক নির্মাণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী, জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো দেশই স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না।

খলিশাকোটাল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা কোরবান আলী (৬৫) বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের পরও গোপনে বিএসএফ সড়ক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে সীমান্তে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে বিজিবির সঙ্গে একত্রিত হয়ে সীমান্তে অবস্থান নেয়। বিজিবি আমাদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে, তাই আমরা শান্ত রয়েছি। তবে ১৩ জানুয়ারির পতাকা বৈঠকের পরও যদি বিএসএফ নির্মাণকাজ বন্ধ না করে, তাহলে আমরা আবারও প্রতিবাদে নামবো।”

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু তাহের বলেন, “শুক্রবার সকালে সীমান্তের জিরো লাইনে বিএসএফের সঙ্গে আমাদের শান্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আপাতত তারা সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে। আমরা সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।”

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “স্থানীয় লোকজনকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

রংপুরে হিমেল বাতাসে ঠান্ডার প্রকোপ তীব্রচরম দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষদূর্জয় রায়শুক্রবার সকাল থেকে রংপুর বিভাগজুড়ে কুয়াশার...
09/01/2026

রংপুরে হিমেল বাতাসে ঠান্ডার প্রকোপ তীব্র
চরম দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

দূর্জয় রায়
শুক্রবার সকাল থেকে রংপুর বিভাগজুড়ে কুয়াশার ঘনত্ব কিছুটা কমলেও কনকনে ঠান্ডার তীব্রতা কমেনি। কোথাও কোথাও মাঝে মাঝে সূর্যের দেখা মিললেও তার রোদে উষ্ণতা নেই বললেই চলে। বরং হিমেল বাতাস বইতে থাকায় ঠান্ডার অনুভূতি আরও বেড়েছে। এতে মানুষজন বেশি কাবু হয়ে পড়ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, গঙ্গাধর, জিঞ্জিরাম, ঘাঘট, রত্নাইসহ রংপুর অঞ্চলের ২০টির বেশি নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ওপর। খোলা পরিবেশ ও নিরবচ্ছিন্ন হিমেল বাতাসের কারণে হাজারো চরবাসী সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় রংপুর অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আরও কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা টানা এই নির্মম শীত থেকে দ্রুত মুক্তির আশায় আছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ ডিগ্রি, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধায় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কয়েক দিন ধরে রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে সূর্যের দেখা খুব কম মিলেছে। হালকা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির পড়েছে এবং ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে সড়ক, মাঠ ও নদীতীর। এই দীর্ঘস্থায়ী শীত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার পাশাপাশি কৃষি ও গবাদিপশুর ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ।
নদীতীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে শহরের ভাসমান মানুষ এবং তিস্তার চর ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো অমানবিক জীবনযাপন করছে। শিশু, বৃদ্ধ ও আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চর কড়াই বরিশাল এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম (৬৫) বলেন,
“আমাদের বাড়ি নদীর বাঁকে। শোঁ শোঁ শব্দ করে হিমেল বাতাস ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এভাবে থাকা খুব কষ্টকর। রাতে ঘুমাতে পারি না। এই ঠান্ডায় বাইরে যাওয়া অসম্ভব। আমাদের গরম কাপড়ও নেই। আমাদের কষ্ট কেউ বোঝে না।”
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধন এলাকার দিনমজুর শাফিয়ার রহমান (৬০) একই ধরনের কথা জানান। তিনি বলেন, “সকাল আর রাত খুব বেশি ঠান্ডা লাগে। এই প্রচণ্ড শীতে সর্দি-কাশিতে ভুগছি। ঘরের ছোট শিশুদের অসুস্থতাও বেড়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সূর্য দেখা গেলেও তাতে কোনো উষ্ণতা নেই। কুয়াশা নেই ঠিকই, কিন্তু ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাইরে বেশিক্ষণ থাকা খুব কঠিন।”

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনে রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৯ থেকে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে এবং তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “দিন ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি বাড়তে বা কমতে পারে। কোথাও কোথাও দিনে ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। জানুয়ারি মাসে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।”

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“মাঝে মাঝে রোদ ওঠায় কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন। তবে ঠান্ডার তীব্রতা এখনও পুরোপুরি কমেনি। বর্তমানে মাঠে ভুট্টা, আলু, বোরো বীজতলা, সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি রয়েছে। এই সময়ে এসব ফসলের নিয়মিত পরিচর্যা ও নিবিড় তদারকি অত্যন্ত জরুরি।”

09/01/2026

রংপুরের ছয় আসনে ভোটার বেড়েছে ১,২৮,৬৩৯জন
তরুণ ভোটেই নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সমীকরণ

দূর্জয় রায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর জেলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভোটার তালিকার সর্বশেষ চিত্র। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার মোট ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৩৯ জন। নতুন ভোটারদের বড় অংশই তরুণ, যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ নির্ধারণে তরুণ ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠছেন।
এই বাস্তবতায় প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশলের কেন্দ্রে এখন তরুণ ভোটার। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা—এই বিষয়গুলো ঘিরেই গড়ে উঠছে নির্বাচনী প্রচারের ভাষা ও বার্তা।

রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার ছিল ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৩১০ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ২৩ জন।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ছয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০১ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৪১ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩১ জন। অর্থাৎ এই সময়ে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও বেড়েছে ৮ জন, যা ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের ইঙ্গিত দেয়।

ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি করপোরেশন) আসনে ভোটার বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই আসনে মোট ভোটার বেড়েছে ৪২ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৮ হাজার ২৬৯ জন, নারী ভোটার ৮ হাজার ২৫৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১৩ হাজার ১৩৩ জন, নারী ১৩ হাজার ১৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৩৭৪ জন, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জনে।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসনেও ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তারাগঞ্জ উপজেলায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৪ হাজার ১৯৩ জন এবং নারী ভোটার ৩ হাজার ৯৯৬ জন। বদরগঞ্জ উপজেলায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৭ হাজার ৬৩৫ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৩২৩ জন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭২ জন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জনে।

রংপুর-৩ (সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের আংশিক এলাকা) আসনে এবার ভোটার সংখ্যা কমেছে। সীমানা পুনর্গঠনের ফলে সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড রংপুর-১ আসনে যুক্ত হওয়ায় এই আসনে ভোটার হ্রাস পেয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলায় পুরুষ ভোটার কমেছে ২ হাজার ৫০৫ জন, তবে নারী ভোটার বেড়েছে ৭৬৯ জন। সিটি করপোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরুষ ভোটার কমেছে ১৬ হাজার ৬১৫ জন এবং নারী ভোটার কমেছে ৫ হাজার ২৩১ জন। তবে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার বেড়েছে ২ জন। এছাড়া ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৯৮৬ জন এবং নারী ভোটার ৪৮৯ জন রয়েছেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ৩২৮ জন। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৩ জনে।

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে পীরগাছা উপজেলায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৮ হাজার ১৬ জন, নারী ৮ হাজার ১৭৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। কাউনিয়ায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং নারী ৬ হাজার ৯১৯ জন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১৩ হাজার ৬৪০ জন এবং নারী ভোটার ১৪ হাজার ৮৯৮ জন। মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ১১ হাজার ৪০৪ জন এবং নারী ভোটার বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জনে।

রংপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় এবার ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটারদের অধিকাংশই তরুণ, যারা এবার প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”

রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অমল চন্দ্র সরকার (৭০) জানান, এই তরুণ ভোটাররাই রংপুরের ছয়টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। তরুন ভোটারদের অধিকাংশই শিক্ষিত। তারা প্রার্থী নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। রংপুরের সার্বিক উন্নয়ন যার মাধ্যমে হবে তরুন ভোটাররা সেদিকেই ঝেুলে পড়তে পারেন।

রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার নতুন ভোটার ও কলেজ শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম (১৯) জানান,’ আমি ভোটার হয়েছি এবং প্রথমবার নির্বাচনে ভোট দিবো। আমি জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখছি রংপুর উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা কোনতিনই রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেননি। এবার এমন প্রার্থী নির্বাচন করবো যার মাধ্যমে উন্নয়ন বৈষম্য এই অভিশাপ থেকে রংপুরকে মুক্তি দিতে পারবে।’

রংপুর-৩ আসনভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রানীদূর্জয় রায়আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাম...
09/01/2026

রংপুর-৩ আসন
ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রানী

দূর্জয় রায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী (৩৩)। রংপুর-৩ আসনের অলিগলি, হাটবাজার, শ্রমিকপাড়া আর ছিন্নমূল মানুষের বসতিতে দিনরাত ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কথা বলছেন—শুনছেন তাদের কষ্ট, আশা আর না–পাওয়ার গল্প। এই সরল উপস্থিতিই ধীরে ধীরে তাকে আলাদা করে তুলেছে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে।

বিশেষ করে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, ছিন্নমূল মানুষ, গৃহকর্মী ও সাধারণ নারীদের কাছে রানী এখন এক পরিচিত নাম। খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে তার এক ধরনের আত্মিক টান তৈরি হয়েছে। কেউ তাকে ডাকেন ‘রানী আপা’, কেউ বলেন ‘আমাদের মানুষ’।

রানী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রংপুর-৩ আসন (রংপুর সদর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের আংশিক এলাকা) থেকে। এর আগেও তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে স্বতন্ত প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এবার ঈগল দলীয় প্রতীক হয়ে যাওয়ায় হরিণ অথবা মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের আরও পাঁচজন প্রার্থী। রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৩ জন। রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আনোয়ারা ইসলাম রানী পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট। ভোটের ফলাফল যাই হোক, ওই নির্বাচনে প্রান্তিক মানুষের সমর্থনে তার উত্থান রংপুরের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, “আমি কোনো ক্ষমতার জোরে নয়, কোনো দলের ছায়ায় নয়—শুধু মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস আর ন্যায়ের শক্তি নিয়েই এগোতে চাই। অবহেলিত মানুষের পাশে থাকাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করতে এসেছি সুবিধাভোগী হতে নয়। এসেছি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য। অবহেলিত কণ্ঠ যেন কেউ রোধ করতে না পারে—এই লড়াই সেই কারণেই। আমার কোনো সংসার নেই, কোনো পিছুটান নেই। তাই আমার পুরো সময়, শক্তি আর দায়বদ্ধতা আমি রংপুর-৩ আসনের মানুষের জন্যই দিতে চাই।”
রানীর ভাষায়, “এই সংগ্রাম আমার ব্যক্তিগত নয়। এটি একটি মানবিক দায়, একটি ন্যায়ের আন্দোলন। কৃষক, শ্রমিক, নারী, তরুণ, বয়স্ক মানুষ, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সম্মান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমার এই পথচলা।”

নগরীর আলমনগর এলাকার মুদির দোকানদার খলিলুর রহমান (৫৫) বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের হয়েও আনোয়ারা ইসলাম রানী যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। তিনি সবসময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকেন। গতবার আমি তাকে ভোট দিয়েছিলাম। তিনি আসলে জিতেছিলেন, কিন্তু ভোট চোরেরা তাকে জিততে দেয়নি। এবারও আমরা তার পাশেই থাকবো।”

নগরীর মডার্ন এলাকার গৃহকর্মী শাবানা বেগম (৪৫) বলেন, “রানী আপাকে আমার খুব ভালো লাগে। তিনি সবসময় আমাদের কথা বলেন। আমাদের কষ্ট বোঝেন। গতবার তাকে ভোট দিয়েছিলাম, এবারও দিবো। আমাদের এলাকায় কয়েকজন অসুস্থ হলে তিনি নিজে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন।”

রংপুর নগরীর সমাজসেবক ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, রংপুর-৩ আসনের রাজনীতিতে আনোয়ারা ইসলাম রানী এখন কেবল একজন প্রার্থী নন—অনেক প্রান্তিক মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন সাহস, প্রতিবাদ আর মানবিক রাজনীতির প্রতীক। ধীরে ধরে তার পথচলা শক্তিতে পরিনত হচ্ছে। সাধারন মানুষ তার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি সৃষ্টি করছেন। মানুষজন তাকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। এ আসনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Address

Roypara
Lalmonirhat
5500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bibekbangla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share