12/01/2026
কবিদের কবি মীর্জা গালিব মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লীরা তাকে বাধা দিল। বলল, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মদ্যপানের জায়গা নয়।
মীর্জা গালিব তাকালেন মুসল্লীদের দিকে। তারপর আরেক চুমুক খেয়ে উপস্থিত সবাইকে বললেন,
'শরাব পিনে দে
মসজিদ মে ব্যায়ঠ কার,
ইয়া ও জাগা বাতা
যাঁহা খোদা নেহি।'
অর্থাৎ,
আমাকে মদ খেতে দাও
মসজিদে বসেই,
অথবা এমন জায়গা বল
যেথায় খোদা নেই।
মুসল্লীরা লা জবাব। কী জবাব দেবেন। খোদা নাই এমন জায়গার কথা বলা শক্ত বইকি।
তবে এই কথার জবাব দিলেন কবি আল্লামা ইকবাল। বহু বছর পর। তার কবিতা দিয়ে। তখন মীর্জা গালিব আর বেঁচে নেই।
'ইয়া গালিব, মসজিদ খোদা কা ঘর হ্যায়
পিনে কি জাগা নেহি,
কাফির কে দিলমে যা
ওঁয়াহা খোদা নেহি।'
অর্থাৎ,
হে গালিব, মসজিদ আল্লাহর ঘর
মদ পান করার জায়গা নয়,
কাফিরের অন্তরে যাও
সেথা খোদার জায়গা নয়।
কাফের মানে অবিশ্বাসী। যার অন্তরে খোদার জায়গা নাই। তাই মির্জা গালিবকে সেখানে গিয়ে মদ্যপান করতে বলা হয়েছে৷
আহমদ ফারাজ নামের আরেকজন কবি এর প্রতিউত্তরে লিখলেন-
'কাফির কে দিল সে
আয়া হু দেখ কার
খোদা মওজুদ হ্যায় ওঁয়াহা
উসসে পাতা নেহি।'
অর্থাৎ,
কাফিরের মনে উঁকি দিয়ে এসেছি দেখে
সেখানেও খোদা আছে, কিন্তু সে জানেই না।
তার জবাবে কবি ওয়াসি লিখলেন-
'খোদা তো মওজুদ
দুনিয়া মে হার জাগা
তু জান্নাত মে যা
ওঁয়াহা পিনে সে মানা নেহি।'
অর্থাৎ,
খোদা তো দুনিয়ার সবখানেই উপস্থিত আছে
তুমি জান্নাতে যাও, ওখানে মদ খেতে বাধা নেই
কবি ওয়াসি এখানে 'শরাবান তহুরা'র কথা বলেছেন। যেটা জান্নাতবাসীরা যত ইচ্ছা খেতে পারবে। কিন্তু মাতাল হবে না। জান্নাতের মধ্যে হারাম-হালালের মাসয়ালা আসবে না। সব বিধিনিষেধ শুধু দুনিয়ার জন্যই প্রযোজ্য।
এরপরে সাকি লিখলেন-
'পীতা হুঁ সাকি
গাম-এ-দুনিয়া ভুলানে কে লিয়ে
জান্নাত মে কৌন সা গাম হ্যায়,
ইস লিয়ে ওঁয়াহা মাজা নেহি।'
সাকি বলতে চাইছেন, জান্নাতে তো দুনিয়াবি দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। ওখানে কষ্ট ভোলার জন্য মদ গেলার সেই মজা পাওয়া যাবে কি?
#পৃথিবীতে শিক্ষিত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি কনফিউজড। কমজানা লোকের মনে সন্দেহ থাকে না।
©