sabitun Nahar

sabitun Nahar welcome to my page

23/05/2026

Assalamu alaikum,,
কি অবস্থা সবার??

07/09/2025

#প্রণয়সিক্ত_প্রলাপ
#লেখনীতে_nahar_lija

゚viralfbreelsfypシ゚viral

 #গল্প_চেয়েছি_তোমার_হতে  #লেখনিতে_sabitun_nahar পর্ব ৫০। ( বিবাহরজনী ) সময় ছুটছে নিরন্তর গতিবেগে। গড়িয়ে রাতের তৃতীয় প্র...
10/10/2024

#গল্প_চেয়েছি_তোমার_হতে
#লেখনিতে_sabitun_nahar
পর্ব ৫০। ( বিবাহরজনী )

সময় ছুটছে নিরন্তর গতিবেগে। গড়িয়ে রাতের তৃতীয় প্রহর ছুঁবে বলে। ভারী হয়েছে চারদিকে ঝিঁঝি পোকাদের ঝিরঝির আওয়াজ। ভূমি, আদ্রের বিয়ের পাঠ চুকেছে ঘণ্টা খানিক হতে চললো। কিন্তু বাড়ির পরিবেশ ভিষন ঠান্ডা। কান্না কাটি হাহাকারে ভারী হয় নি পরিবেশ। মেয়ে বিদায়ের তিক্ত বিষন্নতার আচঁ নেই। বাবা, মায়ের ও একমাত্র মেয়েকে নিজেদের থেকে দূরে করে আজীবনের জন্য অন্য এক অপরিচিত বাড়িতে পাঠানোর ও তোড় নেই,। বরং সকলের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। মেয়ে তাদের এই বাড়িতেই বসত বেধেছে মহাপ্রয়াণ। এটাই এখন থেকে তার বাবার বাড়ি, সাথেই কিছুক্ষণ আগেই কালেমা পড়ে গ্রহণ করে নেওয়া শশুর বাড়ি। কারো চোখে মুখে অবসাদের চিহ্ন নেই। হুট করে কেও আসলে বোঝার উপায় নেই এই বাড়িতে কিছুটা সময় আগেই, মেয়ের বিয়ে সারা হয়েছে। গমগমে পরিবেশ।

এখনও বিরাট ব্যস্ততায় কাটছে সকলের সময়। দুই জা ছুটছে কিচেন টু হল রুম। উপস্থিত মেহেমানদের জন্য ব্যস্ত হয়ে বিরাট পাতিল ভর্তি চা বসিয়ে দিয়েছেন চুলায়। খালেদার ও, ছুটছেন এদিক সেদিক, তবে ধৌয়াধৌয়ির কজটাই তাকে দেওয়া হয়েছে। নিস্তার নেই আদ্রি, প্রিয়ারও হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দিচ্চে মা, মণির সাথে। ভাই বোনের বিয়ে বলে কথা কাজ না করা মেয়েটাও আজ দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে।দূরের আত্নীয়দের আজ রাতটা এ বাড়িতেই পার হবে। আর কাছের যারা এসেছিলেন তারা একে একে চলে যেতেই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

---বাড়ির দুই কর্তা সোফায় বসে চা সাথে খোশগল্পে মেতেছেন নিজেদের গেস্টদের সঙ্গ দিয়ে। সাদাবের কাজ পরেছে বাহিরের দিকটা সামাল দেওয়া। খাবার দাবার শেষে বাড়ি পরিষ্কারের জন্য লোক দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই দেখিয়ে দেওয়া হচ্চে কিভাবে কি করতে হবে। সেই বিকাল থেকে একটুও জিরোনোর ফুরসত তাকে দেওয়া হয় নি। লাগাতার করে চলেছে কাজ। এটায়ই হয়তো বড় ভাই হওয়ার সাজা। ঘেমে নেয়ে একাকার তার সমস্ত শরীর। তাতে খেয়াল দেওয়ার সুযোগ হলেই তো। পিছ পকেটে গুজে রাখা মোবাইলটাও সেই কখন থেকে বেজে চলেছে কিন্তু সেটাও ধরতে সময় পাচ্চে না। রাতটা পার হলেই যে তাকে বেশ বেগ পোহাতে হবে তাতে কোনো রকম সন্দেহের অবকাশ নেই। কথাটা ভেবেই যেন মুখ দিয়ে 'চ' সূচক শব্দ করে উঠলো সাদাব।

-*****
--গোলাপ, গাদা, আর রজনীগন্ধার তীব্র সুবাস জড়িত ফুলের বিছানার মাঝখানটায় লম্বা ঘোমটা টেনে বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন ভূমিকে। সাথে কড়া ভাবে বলে গিয়েছেন যেন রুম থেকে এমনকি এই বিছানা থেকেও যেন এক পা নিচে না রাখে যতক্ষণ না আদ্র ঘরে ডুকবে। দূর সম্পর্কের ভাবিদের এই নিষেধাজ্ঞায় ভূমিও বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়েছে। সেই থেকে বসে আছে গুটিসুটি মেরে। সজুব রঙা ড্রিম লাইটে মৃদু মন্দ টিমটিমে আলোয় জরজেট এর ওড়নাটার ফাকঁ গলেই সারা ঘর দেখে চলেছে বেশখানিকটা সময় ধরে।

-বুকের ভিতরে বেজায় তোলপাড় চলছে তার। আজ তার 'বাসর রাত' কাথাটা মন, মস্তিষ্কে উঁকি দিতেই আড়ষ্ট হয়ে পড়ছে ভিষন লজ্জায়। বুকের ভিতর ধুকপুক করছে ভয়ে, জড়তায়। ভাবি, চাচীদের শিখিয়ে দিয়ে যাওয়া কথাগুলো মনে পড়তেই ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠছে বারবার কুণ্ঠায়। এই রাতটা প্রতিটি মেয়েরই স্বপ্নের রাত। কতশত কল্পনা জল্পনা আঁকে এই রাতটা নিয়ে। নিজের জীবনসঙ্গীকে কাছে পাওয়া নিয়ে। তার থেকে কিঞ্চিৎ দূরে নেই ভূমিও। তার ও অনেক স্বপ্ন তার এই রাতটা নিয়ে, ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে।

--কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই হুট করেই বিদ্বিষ্ট হয়ে উঠেছে সে। অপেক্ষা করতে করতে বেজায় বিরক্ত হচ্চে। কিন্তু আদ্রের আসার নাম নেই। বারবার ঘাড় কাত করে তাকাচ্চে দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়িটার দিকে। এত রাত পর্যন্ত বসে থাকা কি সম্ভব? ঘুমে টলে উঠছে মাথা। যেকোনো সময়ই তো ধপাস করে পড়ে যাবে। ভূমি সুয়ে পড়বে কি না সেটা ভেবে দ্বিধা দ্বন্দ্বে হাশপাশ করলো। পুনরায় নিজেকে শাসিয়ে নিজে নিজে বিরবির করে উঠলো ---

ভূমি ঘুমালে চলবে না, ওনি যদি এসে দেখে ঘুমিয়েছিস রাগ করবে নিশ্চয়ই,, আদ্র ভাইয়া আসলেই তাকে সালাম করতে হবে।এটাই বউদের প্রথম কাজ।

----সময় গড়িয়েছে ১ বেজে ৫ মিনিট। ছাঁদের একপাশটায় পাটাতন বিছিয়ে আড্ডায় বসেছে পুরুষমহল। যা চলছে বিগত ৪০ মিনিট ধরে। বন্ধুরা বাদেও তাতে যোগ হয়েছে এলাকার কিছু অল্প বয়সি চাচা, বড় ভাইরাও। বিবাহিত ছেলেরা আদ্রকে উদ্দেশ্য করে শিখিয়ে দিচ্চে এটা সেটা। কিন্তু এতে বিন্দু মাত্র মনোযোগ তার পরছে না। সে বেজায় ক্ষিপ্ত, বিরক্ত। বারবার ঘড়ির কাটায় চোখ পেলছে। এত রাত হলো এখন কি তার ঘরে যাওয়ার প্রয়োজন নয়? কিন্তু সেটা কারো খেয়ালে নেই। উঠতে চাইলেও জোর পূর্বক ঘিরে রাখা হয়েছে। কারণ তাদের আড্ডার কেন্দ্র বিন্দু যে, সে না থাকলে জমবে কিভাবে? বন্ধুর একাকি জীবনের শেষ দিন আজকেই। সেটারই সেলিব্রেশন চলছে। সকলে হৈহৈ করে হাসছে।

--আদ্র বিরক্ত হয়ে কপাল চেপে ফোঁস ফোঁস নিশ্বাস পেললো। তখনি হাতে ট্রে নিয়ে ব্যস্ত পায়ে উঠে আসছিলেন সাবিনা। ছেলেকে এমন বিষন্ন, বিধ্বস্ত চেহারায় দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলেন --একি বাবা, কি হয়েছে তোর? শরির খারাপ লাগছে? মাথা ধরলো নাকি?

--আদ্র অসহায় নজরে তাকালো মায়ের দিকে।

--সাবিনা তাকিয়ে ছেলের চেহারার দিকে। মাথা নেড়ে ট্রে থেকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললেন --এই নে চা টা খা দেখবি ভালো লাগবে।

--আদ্র এবার বিরক্ত প্রকাশ করলে। বিদ্বিষ্ট চোখে কিছু সময় চেয়ে রইলো। বুঝাতে চাইলো।সে চা খাবে না, ঘরে যাবে। কিন্তু সেটায় কারো নজর নেই।

--আদ্র অধৈর্য হলো। ফট করে উঠে দাঁড়ালো আড্ডার মাঝে । কারো দিকে না তাকিয়ে সামনে এগোতে নিলে সকলের হতভম্ব হয়ে তাকায়। থমথমে হয়ে রিহান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে ----কিরে কোথায় যাচ্ছিস তুই আবার?

--রিহানের প্রশ্ন শুনে আদ্র প্রকট চোখে পিছন ফিরে চাইলো। গমগমে গলায় বললো --,রুমে যাচ্ছি।

--সে কি আমরা সবাই তোর জন্য এখানে বসে আছি, আর তুই চলে যাচ্চিস। বউ আসার সাথে সাথে বন্ধুদের পর করে দিলি?

--রিহানের কথায় তাল মিলিয়ে সকলে অধীর নেত্রে চেয়ে সমানে মাথা দুলালো। কিন্তু এতে আদ্র বিন্দু মাত্র বিব্রত হলো না। সবাই যে ইচ্চে করে এমন করছে তা বেশ বুঝতে পারছে। বেপাশ কিছু বলে দিতে চেয়েও পাশেই মায়ের দিকে চোখ পড়তেই চুপ করে গেলো।

--আদ্র শক্ত, শীথিল কণ্ঠে বললো -- ট্রায়োড লাগছে আমার।

কথাটা বলেই ধুপধাপ পা পেলে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। হতবাক হয়ে চেয়ে রয় সবাই।শাহরিয়াত উঠে পা মেলায় আদ্রের সাথে থতমত খায় সাবিনা ও। সবাইকে দ্রুত হাতে চা দিয়ে পিছন পিছন দৌড়ে আসে।

-- আদ্র বিনা বাক্যব্যায় এ এগিয়ে যায় সামনে। শাহরিয়াত পিছন থেকে এসে কাধ চেপে ধরে আদ্রের হেসে হেসে বল --কি ভাই এত তাড়া কিসের হুমম?

--আদ্র গমগমে চোখে পাশ ফিরে চায়। এতেই গুটিয়ে যায় শাহরিয়াত। হেসে মুখ নিয়ে যায় আদ্রের কানের পাশে ফিসফিস কণ্ঠে বলে,, --

"শোন ভাই মেয়েটা কিন্তু এখনও ছোট, বয়স কম। বুঝে শুনে করবি যা করার। জোশ এ এসে নিজেকে বাঘ মনে করার দরকার নেই। প্রয়োজনে সময় দে।

-- আদ্র তাচ্ছিল্য হাসে পুরোপুরি ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় শাহরিয়াতের দিকে।
-- একজন বিবাহিত পুরুষকে এসেছিস জ্ঞান দিতে ?ননসেন্স।

---

সাবিনা অবিলম্বে হন্নে হয়ে নেমে এলো ছাঁদ থেকে। হাশপাশ করে বোনকে এদিক সেদিক খুজতে লাগলো। কিছুদূর চাইতেই দেখা পেয়েই তস্ত পায়ে সেদিকটায় গিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বললো

" হ্যা রে ছোট মেয়েটার ঘরে তো দু'ধ, মিষ্টি কিছু দিয়ে আসা হলো না। আদ্র তো ঘরে চললো।

--বোনের কথায় খানিক আঁতকে উঠলেন সাবরিনা ও। পাশ থেকে তাহমিনা আব কেটে রুষ্ট কণ্ঠে বললেন --কয়টা বাজে সময় দেখেছ তোমরা? ২ টা বাজলো বলে। এতক্ষণ সময় ধরে তোমরা ছেলেটাকে ঘরে যেতে দিচ্চ না। তোমাদের আক্কল- জ্ঞান ও বলিহারি।

--কাজে এদিকটায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় সময় ও তো খেয়াল করি নি আপা। দিয়ে আসবো নাকি ফাঁক করে এখন?

--সাবিনা খানিক উদ্বিগ্নচিত্তে ভেবে রয়েসয়ে বললেন ---থাক এখন আর কিভাবে দিবি। ছেলের সামনে এভাবে বাধা দিয়ে তার ঘরে যেতে কেমন লাগবে।

---সাবরিনা মাথা দুলালেন। ---তাও ঠিক। চিন্তিত কণ্ঠে কিছু বলতে নিলেই আফজাল ঘর থেকে হাক ছুঁড়লেন। স্বামীর আওয়াজ পেতেই সাবিনা হন্তদন্ত পায়ে সেদিকে ছুটে গেলেন। সাবরিনা, তাহমিনা নিজেদের বাকি কাজ সারতে চললেন।

--তোফায়েল মেহেমান বিদায় দিয়ে সোফায় এসে বলসেন। স্ত্রীকে খুঁজলেন নজর ঘুরিয়ে তার দেখা পাওয়া আদেও মুখের কথা নাকি? দিনের অর্ধ সময় চলে যায় রান্না ঘর আর ড্রয়িং রুমে।দুইটা কাজের মাসি রেখেও উপায়ন্ত হলো না, সমাধা হলো না এই ব্যস্ততা। মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিলেন, মেয়েটার জীবনের ভার এখন আরেকজনের কাধে তুলে দিলেন। হয়তো দূরে যায় নি তাও পর হয়েছে। একটু তো নিজের অর্ধাঙ্গীনীর সাথে বসে গল্প করবেন, সুখ দুঃখের কথা বলবেন। কই ধারে কাছে ও আসছে না। অতিষ্ঠ হয়ে মাথা কাত করলেন। উঠে হাটা ধরলেন ঘরের দিকে।

***
আদ্র, শাহরিয়াত সহ কথা বলত বলতে রুমের সামনে
এসে দাঁড়াতেই এক দফা চমকে তাকায়। হতভম্ব হয়ে সামনের দিকে চায়। তার দরজার সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন। এর মাঝে আদ্রি, প্রিয়া, সাদাব, মিথালারা সহ আরো কয়েকজন। শাহরিয়াত ওদের দেখেই হাসে। আদ্রের কাঁধ চাপড়ে হেসে বলে ---

এবার বুঝবে ঠেলা। এগিয়ে যোগ দেয় বাকিদের সাথে। মিশে যায় তাদের একজন হয়ে।

--আদ্র সামনে আগায়, ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে --কি সমস্যা? তোরা সবাই এখানে কি করছিস?

---সকলে সবেগে তাকায় সেদিকে। আদ্রের নজর দেখে হাসে সবাই। শাহরিয়াত প্রোমোদ কণ্ঠে বলে

---সমস্যা না রে ভাই। আমাদের তো টাকা চাই। গেইট ধরেছি আমরা। বাসর ঘরে ডুকতে হলে টাকা দিয়ে ডুকতে হবে।

--আদ্র হতচকিত হয়, অবাক চোখে চেয়ে বলে ---ঘর আমার, বাসর ও আমার তোদের কেন টাকা দিবো?

---সাদাব শান্ত কণ্ঠে বলল--,,ভাইয়া সেটা বললে কিভাবে হয়? এটাই আইন যুগযুগ ধরে চলে আসছে। একই বাড়িতে বিয়ে হয়ে সব কিছু থেকে আমরা বঞ্চিত। এটাতে তো ছাড় দেওয়া যাবে না।

--সব উশুল করে নিতে হবে। পাশ থেকে দূর সম্পর্কে এক ভাবী কথাটা বলে হাসে।

--আদ্র গরম চোখে সাদাব এর দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বলে ---সাদাব!!!তুই ভূমির বড় ভাই হয়ে এসব ননসেন্স কাজে যোগ দিয়েছিস ? লজ্জা করে না।

সাদাব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে ----সরি ভাই,,, ভূমির ভাই হওয়ার সাথে সাথে আমি তোমার শালা হই কিন্তু। এই মুহূর্তে সেটাই আমার পরিচয়।

---আদ্র বিতৃষ্ণায় কপাল ঘেষে ধরে। মুখে 'চ' সূচক শব্দ করে বলে ---আমার বেশ ক্লান্ত লাগছে,,সারাদিন দৌড়ের ওপর ছিলাম। এক একটা থাপ্পড় খাওয়ার আগে যা ঘরে যা।

শাহরিয়াত ওমনি গদগদ হয়ে কাধ উঁচু করে। আঙুল নাড়াতে নাড়াতে বলে---না না উহুহহ উহুহহ ভাইয়া ভাই!!তোমার কোনো এক্সকিউজ শোনার ইচ্চা আমাদের নাই। আজ তোমার কোনো তেজ আমরা পরোয়া করি না। বউ পেতে হলে টাকা দে।

--সুর মিলিয়ে সকলে হৈহৈ করে ওঠে। সামনের দিকে হাতবাড়িয়ে রেখে সমান তালে বলে চলেছে --টাকা দেন, বউ নেন।

--আদ্র বিদ্বিষ্ট হয়। টাকা না দিয়ে ছাড় পাওয়া হবে না সে ব্যাপারে কোনে সন্দেহ নেই। রুষ্ট কণ্ঠে বলে --কত টাকা লাগবে?

--হাসে সবাই মিথিলা আগ বাড়িয়ে বলে -- ত্রিশ দিলেও আমরা ম্যানেজ করে নিবো। কি বল সবাই?

-- মিথিলার প্রস্তাবে সবাই মাথা দুলায়। নিরবে মাথা নাড়ায় আদ্রি, প্রিয়াও। তারা নিরব দর্শক। ভাইয়ের মুখের ওপর কিছু বলার সাহস নেই। কেবলই দল বাড়াতে তাদের উপস্থিতি।

--আদ্র ব্যস্ত হাতে পকেট হাতড়ে ওয়ালেটটা বের করে। সবাই অধীর নজরে চেয়ে আছে সেদিকটায়। আদ্র ওয়ালেট খুলতে খুলতেও তা পুনরায় বন্ধ করে হাতে ধরে।
--সামনে চেয়ে হাতটা বাড়িয়ে শীতল কণ্ঠে বলে ---এই ওয়ালেট এ তোদের ডিমান্ড অনুযায়ী সম পরিমাণ টাকা আছে। আই থিংক তার ও বেশি আছে।

--আদ্রের কথায় সকলের মুখে ঝিলিক ওঠে। ওয়ালেটের ভারী ভাব দেখেই সকলে খুশি হয়ে যায়। শাহরিয়াত হাত বাড়িয়ে ওয়ালেটটা নিতে গেলেই আদ্র তা নিজের কাছে নেটে নেয়।
--ভ্রু কুঁচকায় সবাই। শাহরিয়াত উদ্বেগ নিয়ে বলে --কি হলো দে।

আদ্র হাসে, দুহাত বুকে ভাজ করে বলে-- দিবো বাট আমার শর্ত আছে।

--কি শর্ত,?

---এক হাতে,আগে দরজা খুলে দিবি। আমি ঘরের ভিতরে ডুকেই তোদের অন্য হাতে ওয়ালেটটা দিয়ে দিবো।

আদ্রের এমন শর্তে ভ্রু কুচকায়। হতভম্ব হয়ে বলে --এটা কি শর্ত। এটা তে আমাদের আইনে নেই। দেখা গেলে তুমি চান্দু আমাদের ধোঁকা দিয়ে টুপ করে ভিতরে ডুকে দরজা লাগিয়ে দিলা তখন?

---সাদাব সহ বাকিরাও তাল মেলায়, মাথা দুলায়।

---আদ্র অতি শান্ত স্বরে বলে ---ধোঁকা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। আমি এসব থার্ড ক্লাস কাজ কখনও করি নি সেটা তোরা ভালো করেই জানিস।

--আদ্রের এমন আত্নবিশ্বাসী কণ্ঠ স্বর সকলকে ভাবনায় পেললো। তারা ও জানে আদ্র আর যাই করুক কথা দিলে তা ভঙ্গ করার পাত্র নহে। সকলে একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকে।

আদ্রি এবার মুখ খুলে এগিয়ে ফিসফিস করে বলে --- আমার মনে হয় ভাইয়া মিথ্যা বলছে না।একবার বলেছে যেহেতু দিবে তার মানে দিবে।

সম্মতি জানায় প্রিয়াও --- ওনাকে বিশ্বাস না করে উপায় নেই। মেনে নিন।

--সাদাব সহ সকলে ও সাই জানায়। শাহরিয়াত তাকায় আদ্রের দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে বলে --ঠিক আছে দিচ্ছি কিন্তু কোনো চিটিংবাজী চলবে না। এক হাতে ওয়ালেট বাড়িয়ে দিবি অন্য পায়ে ভিতরে ডুকবি। আমরা টাকা গুণা শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানে দাড়িয়ে থাকবি।

--আদ্র বক্র হাসলো। কাঁধ উচিয়ে বললো --ঠিক আছে খোল।

সবাই সম্মতিতে সরে দাঁড়ালো দরজা ছেড়ে। সাদাব এগিয়ে দরজাটা খুলে দিলো, অন্যপাশে খাপটি হয়ে চেয়ে রইলো শাহরিয়াত যদি বেটা ডুকে দরজা বন্ধ করে দিতে চায় খপ করে ধরে পেলবে সে আশায়। আদ্র রুমের কিছুটা ভিতরে প্রবেশ করেই ওয়ালেটটা বাড়িয়ে দিলো সামনে।

--শাহরিয়াত খপ করে টেনে নিলো নিজের কাছে। বিষ্ময় সাথে আনন্দে হাসলো। ওয়ালেট পেয়েই সকলে দরজা ছেড়ে সেদিকে জড় হলো। সুযোগ পেতেই আদ্র ফট করে দরজাটা লাগিয়ে দিলো, ব্যস্ত হাতে ছিটকিনিটা তুলে দিলো।

--আওয়াজ শুনে ভড়কালো সবাই। এক এক করে তাকিয়ে পুনরায় ওয়ালেট এ মনোযোগ দিলো। শাহরিয়াত টাকা বের করে গুনতে লাগলো। হিসাব শেষে ফলাফল পেলো এখানে মাত্র পনেরো হাজার টাকা।

---এভাবে ঠান্ডা মাথায় তাদের সাথে গেম খেলেছে। আদ্র তাদের ধৌকা দিয়েছে বিষয়টা বুঝতেই জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো।
--মিথিলা কাতর স্বরে বলে উঠলো ---স্যার এটা কি হলো? এটা তো অন্যায়।

---সাদাব বললো,,, ভাই দিস ইজ নট ফেয়ার। দরজা খোল।

--শাহরিয়াত তেতে উঠলো, এভাবে ধৌকা সে জীবনেও খায় নি। আদ্র কিনা এত সুন্দর ভাবে চোখের সামনে ধৌকা দিয়ে দিলো। শক্ত হাতে দরজা ধাক্কা দিয়ে বললো ---শা'লা দরজা খোল। তুই বললি বেশি আছে এখানে তো তার অর্ধেক ও নাই। চিটিংবাজ আসল রূপ দেখিয়ে দিলি এই ছিলো তোর মনে মনে।

--আদ্র হাসলে, ঠোঁট কামড়ে হাসি ধমিয়ে হতচেতন হয়ে বললো ---তোরা বললি ত্রিশ দিতে। এক্সাক্ট এমাউন্ট বলিস নি ত্রিশ হাজার নাকি ত্রিশ টাকা। আমি আমার মতো ধরে নিয়েছি। সে হিসেবে এখানে তার ত্রিশ গুন + টাকা আছে।

--মিথিলা অসহায় কণ্ঠে বললো-- স্যার আমি তো ত্রিশ হাজার বলতে চেয়েছি।

--সাদাব বললো --হুমম তাই তে।দরজা খোলো, টাকা দাও না হয় আমরা যাবো না।

আদ্র রয়েসয়ে বললো-- আমার বউ ঘুমাচ্চে আওয়াজ করবি না আর। কালকে সকালে দিয়ে দিবো যা প্রমিজ।

--শাহরিয়াত মুখ বাকালো, বক্র কণ্ঠে বললো --শা লা উতলা হচ্চে কেমন দেখ বউ পেয়েই। সকাল সকাল এসে আবার হানা দিবো আমরা সবাই। এখন যাচ্চি।

---সাদাব ভাইয়ের ব্যাগটা নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। সকালে বাকি টাকা পেলেই ভাগ করা হবে। শাহরিয়াত ও আজ রাতটা এখানেই থাকছে। মিথিলা, ইফতি, আদ্রি, প্রিয়া মেয়েটা সবাই একসাথে ভূমির রুমেই থাকছে আজ। রাত বেশি হওয়ায় এখানে কাটাবে এটাই তোফায়েল আহমেদ এর আদেশ।

****

সকলের ধুপ ধাপ পা পেলে চলে যাওয়ার আওয়াজ পেতেই আদ্র ফিরে তাকালো। ফোঁস করে ক্লান্তির নিশ্বাস পেলে সামনের দিকে চাইতেই, চমকায় ক্ষণিক। ফুলে আচ্ছাদিত বিছানায় মাঝখানটায় গুটিসুটিয়ে গভীর তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থাকা শুভ্র শাড়িতে মোড়ানো তার মায়াপরীকে দেখে। ড্রিম লাইটের টিমটিমে আলোতে সাদার ওপরে সোনালী রঙা সুতার কাজ গুলো চিকচিক করছে। দুহাত ভাজ করে তার ওপর মাথা দিয়ে কি গভীর তন্দ্রায় সে তলিয়ে। আদ্র হাসলো, বিজয়ের হাসি যাকে বলে। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো সামনে। শব্দহীন বসলো বিছানার পাশ ঘেষে। চেয়ে রইলো তার ছোট্ট ময়াপরীর এই মায়াবী চেহরাটার দিকে। কতটা নিষ্পাপ এই ছোট্ট গোলগাল মুখখানি। তার ডাগরআঁখির চাউনি, তীরের মতে আঘাত করে বুকে তা কি এই মেয়েটা জানে? বুঝেছে কখনও? আদ্র বিমোহিত চোখে চেয়ে রইলো সামনে সুয়ে থাকা পুতুল রূপি তার বউটার দিকে। হ্যা,আজ থেকে মেয়েটা তার বউ। এই মেয়েটার সকল দায়িত্ব আজ থেকে তার।

---আদ্র নিষ্পল চেয়ে থেকেই ওষ্ঠ মেলে হাসলো। এই হাসি প্রাপ্তির, এই হাসি তৃপ্তির। এগোলো খানিক সামনে, ছুয়ে দিতে চাইলো নিজের অর্ধাঙ্গিনীর খাদহীন ললাট।

--ক্লান্তিভারী শরীরে অঘাত ঘুমে মগ্ন যখন ভূমি। ঘুমের মাঝেই অনুভব করলো কেও তার দিকে গভীর নেত্রে চেয়ে আছে। কারো শরীরের উষ্ণতা, নিশ্বাসের তপ্ত হওয়া তার চোখে মুখে আচড়ে পড়ছে। কি দেখছে এত পর্যবেক্ষণ করে। আচমকাই চোখ মেললো ভূমি। নিবুনিবু চোখের নিদ্রা রেশ খানিক কাটতেই নিজের কাছে, অনেক বেশি কাছে মানুষটার দেখ পেলো। তার বহু প্রতিক্ষার, ভালোবাসার, আদ্র ভাইয়া। ঘোর কাটলো তক্ষুনি। উবে গেলো ঘুম, বাসা বাঁধলো কুণ্ঠা। মুখখানি লালিত হতে হতে উষ্ণতায় ভরে উঠলো।

ভূমিকে উঠতে দেখে আদ্র খানিক পিছু সরলো।

ভূমি চট করে উঠে বসলো। মাথার ওপর হাত দিতেই দেখতে পেলো তার বড়সড় করে টেনে রাখা ওড়নাটা সরে গিয়েছে যেটা আদ্র ভাইয়া ঘরে এসে প্রথমে খোলার কথা। ইশশ কিভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। মা, চাচিরা যা যা শিখালো কিছু তো হলো না। লজ্জায়, বিষ্ময়ে নিজেকে বকে নিলো। কিন্তু তার ও দোষ কোথায়? সেই যে ঘরে রেখে গেলো বসে থাকতে থাকতে বিতৃষ্ণা হয়ে উঠলো। এর পরেই কখন ঘুমিয়ে পরলো বুঝেই ওঠতে পারে নি।

ভাবনার রেশ কাটিয়ে চোখ ফিরিয়ে আদ্রের দিকে তাকালো। ফট করে নিচে নেমেই আদ্রকে সালাম করে নিলো। অপরাধী কণ্ঠে, তোতলে বলে উঠলো --সরি আদ্র ভাইয়া আসলে কিভাবে জানি ঘুমিয়ে পড়েছি।

আদ্রকে শক্ত চোয়ালে বসা থেকে উঠে দাড়াতে দেখে ভূমি খানিক ভড়কালো। ভয় পেলো, আমতা আমতা করে চাইলো। বাসর রাতেই কি ঝগড়া করবে তার সাথে ঘুমিয়ে পড়েছে কেন সেই অপরাধে?

--ভূমি নড়েবড়ে উঠলো,,আদ্রকে এভাবে চুপ করে থাকতে দেখে, পুনরায় সাফাই গাইতে নিলো --ভাইয়া রাগ করেছেন? আমি আস,,,

--আদ্র দুপা এগোলো, , নিজের চ্যাপ্টা হাতের তর্জনী ভূমির নড়তে থাকা লিপস্টিক পরিহিত ঠোঁটের মাঝে চেপে ধরলো। এতেই চুপসে গেলো মেয়েটা। তিরতির কাঁপলো তার চাউনি। তার ভাবভঙ্গি ভিষণ স্বাভাবিক, মুখে কিচ্ছুটি বললো না, আচম্বিতেই ভূমিকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো আদ্র। ভড়কালো ভূমি,, চকিতে চেয়ে থাকতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো নরম বিছানায়। নিজের ওপরে আদ্রকে আধ সোয়া হতে দেখে শরীর জমে এলো। কাঁপলো সর্বাঙ্গ। কি হতে যাচ্চে সামনে কথাটা ভেবেই থমকে এলো শিরা উপশিরা। লজ্জায়৷ কুণ্ঠায় চোখ নোয়ালো। ভুজে নিলো সযত্নে।

--আদ্রের মুখবীর এগোলো, এগোতে থাকলো ভিষণ কাছে, যার মাঝে কোনো খাদ নেই, নেই কোনো ফাঁক, দূরত্ব,। যতটুকু দূরত্ব গোছানো যায় ততটুকু গোছালো। তার তপ্ত, উষ্ণ নিশ্বাস ভূমির দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কাটা তুলে দিচ্চে। ঘেমে আসছে মেয়েটা। আদ্রের বলিষ্ঠ দেখের ভীড়ে গুটিশুটি মেরে গেলো ভূমির ছোট দেহ। আদ্র ভূমি ললাটে চিকন,কোমল ঠোঁট ছুয়ে দিলো। ছুলো মেয়েটার চোখ, নাক, রক্তাভ দু গাল।

--ভূমি নড়লো, অশান্ত হলো বোধন, অস্থিরতায় হাশপাশ করলো, চটপটিয়ে উঠলো। আদ্র ইঞ্চি ও নড়লো না বরং ভূমির ঘাড়ের পাশে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো --কি বলেছিলাম সেদিন মনে নেই? দিনটা আমার, শুধুই আমার। কথাটুকু বলেই তার কোমল অধর ডোবালো ভূমির গলায়। অবিরত চুম্বনে থেতিয়ে উঠলো মেয়েটা।

ভূমি দুচোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো। আদ্রের এই কামুক স্বর, এই ছোঁয়ায়, এই আশান্ত আচরণে আইঢাই করলো। বয়ঃসন্ধির আবেগে আপ্লূত হয়ে উঠলো অষ্টাদশী। সময় গড়ালো দূরত্ব গোছালো,। ভূমি শান্ত হলো, ধাতস্থ হলো। একটা সময় পরে সয়ে নিলো। কাঙ্খিত ব্যক্তির এই পবিত্র ভালোবাসার ছোঁয়ায় নিজেকে সামিল করে নিলো। একতালে আকড়ে নিলো মানুষটার উন্মুক্ত, ঘর্মাক্ত চ্যাপ্টা পিঠ । সূচনা হলো এক নতুন পথ চলার, নতুন অনূভুতির, সন্ধি হলো দুই চড়ুই এর আগত জীবনের।

চলবে,, 🫣

Address

Mirsarai

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when sabitun Nahar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share