30/07/2026
স্যার, আপনি এভাবে চলে যাবেন,
কখনো ভাবিনি…
জাহিদুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব তোফায়েল আহমেদ আমাদের প্রিয় শিক্ষক স্যার আর আমাদের মাঝে নেই,
হঠাৎ ফেসবুকে এই খবরটি যখন দেখলাম, কেমন যেন একটা শক খেলাম। কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো, পৃথিবীর সমস্ত বায়ু যেন থেমে গেছে… গাছের পাতাগুলো নড়ছে না… আমার নাক দিয়ে নিঃশ্বাস বের হচ্ছে না। শুধু বুকের ভেতর একটা অদৃশ্য শূন্যতা তৈরি হলো।
স্যারের সঙ্গে আমার কত স্মৃতি! সেই স্কুলজীবন, সেই শ্রেণিকক্ষ, স্যারের কণ্ঠ, শাসন, স্নেহ,
সবকিছু যেন একসঙ্গে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি মানুষের ভেতর মানুষ তৈরি করেন। আমাদের মতো অসংখ্য ছাত্রের জীবনে স্যার ছিলেন সেই মানুষ গড়ার কারিগর।
কিন্তু কী নির্মম বাস্তবতা! আমরা যখন নিজেদের তৈরি করার চেষ্টা করছি, তখন আমাদের তৈরি করে যাওয়া শিক্ষকরা একে একে চলে যাচ্ছেন। একসময় যারা আমাদের হাত ধরে পথ দেখিয়েছেন, আজ তাদের বিদায়ের খবর আমাদের স্তব্ধ করে দেয়। আমরা শুধু তাকিয়ে থাকি, আর মনে মনে বলি,
স্যার, #আরেকটু_থাকতেন!
জীবনের কত ব্যস্ততায় আমরা কত মানুষকে হারিয়ে ফেলি, কত প্রিয় মুখের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার সুযোগও পাই না। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গেলেও কখনো হারিয়ে যান না। তারা বেঁচে থাকেন আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের আচরণে, আমাদের অর্জনে, আমাদের জীবনের প্রতিটি ভালো কাজে।
স্যার, আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন,
এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। কিন্তু আপনি যে মানুষগুলো তৈরি করে গেছেন, তাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে আপনি বেঁচে থাকবেন। আপনার হাতে গড়া প্রতিটি ছাত্রই হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্মৃতিস্তম্ভ।
স্যার, ওপারে ভালো থাকবেন।
আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি।
আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা কোনোদিন শেষ হবে না।
বিদায় স্যার…
আপনি চলে গেলেও, আমাদের শৈশবের সেই শ্রেণিকক্ষে,
আমাদের স্মৃতির পাতায়।
আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।