26/07/2026
আজকাল তথাকথিত অনেক সুশীল মানুষ চায়ের দোকানে, আড্ডায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বসে যুবসমাজকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন আর বলেন;
"এদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।"
"এরা নেশা করে, জুয়া খেলে, বেকার ঘুরে বেড়ায়।"
"আজকের যুবকরা আর মানুষ হবে না।"
কথাগুলো বলা খুব সহজ। কিন্তু একটা প্রশ্ন কি কখনো নিজেকে করেছেন?
এই যুবকদের জন্য আপনি কী করেছেন?
আপনার প্রচুর অর্থ-সম্পদ আছে, সমাজে প্রভাব আছে। কিন্তু নেশাগ্রস্ত একজন যুবককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন? জুয়া থেকে দূরে রাখতে কোনো বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন? বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কয়জনের কাজের ব্যবস্থা করেছেন? কর্মদক্ষতা বাড়াতে কোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কারিগরি প্রতিষ্ঠান কিংবা একটি ছোট কর্মশালাও কি গড়ে তুলেছেন?
আমরা শুধু ফলাফল দেখি, কিন্তু কারণগুলো দেখতে চাই না।
একজন তরুণের হাতে যদি কাজ না থাকে, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না থাকে, আর বিকেলে খেলাধুলা করার মতো একটি মাঠও না থাকে, তাহলে সে কোথায় যাবে?
একটা সময় বিকেল মানেই ছিল মাঠভর্তি ছেলেদের হাসি, ফুটবল, ক্রিকেট, দৌড়ঝাঁপ আর বন্ধুত্ব। আজ সেই মাঠগুলোর জায়গায় উঠেছে ভবন, কিংবা বছরের পর বছর পড়ে আছে অব্যবস্থাপনায়। কোথাও মাঠই নেই, কোথাও থাকলেও খেলতে দেওয়া হয় না।
অথচ একটি খেলার মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়; এটি একজন তরুণের চরিত্র গঠনের জায়গা। মাঠ শিখায় শৃঙ্খলা, দলবদ্ধতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, পরাজয় মেনে নেওয়া এবং আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস। যে সময় একজন কিশোর মাঠে ঘাম ঝরাতে পারত, সেই সময়ই আজ সে মোবাইলের স্ক্রিনে বন্দী।
অথচ আমাদের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিরা বছরের পর বছর ধরে যুবকদের একটি মাঠের আশ্বাস দিয়েছেন। যুগ পার হয়ে গেছে, কিন্তু মাঠ আর হয়ে উঠেনি। ফলে ছেলেরা মাঠে নয়, মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটায়। গেম খেলতে খেলতে অনলাইন বেটিংয়ের ফাঁদে পড়ে, ভার্চুয়াল আসক্তিতে ডুবে যায়, তারপর ধীরে ধীরে নেশা ও হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে থাকে।
এরপর আমরা দাঁড়িয়ে বলি; "যুবসমাজ নষ্ট হয়ে গেছে।"
কিন্তু কখনো কি গোটা একটা সমাজ নিজে থেকেই নষ্ট হয়ে যায়?
যুবকদের ব্যর্থতার পেছনে তাদের যেমন দায় আছে, তেমনি আমাদেরও দায় আছে। কারণ আমরা তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারিনি। কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারিনি। খেলাধুলা, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে পারিনি।
তাই শুধু সমালোচনা করে দায় শেষ করলে হবে না। প্রশ্নটা আগে নিজের দিকেই ছুড়ে দিতে হবে;
আমি এই সমাজের জন্য কী করেছি? একজন যুবককে সঠিক পথে আনতে আমার অবদান কী?
যেদিন আমরা প্রত্যেকে এই প্রশ্নের সৎ উত্তর খুঁজতে শুরু করব, সেদিন হয়তো যুবসমাজকে নিয়ে অভিযোগও কমে যাবে।
কারণ, একটি খেলার মাঠ অনেক সময় একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের চেয়েও বেশি যুবককে বাঁচিয়ে দিতে পারে। একটি কর্মসংস্থান অনেক অপরাধের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র অসংখ্য তরুণের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
সমাজকে বদলাতে চাইলে শুধু সমালোচনা নয়, দায়িত্বও নিতে হবে।
আফসোস আর লজ্জা।
যুবকদের জন্য নয় বরং আমাদের সবার জন্য।
🖋️আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইমরান