19/03/2026
ঢাকার এক ব্যস্ত বিকেলে বনানীর একটি শপিং মলে হঠাৎ হৈচৈ শুরু হয়ে গেল।
একজন মধ্যবয়সী লোককে ধরে ফেলেছে নিরাপত্তাকর্মীরা। অভিযোগ— তিনি নাকি এক দোকান থেকে একটি ছোট্ট খেলনা চুরি করেছেন।
লোকটার বয়স প্রায় ৪৫। পরনে পুরনো শার্ট, চোখে ক্লান্তি আর মুখে অদ্ভুত নীরবতা।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মোবাইল বের করে ভিডিও করতে লাগল।
“চোর! চোর!” — কেউ একজন চিৎকার করল।
মলের ম্যানেজার রাগে গর্জে উঠল,
“লজ্জা করে না? এই বয়সে এসে চুরি করেন!”
লোকটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। একটাও কথা বলছিল না।
হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে প্রায় ১০ বছরের একটা মেয়ে দৌড়ে এসে লোকটার সামনে দাঁড়াল।
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ওনাকে মারবেন না! উনি চোর না… উনি আমার বাবা!”
চারপাশের সবাই থমকে গেল।
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল,
“আজ আমার জন্মদিন… আমি অনেক দিন ধরে ওই খেলনাটা চাইছিলাম। কিন্তু বাবা বলছিল টাকা নেই। আমি কাঁদছিলাম… তাই বাবা লুকিয়ে এটা নিতে গিয়েছিল।”
পুরো মল তখন নিস্তব্ধ।
লোকটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল। চোখে পানি।
তিনি আস্তে করে বললেন,
“আমি জানি এটা ভুল… কিন্তু মেয়েটা তিন বছর ধরে কোনো জন্মদিনে কিছু পায়নি। আজ ওর হাসিটা দেখতে চেয়েছিলাম।”
কিছুক্ষণ আগে যারা ভিডিও করছিল, তারা তখন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
দোকানের মালিক ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে মেয়েটার হাতে খেলনাটা তুলে দিল।
তিনি বললেন,
“এটা চুরি না… এটা একজন বাবার ভালোবাসা।”
এরপর তিনি লোকটার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আপনি চোর না। আপনি একজন অসহায় বাবা।”
সেদিন মলের অনেক মানুষের চোখে পানি ছিল।
কারণ তারা বুঝেছিল —
সব অপরাধের পেছনে খারাপ মানুষ থাকে না,
কখনো কখনো থাকে ভালোবাসা আর অসহায়তা...