13/04/2026
--আমাদের "প্ল্যান বি" অনুযায়ী তুমি মরবে আর তোমার সমস্ত সম্পত্তি আমার হবে। এটা আমার কাছে অনেকটাই খুশির সংবাদ তাইনা বলো?
আমি তখনও নীরব ছিলাম। কিন্ত তিনি তার কাগজপত্র থেকে একটা ছোট্ট জিনিস বের করে আমার বুক পকেটে গুজে দিয়ে বললেন
--তোমার সম্পত্তি আসলে কখনো তোমার কাজে আসেনি। তোমার কাছে এখন এই ছোট্ট জিনিসটাই বেশি কাজের মনে হবে। এটাই তোমার মৃত্যুর পথ সুগম করবে। আশা রাখি তোমার মৃত্যুটা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হবে।
বুক পকেটে গুঁজে দেয়া সেই ছোট্ট জিনিসটা ছিলো একটা সাধারণ পেপার ক্লিপ। যা দিয়ে শুধুমাত্র কয়েক পাতা কাগজ একত্রে আটকে রাখা যায়। এই জিনিস কি এমন মহামূল্যবান তা আমি তখনও বুঝিনি কিন্ত খেয়াল করলাম রহমান আঙ্কেল আমার দিকে তাকিয়ে আছেন রহস্যময় চোখে। আমি আশা করেছিলাম তিনি আমাকে একটা ধারালো ব্লেড দিবেন অথবা ছোট্ট বিষের বোতল যা দিয়ে আমি নির্বিঘ্নে আত্মহত্যা করতে পারবো। কিন্ত তিনি মুখ ফুটে এ ব্যপারে কিছু বলছিলেন না।
কথা হচ্ছিলো তখন চোখের ভাষায়। যে চোখের ভাষায় কথা বলতে জানে তার মুখ ফুটে কিছু বলতে হয়না আর
বুদ্ধিমানদের জন্য তো ইশারাই যথেষ্ট।
তার সেই অদ্ভুত ইশারা বুঝতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন আমার। কারণ, মগজে তখন ট্রাফিক জ্যাম চলছে। এরপরই তিনি মুখ ফুটে বললেন
--জানো, আজ ভোরে একটা কাকতালীয় ব্যপার ঘটে গেছে।
জিজ্ঞাসু চোখে তাকালাম আমি। তিনি বলতেই থাকলেন
--হাইওয়েতে আজ একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে খুব ভোরে।
--তাতে কি এমন হয়েছে?
তিনি একটা অস্বাভাবিক উত্তর দিলেন পরক্ষণেই
--যে ছেলের এক্সিডেন্ট হয়েছে তার চেহারা একদম তোমার মতো ছিলো।
--অদ্ভুত!
তিনি শুধু মুচকি হেসেছিলেন। প্রস্থান করার আগে পিঠ চাপড়ে দিয়ে এটুকুই বললেন
--তোমাকে বড্ড মিস করবো রায়হান। মৃত্যুর পর যেখানেই থাকো ভালো থাকো এই কামনা করবো।
আমি দৌড়াতে থাকলাম সামনের হাইওয়ে বরাবর এবং কিছুক্ষণ দৌড়াতেই চোখে পড়লো আমার নিজের গাড়িটি। এতক্ষণে নিশ্চয়ই পুলিশের লোকেরা কন্ট্রোল রুমে জানিয়ে দিয়েছে একজন খুনের আসামি পালিয়ে গেছে। তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিলোনা কেননা আমি যখন আমার নিজের গাড়িটি রাস্তায় পার্কিং অবস্থায় পেলাম তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম আজ যদি পুলিশ আমাকে ধাওয়া করে তবে আমাকে জীবিত পাবেনা। আমি যে আজ মৃত্যু প্রস্তুতি নিয়েই রেসে নেমেছি।
#মিস্টার_ঘোস্ট : পারফেকশন (ই-বুক)
ই-বুক লিঙ্ক:
https://link.boitoi.com.bd/wPWa