07/06/2026
৮৯ বছর বয়স এখন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের।
একবার একটা ইন্টারভিউতে হেসে হেসেই বলেছিলেন, "যাকেই পছন্দ হতো, দেখতাম সে অলরেডি ম্যারেড! তাই আর বিয়েটাই করা হলো না।"
শুনতে বেশ মজার লাগলেও, এর পেছনে কিন্তু একটা দারুণ গল্প আছে।
টলিউডের সেই সোনালী যুগে উত্তম কুমার আর সাবিত্রীর অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি তো জাস্ট ফাটাফাটি ছিলো। কিন্তু অফ-স্ক্রিনেও তাদের মধ্যে একটা দারুণ মেন্টাল কানেকশন তৈরি হয়েছিলো। তখন স্টুডিও পাড়ায় এদের নিয়ে গুঞ্জন কম হতো না।
উত্তম কুমারের প্রতি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের এক তরফা ভালোবাসার কথা সবাই জানে।
উত্তম কুমার যখন ওনার ফ্যামিলি লাইফ নিয়ে মারাত্মক মেন্টাল ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, সাবিত্রী দেবী চাইলে খুব ইজিলি ওনার লাইফে এন্ট্রি নিতে পারতেন। মহানায়কের মতো একজন মানুষ ওনার দিকে ঝুঁকেই ছিলেন।
কিন্তু তিনি তা করেন নাই।কারণ ওনার একটা সিম্পল পলিসি ছিলো, কারও ঘর ভেঙে নিজের ঘর গোছানো যাবে না।
ব্যস, গল্প শেষ!
এই মানুষটাই আজীবন একা কাটিয়ে দিলেন, শুধু অন্যের সংসার ভাঙার পাপী হবেন না বলে! একেই বলে রিয়েল কুইন বিহেভিয়ার। ❤️
আর এদিকে আমাদের ঢালিউডের দিকে তাকালে তো জাস্ট ক্রিঞ্জ লাগে! সাবিত্রী দেবীর সেই আকাশছোঁয়া আত্মসম্মানের ঠিক উল্টো পিঠ যেন শাকিব খান, অপু বিশ্বাস আর বুবলীর এই অন্তহীন ট্রায়াঙ্গেল ড্রামা।
মানে, সিরিয়াসলি? অপু আর বুবলী দুজনেই কিন্তু টপ লিগের নায়িকা, পপুলার, আর ফাইনান্সিয়ালি সুপার ইন্ডিপেনডেন্ট। রূপ-গুণ বা ক্যারিয়ার কোনোটারই কমতি নেই। অথচ জাস্ট একজন মানুষের জন্য তারা যেভাবে বিয়ে করছে, বাচ্চা হওয়াচ্ছে, প-র-কী-য়া করছে, নিজেদের ডিগনিটি ধুলোয় মিশিয়ে, সেটা দেখতে খুবই উইয়ার্ড লাগে।
সবচেয়ে মজার বলবো নাকি করুন কথা বলবো জানি না।
এই যে শাকিব খানের জন্য এই দুই নায়িকার এত যু**দ্ধ, সেই শাকিব নিজেই মিডিয়ার সামনে এসে কুললি বলে দেন, "অপু বা বুবলী, কারো সাথেই আমার কোনো রিলেশন নাই। আই অ্যাম সিঙ্গেল!"
যেই পুরুষ প্রকাশ্যে এভাবে ডিনাই করে, যার ক্যারেক্টার নিয়ে এত কথা, তার পরেও এই ক্যারেক্টারলেস মানুষের জন্য কেন দুইটা পপুলার মেয়ে এভাবে পড়ে থাকবে? দুনিয়াতে কি শাকিব খান ছাড়া আর কোনো অপশন নাই? সেল্ফরিসপেক্ট থাকা উচিত মেয়েদের। তা না হলে রাস্তার ধারের চামচিকাও আপনাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করবে।
ভালোবাসা মানুষকে কতটা উঁচুতে তুলতে পারে, তার প্রমাণ সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। আর ক্ষনিকের মোহ মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার উদাহরণের অভাব নাই এই সমাজে।
দিনশেষে রূপ-টাকা-পয়সা সবই হয়তো থাকে, কিন্তু যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার,সেই 'আত্মসম্মান' জিনিসটা হারিয়ে গেলে মানুষ আসলেই বড্ড সস্তা হয়ে যায়!🙂