Sohan 2.0

Sohan 2.0 মানুষ মানুষের জন্য

11/07/2026

নিজের মূল্য নিজে না বুঝতে পারলে, পৃথিবী আপনাকে মূল্যহীন ভেবে বসে থাকে।

৬ বিশ্বকাপ খেলে ৬ বিশ্বকাপে গোল করা খেলোয়াড় একমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
24/06/2026

৬ বিশ্বকাপ খেলে ৬ বিশ্বকাপে গোল করা খেলোয়াড় একমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

 #স্ক্রিনশট২রাত তখন পৌনে তিনটা। চারদিকের নিঝুম নীরবতা ভেঙে অনন্যার ফোনের স্ক্রিনটা হঠাৎ জ্বলে উঠল। একটা অচেনা নম্বর থেকে...
18/06/2026

#স্ক্রিনশট২
রাত তখন পৌনে তিনটা। চারদিকের নিঝুম নীরবতা ভেঙে অনন্যার ফোনের স্ক্রিনটা হঠাৎ জ্বলে উঠল। একটা অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ এসেছে। কোনো লেখা নেই, শুধু একটা **স্ক্রিনশট** পাঠানো হয়েছে।
অনন্যা ছবিটা জুম করতেই ভয়ে ওর শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ওটা একটা ইনস্টাগ্রাম লাইভ ভিডিওর স্ক্রিনশট। কিন্তু ভয়ের কারণ লাইভটা ছিল না, ছিল তার ব্যাকগ্রাউন্ড। লাইভে যে মেয়েটি বসে আছে, তার ঠিক পেছনের জানালার কাচে আবছা একটা মুখোশ পরা মুখ দেখা যাচ্ছে! আর সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো—মেসেজটার নিচে একটা টাইমার কাউন্টডাউন হচ্ছে। আর মাত্র ৩০ মিনিট বাকি!
অনন্যা আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে গ্রুপ কলে ওর বাকি তিন বন্ধুকে যুক্ত করল—**রাইসা**, **মেহজাবিন** আর **আবির**।
# # # রহস্যের শুরু
"তুই নিশ্চিত এটা কোনো রসিকতা নয়?" আবিরের গলায় ঘুম জড়ানো সন্দেহ।
"ভালো করে দেখ আবির!" অনন্যা স্ক্রিনশটটা গ্রুপে পাঠিয়ে দিল। "এই মেয়েটা আমাদের ইউনিভার্সিটির জুনিয়র সাফিয়া। আর পেছনের এই জানালাটা... এটা ওদের হলের পেছনের সেই পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের!"
রাইসা ছবিটা খুব খুঁটিয়ে দেখছিল। ও প্রযুক্তির বিষয়ে বেশ পারদর্শী। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ও বলে উঠল, "বন্ধুরা, এটা কোনো রসিকতা না। সাফিয়ার ফোন হ্যাক করা হয়েছে। কেউ দূর থেকে ওর ক্যামেরা অন করে এই লাইভটা দেখছে। আর এই টাইমারটা হলো কোনো ডিজিটাল লক বা বোমার কাউন্টডাউন। আমাদের এখনই ওখানে যেতে হবে।"
মেহজাবিন স্বভাবগতভাবে একটু ভীতু, কিন্তু বন্ধুদের বিপদে ও কখনো পিছিয়ে যায় না। ও ফিসফিস করে বলল, "কিন্তু রাত তিনটেয় ওই পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে যাব? পুলিশকে জানাব না?"
"পুলিশ আসতে আসতে ৩০ মিনিট পার হয়ে যাবে। যা করার আমাদের নিজেদেরই করতে হবে," অনন্যার গলায় এখন সাহসের দৃঢ়তা।
# # # মধ্যরাতের অভিযান
চার বন্ধু দ্রুত তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। আবির ওর মোটরবাইকটা নিল, আর তিন মেয়ে উঠল একটা স্কুটিতে। ফাঁকা, অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে ওরা যখন পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের সামনে পৌঁছাল, তখন টাইমারের আর মাত্র **১৫ মিনিট** বাকি।
কোয়ার্টারটা কুয়াশা আর ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা ছিল। চারপাশটা দেখতে পুরো ভৌতিক সিনেমার মতো লাগছিল। ভাঙা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই একটা তীব্র পচা গন্ধ ওদের নাকে এল।
"সবাই সাবধানে থেকো," আবির একটা লোহার রড হাতে নিয়ে সবার আগে আগে চলল। মেহজাবিন ভয়ে অনন্যার হাত শক্ত করে ধরে রাখল।
হঠাৎ ওপরের তলা থেকে একটা মৃদু গোঙানির আওয়াজ পাওয়া গেল। রাইসা ওর ল্যাপটপে সাফিয়ার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা করছিল। ও চেঁচিয়ে উঠল, "ওপরের বাঁ দিকের ঘরটা! সিগন্যাল ওখানেই সবচেয়ে বেশি!"
# # # থ্রিল আর চরম মুহূর্ত
ওরা যখন ওপরে পৌঁছাল, করিডোরের শেষ মাথার একটি ঘরের দরজা হালকা খোলা ছিল। ভেতরে একটা চেয়ারে সাফিয়াকে বেঁধে রাখা হয়েছে, আর মুখে টেপ আঁটা। সাফিয়ার ঠিক সামনে একটা ল্যাপটপ রাখা, যার স্ক্রিনে লাল রঙে সময় কমছে—**৩ মিনিট ২০ সেকেন্ড**।
হঠাৎ মেহজাবিন চিৎকার করে উঠল, "আবির, পেছনে!"
অন্ধকার থেকে একটা লম্বা, কালো মুখোশ পরা লোক ধারালো অস্ত্র হাতে আবিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আবির চট করে সরে না গেলে মস্ত বড় বিপদ হতো। হাতের রড দিয়ে আবির আঘাতটা আটকাল, কিন্তু লোকটা অনেক শক্তিশালী ছিল। সে আবিরকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল।
"অনন্যা, রাইসা—তোরা টাইমারটা বন্ধ কর! আমি একে দেখছি!" মেহজাবিন ভয়ে কাঁপলেও, আবিরকে বাঁচানোর জন্য পাশে থাকা একটা ভাঙা কাঠের চেয়ার তুলে সজোরে ওই লোকটার পিঠে আঘাত করল।
আঘাত পেয়ে লোকটা ঘুরে দাঁড়াতেই আবির নিচ থেকে ওর পায়ে লাথি মেরে ফেলে দিল। দুজনের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হলো।
ওদিকে ল্যাপটপের সামনে অনন্যা আর রাইসা। টাইমার বলছে—আর মাত্র **১ মিনিট** বাকি।
ল্যাপটপের স্ক্রিন লক করা, সেখানে একটি পাসওয়ার্ড চাইছে। রাইসা দ্রুত কিবোর্ডে আঙুল চালাতে লাগল। "এই পাসওয়ার্ডটা ওই স্ক্রিনশটেই আছে! অনন্যা, স্ক্রিনশটের নিচের কোণায় দেখ, কিছু একটা লেখা ছিল!"
অনন্যা নিজের ফোনে স্ক্রিনশটটা আবার খুলল। হ্যাঁ! সাফিয়ার জানালার নিচে ধুলোয় একটা কোড লেখা ছিল, যা স্ক্রিনশটে আবছা দেখা যাচ্ছে—**"404_DARK"**।
"রাইসা! টাইপ কর 404_DARK!" অনন্যা চেঁচিয়ে বলল।
টাইমারে তখন মাত্র **১০ সেকেন্ড**। ৯... ৮... ৭...
রাইসা এন্টার চাপল।
*বিপ!* স্ক্রিনটা সবুজ হয়ে গেল। টাইমারটা থেমে গেল ঠিক **০২ সেকেন্ড** থাকতে।
# # # অবসান
টাইমার থামতেই মুখোশধারী লোকটা বুঝতে পারল তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। সে আবির আর মেহজাবিনকে ধাক্কা দিয়ে জানালার কাচ ভেঙে নিচে লাফ দিল। নিচে ঝোপঝাড় থাকায় সে অন্ধকারে পালিয়ে গেল, কিন্তু ফেলে গেল তার ল্যাপটপ।
অনন্যা দ্রুত সাফিয়ার মুখের টেপ খুলে দিল। সাফিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, "ও আমাদের ডিপার্টমেন্টের ল্যাব সহকারী... ও আমার সব ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আমাকে হুমকি দিচ্ছিল..."
রাইসা ল্যাপটপটা নিজের ব্যাগে পুরে বলল, "সব প্রমাণ এখানে আছে। ও পালিয়ে পার পাবে না।"
ভোরের আলো তখন একটু একটু করে ফুটছে। চার বন্ধু কোয়ার্টার থেকে যখন বের হচ্ছিল, তখন মেহজাবিনের মুখে ভয়ের বদলে এক অদ্ভুত জয়ের হাসি। আর অনন্যা নিজের ফোনের সেই **স্ক্রিনশটটা** ডিলিট করতে করতে ভাবল—কখনো কখনো একটি সাধারণ ছবিও মানুষের জীবন-মৃত্যুর সীমানা ঠিক করে দিতে পারে।

 #স্ক্রিনশটরাত তখন সাড়ে দশটা।ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বন্ধু—**মেহেদী**, **আরিফ**, **নীরা**, **তানহা** ...
18/06/2026

#স্ক্রিনশট
রাত তখন সাড়ে দশটা।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বন্ধু—**মেহেদী**, **আরিফ**, **নীরা**, **তানহা** এবং **মিথিলা**—পরীক্ষা শেষ হওয়ার আনন্দে শহরের বাইরে ঘুরতে বের হয়েছিল। ফেরার পথে তাদের গাড়ি বিকল হয়ে যায় একটি পরিত্যক্ত পুরোনো জমিদার বাড়ির সামনে।

লোকজন সেই বাড়িটিকে ডাকত **"কালো বাড়ি"** নামে।

চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ। বাতাসে অদ্ভুত ঠান্ডা। দূরে কোথাও পেঁচার ডাক।

মেহেদী হেসে বলল,
— "ভয়ের কিছু নেই। গাড়ি ঠিক হতে সময় লাগবে। চল, একটু ঘুরে দেখি।"

মিথিলা আপত্তি করল।
— "আমার ভালো লাগছে না। এই বাড়িটা অদ্ভুত লাগছে।"

কিন্তু কৌতূহল জিতে গেল।

পাঁচজন টর্চ জ্বালিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকল।

---

বাড়ির ভেতরে ধুলো জমে আছে। দেয়ালের রং উঠে গেছে। ছাদের কাঠ ভেঙে ঝুলছে।

হঠাৎ তানহা একটি পুরোনো মোবাইল ফোন দেখতে পেল।

ফোনটিতে কোনো সিম ছিল না, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেটি চালু ছিল।

নীরা বলল,
— "এত বছর পরও ফোনটা চালু?"

ফোনের স্ক্রিনে শুধু একটি ফোল্ডার দেখা গেল।

নাম—**"স্ক্রিনশট"**।

আরিফ ফোল্ডারটি খুলতেই সবাই থমকে গেল।

প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে—

**তারা পাঁচজন এই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।**

কিন্তু ছবিটি তো এখনই কেউ তোলেনি!

আরও ভয়ের বিষয় হলো—

ছবির সময় লেখা **দুই ঘণ্টা পরে**।

---

মেহেদী বলল,
— "এটা কেউ মজা করছে।"

সে পরের স্ক্রিনশট খুলল।

এবার দেখা গেল তারা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে আছে।

ছবির এক কোণে একটি কালো ছায়ামূর্তি।

কিন্তু বাস্তবে তখন তারা নিচতলায় ছিল।

সবাই চুপ।

মিথিলার হাত কাঁপতে লাগল।

---

তারা দ্রুত বাড়ি থেকে বের হতে চাইল।

কিন্তু দরজা খুলছে না।

যে দরজা দিয়ে তারা ঢুকেছিল, সেটি যেন ইটের দেয়ালে পরিণত হয়েছে।

হঠাৎ ওপরতলা থেকে ধীরে ধীরে ভেসে এল পায়ের শব্দ।

**টক... টক... টক...**

শব্দটি যত এগোতে লাগল, ততই ঠান্ডা বাড়তে লাগল।

---

আরিফ সাহস করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল।

মেহেদীও তার সঙ্গে গেল।

তিন মেয়ে নিচে দাঁড়িয়ে রইল।

ওপরে পৌঁছে তারা একটি ঘর দেখতে পেল।

ঘরের দরজায় বড় করে লেখা—

**"সত্য লুকিও না।"**

ঘরের ভেতরে একটি ভাঙা কম্পিউটার।

স্ক্রিনে একটি পুরোনো সংবাদ।

**পাঁচ বছর আগে এখানে পাঁচজন কিশোর নিখোঁজ হয়েছিল।**

কখনও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঠিক তখনই কম্পিউটার নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।

স্ক্রিনে ভেসে উঠল—

**"তোমরা কি সত্য জানবে?"**

---

নীরা নিচে দাঁড়িয়ে ফোনের স্ক্রিনশটগুলো আবার দেখতে লাগল।

শেষ ছবিটি দেখে তার বুক কেঁপে উঠল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে—

মেহেদী একা দাঁড়িয়ে আছে।

বাকি চারজন নেই।

নিচে লেখা—

**"শেষ জীবিত মানুষ।"**

---

নীরা দৌড়ে ওপরে উঠল।

সে সবাইকে ছবিটি দেখাল।

মুহূর্তেই ঘরের আলো নিভে গেল।

চারদিক অন্ধকার।

শুধু মোবাইলের স্ক্রিন জ্বলছে।

হঠাৎ কালো ছায়ামূর্তিটি তাদের সামনে এসে দাঁড়াল।

তার মুখ দেখা যায় না।

কেবল ফিসফিস করে বলল—

"আমার মৃত্যুর সত্য সবাই লুকিয়েছিল..."

---

ভয়ে সবাই পিছিয়ে গেল।

কিন্তু মেহেদী পালাল না।

সে বলল,

— "তুমি যদি অন্যায়ের শিকার হয়ে থাকো, আমরা সত্য প্রকাশ করব।"

ছায়ামূর্তি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইল।

তারপর ধীরে ধীরে ঘরের মেঝে ফেটে একটি লোহার বাক্স বেরিয়ে এল।

বাক্সের ভেতরে ছিল একটি ডায়েরি।

সেখানে লেখা ছিল—

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক পাঁচজন কিশোরকে হত্যা করে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছিল।

প্রমাণগুলো সে এই বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছিল।

---

মেহেদী ডায়েরি, পুরোনো ছবি এবং ফোনটি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করল।

এবার দরজাটি নিজে থেকেই খুলে গেল।

পাঁচজন দৌড়ে বাইরে এল।

তারা সরাসরি পুলিশের কাছে সব প্রমাণ জমা দিল।

বহু বছর আগের রহস্যের সমাধান হলো।

---

কয়েক দিন পরে খবরের কাগজে সেই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হলো।

সবাই স্বস্তি পেল।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।

এক রাতে নীরা তার নিজের মোবাইলে একটি নোটিফিকেশন পেল।

**"১টি নতুন স্ক্রিনশট সংরক্ষিত হয়েছে।"**

সে অবাক হয়ে গ্যালারিতে ঢুকল।

সেখানে একটি নতুন ছবি।

ছবিতে পাঁচ বন্ধু হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে।

তাদের পেছনে সেই জমিদার বাড়ি।

আর বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালায়—

সেই কালো ছায়ামূর্তি।

তবে এবার তার মুখে ছিল একটুকরো শান্ত হাসি।

নিচে মাত্র দুটি শব্দ লেখা—

**"ধন্যবাদ... আবার দেখা হবে।"**

**সমাপ্ত।**

15/06/2026

ফিফা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া ৫ দল | FIFA World Cup Records

 #অদম্য_স্বপ্নবাজ_এক_গ্রামের_ছেলের_গল্পসবুজ-শ্যামল ছোট্ট একটি গ্রাম, যেখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই পাখির কলকাকলিতে চারপাশ ...
14/06/2026

#অদম্য_স্বপ্নবাজ_এক_গ্রামের_ছেলের_গল্প
সবুজ-শ্যামল ছোট্ট একটি গ্রাম, যেখানে ভোরের আলো ফোটার আগেই পাখির কলকাকলিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। সেই গ্রামেই বাস করে ইফতি। সে ক্লাস অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। টানাপোড়েনের সংসার তার। বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে ডাল-ভাত জুটে যায়, কিন্তু পড়ালেখার বাড়তি খরচ চালানো ছিল এক বিরাট যুদ্ধ।
তবে অভাব যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে ইফতির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার মেধা এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি। ক্লাসের রোল নম্বরটা তার সবসময় ‘১’ হয়েই থাকত। ভাঙা ঘরের কোণে কুপি বা হ্যারিকেনের আলোতে যখন ইফতি বই নিয়ে বসত, তার চোখে তখন ভেসে উঠত অনেক বড় বড় স্বপ্ন।
# # # সংগ্রামের পথ ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা
ইফতির বাবা-মা নিজেরা শত কষ্ট করলেও ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হতে দেননি। কিন্তু অষ্টম শ্রেণী পাস করার পর যখন হাইস্কুলের খরচ এক লাফে অনেক বেড়ে গেল, তখন ইফতির পরিবার বেশ সংকটে পড়ে গেল।
ঠিক তখনই এগিয়ে এলেন গ্রামের কিছু মহৎ মনের মানুষ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং গ্রামের কয়েকজন পরোপকারী সমাজসেবক ইফতির মেধা দেখে মুগ্ধ ছিলেন। তারা বললেন,
> "ইফতির মতো মেধা যদি টাকার অভাবে ঝরে যায়, তবে সেটা আমাদের পুরো গ্রামের ব্যর্থতা।"
>
তারা সবাই মিলে ইফতির বইপত্র, খাতা-কলম এবং পরীক্ষার ফি-র দায়িত্ব নিলেন। গ্রামের মানুষের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ইফতির মনে এক নতুন জেদ তৈরি করল। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, তাকে সফল হতেই হবে।
# # # সাফল্যের শিখরে ইফতি
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে অভাবনীয় ফলাফল করার পর ইফতি শহরের নামকরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেও সে টিউশনি করে এবং বৃত্তির টাকায় নিজের খরচ চালিয়ে গেছে। অবশেষে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর বাবা-মা ও গ্রামবাসীদের দোয়ায় সে তার শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ বড় ডিগ্রী অর্জন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পরপরই দেশের একটি বিশাল এবং নামকরা বহুজাতিক কোম্পানি (MNC) থেকে তার চাকরির অফার আসে। মেধার জোরে ইফতি সেখানে খুব দ্রুত বড় কর্মকর্তা পদে আসীন হয়। তার হাত ধরে পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়। বাবা-মাকে সে শহরের সব সুযোগ-সুবিধা এনে দেয়।
# # # শিকড়ের টান: গ্রামকে ভুলে না যাওয়া
অনেকে শহরে এসে নিজের অতীত আর গ্রামের মানুষকে ভুলে যায়, কিন্তু ইফতি অন্য ধাতুতে গড়া। সে তার সোনালী অতীত আর গ্রামের সেই রিকশাচালক বাবার পরিচয় দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করত না। সবচেয়ে বড় কথা, যারা তার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই গ্রামবাসীদের কথা সে এক মুহূর্তের জন্যও ভোলেনি।
নিজের প্রথম বড় বোনাসের টাকা নিয়ে ইফতি গ্রামে ফেরে। গ্রামের মানুষ তাদের ঘরের ছেলেকে এত বড় অফিসার হিসেবে দেখে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি।
গ্রামের উন্নয়নে ইফতি বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেয়:
* **শিক্ষা তহবিল:** গ্রামের মেধাবী অথচ দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সে নিজের নামে একটি স্থায়ী শিক্ষা তহবিল গঠন করে, যাতে টাকার অভাবে কোনো শিশুর স্বপ্ন ভেঙে না যায়।
* **ডিজিটাল ল্যাব ও লাইব্রেরি:** স্কুলের একটি কক্ষে সে নিজের খরচে উন্নতমানের কম্পিউটার ল্যাব এবং একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করে দেয়।
* **চিকিৎসা ক্যাম্প:** প্রতি মাসে শহর থেকে নামকরা ডাক্তার এনে গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে।
ইফতি প্রমাণ করে দিল যে—স্বপ্ন যদি সত্যি দেখার সাহস থাকে এবং মেধার সাথে সততা থাকে, তবে যেকোনো বাধা ডিঙিয়ে আকাশ ছোঁয়া সম্ভব। আর আসল মানুষ তো সেই, যে নিজে সাফল্যের চূড়ায় উঠেও নিজের শিকড়কে ভুলে যায় না, বরং চারপাশটাকে সাথে নিয়ে আলো ছড়ায়।

 #শেষ_রাতের_অশ্রুআকাশটা সেদিন অস্বাভাবিক রকমের মেঘলা ছিল। দূরে কোথাও বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বাইরের আকাশের...
12/06/2026

#শেষ_রাতের_অশ্রু

আকাশটা সেদিন অস্বাভাবিক রকমের মেঘলা ছিল। দূরে কোথাও বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বাইরের আকাশের চেয়েও বেশি অন্ধকার নেমে এসেছিল রাশেদের জীবনে।

বয়স মাত্র ছাব্বিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেছে বেশ কয়েক বছর আগে। ছোটবেলায় সে স্বপ্ন দেখত—একদিন ভালো চাকরি করবে, বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবে, সংসারে সুখ ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল নির্মম।

একের পর এক চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা, আত্মীয়-স্বজনের তির্যক মন্তব্য, বন্ধুদের সফলতা আর নিজের অসহায়ত্ব তাকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল। এর মধ্যেই বাবার অসুস্থতা, সংসারের অভাব আর মায়ের চোখের চিন্তার ছাপ তাকে আরও কষ্ট দিত।

দিনের বেলা সে সবার সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করত। কিন্তু রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে নীরবে কাঁদত।

তার মনে হতো, পৃথিবীতে যেন তাকে বোঝার মতো কেউ নেই।

একদিন মাগরিবের নামাজ শেষে সে মসজিদের এক কোণে বসে ছিল। মাথা নিচু, চোখ দুটো ভেজা।

মসজিদের ইমাম সাহেব, মাওলানা উমর, দূর থেকে বিষয়টি লক্ষ্য করলেন।

ধীরে ধীরে তার পাশে এসে বসলেন।

—“কী হয়েছে বাবা? মন এত ভারী কেন?”

রাশেদ অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত কষ্ট উজাড় করে বলল।

সব শুনে ইমাম সাহেব কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন।

তারপর মৃদু হেসে বললেন,

—“তুমি দুনিয়ার অনেক দরজায় কড়া নেড়েছ। কিন্তু আসমানের দরজায় কতবার কড়া নেড়েছ?”

রাশেদ বিস্মিত চোখে তাকাল।

ইমাম সাহেব বললেন,

—“যখন পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ো। মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছে তোমার কষ্টগুলো বলো।”

সেদিন কথাগুলো রাশেদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে গেল।

সেই রাতেই সে অ্যালার্ম সেট করে ঘুমাল।

রাতের শেষ প্রহরে অ্যালার্ম বেজে উঠল।

কিন্তু সে উঠতে পারল না।

পরদিন নিজের ওপর ভীষণ রাগ হলো।

দ্বিতীয় রাতেও ব্যর্থ হলো।

তৃতীয় রাতেও ঘুম তাকে পরাজিত করল।

কিন্তু তার অন্তরের ভেতরে যেন কেউ বলছিল,

"হাল ছেড়ো না।"

অবশেষে এক সপ্তাহ পর এক রাতে সে উঠে দাঁড়াল।

ঘড়িতে তখন রাত তিনটা।

চারপাশে গভীর নীরবতা।

শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর দূরে কোথাও কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছিল।

ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ওযু করে যখন সে জায়নামাজে দাঁড়াল, তখন তার মনে হচ্ছিল পৃথিবীতে সে একা, আর তার সামনে আছেন একমাত্র আল্লাহ।

নামাজ শেষ করে দোয়ার জন্য হাত তুলতেই বুকের ভেতরের বাঁধ ভেঙে গেল।

অঝোরে কাঁদতে লাগল সে।

“হে আল্লাহ!

আমি ক্লান্ত...

আমি অসহায়...

আমি জানি না আমার জন্য কোন পথ ভালো।

আমি জানি না আমার ভবিষ্যৎ কোথায়।

কিন্তু আপনি তো সব জানেন।

আপনি আমাকে আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন না।”

চোখের অশ্রু টুপটুপ করে জায়নামাজে পড়ছিল।

সেদিন অনেক বছর পর তার হৃদয়টা হালকা লাগল।

মনে হলো, এতদিনের জমে থাকা কষ্টগুলো যেন কারও কাছে জমা দিয়ে এসেছে।

এরপর থেকে রাশেদ নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তে শুরু করল।

প্রথমে তার জীবনের সমস্যাগুলো দূর হয়নি।

চাকরি তখনও হয়নি।

অভাবও ছিল।

মানুষের কথাও বন্ধ হয়নি।

কিন্তু একটি জিনিস বদলে গেল—

তার অন্তর।

যে মানুষটি প্রতিদিন হতাশায় ডুবে থাকত, সে এখন আশাবাদী হয়ে উঠল।

যে মানুষটি ভবিষ্যতের ভয় পেত, সে এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখল।

যে মানুষটি নিজেকে একা ভাবত, সে অনুভব করল—তার রব সবসময় তার সঙ্গে আছেন।

কয়েক মাস কেটে গেল।

একদিন হঠাৎ একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ এলো।

আগের মতো উদ্বিগ্ন না হয়ে সে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে ইন্টারভিউ দিল।

কয়েক দিন পর ফোন এলো।

চাকরিটি হয়ে গেছে।

খবরটি শুনে তার মা সেজদায় পড়ে গেলেন।

চোখ ভিজে গেল আনন্দের অশ্রুতে।

রাশেদেরও চোখে পানি চলে এলো।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—

চাকরি পাওয়ার আনন্দের চেয়েও তার হৃদয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছিল অন্য কারণে।

সে উপলব্ধি করেছিল, তাহাজ্জুদের সবচেয়ে বড় উপহার চাকরি নয়।

সবচেয়ে বড় উপহার হলো সেই প্রশান্তি, যা সে রাতের নির্জনতায় আল্লাহর সান্নিধ্যে পেয়েছিল।

সেই রাতে আবার সে জায়নামাজে দাঁড়াল।

জানালার বাইরে ফজরের আলো ফুটছিল।

পাখিরা ডাকতে শুরু করেছে।

সে চোখ ভেজা অবস্থায় ফিসফিস করে বলল,

“হে আল্লাহ,

আমি আপনার কাছে রিজিক চেয়েছিলাম,

আপনি আমাকে রিজিক দিয়েছেন।

আমি আপনার কাছে সমাধান চেয়েছিলাম,

আপনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন।

কিন্তু এর চেয়েও বড় নিয়ামত আপনি আমাকে দিয়েছেন—

আপনার নৈকট্য।”

বাইরে নতুন দিনের সূর্য উঠছিল।

আর রাশেদের হৃদয়ে জন্ম নিচ্ছিল এক নতুন আলো—

যে আলোর নাম ঈমান,

যে আলোর নাম তাওয়াক্কুল,

যে আলোর নাম তাহাজ্জুদ।

**শিক্ষা:** মানুষের জীবনে সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে আসে না। কিন্তু যে ব্যক্তি শেষ রাতের নির্জনতায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হৃদয়ের কথা খুলে বলে, সে কখনো একা থাকে না। তাহাজ্জুদ শুধু দোয়া কবুল হওয়ার মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে সুন্দর এবং সবচেয়ে প্রশান্তিময় সম্পর্কের দরজা।



ঢাকার অদূরে, একটা ছোট্ট গ্রাম – ধোলাইখালের পাড়ে। এখানেই বেড়ে উঠেছে রাফি। বাবা ছিলেন হোসিয়ারি শ্রমিক, মা গৃহিণী। জীবন চলত...
19/06/2025

ঢাকার অদূরে, একটা ছোট্ট গ্রাম – ধোলাইখালের পাড়ে। এখানেই বেড়ে উঠেছে রাফি। বাবা ছিলেন হোসিয়ারি শ্রমিক, মা গৃহিণী। জীবন চলত কষ্টে, কিন্তু স্বপ্ন ছিল বড় – রাফি চায় তার ক্যামেরা দিয়ে সমাজকে বদলে দিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর, সে দেখতে পেল বাস্তবতার নিষ্ঠুর মুখ – বেকারত্ব, দুর্নীতি, ঘুষ, আবার সেই একই লোডশেডিং আর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা। চারপাশে সবকিছুতেই যেন হতাশার ছাপ।

কিন্তু রাফি বদলাতে চায়। সে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজের মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করবে ডকুমেন্টারি বানানো। রেলস্টেশন থেকে গার্মেন্টস এর নারী শ্রমিক, বন্যার্ত মানুষের জীবন থেকে শুরু করে ভোটের সময় রাজনীতির খেলা – সে সব কিছু ক্যামেরায় ধরতে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়। ধীরে ধীরে তার কাজ পৌঁছে যায় সাংবাদিকদের নজরে। কিন্তু বাধাও আসে – এক রাতে তার ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়, হুমকি দেওয়া হয়।

তবুও রাফি থামে না।

একদিন তার তৈরি করা একটি ডকুমেন্টারি – “এক ফোঁটা বিদ্যুৎ” – গ্রামের বিদ্যুৎ সংকট ও শিশুশিক্ষা নিয়ে বানানো – আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে। এরপর সরকার সেই গ্রামে সোলার লাইট বসায়।

গ্রাম জ্বলে উঠে আলোয়।
রাফির চোখে তখন নতুন স্বপ্ন – একদিন সারা বাংলাদেশ আলোকিত হবে, তার মতো হাজারো তরুণের চোখ দিয়ে।

শেষ কথা:
বাংলাদেশ আজ অনেক সংগ্রামের মাঝে দাঁড়িয়ে – কিন্তু ঠিক এই সময়েই কিছু তরুণ সাহসী স্বপ্ন দেখে, জেদ ধরে, লড়াই করে। তারাই হবে আগামীর পথপ্রদর্শক।

রিদওয়ান সাহেব, শহরের এক নামকরা স্থপতি, ব্যস্ততার সমুদ্রে ডুবে থাকতেন। তার দিন শুরু হতো অফিসের ফাইল আর মিটিং দিয়ে, আর শ...
09/06/2025

রিদওয়ান সাহেব, শহরের এক নামকরা স্থপতি, ব্যস্ততার সমুদ্রে ডুবে থাকতেন। তার দিন শুরু হতো অফিসের ফাইল আর মিটিং দিয়ে, আর শেষ হতো ক্লান্তির নিঃশ্বাসে। ইবাদতের জন্য সময় বের করা যেন এক অসম্ভব স্বপ্ন ছিল। স্ত্রী প্রায়ই বলতেন, "নামাজটা পড়ে নাও, শান্তি পাবে।" কিন্তু রিদওয়ান শুনতেন না।
একদিন বিকেলে, নির্মাণাধীন এক বহুতল ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎ চোখ পড়ল পাশের বস্তির এক ছোট্ট মেয়ের দিকে। ময়লা পোশাক, রুক্ষ চুল, কিন্তু মুখটা আশ্চর্যরকম শান্ত। মেয়েটি ছোট্ট একটা জায়নামাজ বিছিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে নামাজ পড়ছে। চারপাশে কোলাহল, ধুলো, কিন্তু তার ভ্রুক্ষেপ নেই। সে যেন এক অন্য জগতে!
রিদওয়ান সাহেব অপলক তাকিয়ে রইলেন। মেয়েটির নিষ্পাপ মুখে এক স্বর্গীয় স্নিগ্ধতা, যা তিনি তার বিলাসবহুল জীবনেও কখনো অনুভব করেননি। এই ছোট্ট মেয়েটির ইবাদতের একাগ্রতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিল। মনে হলো, এই ধুলোমাখা বস্তির ছোট্ট মেয়েটির কাছে তিনি যেন কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছেন—যা তার বড় অ্যাপার্টমেন্ট, দামি গাড়ি, বা সফল ক্যারিয়ারও দিতে পারেনি।
তার ভেতরের দহনে যেন এক পশলা শীতল বৃষ্টির ছোঁয়া লাগল। নিজের অজান্তেই তার চোখ ভিজে এলো। সেইদিন থেকে রিদওয়ান সাহেবের জীবনের মোড় ঘুরে গেল। তিনি ইবাদতের জন্য সময় বের করতে লাগলেন, খুঁজে পেলেন এক অনাবিল শান্তি। আর প্রতিটি নামাজে তার মনে পড়তো সেই ছোট্ট মেয়েটির মুখ, যে তাকে দেখিয়েছিল, সত্যিকারের সুখ কোথায় লুকিয়ে থাকে।
গল্পটি কেমন লাগলো?

Address

Dhaka
Madaripur
7900

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sohan 2.0 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share