25/01/2026
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন ৪০ বছর (৬১০ খ্রিস্টাব্দ, রমজান মাসের শেষ দিকে, সম্ভবত লাইলাতুল কদরের রাতে), তখন তিনি প্রায়ই মক্কার কাছে জাবালে নূর (নূর পর্বত) এর হেরা গুহায় নির্জনে ধ্যান-চিন্তা করতে যেতেন। গুহাটি ছোট, কিন্তু শান্ত ও উচ্চস্থানে। তিনি সেখানে খাবার-পানি নিয়ে কয়েকদিন থাকতেন, আল্লাহর ইবাদত ও সৃষ্টির রহস্য নিয়ে ভাবতেন।
এক রাতে, হঠাৎ ফেরেশতা জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হলেন। জিবরাঈল (আ.) তাঁকে জড়িয়ে ধরে খুব জোরে চেপে ধরলেন এবং বললেন:
اقْرَأْ
(ইকরা’ – পড়ো!)
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন:
مَا أَنَا بِقَارِئٍ
(আমি তো পড়তে জানি না।)
জিবরাঈল (আ.) আবারও জোরে জড়িয়ে ধরে বললেন: اقْرَأْ
নবীজি একই উত্তর দিলেন।
তৃতীয়বার জিবরাঈল (আ.) জড়িয়ে ধরে বললেন: اقْرَأْ
এবার নবীজি ভয়ে ও অবাক হয়ে বললেন: আমি কী পড়ব?
তখন জিবরাঈল (আ.) প্রথম পাঁচ আয়াত নাজিল করলেন (সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত):
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
(অর্থ: পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে জমাট রক্ত থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়ো, আর তোমার রব মহান দানশীল। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।)
এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর নবীজি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলেন। গুহা থেকে দ্রুত নেমে বাড়ি ফিরে খাদীজা (রা.)-কে বললেন: “আমাকে ঢেকে দাও, আমাকে চাদরে জড়িয়ে দাও!” তিনি কাঁপছিলেন। খাদীজা (রা.) তাঁকে শান্ত করে বললেন: আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমান করবেন না, আপনি তো সত্যবাদী, আমানতদার, দরিদ্রদের সাহায্যকারী...
পরে খাদীজা (রা.) তাঁকে ওয়ারাকা বিন নাওফালের কাছে নিয়ে গেলেন, যিনি বললেন: এটা তো সেই নামুস (জিবরাঈল) যিনি মূসা (আ.)-এর কাছে এসেছিলেন। আপনি নবী!
এরপর কিছুদিন ওহী বন্ধ থাকল (ফাতরাতুল ওহী), নবীজি খুব দুঃখ পেলেন। তারপর আবার ওহী শুরু হলো, এবং ২৩ বছর ধরে ধাপে ধাপে পুরো কুরআন নাজিল হলো।
এই ঘটনা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বিস্তারিত বর্ণিত আছে।
আরও কোনো নির্দিষ্ট অংশের ঘটনা জানতে চান? যেমন—শেষ আয়াত নাজিল, বা মদীনায় নাজিল হওয়া আয়াতের কোনো ঘটনা? বলুন ইনশ