20/11/2025
ক্যারিয়ারে ইংরেজি দক্ষতার অপরিহার্যতা
বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরি, করপোরেট সেক্টর, আন্তর্জাতিক সংস্থা অথবা ফ্রিল্যান্সিং-সব ক্ষেত্রেই ইংরেজি দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পরিণত হয়েছে। শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নয়, বরং ক্যারিয়ারে টিকে থাকা এবং সফল হওয়ার জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা এখন অপরিহার্য। অনেক সময় আমরা ইংরেজিকে শুধু একটি বিষয় হিসেবে দেখি। পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ি অথবা চাকরির সাক্ষাৎকারের আগে হঠাৎ করে অনুশীলন শুরু করি। কিন্তু বাস্তবে ইংরেজি শেখা একটি ধারাবাহিক ও জীবনধারাভিত্তিক প্রক্রিয়া। এটি যত বেশি চর্চা করা যায়, তত সহজ হয় এবং ক্যারিয়ারের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করে।
ইংরেজি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইংলিশ থেরাপির প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম এই প্রক্রিয়া নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান
কেন ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ
প্রথমত, চাকরির সাক্ষাৎকারে ইংরেজি দক্ষতা প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবং এনজিও প্রাথমিক স্বরেই ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করে থাকে। দ্বিতীয়ত, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে ইংরেজি পরীক্ষাগুলো (যেমন: IELTS, TOEFL) অপরিহার্য। তৃতীয়ত, ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হলে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান ভাষা ইংরেজি। অর্থাৎ, ইংরেজি জানলে শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে থেকেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে গবেষণা, প্রযুক্তি, ব্যবসা কিংবা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ইংরেজি অপরিহার্য হাতিয়ার।
চার ধাপে ইংরেজি শেখা
ইংরেজি শেখার মূল ভিত্তি চারটি-শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। এগুলো নিয়মিত চর্চা করলে যে কেউ ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
শোনা (Listening): একটি শিশু ভাষা শেখা শুরু করে শুনে শুনেই। ইংরেজিতেও একই নিয়ম। প্রতিদিন সংবাদ, গান, চলচ্চিত্র, নাটক বা তথ্যচিত্র মনোযোগ দিয়ে শুনলে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং সঠিক উচ্চারণ শেখা যায়। শুধু শব্দ বোঝা নয়, বরং বাক্যগঠন ও স্বরধ্বনিও শেখা সম্ভব হয়।
বলা (Speaking): ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার সবচেয়ে বড় কৌশল হলো প্রতিদিন কথা বলা। অনেকেই ভুল করার ভয়ে চর্চা শুরুই করেন না। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন না করলে ভুল কাটানো সম্ভব নয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো আলোচনা করা কিংবা অনলাইনে ইংরেজি গ্রুপে অংশগ্রহণ করা-এসব চর্চা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
পড়া (Reading): পড়ার মাধ্যমে শব্দভান্ডার এবং বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ছোট গল্প, সংবাদপত্র, প্রবন্ধ বা বই পড়তে হবে নিয়মিত। নতুন শব্দগুলো নোট করে রাখা জরুরি। ধীরে ধীরে বড় লেখা পড়তে পারলে চিন্তার পরিধি বিস্তৃত হয়। [ জানা-অজানা 360 ]
লেখা (Writing): ইংরেজিতে দক্ষতার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো লেখা। তবে নিয়মিত অনুশীলনে এটিও সহজ হয়ে যায়। প্রতিদিন নিজের জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা, পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে লিখতে পারেন। ভুল হলে আত*ঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একই বিষয়ে বারবার লিখলে ব্যাকরণ, বাক্যগঠন ও ভাব প্রকাশ উন্নত হবে।
ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা
ইংরেজি শেখা একদিনে সম্ভব নয়। এটি একটি ধীর এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিলে কয়েক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন অনুভব করা যায়। ছোট ছোট অভ্যাস-যেমন: প্রতিদিন ১৫ মিনিট শোনা, ১৫ মিনিট বলা, ১৫ মিনিট পড়া এবং ১৫ মিনিট লেখা-ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের পথ তৈরি করে।
ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি
বাংলাদেশের তরুণরা এখন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিদেশেও নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, কনফারেন্স, বিদেশে পড়াশোনা কিংবা চাকরির সুযোগ-সবকিছুতেই ইংরেজি অপরিহার্য হয়ে উঠছে। তাই আজ থেকেই নিয়মিত চর্চা শুরু করা জরুরি। নিয়মিত অনুশীলন করলে ইংরেজি আপনার চিন্তার অংশ হয়ে যাবে। ফলে কোনো সাক্ষাৎকারে বসলে, ক্লাসে প্রেজেন্টেশন দিলে বা অফিসে রিপোর্ট লিখতে হলে সহজেই নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে পারবেন।
চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। যারা একাধিক দক্ষতা অর্জন করছে, তারাই এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ইংরেজি অন্যতম প্রধান দক্ষতা। শোনা, বলা, পড়া ও লেখা এই চারটি অভ্যাস নিয়মিত পালন করলে যেকোনো তরুণ ইংরেজিতে অনর্গল দক্ষ হতে পারে। আর সেই দক্ষতাই তাকে নিয়ে যেতে পারে নতুন সুযোগ, উন্নত ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে।
ছবি: আমার দেশ, ইন্টারনেট।