03/12/2025
উপমহাদেশের দীর্ঘ ক্লান্ত-ইতিহাসে, একসময় জন্ম নিলেন এক নারী—খালেদা জিয়া—যিনি নিছক কোনো রাজনৈতিক চরিত্র নন, বরং এক আগুনঝরা ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ছিলেন সেই নারী, যাঁর পদচারণায় বদলে গিয়েছিলো বাংলাদেশের রাজনীতি, যাঁর চোখের দৃঢ়তায় আমাদের তারুণ্য খুঁজে পেয়েছিলো অহংকার, স্বাধীনতার স্পর্ধিত আগুন, মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা। "আপোষহীন" বলে একটা নতুন রাজনৈতিক শব্দ।
তার জীবনে রাজনীতি কখনোই নিছক রাজনীতি ছিল না- ছিলো এক অবিরত সংগ্রাম। শোক, কষ্ট, ষড়যন্ত্র ভরা এক বিস্তীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র।
যৌবনে হারিয়েছিলেন প্রিয়তম মানুষটিকে। বার্ধক্যে সন্তানের কাছে থেকেও ছিলেন বহু দূরে। আরেক সন্তানকে বিদায় জানিয়েছিলেন এক অনিবার্য শূন্যতায়।
তার বিরুদ্ধে ছুটে এসেছিলো কুৎসার ঢেউ, দিগন্তঢাকা অপবাদ। তার প্রতিপক্ষ দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিখিয়েছিলো তাকে ঘৃণা করতে। কিন্তু তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছেন; তার নীরবতার মধ্যেই ছিল এক অদম্য শক্তি—যা তার প্রতিপক্ষ কখনো ঠিকঠাক বুঝতে পারেনি।
ডিসেন্সি ছিল তার কবচ- রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল তার অস্ত্র। আর দুর্নীতির কালিমা থেকে দূরে থাকার অদম্য সাহস তাকে তুলে এনেছিল এমন এক উচ্চতায়, যা এখনো কোন বাংলাদেশির পক্ষে অতিক্রম করা দুরূহ।
তিনি যে দলের নেতা ছিলেন, সেই দলটা তার মতো রাজনৈতিক নেতার যোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। তিনি একাই সেই দলকে টেনে তুলেছিলেন পাহাড়ের চূড়ায়—যেখানে তার অনুসারীরা কখনো বুঝতে পারেনি, তারা যে শিখরে দাঁড়িয়ে আছে তা আসলে এক নারীর দৃঢ়তার নির্মাণ।
এইজন্যই তার সংগ্রাম আর সংগ্রামী জীবনের সিলিসিলা নিজের দলে তার যোগ্য উত্তরাধিকার খুঁজে পায়নি—এটাই তার মহাকাব্যের ট্র্যাজেডি।
আর আমাদেরও অপূর্ণ থেকে গেলো এক সম্ভাব্য ইতিহাস দেখার সৌভাগ্য—যে ইতিহাসে তিনি হতেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, এক রাষ্ট্রমাতার প্রতিমূর্তি। যদি আমাদের দুর্ভাগ্য হয় তাকে বিদায় জানানোর, তবে তার সেই বিদায়ও কোনো সাধারণ বিদায় হবেনা।
যেদিন তিনি বিদায় নেবেন, সেদিন ইতিহাসের বাতাসও থমকে দাঁড়াবে। হাজার তরুণ একসময় দূর ভবিষ্যতে তার জীবনগাথা পড়ে অনুভব করবে—একদিন বাংলাদেশে এক নারী এসেছিলেন- মাতৃরূপে, যিনি জাতির বুকে ঢেলে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা, দৃঢ়তা, আর অটল সাহসের আশ্রয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার উপস্থিতি ছিলো নক্ষত্রের মতো আলোকময়।