30/04/2026
চুক্তি অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয়ের ১০ শতাংশ পরিশোধ করেছে পূর্বের আওয়ামী লীগ সরকার, আর বাকি ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া।
এখান থেকে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে চলতি বছরের আগস্টে এবং ধাপে ধাপে গিয়ে ২০২৭ সালে সকল ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
বিদ্যুতের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এখান থেকে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা থেকে রাষ্ট্রের বার্ষিক আয় হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে কিস্তি, পরিচালনা ও জ্বালানি খরচ বাবদ ব্যয় হবে ১৪/১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক লাভ থাকবে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা।
মজার বিষয় হলো কিস্তি শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। অর্থাৎ আগামী দুই বছর বর্তমান সরকারকে কোন কিস্তি পরিশোধ করতে হবেনা। এসময়ে পরিচালনা ও জ্বালানী বাবদ বার্ষিক ব্যয় হবে ৫/৬ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৪/১৫ হাজার কোটি টাকায় রাষ্ট্রের কোষাগারে নিট লাভ হিসেবে জমা হবে।
ফলে বিষয়টা এমন দাঁড়াচ্ছে যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বর্তমান সরকারকে তার কোষাগার থেকে কোন অর্থ তো ব্যয় করতে হবেইনা; উল্টো সাড়ে চার বছর ধরে লাভের গুড় খাবে তারা।
আরেকটি বিষয়, যারা বলছেন এর ঋণের ভার তো এই সরকারের কাঁধেই, মানে ঋণের টাকা তো এই সরকারকেই পরিশোধ করতে হবে; তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, এই সরকার যদি তাদের মেয়াদ পূর্ণও করে তবুও ঋণের টাকা যে ৩৮ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে তার মধ্যে তাদেরকে দিতে হবে মাত্র পাঁচটি কিস্তি যা মোট টাকার ১২ শতাংশ; তাও আবার কোষাগার থেকে নয়, বরং লাভের গুড় থেকে।