19/04/2026
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে দেখে আনমনে হাঁটছিলাম। ঠোঁটের কোণে মিটিমিটি হাসিরও উপলব্ধি করছিলাম। পেছনে বিস্তির্ণ আকাশের নিচের এক লম্বা পথ হেঁটে এসেছি খেয়াল করার ফুরসত হয়নি। আরেকটু এগুলাম, এবার চাঁদের সৌন্দর্যের সাথে পাল্লা দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সামনে পথ আরো বাকি, হাঁটতে হবে হাঁটতেছি। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে আর বাঁধা কিসের? মনে মনে বিশ্বজয়ের মানচিত্র আঁকতে লাগলাম। এবার বুকের ভেতরটাও নাড়া দিল, খুশির এক দমকা হাওয়া এসে আছড়ে পড়ল। আমিইতো সব! জয় করে ফেলবো এভারেস্টের চূড়া। এভারেস্টের চূড়াটা জয় করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাহাড়ের ঐ সর্বোচ্চ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বিশ্বকে দেখিয়ে দেব—এই যে আমি আকাশ ছোঁয়ার পথে হাঁটতেছি।
আরেকটু পথ বাকি। সামনে ডান পা বাড়ালাম, কিন্তু পা আর এগোচ্ছে না। মাটির গভীর থেকে কোনো এক অদৃশ্য চুম্বক আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে ধরেছে। সব রঙিন স্বপ্ন হারিয়ে গেল মূহুর্তেই। এবার সেই মরণপণ আকর্ষণ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায়। খানিকটা চেষ্টার পর সামনের ডান দিকে চোখ পড়লো, পায়ের কথা ভাবার আর প্রয়োজন বোধ করলাম না।
ঐ যে আমার স্থায়ী ঠিকানা দেখা যাচ্ছে! আমাকে ডাকছে তার কাছে নিয়ে যেতে। মাইকিং করে আমাকে সাবধান করছে এভাবে আনমনা ছুটে চলা আর কত? মানা করে দিচ্ছে কোনো ধরনের সামগ্রী, কিছুই নেওয়া যাবে না। আমার দিকে তাকিয়ে যেন তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে; তোমার চাঁদ ছোঁয়ার সার্টিফিকেট, এভারেস্ট জয়ের তকমা কিংবা বিশ্বজয়ের দম্ভ, কিছুই আমার কাছে এলাউড না। আমি তোমাকে এই তিন গজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখব। আমি আর তার কথায় কর্ণপাত করলাম না। অবহেলা টের পেয়ে সে আমাকে ধমক দিয়ে উঠলো! তুমি কি মনে কর নিজেকে? আমার থেকে পালিয়ে বেড়ালেও রক্ষা পাওয়ার কোন সাধ্য তোমার নেই।
"বল, যে মৃ_ত্যু থেকে তোমরা পালাতে চাও, তা অবশ্যই তোমাদের সামনে এসে হাজির হবে।" (সূরা আল-জুমু’আ, আয়াত: ৮)
মূহূর্তেই আমার তার থেকে পালিয়ে বেড়ানোর বৃথা চেষ্টা আর বিশ্বকে হাতিয়ে নেওয়ার স্বপ্নে, ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা মিটিমিটি হাসি ফিকে হয়ে গেল। এবার চোখের কোণে একরাশ ভয়ের আশ্রুর উপলব্ধি পেলাম। আমি আবারো হারিয়ে গেলাম এক অন্তহীন জগতের গভীর ভাবনায়।
"প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে ভুলিয়ে রেখেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরের সাক্ষাত করবে।" (সূরা আত-তাকাসুর, আয়াত: ১-২)
কবর
— নাদিয়াতুল কুবরা