14/04/2026
পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ পালন নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ বা ইমামদের আপত্তির জায়গাটি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইবাদতের স্বকীয়তা রক্ষার সাথে জড়িত। ইসলামে কোনো উৎসব পালন জায়েজ নাকি নাজায়েজ, তা নির্ভর করে সেই উৎসবের মূল চেতনা এবং পালন করার পদ্ধতির ওপর।
ইমামগণ সাধারণত যে কারণে বাধা দেন বা সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন, তার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ধর্মীয় বিশ্বাস বা আকিদাগত কারণ
ইসলামের দৃষ্টিতে মঙ্গল বা অমঙ্গল করার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। পহেলা বৈশাখের অনেক আয়োজনে (যেমন: মঙ্গল শোভাযাত্রা) এমন কিছু প্রতীক বা বিশ্বাস জড়িয়ে থাকে যা ইসলামের 'তাওহীদ' বা একত্ববাদের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করা হয়। যদি কেউ মনে করে যে, কোনো বিশেষ প্রতিকৃতি বা মিছিলের মাধ্যমে বছরের মঙ্গল আসবে বা অমঙ্গল দূর হবে, তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি 'শিরক' বা আল্লাহর ক্ষমতায় অংশীদার করার শামিল।
২. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ
ইসলামে নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে" (আবু দাউদ)। যেহেতু পহেলা বৈশাখের আধুনিক অনেক অনুষঙ্গ অন্যান্য ধর্মের বা সংস্কৃতির আচারের সাথে মিলে যায়, তাই আলেমগণ মুসলিমদের নিজস্ব পরিচয়ে উৎসব পালনের পরামর্শ দেন।
৩. উৎসবের ধরন ও পরিবেশ
ইসলামে আনন্দ-উৎসবের অনুমতি থাকলেও সেখানে শালীনতা ও পর্দার বিধান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। পহেলা বৈশাখ উদযাপনে যদি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঘটে, তবে আলেমগণ সেটিকে সরাসরি নাজায়েজ বলেন:
নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।
অশালীন পোশাক বা আচরণের প্রকাশ।
গান-বাজনা বা বাদ্যযন্ত্রের অতি ব্যবহার যা শরিয়তে নিষিদ্ধ।
৪. নিজস্ব উৎসবের উপস্থিতি
ইসলামে বছরে দুটি প্রধান উৎসব (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অনেক আলেম মনে করেন, এই দুটি উৎসব বাদে অন্য কোনো সাংস্কৃতিক উৎসবকে ধর্মীয় বা অতি আবশ্যকীয় রূপ দেওয়া ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।