26/03/2026
প্রথমে ভেবেছিলাম দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটে যে বাস পড়ে গেছে সেখানে আমার কাছের কিংবা পরিচিত কেউই নেই। আমার বাড়ি রাজবাড়ীতেই। যখনই বাস ডুবে গেছে খবর এসেছে, আমার বোন ম্যাসেজ দিলো বাড়িতে সবাই কি আছে নাকি।
ঈদের ছুটিও মোটামুটি শেষ। এখন ফিরে যাবার পালা। কারো অফিস আজ থেকে শুরু হয়েছে,কেউ রওনা হচ্ছে।কেউ বা পঁচিশ মার্চের সাথে শুক্র শনি অবধি লম্বা ছুটি নিয়েছে। আমার বাড়ির কেউই এখনো বের হয়নি।
ভিডিও দেখলাম বাস ডুবে যাবার দুই মিনিটের মধ্যে হাতে গোনা পাঁচ ছজন বের হতে পেরেছে। বাকি এত মানুষের মধ্যে আর কারো সৌভাগ্য হয়নি বের হবার। এরপর আর আশাও থাকেনা। হঠাৎ রাইয়ান নামের একটা ছেলের ছবি দেখলাম ফেসবুকে। আমার একসময়ের খুব পরিচিত ছোট ভাই। আমরা অনেকগুলো প্রোগ্রামে একসাথে গিয়েছি। ভদ্র,সভ্য,মেধাবী ছেলে। ও এখনো নিখোঁজ, ওর মায়ের মৃ-ত দেহ পাওয়া গেছে। ছবিটা দেখামাত্রই আমার বুকের মধ্যে আবার কেঁপে উঠলো!
আরেকটা পিচ্চি ছেলে বাইরে বের হয়ে এসে মা মা করে কাঁদছে , ও ওর মাকে টেনে বের করতে পারেনি। মুহূর্তেই এতিম হয়ে গেলোরে। একদম নিচে উল্টো হয়ে ডুবে যাওয়া বাস থেকে কিভাবে মানুষ বের হবে! যে পুরুষ বের হতে পারতো তার সাথে হয়ত তার সঙ্গী সন্তানেরা ছিলো, একা কিভাবে বেঁচে আসবে? যে মায়ের কোলে ছোট সন্তান সেই সন্তানকে রেখে পানির মধ্যে থেকে কিভাবে উপরে উঠে আসবে! যে কয়জন জীবিত উদ্ধার হয়েছে তারা আর কখনো ঠিকমতো বাঁচতে পারবে না।
আল্লাহ আপনি সবই পারেন! কতই না দুআ করলাম সবার ঈদ ভালো কাটুক,উপসংহারে এমনই হবার ছিলো কি?
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে,আকাশভরা মেঘ।এই একটি ঈদে কতগুলো মানুষ ঈদহারা হলো সেই সমস্ত হিসাব আপনার কাছে আছে। আপনিই তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান….
#আশফিকানওশিন
#দুর্ঘটনা