04/06/2020
# পুলিশিনী_যখন_ক্রাস
পর্ব :- ১৬
:::
:::
:-তাই আমি ঠিক করেছি, আমি পুলিশিনীকে ডিভোর্স দিবো? (আমি)
:-কি বলছিস তুই!! (নীলয়)
:-ঠিকই বলছি আমি। (আমি)
:-বন্ধু রাগের মাথায় ভুল কিছু করিস না,,,নাহলে পরে পস্তাতে হবে (কাব্য)
:-আর কি পস্তাবো,,,,যে বউ নিজের স্বামীকে অন্যের কাছে কাজের ছেলে হিসেবে পরিচয় দেয়,,,তার সাথে ডিভোর্স করলে আর কি পস্তাবো!! (আমি)
:-হুমমম,,,বুঝলাম!!! এখন কি করবি!!? (কাব্য)
:-সত্যিই কি তাহলে ভাবীকে ডিভোর্স দিবি!!! (নীলয়)
:-হুমমম!! (আমি)
:-আমার মনে হচ্ছে,, ভাবী তার ভুল বু্ঝতে পেরেছে (কাব্য)
:-আমিও অনেকবার ভেবেছিলাম,,,পুলিশিনী আমাকে ভালোবেসে,,,তাই বিশ্বাস করে ভালোবাসা নিয়ে ওর কাছে গিছিলাম,,,কিন্তু ভালোবাসা পাইনি,,শুধু অপমান আর কষ্ট পেয়েছি!!
তাই আর ওকে বিশ্বাস করতে চাই না!! (আমি)
:-ওকে,,,দেখা যাবে কি হয়!! (নীলয়)
:-হুমমম, আর হে,,আমি সুস্থ হলে আমাকে কলেজে নিয়ে যাবি,,আমি আমার আগের জীবনে ফিরে যেতে চাই!! (আমি)
:-ওকে সমস্যা নেই,,,একাসাথেই যাবো নি!! (কাব্য)
(তারপর ওদের সাথে অনেকক্ষণ কথা বললাম!!
আর বিকালে আমাকে বাসায় আনা হয়!!)
::
::
::
বাসায় এসেই একটু রেস্ট নিলাম,,,,
কিন্তু একটি বিষয় খেয়াল করলাম,,,এর মধ্যে পুলিশিনী আমার সামনে আর আসেনি!!!
কিছুটা অবাক লাগতেছে,,,তবে ভালো লাগছে!!!
কারণ পুলিশিনীকে আমার সহ্য হয় না!!!
তারপর মা আমার রুমে আসলো,,,,
:-বাবা আয়? কিছু খাবার খেয়ে নে? (মা)
:-হুমম!!!(আমি)
(খুব খিদাও লাগছিলো)
(তারপর মার সাথে ধীরে ধীরে হেঁটে খাবারের টিবিলে গেলাম)
::
::
::
খাবাবের টেবিলে গিয়ে দেখি,,,পুলিশিনী খাবারের টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে!!
আমি ওর দিকে না তাঁকিয়ে খেতে বসে গেলাম!!
আর আজকের মেনুতে আমার যেসব খাবার সবথেকে বেশি প্রিয় সেগুলো রান্না হইছে!!
তাই আর দেরি না করে,, খেতে শুরু করে দিলাম!!
:-আহ্হ্হ্হ্,,,খাবারটা আজ অনেক মজা হইছে? (আমি)
:-তাই! (মা)
(পুলিশিনী দাঁড়িয়ে আছে মার পাশে)
:-হুমম,,,মা!! অনেক ধন্যবাদ তোমাকে!! আমার প্রিয় খাবারগুলো এতো ভালো করে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য, (আমি)
:-আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে,,শুরুভিকে ধন্যবাদ দে? (মা)
:-কেনো? (খাওয়া বাদ দিয়ে)
:-কারণ,,এগুলো সব ঔই তো রান্না করেছে? (মা)
:-.......(শুরুভি রান্না করছে শুনে আর খাবার গলা দিয়ে নামছে না)
:-মেয়েটি তোর জন্য,,অনেক কষ্ট করে রান্না করেছে,,আমার কাছে এসে বলতেছে,, মা আজ আমি রান্না করবো!!
আর তোর সব প্রিয় খাবারের নাম শুনে রান্না করলো তোর জন্য!! (মা)
:-....... (আমি চুপ করে আছি,,রাগ হচ্ছে পুলিশিনীর এসব আদিকখেতা দেখে)
:-কিরে চুপ করে বসে আছিস কেনো খাঁ? (মা)
:-....... (আমি আর কিছু না খেঁয়ে,,হাঁত ধুতে লাগলাম)
:-কিরে হাঁত ধুচ্ছিস কেনো? (মা)
:-খাবো না!! খাওয়া হয়ে গিছে!!! (আমি)
(এই বলে ওখান থেকে চলে আসলাম)
:- ...?পুলিশিনী মন খারাপ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো)
::
::
:-মা মন খারাপ করিস না,,, (মা শুরুভিকে বললো)
:-নাহ্হ্,,,মা ... আমি যা করেছি তার জন্য আমাকে সবকিছু সহ্য করতে হবে!! (কান্না করে দিছে)
:-কাদিস না মা!! পাগলটা রেগে গেলো কি যে করে কিছুি জানে না!! (মা)
:-হুমমম
::
::
আমি রুমে এসে শুঁয়ে পড়লাম!!
খিঁদে ছিলো,,,কিন্তু,শুরুভি রান্না করছে বলে,খাবার কেনো জানি গলা দিয়ে নামলো না!!
খিঁদে পেটেই এসে শুঁয়ে পড়লাম!!!
::
::
কিছুক্ষণ পরে,,শুরুভি রুমে আসলো,,,
রুমে এসে দাঁড়িয়ে থাকলো কোন কথা না বলে,,,
:- ...(শুরুভি)
(আমি ওকে দেখে না দেখার ভান করে শুঁয়ে থাকলাম)
তখন শুরুভি,,,
:-আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না? (মাথা নিচু করে বললো)
:-সরি,,আমার মতো কাজের ছেলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন কেনো? আমি ক্ষমা করার কে? (আমি)
:-এভাবে বলো না প্লিজ!! আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলছি,,আমাকে মাফ করে দেও? (কান্না করে দিলো)
:-এই দেখে নেকা কান্না করবেন নাতো,,সহ্য হয়না!! (রেগে বললাম)
:- ..(পুলিশিনী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো)
(কিছুক্ষণ নীরবতা,, কিছুক্ষণ না,, অনেকক্ষণ কেও কোন কথা বলসি না!)
(হঠাৎ পুলিশিনীর ফোন বেজে উঠলো,,,
:-.....(পুলিশিনী ফোনের দিকে তাঁকিয়ে আবার আমার দিকে তাঁকালো,,, আমি বুঝতে পারলাম করিম সাহেব ফোন দিছে)
(কিন্তু শুরুভি ফোন রিসিভ করছে না,,
:-আর ১সপ্তাহ অপেক্ষা করুন,,তারপর ভালো মতো কথা বলতে পারবেন? (আমি রেগে বললাম)
:- ..(অশ্রুভেজা চোখে আমার দিকে তাঁকালো)
:-যান? যান? বাইরে গিয়ে কথা বলে আছেন আপনার নাগর করিম সাহেবের সাথে?
:- .....(ফোনটি কেঁটে গেলো)
::
কিছুক্ষণ পর আবার ফোন আসলো,,,,
:-আরে যান তো ঢং দেখায়েন না!! কথা বলে আসুন বাইরে থেকে!! (আমি)
:- ... (আমার কথা শুনারর সাথে সাথে ফোনটি রিসিভ করেই,,,)
:-ওই সমস্যা কি তোর? বার বার ফোন দিচ্ছিস কেনো? (ফোনে রেগে বললো শুরুভি)
:- ..(এরকম কথা শুনে আমি তো অবাক)
:-আর কখনো আমার ফোনে ফোন দিবি না!! (পুলিশিনী এই বলে ফোনটি কেঁটে দিলো)
:- ..(আমি হেঁসে দিলাম শুরুভির নাটক দেখে)
:- ..(অবাক চোখে শুরুভি তাঁকালো)
:-নাটক ভালোি করতে পারেন!! (আমি)
( পুলিশিনী আর কিছু না বলে,,খাঁটে উঠে আসলো)
:-এই দাঁড়ান কি করছেন? (আমি)
:- ..(ভয় পেলো কিছু টা)
:-আপনি খাঁটে আসছেন কেনো? (আমি)
:-ঘুমাবো না!!
:-তো খাঁটে কেনো? নিচে ঘুমান!! (রেগে বললাম)
:-অনেক শীততত.... (বলতে গিয়ে থেমে গেলো)
:-কি হলো বলেন,, অনেক কী? (আমিও তখন বলে ছিলাম অনেক শীত)
:- ..(পুলিশিনী আর কিছু বলে শীতের মধ্যে ফ্লোরে গিয়ে শুয়ে পড়ো একটি কম্বল নিয়ে)
(আমার কিছুটা খারাপ লাগলো,,,তবুও খাঁটে আসতে বলতে পারলাম না,,মনের বিরুদ্ধে যেতে পারলাম না!!
কারণ মন বলতে তুই কেনো দোয়া দেখাবি,,তোকে তো কোন দোয়া দেখিয়েছিলো না)
(এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমায়ে গেলাম)
::
::
::
কিন্তু রাত যখন,১০টা বাজে,,
তখন আমার ঘুম ভেঙে গেলো,,ফোনের রিংটনের জন্য,,মানে কেও ফোন দিছে!!
তবে ফোনটি আমার ফোনে আসেনি,,শুরুভির ফোনে এসেছে!!
::
::
এতো রাত্রে শুরুভিকে কে ফোন দিলো,,এটি ভেবে আমি ঘুমানোর ভান করলাম,,,
আর শুরুভি ফোনটি রিসিভ করে,,কোন কথা না বলে বাইরে চলে গেলো!!
::
আমার আর বুঝতে অসুবিধা হলো না,,কে ফোন দিছে!!
তারমানে তখন বকাবাজি করলো করিম সাহেবকে,, সব নাটক ছিলো!!
অনেক রাগ হচ্ছে কার সাথে এক সাঁদের নিচে থাকি!!
নাহ্হ্,,এর একটি বিহিদ এখনি করতে হবে!!
::
::
১০মিনিট পর শুরুভি কথা বলে ভিতরে আসলো,,
আর ভিতরে এসে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,,
:- ...(অবাক চোখে তাঁকালো)
:- ..(আমি রাগি চোখে তাঁকিয়ে আছি)
:-আসলল.... (ও কিছু বলার আগেই)
:-ঠাসসসসসস (খুব জোরে একটি থাপ্পড় মারলাম)
:- ..(শুরুভি গাঁলে হাত দিয়ে তাঁকালো)
:-যতদিন আমাদের বাড়িতে থাকবি ভদ্র হয়ে থাকবি!!
লুচ্চামি যা করার এ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর করিস (রেগে বললাম)
:- ..(পুলিশিনী কান্না করে দিলো)
:-ওই নেঁকা কান্না করবি না!! আমি ডিভোর্স দেওয়ার পর,,এ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এসব করে বেড়াস তখন কেও কিছু বলবে না (আমি)
:- ..(কান্না করেই যাচ্ছে)
:-এ বাড়ির একটি সম্মান আছে তোর জন্য সেটি নষ্ট করতে পারবো না!! (আমি)
:- ... (কান্না করতেছেই)
:-ওই যা তো এখান থেকে!! আর যা বলছি মনে থাকে যেনো? (আমি)
:- (কান্না করতেছেই)
:-ধুরররররর (এই বলে চলে আসতে যাচ্ছিলাম তখন,,,
:-আমার মা ইস্ট্রোক করছে,, (শুরুভি)
:- (আমি ঘুঁড়ে তাঁকালাম)
:- ..(পুলিশিনী কান্না করতেছে)
:-কিহ্হ্হ্হ্ (অবাক হয়ে চিৎকার করে আমি)
:-পাশের বাসার রমেশ কাকা ফোন দিয়ে বললো?
(পুলিশিনী)
:-
::
::কেমন হলো জানাবেন
::
::
# চলবে