16/08/2026
বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র প্যারামিলিটারি ইউনিট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, চানখাঁরপুলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ভারী অস্ত্র হাতে মাঠে দেখা যায় এপিবিএন সদস্যদের।
বেশ কয়েকটি ভিডিওতে হাঁটু গেড়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাতেও দেখা গেছে তাদের। তবে সে সময় কে কোথায় দায়িত্বরত ছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন এবং কত রাউন্ড গুলি ব্যবহার করে ছেন সে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব করে ফেলা হয়। এ ধরনের তথ্য ছাড়া দায়ী এপিবিএন সদস্যদের চিহ্নিত করা এবং বিচার নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ছাত্র জনতার ওপর গুলির ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় তদন্ত ও বিচার এগোলেও অস্ত্র ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে এপিবিএনের সদস্যদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় মাঠে থাকা কয়েকজন সদস্যের নামে অস্ত্র ইস্যু না থাকলেও তারা অন্য সদস্যের অস্ত্র নিয়ে গুলি চালিয়েছিলেন বলে আদালতে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে কোন সদস্যের হাতে কোন অস্ত্র ছিল, কত রাউন্ড গুলি ইস্যু হয়েছিল এবং গুলিবর্ষণের পর কত রাউন্ড ফেরত দেয়া হয়েছিল—এসব তথ্যের নির্ভরযোগ্য নথি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এপিবিএন সদস্যদের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহারের তথ্যসংবলিত প্রয়োজনীয় নথি নষ্ট করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তার মতে, এসব তথ্য গোপনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট এপিবিএন সদস্যদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে হত্যার ঘটনাগুলো তদন্ত করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, এপিবিএন সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহার, গুলি এবং দায়িত্ব পালনের স্থানসংক্রান্ত তথ্য গোপন করতে প্রয়োজনীয় নথি নষ্ট করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একজনের নামে বরাদ্দ করা অস্ত্র অন্যজন ব্যবহার করেছেন। এটিও এক ধরনের অপরাধ। বিষয়গুলো আমরা ট্রাইব্যুনালের নজরে এনেছি।
এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনের চেষ্টা তাদের অপরাধ প্রবণতার বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে কোনো বাহিনী যাতে দায়িত্ব পালন, অস্ত্র বরাদ্দ ও গুলি ব্যবহারের তথ্য গোপন করতে না পারে,সে বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার জন্যও আমরা বলেছি।’
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, চানখাঁরপুলে ৫ আগস্টের ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের এপ্রিলে আট পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ৭৯ জনের সাক্ষ্য, ১৯টি ভিডিও, ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বিভিন্ন বই ও প্রতিবেদন এবং ছয়টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়।