27/11/2025
আজকে ব্যবসার কাজে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসে উঠলাম। আগের দিনের অর্ডার ডেলিভারি গুলা গণ্ডগোল হয়ে ছিল, মাথায় চাপ। তার উপর আজ মার্কেট অফডে, মাত্র ১ ঘণ্টা মার্কেটে ঢোকার সুযোগ।সবমিলিয়ে এমনিতেই প্রচুর স্ট্রেস ফিল হচ্ছে।
আমি সাধারণত বাসে চুপচাপ থাকি, নতুন কারও সাথে কথা বলতে সময় লাগে। জানালার পাশে বসে নিজের কাজের লিস্ট দেখছিলাম। ঠিক তখনই সাভার রেডিও কালোনি থেকে এক লোক উঠলো। বয়স ৪০-৪৫ এর মতো, দাড়িতে হালকা পাক।
সে এসে বলল।
“ভাই, সিটটা খালি?”
আমি বললাম, “জি, বসেন।”
বসতেই শুরু করল প্রশ্নের ফোয়ারা-
“কোথায় থাকো?”
"নাম কি?"
“কি করো?”
“কি পড়ো?”
“বাবা-মা কি করে?”
“বিয়ে করছো?”
“ছাত্র বয়সেই বিয়ে করলে কেন?”
“বউ কি করে?”
"বাচ্চা-কাচ্চা কয়টা"
“বাচ্চা নাওনি কেন?”
“কবে নেবে?”
ব্লা ব্লা ব্লা...
আমি ভেবেছিলাম, দু-একটা কথা বলবে, চুপ করবে। উল্টা সে আমার লাইফের পুরো বায়োডাটা চাচ্ছে!
একটা প্রশ্নের জবাব দিলে তার সাথে জুড়ে জ্ঞান,
“এভাবে জীবন চলে নাকি?”
“দায়িত্ব নিতে শিখতে হয়।”
“আজকালকার ছেলেমেয়ে ডিম না ফুটতেই প্রেম-প্রিতি আর বিয়ে করে বসে।”
“তোমাদের জেনারেশন খুব আবেগী।”
আমি চুপ ছিলাম প্রথমে। ভদ্র হয়ে থাকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হেমায়েতপুর পার হওয়ার পর সে আবার নতুন প্রশ্ন তুললো,যেগুলো সত্যি বলতে কি, খুবই ব্যক্তিগত।
শেষমেশ আমি একটু বিরক্তি নিয়েই জবাব দিলাম একদম সোজা আর ছোট করে।মানে এক কথায় একটু বাকা উত্তর দিয়েছি।
হয়তো সেটা সে বুঝতে পেরেছে। হঠাৎই চুপ হয়ে গেল। খুব সম্ভবত নিজের সীমা বুঝতে পেরেছে।
গাবতলীতে নেমে গেল লোকটা। আর আমি বাসের জানালায় তাকিয়ে শুধু একটাই কথা ভাবছিলাম:
"কিছু মানুষ আছে, যাদের কাছে অপরিচিত মানেই ইন্টারভিউ নেওয়ার লাইসেন্স।
মনে হয় অন্যের জীবনে ঢুকে যাওয়া তাদের শখ, অভ্যাস, কিংবা আত্মতৃপ্তির জায়গা।"
আমি জানি যে, মানুষ সামাজিক জীব।
কিন্তু সামাজিক মানে এই না যে, যার দেখা পেলাম তার পুরো ব্যক্তিগত জীবন খুঁড়ে বের করতে হবে।
আরো মজার বিষয়, এটা একদিনের ঘটনা না,
প্রতি মাসেই ২–১ বার এরকম টাইপের লোকের মুখোমুখি হতে হয়। যারা নিয়মিত পাবলিক বাসে যাতায়াত করে তারা একদম হারে হারে জানে।
আজকেরটা শুধু এতটাই বিরক্তিকর ছিলো যে মনে একটা ক্ষোভের তৈরি হয়ে গেল- তাই লিখে ফেললাম।