17/07/2026
#জুম্মার_দিন
জুম্মার দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের মতো।
এটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন,
যেদিন হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনেই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিনের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস দেওয়া হলো:
👉১. শ্রেষ্ঠ দিন ও সৃষ্টির ইতিহাস:
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।
এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে,
এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে
এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।"
(সহিহ মুসলিম)।
👉২. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত:
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে,
যখন বান্দার দোয়া কবুল করা হয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুম্মার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে,
কোনো মুসলিম যদি সেই মুহূর্তে নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চায়,
তবে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করেন।
(সহিহ বুখারী ও মুসলিম)
👉৩. গুনাহ মাফের উপায়:
হযরত সালমান ফার্সি (রা.) বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
"যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে,
যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে,
তেল ব্যবহার করে বা সুগন্ধি লাগায়,
এরপর মসজিদে যায় এবং দুইজনের মাঝে ফাঁক করে সামনে না এগিয়ে নির্দিষ্ট নামাজ আদায় করে
এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনে
— তবে তার ওই জুম্মা থেকে পরবর্তী জুম্মা পর্যন্ত সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।"
(সহিহ বুখারী)
👉৪. সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত বা জুমার দিন)
সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে,
আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেবেন।"
(সহিহ আল-জামে)।
👉৫. দরুদ পাঠ:
নবী (সা.) বলেছেন, "তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনটি সর্বোত্তম।
অতএব, এই দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।"
(সুনানে আবু দাউদ)
জুম্মার দিনের মূল সুন্নতগুলো হলো:
ফজরের আগে বা জুম্মার আগে উত্তমরূপে গোসল করা,
পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা,
সুগন্ধি ব্যবহার করা, পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং
বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়া করা।
#ইসলামেরআলো #জুম্মামোবারক #সুবাহানাল্লাহ #আলহামদুলিল্লাহ